Category: হোম পেজ লীড নিউজ

  • সাতক্ষীরায় গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে গ্রাহক

    সাতক্ষীরায় গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে গ্রাহক

    স্টাফ রিপোর্টার: ভোক্তাপর্যায়ে দাম নির্ধারণের একদিন আগে থেকেই সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি শুরু হয়েছে ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার। হঠাৎ করে এক লাফে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অতিরিক্ত বাড়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। জানা যায়, এপ্রিল মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) যা এদিন সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়। এদিকে বিইআরসি কর্তৃক এপ্রিল মাসে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করার আগেই বুধবার (১এপ্রিল) বিকাল থেকে সাতক্ষীরা শহরের প্রায় সবগুলো ডিলার পয়েন্টে দাম বৃদ্ধির ঘোষনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ি ৩১ মার্চে বিক্রি হওয়া ১৪৫০ টাকার সিলিন্ডার বুধবার বিকাল থেকে বিক্রি হয় সাড়ে ১৮ শ’ টাকা থেকে ১৯০০ টাকায়। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকালে নতুন মূল্য নির্ধারণের পর তা বেড়ে গিয়ে দাড়ায় ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। তবে ডিলারদের দাবি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কোম্পানি দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদেরকেও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে। জেলা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নুর খান বাবুল জানান, বিইআরসি সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেওয়া সত্ত্বেও সাতক্ষীরার বাজারে বরাবরই নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গৃহস্থালির কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির সিলিন্ডার। কিন্তু গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ কিছুটা সংকট চলছে। এই অজুহাতে প্রতি সিলিন্ডারে ২৭২ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। কোন কারণ ছাড়া হঠাৎ করে গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। তিনি বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর একটি ডিলার পয়েন্টে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে আসা সদর উপজেলার লবসা গ্রামের এক গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, প্রতি মাসে গ্যাস কিনতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা ৩০০ টাকা বেশি দরে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আরেক ভোক্তা সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাম বাড়ানোর আগেই ডিলাররা মিলে সিন্ডিকেট করে প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা প্রায় ৩০০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় তারা ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে। শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহবধূ শারিমন একরাম বলেন, আজ সকালেও ১৯০০ টাকা দিয়ে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছি। গত মাসে ১৪৫০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। সরকার নির্ধারিত দামে কোনোদিন সিলিন্ডার কিনতে পারি না। সব সময় আড়াই’শ থেকে ৩শ’ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়। তাহলে সরকারিভাবে দাম নির্ধারণের দরকার কী! যুমনা কোম্পানির ডিলার মো. রাশেদুজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এরই মধ্যে দুই দফায় গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। বুধবার কোম্পানি থেকে প্রতিটি সিলিন্ডার ১৭৮৫ টাকা দুরে কিনতে হবে বলে আমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক টাকা পাঠিয়ে আমাদেরকে সিলিন্ডার বুকিং দিতে হচ্ছে। এর সাথে আছে পরিবহন ও লেবারসহ অন্যান্য খরচ। কাজেই বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার ২০ থেকে ৩০ টাকা লাভে ১৯০০ টাকা দরে বিক্রি করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। তবে খুচরা এই দাম আরো বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। ফলে বাধ্য হয়েই তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি সমন্বয়হীনতা ও নজরদারি ঘাটতির ফল। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ডিলার গ্যাস মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, বাজারে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

  • উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে: এমপি গাজী নজরুল

    উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে: এমপি গাজী নজরুল

    স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নে এক কিলোমিটার দীর্ঘ হেরিংবোন সড়কের উদ্বোধন করেছেন সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইসরাফিল সাহেবের মোড় থেকে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উদ্বোধনকালে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগের মান উন্নত করা। এই সড়ক এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ জনগণের জন্য সহজ চলাচলের সুযোগ তৈরি করবে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, প্রকল্প কর্মকর্তা মিরাজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • জ্বালানি তেল সংকটে সাতক্ষীরার পেশাজীবীরা চরম বিপাকে

    জ্বালানি তেল সংকটে সাতক্ষীরার পেশাজীবীরা চরম বিপাকে

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকটে স্কুল-কলেজ শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র চাকরিজীবীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করা ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে, জরুরি সেবা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হলেও সাধারণ মানুষ এখনও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু অসাধু বাইকার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে গ্রামে বেশি দামে বিক্রি করছেন। জ্বালানি তেল সংকটের কারণে শিক্ষকরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকরা বিলম্ব করছেন এবং সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা তাদের নির্ধারিত কাজে অনিয়মিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক জিএম আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, জরুরি ও জনসেবামূলক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা উচিত। বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগের একটি নোটিশেও এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সাতক্ষীরাতেও সংকটের সময় জরুরি পেশাজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভোগান্তি অনেক কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি ও তেলের কালোবাজারি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

  • সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

    সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

    আবু সাইদ বিশ্বাস: দেশের দক্ষিণ উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিক ঢাল হয়ে থাকা ‘সুন্দরবন’ উপকূলীয় সাড়ে ৪ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা। সুন্দরবনকে আশ্রয় করে মধূ সংগ্রহে যাদের সংসার চলে মৌয়াল তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৮৬০ সাল থেকে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। প্রতিবছর বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। দেশে বিদেশে এসব মধুর সূনাম সূখ্যাতি অনেক বেশি। ভিন্ন স্বাদ ও একক ফুলের মধু হিসেবে সকলের নিকট এ মধু অধিক প্রিয়, চাহিদা বেশি কিন্তু উৎপাদন কম। চিকিৎসকদের মতে সুন্দরবনের মধু শক্তি প্রদায়ী, হজমে সহায়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময় করে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে এই মধু পাওয়া যায়। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুম চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। চলতি বছর সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু ও ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই মৌয়ালদের অনাগ্রহ সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। যে কারনে মৌয়ালরা দলবদ্ধ হয়ে ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য বনে ঢোকে। খুব ভোরে ধারালো দা, লাঠি, ধোঁয়া তৈরি করার মশালসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে বনের গভীরে যায়। গামছা বা অন্যান্য কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা থাকে মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে তারা বাঘসহ অন্যান্য হিংস্র প্রাণীদের ভয় দেখানোর জন্য। এ সময় হরগোজা, কেয়া কাঁটা, হেতালসহ নানা কাঁটা জাতীয় গাছ ও বড় বড় গাছের মাটি থেকে ওঠা শ্বাসমূল থেকে শরীর বাঁচিয়ে তারা এগিয়ে চলে। তাদের দলনেতা ঠিক করে দেয় কোন এলাকায় তারা মধু খুঁজবে। এরপর চলে মৌচাক খোঁজার কাজ। হঠাৎ চাক চোখে পড়লে তারা সাংকেতিক শব্দ করে, তখন অন্যরা বুঝে যায় চাক পাওয়া গেছে। চাকের আকার, গঠন ও রঙ দেখে তারা বুঝতে পারে চাকটির বয়স কত এবং কতটুকু মধু ওই চাকে থাকতে পারে। এরপর চাক কাটার জন্য দলের ভিতরে নির্দিষ্ট মৌয়াল গাছে ওঠে। ধোয়ার মশাল নিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে চাক কাটে। তবে চাক কাটা খুব একটা সহজ কাজ নয়। এর জন্য আলাদা দক্ষতার দরকার হয়। প্রথমে ধোঁয়া তৈরির জন্য শুকনো পাতা ও গাছের ডাল যোগাড় করতে হয়। মূলত গোলগাছের শুকনো পাতাই বেশি ব্যবহার করা হয়। বেশিরভাগ সময় চাকের আশপাশে এগুলো পাওয়া যায় না। তখন এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি করে শুকনো পাতার ব্যবস্থা করে মশাল বানাতে হয়। শুকনো পাতা ও ডালপালা বাঁধার জন্য আবার লতা জাতীয় গাছ খুঁজতে হয়। লতা জাতীয় গাছ থেকে লতা কেটে তারপর শুকনো পাতা ও ডালপালা একসঙ্গে বাঁধা হয়। কখনো কখনো গোলগাছেরই কচি মাথার অংশ ব্যবহার করা হয়। যেটা অনেক টেকসই। মৌচাকের তিনটি অংশ থাকে। এক পাশে মৌমাছির বাসা আরেক পাশে ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু। আর মধুর নিচে থাকে আরেকটা অংশ, যাকে গুটলি (ফুলের পরাগরেণু) বলে। সেই অংশটাই প্রথমে কেটে ফেলে দিতে হয়। এরপর যেই পাতিলে মধু রাখা হয়, সেটা মৌচাকের নিচে ধরে দা দিয়ে মধুর অংশটা কাটা হয়। সংগ্রহ করা হয় চাকসহ মধু। তবে মৌমাছির বাসার অংশটা কাটা হয় না। যদি বাসাটা রেখে দেয়া হয় তাহলে সেই চাকে আবারো মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে জমা করে। ১০/১২ দিনের মধ্যেই সেই চাক আবার কাটার উপযোগী হয়ে যায়। এরপর কাটা মৌচাক থেকে চেপে মধু ও মোম বের করা হয়। মধু আর মোম আলাদা হয়ে গেলে মোমটা একটা ব্যাগে আর মধু একটি পাত্রে রাখা হয়। এরপর আবার শুরু হয় নতুন চাক খোঁজা। এভাবে বনের ভিতর ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে চাক খুঁজে মধু সংগ্রহ করা হয়। এভাবে দিনের পর দিন চলে মধু সংগ্রহের কাজ। সুন্দরবনের মধুর নানা প্রকারভেদ রয়েছে। খলিষামধু, গরানের মধু, গেওয়া মধু, কালিজিরা মধু প্রভৃতি। এগুলোর রঙ, গন্ধ ও স্বাদ ভিন্ন। খলিষামধু সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু। সুন্দরবন থেকে যখন মধু সংগ্রহের সময় হয় বছরের শুরুতে সংগ্রহ করা হয় খলিষামধু। খলিষা নামক এক প্রকার গাছের সাদা ফুল থেকে মৌমাছিরা এই মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে। যখন সুন্দরবনে খলিষা গাছে ফুল ফোটে তখন অন্য সব গাছে মুকুল থাকলেও ফোটে না। গরানের মধু সবচেয়ে বেশি সময় ও বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করা হয়। গেওয়ামধু গেওয়া গাছের ফুল থেকে মৌমাছিরা সংগ্রহ করে। মধু সংগ্রহের মৌসুমের শেষসময়ে সংগ্রহ করা হয় এই মধু। গেওয়া ফুলের মধুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও তেমন চাহিদা নেই। কালিজিরা মধু কালিজিরা ফুল থেকে পাওয়া মধু। দেখতে কালচে রঙের হয়। খেতে একেবারে খেজুরের গুড়ের মতো স্বাদ। ঘ্রাণটাও খেজুরের গুড়ের সাথে মিলে যায়। মধুর ঘনত্ব কম বা বেশি হতে পারে। মধু পাতলা হলে ফেনা হতে দেখা যায়। আর ঘনত্ব বেশি হলে ফেনা হয় না। সাধারণত কালোজিরা ফুলের খাঁটি মধু জমে যেতে দেখা যায় না। বনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরে দু’ বার তারা মধু সংগ্রহ করতে বনে যায়। একবার এপ্রিল মাসে, আরেকবার সেপ্টেম্বরে। দু’ তিন মাস করে সে সময় তারা বনে থাকে। মৌচাক বিষয়ে তারা বলে, একটি চাকে মৌমাছিরা তিন ধরনের বিশেষ কক্ষ তৈরি করে। কর্মী মৌমাছিদের জন্য ছোট কক্ষ, পুরুষদের জন্য বড় কক্ষ এবং রাণীর জন্য বিশেষ কক্ষ। কর্মী মৌমাছিরা নতুন প্রজন্ম আসার আগেই বিশেষভাবে ফুলের রেণু এবং রস চিবিয়ে, অর্ধেক হজম করে পেটে জমা করে রাখে। তারপর বাচ্চাদের সেই অর্ধেক হজম করা খাবার খেতে দেয়, কারণ বাচ্চারা সরাসরি রেণু এবং ফুলের রস খেতে পারে না। তারপর যখন বাচ্চাগুলো কিছুটা বড় হয়, তখন কর্মী মৌমাছিরা এই চিবানোর কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে শুধু মধু এবং রেণু খায়। বাচ্চাদের অর্ধেক হজম করা খাবার দিতে হবে, না হলে বাচ্চারা মারা যাবে। মৌমাছি যখন ফুলের রস, রেণু নিয়ে বাসায় ফিরে আসে, তখন সেটি এক বিশেষ নাচ এবং সাংকেতিক শব্দ তৈরির মাধ্যমে অন্য মৌমাছিদের জানিয়ে দেয় কোথায় মধু পাওয়া যাবে। প্রায় সময় মৌাছিরা চাক থেকে মধু খেয়ে চলে যায়, শূন্য চাক পড়ে থাকে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার মৌয়াল হাবিব সরকার জানায়, মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে তার বড়ভাই ইয়াকুব সরদার বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারায়। হঠাৎ বাঘ আক্রমণ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দলের যে কোনো একজনকে ধরে নিয়ে বাঘ বনের ভিতরে চলে যায়। পরে ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের কয়েক মাইল ভিতরে। আবার অনেকে বাঘের সাথে লড়াই করে বেঁচে ফেরে। মৌয়ালদের অভিযোগ, ডাকাতদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া বনে প্রবেশ ও নিরাপদে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাধিক ডাকাত দলের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে অপহরণ, নির্যাতন বা লুটপাটের ঝুঁকি থাকে। তাঁদের ভাষ্য, প্রতি নৌকার জন্য ডাকাতেরা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। আবার কোথাও জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাছানুর রহমান বলেন, মধু আহরণের মৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার করা হয়েছে। সূত্রমতে এ বনে মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় অসাধু মৌয়াল চক্র ও মধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল মধু তৈরির ব্যবসা করে আসছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার হরিনগর, কদমতলা, কাশিমারি, বল্লভটুপি, ঝাপালী, জয়নগর, গাবুরা এলাকার চকবারা, পার্শেমারি, ডুমরিয়া প্রভৃতি গ্রামের মৌয়ালদের একাংশ দির্ঘ দিন ধরে ভেজাল মধু তৈরি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় বিপুল পরিমানে নকল মধু জব্দ করে নষ্ট করা হয়।

  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    স্টাফ রিপোটার: আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রত্যেক কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার পরীক্ষার্থীদের ওপর থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সাইবার নজরদারি ও গুজব রোধ: পরীক্ষার আগে গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে সাইবার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল- জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। পরিদর্শন ও মনিটরিং টিম: শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রতিটি কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ও প্রস্তুতি যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলের প্রবণতা বন্ধে এবার বিশেষ ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘কেন্দ্র কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষা পরিচালনার যাবতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা: এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নকলমুক্ত এবং প্রশ্নফাঁসের নূন্যতম সুযোগহীন পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ নিয়মিত বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই নিশ্চিন্ন পাহারায় কোনো ধরনের অনিয়ম ঢাকা পড়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় আমরা এবার ফয়েল প্যাক এবং ওয়ান টাইম সিকিউরিটি খাম ব্যবহার করছি, যা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি কোনো কেন্দ্রে বা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কেবল পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ অন্যদিকে, আসন্ন দাখিল পরীক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এই পরীক্ষা কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। সরকার এক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আমরাও সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে— এই বার্তা আমরা এরই মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি।’ পরীক্ষার আগেই সচল করতে হবে সব সিসিটিভি ক্যামেরা : মাউশি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১টি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১. এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। ২. যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল বা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, সেসব কেন্দ্রের ক্যামেরা পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করতে হবে। ৩. সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা সব ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করতে হবে। ৪. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দেয়ালঘড়ি (কাঁটাওয়ালা) স্থাপন করতে হবে। ৫. স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে। ৬. কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. কোনো পরীক্ষার্থী যাতে নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা টাঙিয়ে দিতে হবে। ৯. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১০. সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কেন্দ্রসচিবদের দেওয়া নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ১১. উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে; কোনো অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাউশি জানিয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে সব ধরনের অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

    বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

    ডেস্ক রিপোর্ট: চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্রমাগতভাবে বাড়ছে দাম। জ্বালানির এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির তেলের দাম বাড়বে বলে গুঞ্জন উঠে। তবে, আপাতত দাম বাড়াচ্ছে না সরকার। এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করে তা বহাল রাখা হয়েছে। নতুন এই মূল্য ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে, সকালে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে ডিজেল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল দেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এদিকে, জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।

  • ডিপোতে সরবরাহ সংকট, পাম্পে রেশনিং

    ডিপোতে সরবরাহ সংকট, পাম্পে রেশনিং

    খুলনা ব্যুরো: খুলনাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়া, ট্যাংকলরিতে অর্ধেক তেল দেওয়া, ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হওয়া এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনের কারণে নগরজুড়ে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর দৌলতপুর এলাকায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি প্রধান তেল ডিপোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কম। ডিপোর সামনে শতাধিক ট্যাংকলরি ও ট্রাক দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। অনেক গাড়ি তেল নিয়ে বের হলেও অধিকাংশ চালকের অভিযোগ তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না। চালকরা জানান, ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংকলরিতে তারা মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার তেল পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকেরও কম দেওয়া হচ্ছে, আবার কেউ কেউ কোনো তেল না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। এতে করে পরিবহন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ট্যাংকলরি চালক আমজাদ বলেন, আমরা দূর-দূরান্ত থেকে তেল নিতে আসি। কিন্তু যদি অর্ধেক তেল নিয়ে ফিরে যেতে হয়, তাহলে খরচই উঠে না। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। ডিপো সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে প্রায় ৩০টি এবং পদ্মা ডিপো থেকে প্রায় ৪২টি ট্যাংকলরি তেল নিয়ে বিভিন্ন জেলায় গেছে। তবে খুলনা বিভাগসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মোট ১৫টি জেলার চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অত্যন্ত অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে ডিপো এলাকায় একটি জাহাজ থেকে ডিজেল খালাস করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও দুটি জাহাজে করে ডিজেল ও অকটেন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চালান পৌঁছালে বর্তমান সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে। অনেক পাম্পে সকাল থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। কিছু পাম্প অল্প সময়ের জন্য খুললেও দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যেসব পাম্প খোলা রয়েছে, সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অনেক জায়গায় রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে কোথাও ২০০ টাকা, কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেল চালক আসাদুল্লাহ বলেন, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। এতে করে দৈনন্দিন কাজ চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক যানবাহন নগরীতে এসে তেল নেওয়ার চেষ্টা করায় শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। কোথাও বাকবিতণ্ডা, কোথাও ধাক্কাধাক্কি এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটছে। একাধিক স্থানে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি নড়াইলে একটি ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেলের পরিমাপে কারচুপি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযান জোরদার করেছে। খুলনা বাইপাস সড়কের খানজাহান আলী এলাকায় আকন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত, র‌্যাব-৬ ও বিএসটিআই এর যৌথ অভিযানে তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে প্রতি ১০ লিটার তেলে প্রায় ৮০০ থেকে ৮২০ গ্রাম পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট পাম্পকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
    অভিযানে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হোসেন জানান, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নিয়মিত তদারকি চালানো হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে খুলনার তিনটি ডিপো থেকেই খুলনা বিভাগ ও আশপাশের জেলাগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় পুরো ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ডিলাররা বলছেন, তারা পর্যাপ্ত তেল না পেলে পাম্পে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।
    এদিকে কালোবাজারি ঠেকাতে ডিপো থেকে সীমিত তেল দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এতে করে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ডিপো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন জাহাজে তেল আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট এখন বহুমাত্রিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। ডিপো থেকে শুরু করে পাম্প পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’

    আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’

    খুলনা ব্যুরো: খুলনা বিভাগে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব। গত কয়েকদিনে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। ইতোমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভাগের ১০ জেলায় ৭৮ শিশু চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনজন শিশু গুরুতর অবস্থায় আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এদের ৮ মাস, ৭ মাস এবং ৫ মাস বয়সি এই তিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফেইল করায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সৈয়দা রুখসানা পারভীন। এছাড়া খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১৩ এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে আরও ৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া যশোরে ৬, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নবজাতক থেকে ৬ মাসের মধ্যে। ৬ মাসের কম বয়সি ৪ জন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি ৭ জন, ৯ থেকে ১১ মাস ৪ জন, ১ বছর থেকে ৪ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫ বছর থেকে ৯ বছর এর মধ্যে ২ জন, এছাড়া ২০ বছরের নীচে ৩ জনের শরীরে এই হাম আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, যার কারণে কিছু শিশুকে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সৈয়েদা রুখসানা পারভীন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যে-সব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। তিনি আরও বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে হামসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের ভর্তি করা হয় না। কিন্তু এই রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ও খুলনায় যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি রয়েছে, তার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখানে (খুমেক হাসপাতলে) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে সেখানে তিনটি শিশুকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনটি শিশুর অবস্থাই খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের ব্যাপকভাবে একটি ভ্যাকসিনেশন ব্যবস্থা চালু করা দরকার।
    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের পাশে পৃথক ‘হাম কর্ণার’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চারজন শিশুকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স এক বছরের কম এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন রোগী এলে প্রয়োজন অনুযায়ী মীরের ডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে হাম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • কালিগঞ্জে দীর্ঘ অনুপস্থিতির জেরে শিক্ষক বরখাস্ত

    কালিগঞ্জে দীর্ঘ অনুপস্থিতির জেরে শিক্ষক বরখাস্ত

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২১ নং ড্যামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জি.এম. ইয়াছির আরাফাত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও তিনি তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এ অবস্থায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

  • সাতক্ষীরায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ: কারাদণ্ড, জরিমানা

    সাতক্ষীরায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ: কারাদণ্ড, জরিমানা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুত এবং বিক্রির অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের সময় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ যমুনা পেট্রোলিয়ামের লোগোযুক্ত একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চালকসহ চারজন ডিলারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার গাভা এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আটক চালক মো. রিপন শেখ (৩৮)। তিনি খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে গাভা এলাকায় একটি ট্রাক সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ট্রাকটির কাগজপত্র যাচাই করতে চাইলে চালক তা দেখাতে পারেননি। পরে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয় এবং চালককে আটক করা হয়। জব্দ করা পেট্রোলের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ জব্দ করা ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আটক চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, যমুনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, ওই পেট্রোল তাদের ওখান থেকে বের হয়নি। এ কারণে পেট্রোলের দাবিদার ওই চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সোমবার বিকেলে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার পেট্রোলের দাবিদার চার ডিলারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তারা হলেন- মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম, মেসার্স আলেয়া অয়েল সাপ্লাইয়ের মো. ইউনুস আলী মৃধা, মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের ইউসুফ আলী এবং মেসার্স এম এ জলিল এন্টারপ্রাইজের মো. জলিল। জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, এদিকে বেশী দামে তেল বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত সোমবার দুপুরে শহরের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা সিআরবি’র সহযোগিতায় ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পলাশপোল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে পলাশপোল শাহাজুদ্দিনের পুত্র আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে রক্ষিত ৩০ লিটার পেট্টোল ও অকটেন পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, এসব পেট্টোল ৩শ থেকে ৫শ টাকা লিটারে বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এছাড়া আনোয়ার হোসেনকে ৫হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযানে পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খোকনকে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও বিক্রির দায়ে আটক করা হয়। পরে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।