স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সীমান্তে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শ্যামনগরের নীলডুমুরস্থ ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যশোর দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের আওতাধীন প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনার মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, পাচার ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২২টি তেল পাম্পে নজরদারি ও বিশেষ চেকিং করা হচ্ছে। বিজিবি জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য পাচার রুট চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩২৫টি টহল ও ৮৯৯টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ৮৬৮টি সভা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ৩১টি টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে ৬৬টি যৌথ নজরদারি ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে গরু পাচার রোধে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে যশোর রিজিয়নের আওতায় ৮৮ জন আসামিসহ প্রায় ৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য, অস্ত্র ও গুলি রয়েছে। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল ও মদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
Category: হোম পেজ লীড নিউজ
-

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরাতে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে সাতক্ষীরা নিউমার্টে চত্বর থেকে তুফান কোম্পানি মোড় সংলগ্ন সড়কের পথচারি ও দোকানদারদের মাঝে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। অপরদিকে তুফান কোম্পানী মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার পর্যন্ত গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান। কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির জেলা আহবায়ক কামরুজ্জামান বুলু, বিডিপির সদস্য সচিব, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারী ও মেয়ার প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক, শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারী খোরশেদ আলম প্রমুখ। লিফলেট বিতরণকালে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, অবিলন্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। তিনি বলেন গণভোট মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দলীয়করণ বন্ধ হবে, একনায়কতন্ত্র বন্ধ হবে, সংসদে উচ্চ কক্ষ গঠন হবে এজন্যই বিএনপি গণভোট মানে না। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্য রচিত বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য। এজন্যই সংবিধান সংস্কার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন আমাদেরকে জেল-জুলুম, অত্যাচারের ভয় দেখাবেন না। এসব পার করে আমরা আজ এখানে এসেছি। যদি দেশ ভালো চালাতে চান তবে সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। কিন্তু আপনারা জনগণের বিপক্ষে গেলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, গণভোট অবৈধ হলে সংসদ নির্বাচনও অবৈধ। বিএনপি সরকার জনগণের বিপক্ষে হাঁটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের বিপক্ষে কেবলমাত্র ফ্যাসিবাদী সরকার হাঁটে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা চলতে পারে না, চলতে দেওয়া হবে না। -

সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগে হামের প্রকোপ বাড়ছে
সন্দেহভাজন রোগী ৩৩৭ : এক শিশুর মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগে হামে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগজুড়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ জনে। এর মধ্যে নতুন শনাক্ত হয়েছে ১ জন এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১টি। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া হামের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এসব রোগী শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া গেছে কুষ্টিয়ায়। জেলাটিতে মোট ১০১ জন সন্দেহভাজন রোগী রয়েছে, যার মধ্যে নতুন শনাক্ত ২৫ জন। এছাড়া যশোরে ৫৭ জন এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকায়ও ৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বাগেরহাটে মোট ১৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন, ঝিনাইদহে ১৩ জন, খুলনা জেলায় ৫ জন, মাগুরায় ২৮ জন, মেহেরপুরে ১৮ জন, নড়াইলে ১৭ জন এবং সাতক্ষীরায় ২০ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কেএমসিএইচ)-এ গত রোববার রাতে হামে আক্রান্ত সন্দেহে ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি সোমবার প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি। একইসঙ্গে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও পৃথকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জনসাধারণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে খুলনায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) শিশু রোগীদের জন্য আলাদা করে হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে চরম বেড সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় শিশু রোগীদের অনেককে ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম কর্ণারে মোট ১৪টি বেড থাকলেও এর মধ্যে একটি বেড ভাঙা থাকায় তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে কার্যকর ১৩টি বেডে বর্তমানে ২১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে একটি বেডে দুইজন রোগী রাখার পাশাপাশি অনেককে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। নতুন রোগী এলে তাদেরও ফ্লোরে থাকতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশ। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুষ্টিয়া জেলায়। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। খুমেক হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, গত কয়েকদিনে হাম কর্নারে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ১ এপ্রিল ভর্তি ছিল ১১ জন, ২ এপ্রিল ১৫ জন, ৩ এপ্রিল ১৯ জন, ৪ এপ্রিল ১৪ জন, ৫ এপ্রিল ১৫ জন এবং ৬ এপ্রিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান স্যায়েদা রুখশানা পারভীন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।তবে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন জানান, বর্তমানে খুলনা জেলা আপাতত ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল জানিয়েছে, রোগীর চাপ মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খুলনা সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি বিশেষায়িত হাসপাতাল নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রয়োজন হলে সেখানে চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা যায়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। -

সুন্দরবনে বনদস্যুর গুলিতে কাঁকড়া শিকারি আহত
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবন-এর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কলাগাছিয়া মুল্লি খালের ভারানির মুখ এলাকায় বনদস্যুদের গুলিতে আতিয়ার রহমান (৬৫) নামে এক কাঁকড়া শিকারি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত আতিয়ার রহমান বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মৃত মান্দার গাজীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো তিনি সকালে সুন্দরবনের নির্ধারিত এলাকায় কাঁকড়া আহরণ করতে যান। এ সময় হঠাৎ বনদস্যুদের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়ে জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আতিয়ার রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সহযোগী জেলেরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আতিয়ার রহমান বন বিভাগের অফিসে আসেন। পরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি শ্যামনগর থানা পুলিশ ও কৈখালী কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীতে প্রায়ই বনদস্যুদের তৎপরতা দেখা যায়, যার ফলে জেলে ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।
-

সাতক্ষীরায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে আজ, ৬ এপ্রিল ২০২৬ সকাল সাড়ে ৮ টায় পালিত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরার ক্রীড়া প্রেমীরা র্যালী ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি স্মরণীয় করে তুলেছেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কারপ্রাপ্ত ফিফা রেফারী তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার রবিউল ইসলাম শিবলু, রাইফেল ক্লাব সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ফুটবল কোচ খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স, ইকবাল কবির খান বাপ্পি, ক্রিকেট কোচ আলতাফ হোসেনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও খেলোয়াড়বৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বর্ণাঢ্য র্যালী শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যা ক্রীড়া চর্চা ও যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহী করার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।
-

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ (২০২৬) উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক সভা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের নববর্ষ উদযাপনে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কাক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার সভাপতিত্ব করেন। সভায় সাতক্ষীরার জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবল, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হোসেন, পৌরসভার সিইও আসাদুজ্জামান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়ব হাসান বাবু, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান, নির্বাচন অফিসার হযরত আলি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার, যুব উন্নয়নের উপপরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিডি মেহেদিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বর্গ, প্রতিষ্ঠান প্রধান উপস্থিত ছিলেন। সভায় পহেলা বৈশাখের সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে, যেখানে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী গান অনুষ্ঠিত হবে। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে লোকজ মেলা বা বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হবে। নববর্ষ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে শহরজুড়ে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে নিয়োজিত থাকবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাতরাশে পান্তা-ইলিশ বা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশু একাডেমি: জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শিশু একাডেমির মাধ্যমে শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ১লা বৈশাখে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হবে। এছাড়াও, বৈশাখী শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিবে।
-

জ্বালানি সংকটে কৈখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলনেও ন্যায্য দাম নেই
এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং কৃষকদের পরিশ্রমে শুরুতে আশাবাদী ছিলেন চাষিরা। তবে বৃষ্টির অনিয়মিততা কিছু জমিতে ফসলের ক্ষতি ঘটায়। এরপর জ্বালানি সংকটের কারণে পাইকারি ক্রেতারা বাইরের জেলা থেকে আসতে না পারায় পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠেছে। ফলে শতাধিক চাষি আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কৈখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও আবাদি জমিতে এ বছর ব্যাপক পরিসরে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হওয়ায় মাঠজুড়ে সারি সারি তরমুজ থাকলেও বাজারজাতকরণে কৃষকরা চরম সংকটে রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তরমুজ পড়ে থাকছে, সময়মতো বিক্রি না হলে তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকসহ বিপুল খরচ হয়েছে। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। মৌসুম শুরুর দিকে ভালো দামের আশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা ভেস্তে গেছে। কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, “প্রতি বছরই বাইরের পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এবার জ্বালানি সংকটের কারণে কেউ আসতে পারছে না। ফলে আমরা কম দামে বিক্রি করছি, এতে লাভ তো দূরের কথা খরচই ওঠে না।” আরেক চাষি আব্দুল গনি মোড়ল বলেন, “এত ভালো ফলন জীবনে কমই দেখেছি। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় অনেকেই হতাশ। ক্ষেতেই তরমুজ পড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।” চাষি মোমিন আলি কারিকর জানান, “পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। নিজেরা ভাড়া করে পণ্য পাঠানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার ক্রেতাও নেই। দুই দিক থেকেই ক্ষতির মধ্যে আছি।” কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, “কৃষকরা খুব কষ্ট করে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে বাইরের ক্রেতারা আসতে পারছেন না। এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছি।” উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ জানান, “এ বছর তরমুজের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার অন্যতম কারণ জ্বালানি সংকট। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং বিকল্প বাজার ব্যবস্থার বিষয়েও কাজ করছি। ”স্থানীয় সমাধান প্রস্তাব সচেতন মহল মনে করছেন- দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষিপণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা প্রদান, অস্থায়ী হাট বা সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করা সরকারি পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়, চাষিরা দাবি করেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এবারের বাম্পার ফলনই তাদের জন্য বড় লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
-

তীব্র দাবদাহে জনজীবনে স্থবিরতা
স্টাফ রিপোর্টার: ভোর হতেই সূর্যের উত্তাপ জানান দিচ্ছে দিনটি কতটা অসহনীয় হতে চলেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আকাশ যেন আগুনের গোলার মতো জ্বলছে। গত তিন দিন ধরে তীব্র দাবদাহে দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলাটির জনজীবন। গাছপালা ঝিমিয়ে পড়ছে, মাঠঘাট ফেটে চৌচির, আর মানুষ ও প্রাণিকুল হাঁসফাঁস করছে একটু স্বস্তির খোঁজে। একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দোসর-সব মিলিয়ে জনজীবন এখন এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে সাতক্ষীরার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। শনিবার আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও তাপমাত্রার পারদ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। এর ওপর বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গরমের তীব্রতা অনুভব হচ্ছে আরও বেশি। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হতে বাধ্য হচ্ছেন, তারা তীব্র রোদ আর ধুলোবালি থেকে বাঁচতে ছাতা, হ্যাট বা স্কার্ফ ব্যবহার করছেন। সাতক্ষীরা শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় কথা হয় ভ্যানচালক রফিকুল ইসলামের সাথে। পেশার তাগিদে এই তীব্র রোদেও রাস্তায় বের হতে হয়েছে তাকে। তিনি জানান, “গত তিন দিন ধরে ভ্যান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শরীর দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে না, শুধু জ্বালাপোড়া করছে। দুপুরের দিকে রাস্তা দিয়ে তাকালে মনে হয় রাস্তা থেকে ধোঁয়া উঠছে। এই সময়ে এমন গরম গত কয়েক বছরে খুব একটা দেখা যায়নি।” সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান সহকারী জুলফিকার আলি রিপন বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দুপুর আড়াইটায় তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রির একটু বেশি। এ অবস্থা আরও দুই-একদিন থাকতে পারে। এদিকে তীব্র গরমের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হিটস্ট্রোকের ভয়ে বা গরমে অসুস্থ হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার খাওয়ার জন্য।সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, গত তিন দিনে প্রচুর সংখ্যক মানুষ জ্বর, মাথাব্যথা, পানিশূন্যতা এবং হিট-ক্র্যাম্পের সমস্যা নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “তীব্র দাবদাহের সময় বাইরের কাজ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। যদি বাইরে বের হতেই হয়, তবে ছাতা ব্যবহার করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করাও শরীরের জন্য এখন খুবই প্রয়োজন।” দাবদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাত। সাতক্ষীরার মাঠগুলোতে এখন ধান পাকার সময়। দিনের বেলা শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। মাঠের মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যার ফলে সেচ ব্যবস্থা সচল রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমের মুকুল ও গুটির ওপরও এই তাপপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।বাগানিরা বলছেন, তাপমাত্রা যদি আরও কয়েক দিন এমন থাকে এবং ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয় তবে আমের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাতে না পারলে ফলের আকার ছোট হয়ে যেতে পারে এবং ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে। শুধু মানুষ নয়, গৃহপালিত পশু ও পাখিরাও এই দাবদাহ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ছায়াঘেরা জায়গার সন্ধানে প্রাণীরা ছোটাছুটি করছে। গবাদি পশুর খামারিরা জানিয়েছেন, গরমে গরুর দুধ উৎপাদন কমে গেছে। তাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে খামারিরা সারাদিন ফ্যান চালানো বা গবাদি পশুকে পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়ার মতো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।প্রকৃতি যেন বৃষ্টির জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। খাল-বিল, পুকুর ও নদীগুলোর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চারপাশের গাছপালা মলিন হয়ে গেছে। সবুজের ওপর ধূসর আস্তরণ জমেছে যেন। তবে আশার কথা হলো, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিল থেকে কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইতে পারে। সেদিন বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই দীর্ঘ দাবদাহের অবসান ঘটাতে পারে। তীব্র গরমে শহরের কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও শরবত বিতরণ করতে দেখা গেছে। অসহনীয় এই পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পথচারীদের। তবুও, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নাগরিক জনজীবন এখন এক ধরনের ক্লান্তিতে ডুবে আছে। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তি মানুষের সীমাবদ্ধতাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানো ও সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দারা এখন কেবলই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন, এক পশলা বৃষ্টির প্রতীক্ষায়। বৃষ্টির কোমল স্পর্শে পৃথিবী আবার সজীব হয়ে উঠবে-এই কামনাই এখন সাতক্ষীরাবাসীর কণ্ঠে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও সাধারণ মানুষকে রোদের তীব্রতা থেকে সতর্ক থাকতে নিয়মিত নির্দেশনা প্রচার করছে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং জনজীবনে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও গরমের তীব্রতা বজায় থাকবে। পরবর্তী ২-৩ দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
-

সাতক্ষীরায় জামায়াতের অগ্রসর কর্মী শিক্ষা শিবির
আশরাফুজ্জামান: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা জামায়াত অফিস মিলনায়তনে এ শিবির হয়। উপজেলা আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ড. রুহুল আমিন ও মাওলানা শাহাদাত হোসাইন। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজাদুর ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মুহাদ্দিস আলাউদ্দিন আল আজাদ ও শহিদ হাসানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা কর্মীদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও ত্যাগের মনোভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শেষে দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
-

সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল সংকটে হুমকির মুখে প্রাণিসেবা কার্যক্রম
মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে প্রাণিসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং জরুরি পশু চিকিৎসা সেবা সময়মতো পৌঁছে দিতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খামারিরা। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত পল্লী প্রাণী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলে গিয়ে কৃত্রিম প্রজননসহ নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা ও প্রজনন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এদিকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অসুস্থ গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। জরুরি চিকিৎসার জন্য ডাক পেলেও যানবাহনে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, এতে রোগাক্রান্ত পশুর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ছে। খামারিদের অভিযোগ, নিয়মিত কৃত্রিম প্রজনন ও চিকিৎসা সেবা ব্যহত হওয়ায় দুধ, মাংসসহ প্রাণিসম্পদভিত্তিক উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রাণী চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে জেলার সামগ্রিক প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন প্রদান ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও ব্যহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত প্রাণী চিকিৎসকদের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে জরুরি চিকিৎসা ও কৃত্রিম প্রজননসহ সব সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হয়।
