Category: হোম পেজ লীড নিউজ

  • সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কারাতে ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন তালা

    সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কারাতে ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন তালা

    স্টাফ রিপোর্টার: সারা দেশের গ্রাম পর্যায়ের কিশোর-কিশোরীদের (১২-১৪ বছর) প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উপজেলা পর্যায়ের বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার (৩ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়াম-এ বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাছাইয়ের কারাতে ইভেন্টে তালা উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। কারাতে ইভেন্টের রেফারির দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আঃ মাতিন। আয়োজকরা জানান, উপজেলা পর্যায়ের বাছাই শেষে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

  • আশাশুনির কুল্যায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি রবিউল বাশার

    আশাশুনির কুল্যায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি রবিউল বাশার

    এসএম মোস্তাফিজুর রহমান: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর উদ্যোগে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় আইখাল, এড়্যা খাল ও হিমখালী খালের পুনঃখনন কাজের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। অনুষ্ঠানে কুরআন তেলাওয়াত করেন মোঃ আবু মুছা এবং গীতা পাঠ করেন নরেন বাছাড়। স্বাগত বক্তব্য দেন কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম ওমর সাকি ফেরদৌস পলাশ। এ সময় বক্তব্য দেন বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইবনে সীনা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা কমবে, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।

  • খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধে সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভা

    খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধে সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভা

    ফিরোজ হোসেন: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা সংক্রান্ত একটি এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। মুখ্য উপস্থাপক হিসেবে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং বিএফএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এডভোকেসি সভার কনসালটেন্ট মুস্তাক হাসান মুহাঃ ইফতেখার। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক ডা. ইসমত জাহান সুমনা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিঞ্চুপদ পাল, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, বাসস জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, শহর আমীর খোরশেদ আলম, কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আনিসুর রহমানসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ড্রামে বিক্রিত খোলা ভোজ্যতেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, এতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রণের আশঙ্কা থাকে এবং উপকারী পুষ্টি উপাদান (যেমন ভিটামিন ‘এ’) পর্যাপ্ত থাকে না। ফলে এসব তেল দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তারা আরও বলেন, জনগণকে সচেতন করে খোলা ভোজ্যতেল পরিহার করে বোতলজাত ও মানসম্মত তেল ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে হবে। একইসাথে খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া লবণ আয়োডিনসমৃদ্ধ কিনা তা নিশ্চিত না হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করা হয়। তাই প্যাকেটজাত লবণ ও মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক।

  • সাতক্ষীরা হাসপাতালে সাত বছর পর চালু হলো আধুনিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন

    সাতক্ষীরা হাসপাতালে সাত বছর পর চালু হলো আধুনিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন

    আবু সাইদ বিশ্বাস: দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আবারও চালু হয়েছে আধুনিক পদ্ধতিতে (মাইক্রো সার্জারি) পিত্তথলির পাথর অপারেশন। গত ১৯ এপ্রিল থেকে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি (মেশিনের সাহায্যে পিত্তথলির পাথর অপারেশন) পদ্ধতিতে এই অপারেশন শুরু হয়েছে, যা সাতক্ষীরার দরিদ্র-অসহায় ও সাধারণ রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। আগে পিত্তথলিতে পাথর হলে পেট কেটে অপারেশন করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে মাইক্রো সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছিদ্র করে মেশিনের সাহায্যে নিরাপদ ও কম সময়ে অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে রোগীরা মাত্র একদিন হাসপাতালে অবস্থান করে পরেরদিন বাড়িতে চলে যেতে পারেন। এছাড়া এই পদ্ধতিতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললে চলে। তবে সরকারি হাসপাতাল ব্যাহত বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এই চিকিৎসাটা বেশ ব্যয়বহুল। ফলে পিত্তথলির পাথর অপারেশনে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালই একমাত্র ভরসার স্থল। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কিছুদিন আগে যোগদানকারী সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম এবং ডা. সুব্রত কুমার মন্ডল সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও মঙ্গলবার এই অপারেশন পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে এই অপারেশন সেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন রোগীরা। সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম জানান, “সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বর্তমানে সপ্তাহে দু’দিন ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে অপারেশন কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।” এখান থেকে সেবা নিয়ে সুস্থ থাকার জন্য তিনি রোগীদেরকে সদর হাসপাতালের সার্জারি বহিঃ বিভাগের ১১৭ ও ১১৮ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. রুহুল কুদ্দুস জানান, বিগত ২০১১ সালে তিনি সদও হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে ডাঃ শরিফুল ইসলাম ও ডাঃ হাসানুজ্জামানকে সাথে নিয়ে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে অপারেশন কার্যক্রম শুরু করেন। তার সময় তিনি সাতক্ষীরার বহু মানুষের ফ্রিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি বদলি হয়ে মেডিকেল কলেজে যাওয়ার পর ডাঃ শরিফুল ইসলাম কিছুদিন এই অপারেশন চালু রেখেছিলেন। পরে ২০১৯ সাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎস্যকের অভাবে এই চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায়। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মেশিনের সাহায্যে পিত্তথলির পাথর অপারেশন কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এখানে এই চিকিৎসা সেবাটি এতদিন বন্ধ ছিল। এখন হাসপাতাল থেকে এই চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীর কোনো টাকা খরচ হবে না। যে কেউ এখন থেকে সদর হাসপাতালে এসে পিত্তথলির পাথর অপারেশন কার্যক্রমের সেবা নিতে পারবেন।” তবে অবশ্যই তাকে সিরিয়াল মেইনটেইন করতে হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।

  • সাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    সাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    স্টাফ রিপোর্টার: ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম। রঙিন জার্সি, উচ্ছ্বাস আর প্রতিযোগিতার আগ্রহে ভরপুর শিশুদের উপস্থিতিতে যেন এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সেই আবহেই শুরু হলো প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে তিন দিনব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। এ সময় মাঠজুড়ে করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, বিপিএম। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. নূরুল হুদা, সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি। জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমী মানুষে ভরে ওঠে গ্যালারি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে এবার জেলা পর্যায়ের খেলায় অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন উপজেলার চ্যাম্পিয়ন দলগুলো। আশাশুনি উপজেলা থেকে বালক বিভাগে আনুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে সরাপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। কলারোয়া থেকে বালক বিভাগে কয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিকা বিভাগে মেহমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কালিগঞ্জ থেকে বালক বিভাগে গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে এনএনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তালা উপজেলা থেকে বালক ও বালিকা উভয় বিভাগেই অংশ নিচ্ছে লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেবহাটা উপজেলা থেকে বালক বিভাগে টাউন শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিকা বিভাগে হাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্যামনগর থেকে বালক বিভাগে হরিণনগর হাটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে পূর্ব মিরগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সদর উপজেলা থেকে বালক বিভাগে ভাড়ুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে ছয়ঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সহিষ্ণুতা গড়ে তোলে। এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। এই টুর্নামেন্ট শুধু প্রতিযোগিতা নয়—শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। টুর্নামেন্টটি চলবে আগামী ১ মে পর্যন্ত। সেদিন বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। ততদিন মাঠে গড়াবে ছোটদের বড় স্বপ্নের ফুটবল লড়াই।

  • শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদীর চর দখলের অভিযোগ

    শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদীর চর দখলের অভিযোগ

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়ন-এর ঝাপালী এলাকায় খোলপেটুয়া নদী-এর চর দখল ও ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে নদীর ভেতরে বাঁধ দিয়ে প্রায় ৬০০ ফুটের বেশি জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ঝাপালী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় ১৫-১৬ জন শ্রমিক নদীর ভেতরে বাঁধ নির্মাণ ও ভরাট কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই স্থানে বালুর আড়ৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রিকাত সরদার, আয়জুল সরদার ও পলাশ হোসেন নামের কয়েকজন মিলে এ কাজ পরিচালনা করছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আহাদ অভিযোগ করে বলেন, “ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে এই কাজ চালানো হচ্ছে।” আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আয়জুল সরদার বলেন, তিনি নদী ভরাটের সঙ্গে জড়িত নন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এলাকায় আরও স্থাপনা হচ্ছে, শুধু একটি কাজকে টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে পলাশ হোসেন বলেন, সেখানে কবরস্থান করার উদ্দেশ্যে ভরাট কাজ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন রায় বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাশিমাড়ি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুরজাহান কনক বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি জেনেছি, খতিয়ে দেখা হবে।” স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে নদী ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পাশাপাশি নৌপথের স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

  • ৫ মে বাজারে আসছে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম

    ৫ মে বাজারে আসছে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরার আমের খ্যাতি শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও। ২০১৫ সাল থেকেই এই জেলার আম ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হয়ে আসছে। সেই সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের লক্ষে সাতক্ষীরার আম সংগ্রহের সময়সূচি বা আম ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ আম ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচাপাকা মাল ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি রওশন আলী, সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খা প্রমুখ। সভায় জেলা প্রশাসক জানান, সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আমের কদর আছে দেশ ও বিদেশে। আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আম দেশের অন্য এলাকার তুলনায় অগ্রিম পরিপক্ব হয় এবং স্বাদেও অন্যন্য। আগে বাজারে ওঠার কারণে বেশি দামে বিক্রিও হয় এই আম। সাতক্ষীরার আমের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আম সংগ্রহের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও দেশীয় বৈশাখী আমসহ স্থানীয় জাতের আম, ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ন্যাংড়া এবং ৫ জুন আম্রপালি আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করা যাবে। তিনি আরো বলেন, এই সময়সুচির আগে অপরিপক্ব আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা বাজারজাতকরণে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় এ বিষয়ে জেলাব্যাপি কঠোর নজরদারি থাকবে। জেলা প্রশাসক আরও জানান, এই বছর সাতক্ষীরা জেলা থেকে প্রায় ৭২ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। রপ্তানি যোগ্য আম নিশ্চিত করতে গুণগতমান রক্ষা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ বন্ধ রাখা হবে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আম বাগান রয়েছে। চলতি বছর এখান থেকে এবার ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি জাতের আম পরিপক্ক হওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। আগেভাগে পাড়লে আমের স্বাদ ও গুণগত মান কমে যায়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ ক্ষুন্ন হয়। ২০১৫ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম ইউরোপে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে, যা জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এবরাও আমের কোয়ালিটি অনুযায়ি নির্দিষ্ট পরিমাণ আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে। সভায় আরও জানানো হয়, এই মৌসুমে আম সংগ্রহ ও পরিবহনে নজরদারি করতে মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, চেকপোস্ট ও বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করবে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে চালানো হবে প্রচার অভিযানও। প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরার আম শুধু বাংলাদেশের বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও জনপ্রিয়। জেলার আবহাওয়া ও মাটি এই অঞ্চলের আমকে করেছে সুস্বাদু, ঘ্রাণযুক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।

  • প্রাণসায়ের খাল পাড়ে অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না: জেলা প্রশাসক

    প্রাণসায়ের খাল পাড়ে অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না: জেলা প্রশাসক

    স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে শহরের প্রাণসায়ের খাল ও সুলতানপুর বড় বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে এবং জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অনুযায়ী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাণসায়ের খাল পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় বা অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ সরেজমিনে দেখে বলে গেলাম, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী শনিবার আবারও পরিদর্শনে আসবো।” তিনি আরও বলেন, “ব্রিজের ওপর দোকানপাট ও রাস্তার দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাতক্ষীরাকে বাসযোগ্য করতে অভিযান চলমান থাকবে।” অভিযানে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা শেখ কামরুল ইসলাম ফারুক এবং জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পৌর প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মো. আসাদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মেদ, সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ, উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাব্বাত হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে জানান, প্রাণসায়ের খালের পাড়ে কসাইখানা (পিলখানা) স্থাপন করা হলে খাল আবারও বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে এবং পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। তারা বলেন, “এ জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তার পরও পৌরসভা টেন্ডার দিয়েছে, যা দুঃখজনক।” এ সময় বক্তব্য রাখেন সুলতানপুর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, শহর কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতি এবং মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। এছাড়া জেলা রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিন, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন।

  • সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে শেষ ভরসা বাঁশবাগান

    সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে শেষ ভরসা বাঁশবাগান

    এসএম আশরাফুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। দুপুরের তীব্র রোদে গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান-বিদ্যুৎহীন অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও পাটি বা চাটাই বিছিয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। বকচরা গ্রামের আলমগীর লস্কর বলেন, দিনে ও রাতে মিলেও ১৪ ঘন্টা কারেন্ট থাকে না। ফলে ইটের দালান বা টিনের ঘরের ভ্যাপসা গরমে থাকাটাই অসহনীয় ব্যাপার, তার চেয়ে দুপুরে কারেন্ট গেলে বাঁশবাগানের ভেতরের পরিবেশ অনেকটাই সহনীয় হয়ে ওঠে। বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়া একটু তো স্বস্তি দিচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দা মুকুল বলেন, “ঘরের ভেতর গরমে থাকা যায় না, লোডশেডিং তো আছেই। তাই বিকেলে বাঁশবাগানে চলে আসি। এখানে বসলে একটু ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায় কিন্তু বাড়ি ঘরে মহিলাদের এই অসহনীয় গরম সহ্য করতে হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, ঘন সবুজ উদ্ভিদ এলাকাভেদে আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম অনুভব করাতে পারে, যা তাপদাহের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দেয়। চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দিনের তীব্র তাপদাহ এবং রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে খোলা ও গাছের ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নিচ্ছেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমাধান চান দেশবাসী। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিবেদন তৈরি করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে সংবাদটি ইমেইলে পাঠানোর সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে এলে আবারও সংবাদটি পাঠাতে হয়। লোডশেডিংয়ের এই চক্র শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সংবাদকর্মীদের কাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রচণ্ড দাবদাহ, অন্যদিকে সেচ সংকটে ফসলের মাঠ রোদে পুড়ে চৌচির হওয়ার উপক্রম। তাই শেষ মুহূর্তে এসে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরার কয়েক হাজার কৃষক। সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সোনালী স্বপ্নের হাতছানি। ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে ধানের শীষে দুধল দানা কেবল পুষ্ট হতে শুরু করেছে। এই সময়ে ফসলের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন সেচ। কিন্তু সারাদেশের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই কৃষি প্রধান এই জেলায় জেঁকে বসেছে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ডিজেল সংকট। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে সাত হাজার ৪০টি এবং ডিজেলচালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেলচালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। ইতিমধ্যে কিছু উপজেলায় ৫ শতাংশ ফসল কাটা হয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ উপজেলায় এখনো দশ-পনের দিন পরে ধান কাটা শুরু হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ধানে এখনো দুই-একটি সেচের প্রয়োজন হবে। তবে আশা করছি, কৃষিতে সেচের সমস্যা হবে না। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং সমস্যার প্রভাব ফসলে পড়বে না।’ তবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেলো তাদের কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে লোডশেডিংয়ের কারণে ভালভাবে সেচ দিতে পারিনি। সর্বশেষ দুই সপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে গভীর রাতে যখন সেচ পাম্পগুলো চালানোর কথা, তখনই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না গ্রামাঞ্চলে। ফলে ফসলে এবার মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি। ’ তালা উপজেলার কৃষক সমির আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধানের শীষ কেবল বের হইছে। এই সময় মাটি শুকায়ে গেলে চাল হবে না, সব চিটা হয়ে যাবে। সারারাত পাম্পের গোড়ায় বসে থাকি বিদ্যুতের আশায়, কিন্তু দেখা নাই। যখন আসে, তখন ভোল্টেজ এতো কম যে পানি ঠিকমতো উঠে না।’ সাতক্ষীরা পৌনসভা এলাকার কৃষক ও পানি ব্যবসায়ী সুরাত আলী বলেন, ‘আমার একটি গভীর নলকূপ আছে। কিন্তু বিদ্যুৎ তো আসে আর যায়! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকে না। যখন আসে, তখন ভোল্টেজ এতো কম থাকে যে মোটরের কয়েল পুড়ে যাওয়ার ভয়ে পাম্প ছাড়তে পারি না।’ ‘মাঠের কৃষকরা পানির জন্য প্রতিদিন আমার বাড়িতে এসে ভিড় করছে, গালিগালাজ করছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে আমি পানি দেবো কোত্থেকে? অনেকটা ক্ষুব্ধভাবেই বললেন হাবিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের অভাবে পাম্প না চললেও মাস শেষে ঠিকই বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ডিজেল দিয়ে পাম্প চালাতে গেলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকরা দিতে রাজি নন। এই অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক লাখ টাকা লোকসান দিয়ে তাকে পানি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষকরা বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকলেও সেখানেও বিপত্তি বাঁধে। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারগুলোতে ডিজেলের তীব্র সংকট রয়েছে। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না চাষীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে ড্রামপ্রতি চড়া দাম দিয়ে কালোবাজার থেকে তেল কিনছেন। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ‘তেল নাই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। কিছু কিছু পাম্পে বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও কৃষকদের দীর্ঘ লাইনের কারণে মিলছে না কাক্সিক্ষত পরিমান জ্বালানি। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখাচ্ছেন পাম্প মালিকরা। প্রতি লিটার ডিজেলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের অনেক সময় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। এ বছর এপ্রিলের শুরু থেকেই সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি হওয়ায় মাঠের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বোরো ধানের এই পর্যায়ে জমিতে পরিমান মতো পানি না থাকলে ধানের দানা পুষ্ট হবে না এবং ‘হিট শক’-এর কারণে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজুর রহমান সরকার বলেন, ‘বর্তমান কৃষকদের সেচ চাহিদার বিপরীতে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে দিতে পারছিনা। রেশনিং পদ্ধতিতে লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিদ্যুৎ বিভাগকে সেচ কাজে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা রোদ কম থাকলে অর্থাৎ বিকেলে বা ভোরে সেচ দেন। তবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটে কৃষকরা যে চাপে আছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।’ কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রেশনিং করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সেচ মৌসুমে কৃষি ফিডারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। সাতক্ষীরা জেলা দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। এখান থেকে উৎপাদিত ধান দেশের একটি বড় অংশের চালের চাহিদা মেটায়। কিন্তু মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে জ্বালানি আর বিদ্যুতের এই হাহাকার কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে এবং ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মাঠের পাকা ধানের বদলে কেবল খড় নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে তাদের। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।