Category: হোম পেজ লীড নিউজ

  • তেল সংকট উত্তরণে আসছে ফুয়েল কার্ড: সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

    তেল সংকট উত্তরণে আসছে ফুয়েল কার্ড: সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে পেট্রোলপাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। তেল নিতে গেলেই অধিকাংশ পাম্প মালিকরা বলছে তেল নেই। আর যে পাম্পে তেল আছে সেখানে দেখা যাচ্ছে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সমাধান করার জন্য সব গাড়ির জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। এ জন্য কাজও শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে, সাতক্ষীরাতে ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি পেট্রোলপাম্পে মটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। ২৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-কলারোয়া সড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় মের্সাস লস্কর ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়কের উপর আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ আবারও তেল দিতে শুরু করলে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়ক থেকে উঠে আসে। এদিকে ২৭ মার্চ শুক্রবার সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তেলের মজুদ ও বিক্রয় তদারকি করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ সময় মেসার্স হোসেন, মেসার্স ইউরেকা, মেসার্স ডেলমা ও মেসার্স সোনিয়া ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন পরিলক্ষিত হয়। সবাইকে মোটরসাইকেলের লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় চাহিদা মোতাবেক পেট্রোল দেয়া হচ্ছে কি না তা দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ দেখা যায়নি। তদারকির সময় রিজার্ভ ট্যাংক, সরবরাহ চালান এবং বিক্রয় ও মজুদ রেজিস্ট্রার চেক করা হয়। এসময় চন্দনপুর ইউনিয়ন, কলারোয়া উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন জ্বালানি তেলের মজুদ এবং খোলা বাজারে তেল সরবরাহ করায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী একটি মামলায় ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালীন মুদি দোকানী, খোলা বাজারে তেল বিক্রেতাকে এবং জনসাধারণকে অতিরিক্ত তেল মজুদ এবং লাইসেন্সবিহীন খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা অপরাধ সেই বিষয়টি অবগত করা হয়। সরকারি আইনানুযায়ী ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হয়। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শিগগির শেষ না হলে বাংলাদেশের মতো দেশকে অনেক খেসারত দিতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে আসবে এবং তেলের জন্য অনেক মূল্য দিতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ দাম বাড়াতে পারবে না। তাই তেলের অপচয় এবং মজুত রোধে ফুয়েল কার্ড চালুর বিকল্প নেই। সেই কার্ড দিয়ে মোটরসাইকেল, কার, ট্রাক বা বাস তার পরিবহণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এ জন্য থাকবে একটি কিউআর কোড। সেই কোড দিয়ে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়া যাবে। তবে এটি চালু করতে সময় লাগবে। ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিটকার্ড হলো- পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা সাধারণত কোম্পানি বা গাড়ির মালিকরা ব্যবহার করে থাকেন। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জ্বালানি খরচ ট্র্যাকিং, নিয়ন্ত্রণ এবং নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যায়।
    ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা: সহজ পেমেন্ট ও ট্র্যাকিং, এটি ব্যবহার করে চালকরা সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড রাখা যায়। কোম্পানিগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এটি ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করে। কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা চুরি বা অপব্যবহার রোধ করে।সময়ের সাশ্রয়: কাগজের রসিদ জমানোর ঝামেলা কমে এবং এককালীন চালান পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
    এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকি করতে ইতিমধ্যে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি বন্ধে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

  • সাতক্ষীরায় রাতের আঁধারে গোপনে বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    সাতক্ষীরায় রাতের আঁধারে গোপনে বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরা জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুইদিন ধরে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে তেল না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা রাতের আঁধারে গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বাইরে বিক্রি করছেন। কিন্তু পাম্প মালিদের অভিযোগ সাতক্ষীরাতে চাহিদা অনুযায়ি অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল ডিপো থেকে সরবরহ না থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পাম্পে তেল নিতে আসা গাড়ীর মালিকদের অভিযোগ ড্রামে ভরে ভ্যানে করে এসব তেল পাচার করা হচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু বাইকে ট্রাংকি ফুল করে স্বজনপ্রীতি করার দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে জ্বালানি তেলের সংকট ও অবৈধ বিক্রির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, জেলার কোন পাম্পে তেল পাওয়া না গেলেও বাইরের দোকানে অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে। এসব তেল গোপানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ এবং অকটেন ২২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ ক্রেতারা পাম্পে তেল না পেয়ে অনেকে চড়া দাম দিয়ে বাইরের দোকান থেকে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
    এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অল্প সংখ্যাক গ্রাহকদেরেকে সামান্য তেল দিয়ে বাকিটা মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা যায়। পরে গভীর রাতে ওই তেল ড্রামে ভরে ভ্যান করে পাচার করা হচ্ছে। যা সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা বেশি দামে কিনছেন খুচরা দোকানীরা। পরে ওই তেল এক লিটারের বোতলে ভরে প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে গ্রাহকদের কাছে। যা সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
    সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের এবি খান প্রেট্রোল পাম্প ও সংগ্রাম ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে তেল বিক্রির মেশিনের গায়ে সাদা কাগজে লেখা তেল নেই। দূরদূরান্ত থেকে মটর সাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য গ্রাহকরা এসে ফিরে যাচ্ছে। এসব ফিলিং স্টেশনে কর্মরত কর্মচারীরা কখন থেকে তেল দিবে তাও বলতে পারছেন না। একই অবস্থা শহরের প্রায় সব পাম্পেই।
    আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ জানান, সকালে শহরের এসেছিলাম মটর সাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য। এসে দেখি পাম্পে কোন তেল নেই। শহর থেবে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে আমার বাড়ি। মটর সাইকেলে যে তেল আছে তাতে আমি বাড়ি পর্যন্ত পৌছাতে পারবো না। এখন মটর সাইকেল শহরে রেখে যাওয়া ছাড়া কোন গতি নেই।
    এবি খান প্রেট্রোল পাম্প তেল নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানান, দুই/তিনদিন ধরে পাম্পে আসছি তেল নিতে। কিন্ত কোন তেলা পাই না। বাধ্য হয়ে গতকাল (রোববার) শহরের কুখরালী এলাকার একটি মুদি দোকান থেকে ২০০ টাকা দিয়ে এক লিটার তেল কিনেছিলাম, যা প্রায় শেষের পথে। আজ তেল না পেলে মটর সাইকলে ঘরে উঠিয়ে রাখতে হবে।
    তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহরের কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শহরে ও এর আাশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় মুদি দোকানে গোপনে চড়া দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। পাম্প বন্ধ থাকায় গাড়িতে তেল ভরতে অনেকেই চড়া দামে বাইরে থেকে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি কালো বাজারে জ্বালানী তেল বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানান।
    আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মো. হুসাইন আলী জানান, ঈদের আগে তিনি একটি জিক্সার মটর সাইকেল কিনেছেন। কিন্তু তেলের অভাবে নতুন মটরসাইকেল চালাতে পারছে না। বাড়ি থেকে সাতক্ষীরায় আসার পথে স্থানীয় বুধহাটা বাজারে এসে গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। ফলে সেখানেই মটর সাইকেল রেখে তিনি তেল নেওয়ার জন্য পট নিয়ে শহরে চলে আসেন।
    তিনি বলেন, সাতক্ষীরা শহরের ৫টি পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে তিনি বাসে চড়ে যশোরে চলে যান। সেখানে আরো ৭টি পাম্প ঘুরে পরে একটি বন্ধ পাম্পের পিছন থেকে ৫লিটার তেল কিনে আনেন। তারা আমার সমস্যার কথা শুনে পটে আমাকে ৫লিটার পেট্রোল দেয়। তেল নিয়ে সোমবার ভোর রাত ২টার দিকে তিনি সাতক্ষীরায় আসেন। ওই ৫লিটার পেট্রোল কিনতে তার প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।
    শহরের সংগ্রাম পাম্পের ম্যানেজার জানান, গোপনে রাতে তেল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পাম্পের কোন লোক এধরনের অবৈধ কাজের সাথে জড়িত নয়। আমার পাম্পে যতক্ষন তেল থাকে আমি বিক্রি করি। ঈদের পরে এখনো নতুন কোন চালান না আসায় কিছুটা সংকট তৈরী হয়েছে। তেল আসলে আবার গ্রাহকরা আমার পাম্প থেকে তেল পাবেন বলে জানান তিনি।
    শ্যামনগর ফিলিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুল ইসলাম বকুল বলেন , আমরা পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে চাহিদা আনুযায়ী ডিডি করছি কিন্তু ডিপো খেকে পেট্রোল অকটেন ও ডিজেল না দেয়ায় যে গাড়ীতে করে আমরা থ্যামনগরে তেল এনে বিক্রি করছি তাতে গাড়ীর ভাড়ার টাকা উঠছে না। আমাদের চাহিদা পেট্রোল ৬ হাজার লিটার অকটেন ৩ হাজার লিটার ও ডিজেল ৫ হাজার লিটার সেখানে আমরা ডিপো থেকে পাচ্ছি পেট্রোল ১/২ হাজার লিটার অকটেন নাই ডিজেল ৩ হাজার লিটার।
    এদিকে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শহরের লস্কর ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে যান। এসময় সেখানে উপস্থিত গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, পাম্প থেকে তেল দিচ্ছে না, অথচ বাইরের দোকানে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় এক লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে । পাম্পে তেল না থাকলে তারা তেল পাচ্ছে কিভাবে? প্রশ্ন রাখেন গ্রাহকরা। সংসদ সদস্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সাতক্ষীরায় তেল সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
    সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার জানান, জ্বালানী তেল নিয়ে যে কোন ধরনের অনিয়ম দূর করতে আমার ভিজিলেন্স টিম সব সময় মাঠে কাজ করছে। সুনিদিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলায় জ্বালানী তেলের সংকট সমাধানে কালো বাজারে বিক্রি বন্ধে আজ থেকে অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
    সাতক্ষীরায় পরিকল্পিতভাবে জ্বালানী তেলের সংকট সৃষ্টি করে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রির ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

  • তেলের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে পাম্প পরিদর্শনে এমপি বরিউল বাশার

    তেলের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে পাম্প পরিদর্শনে এমপি বরিউল বাশার

    আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে দুটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। তাঁর পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে তিনি প্রথমে বুধহাটা এলাকার রহমান ফিলিং স্টেশন এবং পরে মহেশ্বরকাটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে এলাকার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি সীমিত রাখা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। মহেশ্বরকাটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনের সময় সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন মজুত থাকার তথ্য পান সংসদ সদস্য। তবে ক্রেতাদের তেল না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষকে ভোক্তাদের হয়রানি না করার নির্দেশ দেন এবং মজুত তেল বিক্রির ব্যবস্থা করতে বলেন। পরে পাম্পে তেল বিক্রি শুরু হলে কয়েক দিন ধরে অপেক্ষায় থাকা ভোক্তারা তেল পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এন এ এম মুরতাজা আলী, বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম এবং সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছেন সাতক্ষীরার ২৮শ নারী

    প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছেন সাতক্ষীরার ২৮শ নারী

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সমালোচনার মুখে সাতক্ষীরার ৪টি আসনে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছেন ২ হাজার ৮শ নারী। রোববার (১৫ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। সব সংসদীয় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাবেন। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা ১,২,৩, ও ৪ আসনে পৃথক ভাবে ৭০০ পিস করে সিনথেটিক কাপড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো সাতক্ষীরা জেলাতে এসে পৌঁছালে বন্টন করা হবে বলে সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা জানান। এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে ধন্যবাদ জানিয়ে সাতক্ষীরা ১ তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য মুহা: ইজ্জত উল্লাহ (১৫ মার্চ) তার ফেসবুকে লেখেন, “সমালোচনার পর হলেও বাকি আসনগুলোতেও আসন্ন ঈদ উল ফিতর- ২০২৬ উপলক্ষে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা। তবে পূর্বে ঘোষিত আসনগুলোতে শাড়ি, থ্রি-পিস ও রুমালের কথা থাকলেও বাকি আসনগুলোতে শুধুমাত্র শাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা কিছুটা বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। আশা করি ভবিষ্যতে সহায়তা কার্যক্রমে সবার প্রয়োজন সমানভাবে বিবেচনা করা হবে।”
    সাতক্ষীরা ৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, “প্রিয় শ্যামনগরবাসী! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল হতে তার দলীয় এমপিদের ঈদ উপহারস্বরূপ বস্ত্রসহ প্রায় পাঁচ প্রকারের ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করেন। এটা অবশ্যই বৈষম্য মূলক আচরণ। বিরোধী এমপিদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ উঠলে তিনি পুনরায় প্রত্যেক বিরোধী দলীয় এমপিদের জন্য শুধু কেবল ৭০০ পিস করে সিনথেটিক কাপড় বরাদ্দ দেন। সে আলোকে আমাদের শ্যামনগরের জন্য ৭শ’ পিস সিন্থেটিক কাপড় বরাদ্দ পাওয়ার কথা। বিষয়টিআমার শ্যামনগরের জনগণের অবগতির জন্য জানানো হলো। ধন্যবাদ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ স্বাক্ষরিত একটি বরাদ্দপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার ২১৫ নির্বাচনী এলাকায় ৭০০ করে সিনথেটিক শাড়ি, ১০০ করে থ্রি-পিস ও ৫০টি করে হাজী রুমাল বরাদ্দ প্রদান হয়। ২১৫ নির্বাচনী এলাকা ঘেঁটে দেখা যায়, এসব আসন সরকারি দলের (বিএনপি ও জোট) সংসদ সদস্যদের। এখানে জামায়েত ইসলামী-এনসিপি জোটসহ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের জন্য এই বরাদ্দ রাখা হয়নি। বরাদ্দপত্রের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল- বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী (শাড়ি, থ্রি-পিস ও হাজী রুমাল) সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকগণ, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার, তেজগাঁও, ঢাকা থেকে সংগ্রহপূর্বক নির্বাচনী এলাকার মাননীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ জনসাধারণের মাঝে বিতরণ ও হিসাব সংরক্ষণ করবেন; বিশেষ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকদের পক্ষে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে বিলম্বের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যগণ নিজ দায়িত্বে ত্রাণসামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার, তেজগাঁও, ঢাকা হতে তা সংগ্রহপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বিতরণ করতে পারবেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি রয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
    ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের অসহায়, গরিব ও দুস্থ মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে শাড়ি, থ্রি-পিস ও হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২১৫টি সংসদীয় এলাকায়। এই সহায়তা শুধুমাত্র সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটভুক্ত সংসদ সদস্যদের এলাকায় দেওয়া হয়। সংসদের বাকি আসনগুলোতে থাকা জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের কোনো বরাদ্দ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
    শনিবার (১৪ মার্চ) সাতক্ষীরার চার এমপি ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানান। জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।
    সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য বঅধ্যক্ষ মুহা: ইজ্জত উল্লাহ ফেসবুকে লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে শুধুমাত্র সরকার দলীয় এমপি গণের নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উপহার হিসেবে কাপড় বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধীদলীয় এমপিগণের নির্বাচনী এলাকায় সেই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কেন এই বৈষম্য? সরকার কি দেশের জন্য নাকি দলের জন্য?
    সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র অসহায় মানুষদের জন্য কাপড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সরকার-দলীয় এমপিদের নির্বাচনী এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল মূলত দেশের সকল অসহায় মানুষের জন্য। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তোলে তেমনি দেশের অন্য সব এলাকার দরিদ্র অসহায় মানুষের সাথে তামাশার শামিল। এর মাধ্যমে দেশে আবারও বৈষম্যের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটি মোটেও প্রত্যাশিত নয়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি।
    সাতক্ষীরা ৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, আমরা কি তাহলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এর পরিবর্তে ‘সবার আগে বিএনপি নীতিতে’ যাচ্ছি। স্লোগান কি শুধু রেটরিক? প্রধানমন্ত্রী কি শুধু ৫০% লোকের? আমাদের এলাকার মানুষ মনে হয় ট্যাক্স ভ্যাট দেয় না? জাতি এই বৈষম্য মনে রাখবে।
    প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো দলীয় তহবিল নয় মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাতক্ষীরা ৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য কাপড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকার-দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় প্রদান করা হয়েছে; বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো দলীয় তহবিল নয়; এটি রাষ্ট্রের একটি মানবিক সহায়তা তহবিল, যা দেশের সকল নাগরিকের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং এ তহবিল থেকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়।
    দেশের সব জনগণ সমানভাবে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। তিনি আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে দেশের সকল নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য সমানভাবে বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেশের মানুষ আর এ ধরনের বৈষম্য দেখতে চায় না।

  • সামেক হাসপাতালে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

    সামেক হাসপাতালে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ৫৪ জন কর্মী নিয়োগের কাজ একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে হাসপাতালের এক হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী লটারি করার কথা থাকলেও তা না করে বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সামেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের জন্য গত বছরের ১ নভেম্বর প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস, পিমা অ্যাসোসিয়েট ও টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল নামে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তবে নথিপত্রে ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগে টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের আবেদন বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র দাখিলের শেষ দিনে আগের সেই চারটি প্রতিষ্ঠানই অংশ নেয় এবং সবাই একই দর (রেট) দাখিল করে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, একাধিক প্রতিষ্ঠানের দর একই হলে লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলাম মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নাম পুনরায় রেজুলেশন করে অনুমোদনের জন্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া আরব সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান বলেন, প্রথম দফায় যে প্রতিষ্ঠানটি বাতিল হলো, তাকেই আবার কাজ পাইয়ে দিতে ৫৪ জন প্রার্থীর বিপরীতে জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মোট ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্রের দাবি, হিসাবরক্ষক মোস্তাজুল ইসলামের পরিবার খুলনায় টি ফোর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিকের বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরেই এই অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সাতক্ষীরার সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাস বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি রোধে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তথা স্থানীয় সংসদ সদস্যের তদারকি প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতিবাজরা আইনের আওতায় আসতে বাধ্য। সনাক সাতক্ষীরার বর্তমান সভাপতি তৈয়ব হাসান বাবু জানান, বিষয়টি নিয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। সাতক্ষীরার সচেতন মহল মনে করছে, আউটসোর্সিং নিয়োগে এমন অস্বচ্ছতা হাসপাতালের সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তারা লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

  • জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা হলে রাজপথে নামবে ১১ দলীয় ঐক্য

    জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা হলে রাজপথে নামবে ১১ দলীয় ঐক্য

    ডেস্ক রিপোর্ট: ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ আশা করেছিল একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে। উপদেষ্টাদের একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ জড়িত ছিল। তারপরও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা এই নির্বাচন মেনে নিয়েছি এবং আমাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, একই দিনে দুটি বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়- একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য। একই দিনে ভোট গ্রহণ, ফলাফল ঘোষণা এবং গেজেট নোটিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। তাই জনগণের রায়ের ভিত্তিতে সরকারকে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অধিবেশন এখনো ডাকা হয়নি। অথচ জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে পরামর্শ দেবেন এবং সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করবেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ করিয়েছে, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ করানো হয়নি। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। অথচ গণভোটে বিপুল জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের এই রায়কে উপেক্ষা করা জাতির সঙ্গে এক ধরনের অবমাননার শামিল। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা আমাদের উদ্বিগ্ন করছে। আজ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অধিবেশন ডাকা হয়নি। পঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এর মধ্যে যদি সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকে, তাহলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের জন্য আগামী দিনটিকে সরকারের জন্য শেষ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যদি এর মধ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে, তাহলে সংসদের ভেতরে যেমন আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, তেমনি রাজপথেও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, আগামীকাল পর্যন্ত সরকার যদি এ বিষয়ে উদ্যোগ না নেয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে ১১ দলীয় ঐক্য। খুব শিগগিরই শীর্ষ নেতাদের বৈঠক করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকার সঠিক পথে না চললে সংসদ ও রাজপথ- উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ। ১৪ মার্চ (শনিবার) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আজাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল খান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির দফতর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আবদুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামত বশির ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

  • ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরায় চলছে না কোন স্যালো মেশিন

    ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরায় চলছে না কোন স্যালো মেশিন

    মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরায় প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। গত কয়েকদিন ধরে প্রেট্রোল পাম্প ও দোকান থেকে কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি না করায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা দুই লিটার করে ডিজেল দিচ্ছেন দাবি করলেও অধিকাংশ কৃষকরা ডিজেলের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষক ডিজেলের জন্য দোকানে দোকানে ধর্ণা দিচ্ছেন। সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তার ৫বিঘা জমির একটি বোরো ধানের ব্লক রয়েছে। দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ায় জমিতে সেচের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে পারছিনা। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ দোকানে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও যে পরিমাণ ডিজেল দিচ্ছে তাতে সেচ পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামের কৃষক মো. ইউনুচ আলী বলেন, তার ৩১ বিঘা জমির ইরি ব্লক রয়েছে। জমিতে সেচ দিতে প্রতিদিন তার প্রায় ১০ লিটার ডিজেল লাগে। বেশ কয়েকদিন আগে স্থানীয় ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন থেকে ১০লিটার ডিজেল কিনেছিলাম। কিন্তু এখন আর ২লিটারের বেশি দিচ্ছে না। যা দিয়ে আমার পুরো ইরির ব্লকে পান সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ধান ক্ষেতের মাটি শুকিয়ে ফাটল ধরা শুরু করেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার পুরো ব্লক মার খেয়ে যেতে হবে। তিনি বোরা ধানের জমিতে সেচ দেয়ার স্বার্থে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।
    সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের প্রো: সিদ্দিকুল ইসলাম বকুল জানান, বাস, ট্রাক ও ডিজেল চালিত অন্যান্য যানবাহনে নির্ধারিত মাত্রার ডিজেল সরবরাহের পাশাপাশি কৃষকদেরকে প্রতিদিন ২লিটার করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক লোক আসছে ডিজেল নিতে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি মোটামুটি সবাই যাতে কমবেশি ডিজেল পায়।
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছািড়িয়ে আমাদের চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রযেছে ৭০৪০টি এবং ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেল চালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তবে এসময় বৃষ্টিপাত হলে ডিজেলের পরিমান কিছুটা কম লাগে।
    এবিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, আমরা কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ রাখার চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিষয়টি তদরকি করছেন। সংকটের অজুহাতে যারা কৃষকের কাছে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাতক্ষীরায় পাঁচটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি

    সাতক্ষীরায় পাঁচটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় পাঁচটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি সংগঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ভোর রাত তিনটার দিকে পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে। চোরেরা মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে নগদ টাকা, দূর্গা প্রতিমার জন্য রাখা স্বর্ণ ও রুপার গহনা সহ ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন বলেন, পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দির এলাকায় মেচে থাকা ছাত্ররা বুধবার ভোর রাত সাড়ে তিনটা- চারটার দিকে চুরির বিষয়টি জানতে পেরে আমাদেরকে অবগত করে। ভোরে আমরা মন্দিরে গিয়ে দেখি কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, চৈতন্যদেব মন্দির ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সবকয়টি দরজার তালা ভাঙ্গা এবং ভেতরে সবকিছু তছনছ করা। পরে আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখি চোরেরা প্রায় সাত ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা, বেশ কয়েকি ভরি ওজনের রুপার গহনা, নগদ টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে, কালীমাতার স্বর্ণের জিহবা, দুটি স্বর্ণের বালা, দুই জোড়া পেটি, দুই জোড়া শাখা, একটি স্বর্ণের চেইন, একটা নথ টানা ও সাথে রুপার গহনা। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি তালা কাটার মেশিন উদ্ধার করে। মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপা সিন্দু তরফদার বলেন, এখন থেকে দুই দিন আগে শহরের কাটিয় কর্মকার পাড়া এরাকায় মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটে। এভাবে বারবার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে । দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার কওে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা দাবী জানান তিনি। সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমেছে।

  • সাতক্ষীরার বাজারে রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি: সংকটে আবাসন খাত

    সাতক্ষীরার বাজারে রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি: সংকটে আবাসন খাত

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরার বাজারে হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে রড ও সিমেন্টের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কেজি প্রতি রডের দাম প্রায় ২০ টাকা ও বস্তাপ্রতি সিমেন্টর দাম ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন আবাসন ও অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীরা। নির্মাণসামগ্রীর এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও যে রড প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, গতকাল মঙ্গলবার তা একলাফে ৯০ থেকে ১০০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ঢাকার বাজারে আনোয়ার ইস্পাত ও আকিজ: ৯১,০০০ টাকা (টনপ্রতি), কেএসআরএম: ৯১,০০০ টাকা, সিএসআরএম: ৮৪,০০০ টাকা, রহিম স্টিল: ৮৭,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সাতক্ষীরার বাজারে টনপ্রতি আরো ১০ হাজার টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি, ইরান যুদ্ধকে পুঁজি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “যুদ্ধে প্রভাব রড উৎপাদনে আরও পরে পড়ার কথা। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।” পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সরকারকে বাজার মনিটরিং করার দাবী জানান। অন্যদিকে, রি-রোলিং মিল মালিকরা সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলো বীমা সুবিধা দিচ্ছে না এবং পণ্য পরিবহন খরচ (ফ্রেইট কস্ট) ১৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং স্ক্র্যাপের মূল্যবৃদ্ধিও স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার জনস্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “যে রড বর্তমানে বাজারে আছে, তাতে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কথা নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।” বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রড ও সিমেন্টের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আবাসন খাতে বড় ধরনের ধীরগতি বা মন্দা দেখা দিতে পারে, যা এই খাতের সাথে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিকের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।