সারাদেশে অনুপস্থিত ১১ হাজার ৮৯০ জন, বহিষ্কৃত ৬ জন
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে এসএসসি ও সমনমান পরীক্ষার প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এ পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ৪৫৭ জন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে জেলার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তকতাগণ। তিনি জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং সার্বিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় মোট ২১ হাজার ১৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অনুপস্থিত ছিল ৪শ ৫৭ জন। জেলায় ৫১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি এসএসসি, ১৪টি দাখিল এবং ৮টি ভোকেশনাল কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসএসসিতে মোট পরীক্ষাথী ১৪,৩৩৩ জন, দাখিলে ৫,৬৭২ জন এবং কারিগরিতে ১,১২৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা ছিল। জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর জানান, এবারের পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এক কেন্দ্রের শিক্ষক অন্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন, যা রোটেশনাল ডিউটি হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। এদিকে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মঙ্গলবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী। তারা পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দেয়নি। এ ছাড়া প্রথম দিনে অসদুপায়ের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছে ছয় পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে চারজন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের, একজন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আরেকজন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। গতবারের তুলনায় এবার ৭৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। গতবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। পরীক্ষা শেষে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৮৯০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১১ হাজার ২১১ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৩০৭ জন। গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এই পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ২৬ হাজার ৯২৮ পরীক্ষার্থী। তার আগের বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৯ হাজার ৩৫৯ পরীক্ষার্থী। গতবার অনুপস্থিত থাকার কারণ চেষ্টা করেছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তাদের বোর্ডে গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ছয় হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। প্রাপ্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী ১ হাজার ২০৩ জনের তথ্য বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশের (৪৮১) বিয়ে হয়েছিল। এ ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কারণে। অন্যরা অসুস্থতা, প্রস্তুতি ভালো না থাকাসহ নানা কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
Category: হোম পেজ লীড নিউজ
-

সাতক্ষীরায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৫৭ জন
-

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির ভোমরা স্থলবন্দর
আবু সাইদ বিশ্বাস: জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পরিবহন সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা দিয়েছে স্থবির। ডিজেলের স্বল্পতার কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, বাড়ছে ট্রাকভাড়া ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০টিতে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাকগুলো সময়মতো ফিরতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে। ফলে বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না এবং পণ্যের স্তূপ জমে থাকছে। ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক রিপন হোসেন বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রান্সপোর্টগুলো ঠিকমতো গাড়ি দিতে পারছে না। অল্প কিছু গাড়ি দেওয়া হলেও অনেক সময় সেগুলো মাঝপথে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের দিকে যতগুলো গাড়ি পাঠাচ্ছি, তার অর্ধেক পথেই গিয়ে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা থেকে স্বল্প পরিমাণ তেল নিয়ে গাড়ি ছাড়লেও তা গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। ফলে মাল দেরিতে পৌঁছাচ্ছে এবং কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে অনেক পার্টি কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সাতক্ষীরা ভোমরা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন কিরণ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাকভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আগে এক ট্রাক মাল ঢাকায় পৌঁছাতে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হতো। বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে আমরা ট্রাক পাঠাতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে তেল সংকট তীব্র হওয়ায় এসব রুটে ট্রাক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তেল সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন পরপর একটি করে ট্রাক ভোমরায় ঢুকছে। অনেক সময় ফল, আদা ও অন্যান্য কাঁচামাল রাস্তায় তেল ফুরিয়ে পড়ে থাকছে, বলেন তিনি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বন্দরে খালাস হওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য ট্রাকের অভাবে সময়মতো সরানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ট্রাকচালক বাবু বলেন, ভোমরা থেকে মাল নিয়ে বাইরে গেলে অনেক জায়গায় তেল পাওয়া যায় না। এতে আমাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়ও কমে যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। আরেক ট্রাকচালক সুমন হোসেন বলেন, আগে যেখানে দুই দিনে একটি ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন সেখানে এক সপ্তাহেও একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, গতকাল রাতে পাম্পে সিরিয়াল দিয়েছি, দুপুর হয়ে গেছে তবুও তেল পাইনি। কখন পাব, তারও নিশ্চয়তা নেই। ট্রাকচালক আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমও হচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে প্রায় ১৮০ লিটার তেল লাগত। এখন অল্প অল্প করে তেল নিতে নিতে মোট প্রায় ২১০ লিটার পর্যন্ত লাগছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্য। সময়মতো পরিবহন না হওয়ায় কাঁচামরিচ, আদা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে রূপান্তর হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা নানা সুবিধা পাচ্ছেন এবং বাণিজ্য কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিক এ সময় জ্বালানি সংকট আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিবহন সংকটের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে সরকারকে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বন্দরের কার্যক্রমে আরও স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।
-

সাতক্ষীরা বাইপাস জুড়ে বাঁশ-বালু ফেলে দখল
বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্য। বিশেষ করে মৌবন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশের ফুটপাত বাঁশ ফেলে দখল করে রেখেছেন কিছু ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারিত্ব চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ও দুপুরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দ্রুতগতির যানবাহনের ভিড়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
-

নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় গড়ে তোলার আহবান এমপি ইজ্জত উল্লাহর
কলারোয়া ব্যুরো: কলারোয়া উপজেলার মরহুম আছির উদ্দিন শায়েদা অডিটোরিয়ামে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষক সমাবেশ। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাবেশটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তিনি তার বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান। তিনি শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি উন্নত ও আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও সমাবেশে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা শেষে ভবিষ্যতে শিক্ষক সমাজের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সমগ্র আয়োজনের দায়িত্বে ছিল আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, কলারোয়া উপজেলা শাখা।
-

আশাশুনিতে ১০ গ্রামের একমাত্র সাঁকো নদীতে ভেসে গেছে, এমপির পরিদর্শন
এস.এম মোস্তাফিজুর রহমান: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা-এর শোভনালী ইউনিয়নে ১০ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র কাঠের সাঁকো জোয়ারের পানিতে ভেসে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গেছে, শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া ও বুধহাটা ইউনিয়নের কুন্দুড়িয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মরিচ্চাপ নদী-র ওপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকোটি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে প্রবল স্রোতের মুখে ধসে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায়। এর আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হলেও নদী খননের ফলে প্রায় ৩-৪ বছর আগে সেটি ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়, যা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী এবং পণ্যবাহী সাইকেল-মোটরসাইকেল চলাচল করত। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বুধহাটা, পাইথালী, ব্যাংদহা, গাজীরমাঠ ও কামালকাটি হাট-বাজারসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৪-৫টি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমান দাশ, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী। পরিদর্শনকালে এমপি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন এবং দ্রুত বিকল্প পারাপার ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাময়িকভাবে নতুন করে কাঠের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে ২-৩ দিনের মধ্যে সাঁকো নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ ও স্টিমেট প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন।
-

অবৈধ ডিজেল মজুদে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা, একজনের কারাদণ্ড
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ রাখার অভিযোগে দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজার ও শহরের ইটাগাছা এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. মোশারফ হোসেন (৪৬)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার নুরুন্নবীর ছেলে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু বুধবার বিকেলে মেসার্স ভাই ভাই, মেসার্স ইউরেকা, মেসার্স এবি খান, মেসার্স আলিপুর, মেসার্স সোনালী ও মেসার্স কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের মজুদ তদারকি করেন। এ সময় কোনো ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বিকেল ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে তেল পৌঁছাবে বলে জানা যায়। তদারকির সময় সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারে আরাফাত এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন ১৭ লিটার ডিজেলের অবৈধ মজুদ পাওয়া যায়। লাইসেন্সবিহীন অবৈধ মজুদের অপরাধে আরাফাত এন্টারপ্রাইজকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর আওতায় ধারা ৪ ও ২০ অনুযায়ী ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকায় ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৭০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় লাইসেন্সবিহীনভাবে ডিজেল মজুদ করার অপরাধে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ধারা ৪ ও ২০ (১১) (ঙ) অনুযায়ী ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
-

সাতক্ষীরায় এক লাখ ৭৭ হাজারের বেশি শিশুকে দেওয়া হবে হাম-রুবেলা টিকা
স্টাফ রিপোর্টার: সংক্রমণ রোধে সাতক্ষীরায় এক লাখ ৭৭ হাজারের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা দেবে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী চলবে এ টিকাদান ক্যাম্পেইন। টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু পাবে এ টিকা। জেলার প্রাক-প্রাথমিক ও এর সমমান শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে এমআর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হবে শিশুদের। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এমআর (হাম-রুবেলা) ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন ২০২৬ এর জেলা সমন্বয় সভায় সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জেলার ৭টি উপজেলায় অস্থায়ী এবং স্থায়ী কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৫২ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে। প্রথম আট দিন কমিউনিটি পর্যায় এবং শেষে তিন দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই টিকা দেয়া হবে। ১১ দিনের এ ক্যাম্পেইনে যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে, সেজন্য সকলের সহযোগিতার পাশাপাশি মাইকিং ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচারণা চালানো হবে। সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল (বিপিএম)। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রওশনারা জামান, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ডা: ফরহাদ জামিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা: রাশেদ উদ্দিন মৃধা, জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট শেখ আবদুল বাকি প্রমূখ। অনুষ্ঠানে সকল অভিভাবকদেরকে তাদের শিশুকে ইপিআই অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। আগামী ২০ এপ্রিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর কেন্দ্রে এ টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
-

ঐক্যের বন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ #সাতক্ষীরায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন
আবু সাইদ বিশ্বাস: বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের বন্ধনে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাতেও সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর, জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন হচ্ছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা – এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে আজ সোমবার সাতক্ষীরা জেলাতে উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। বর্ষপরিক্রমায় চৈত্র সংক্রান্তির শেষ সূর্যাস্তের সাথে সাথেই বিদায় নেবে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, আর ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হবে নতুন বছর ১৪৩৩। দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা শহর ও সব উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা চলছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজনসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি অনুযায়ী, ০১ বৈশাখ ১৪৩৩ (১৪ এপ্রিল ২০২৬) মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সঙ্গীত ও “এসো হে বৈশাখ” গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হবে।সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কালেক্টরেট পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে, যা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে মিলিত হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক হিসেবে ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও পায়জামা, লুঙ্গি, লাল শাড়ি এবং বৈশাখী শাড়ি পরিধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। মেলায় থাকবে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প, খাবারসহ নানা আয়োজন। বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ঘুড়ি উৎসব ও লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। একই দিন বিকাল ৫টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে শিশু একাডেমি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার এবং শিশু পরিবার (এতিমখানা)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা নববর্ষের এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। উৎসব বরণ করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় চারু ও মৃৎশিল্পীরা। শহরের মোড় থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সবখানেই চলছে বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর কাগজের স্তর বসিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বিশাল বাঘ, হাতি আর নানা লোকজ মোটিফ, যেন প্রতিটি ছাঁচে, প্রতিটি রঙে ফিরে আসছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। শহরের প্রাণকেন্দ্র মিনিমার্কেটে শিল্পী রফিকুল ইসলাম তখন তুলির শেষ টান দিতে ব্যস্ত। ক্লান্তি আছে, তবু চোখে তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই ঘুমহীন সময় কাটছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাজ এগোচ্ছে দ্রুত। তাঁর কণ্ঠে একধরনের গর্ব—এই শিল্পের ভেতর দিয়েই তিনি তুলে ধরতে চান সাতক্ষীরার ঐতিহ্য। সেখানেই কথা হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জীর সঙ্গে। তাঁর কাছে পয়লা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি শিকড়ে ফেরার দিন। এদিনই মনে করিয়ে দেয়, বহু শতাব্দীর পথ পেরিয়েও বাঙালির সম্প্রীতির বন্ধন অটুট আছে। বাঙালি সংস্কৃতি এগিয়ে চলছে। মানুষ শিকড় ভুলে যায় না, ফিরে আসে মাটির টানে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আশা করছি, বৈশাখী অনুষ্ঠান সাতক্ষীরার মানুষ এবার আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করবে।’
-

সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। রবিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩ টায় সাতক্ষীরা শহরের আমতলা গণমুখী মাঠে প্রথমে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত। সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জনগণের রায় মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে হাজারো নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক- নারকেলতলা মোড়, আসিফ চত্বর, কোর্ট মোড়, নিউমার্কেট মোড় ও পাঁকাপোল অতিক্রম করে নাজমুল স্মরণী হয়ে পুনরায় আমতলা মাঠে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। এই গণরায় নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা আশা করেছিলাম সরকার জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেবে, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, নির্বাচনের দুই মাস পার না হতেই সরকার জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে। যে আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে তারা ক্ষমতায় এসেছে, সেই জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে তারা ভুলে যাচ্ছে। ৭১ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করা মানে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করা। সমাবেশে বক্তারা ব্রিটিশ আমলের ‘পচা আইন’ বাতিল করে জুলাই আন্দোলনের চেতনার আলোকে নতুন আইন প্রণয়ন ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, ডা. মাহমুদুল হক, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী প্রভাষক ওমর ফারুক, অফিস সেক্রেটারী রুহুল আমিন, এনসিপি নেতা কামরুজ্জামান বুলু, এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব সালাউদ্দিন শাকিল, শহর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, জাতীয় ছাত্র শক্তি’র হাসিবুল রহমান রুম্মানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করেন, জনগণের ভোটাধিকার ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
-

জ্বালানি তেল সরবরাহে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। সভায় জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে জেলায় প্রায় দেড় গুণ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়েছে। সভায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, অবৈধ মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান বৃদ্ধি, যানজট নিরসনে বাস থামার নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিতকরণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে অভিযান বৃদ্ধি এবং সরকারি খাস জমি উদ্ধারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এম. রাজু আহমেদ, জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।