আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে পেট্রোলপাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। তেল নিতে গেলেই অধিকাংশ পাম্প মালিকরা বলছে তেল নেই। আর যে পাম্পে তেল আছে সেখানে দেখা যাচ্ছে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সমাধান করার জন্য সব গাড়ির জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। এ জন্য কাজও শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে, সাতক্ষীরাতে ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি পেট্রোলপাম্পে মটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। ২৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-কলারোয়া সড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় মের্সাস লস্কর ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়কের উপর আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ আবারও তেল দিতে শুরু করলে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়ক থেকে উঠে আসে। এদিকে ২৭ মার্চ শুক্রবার সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তেলের মজুদ ও বিক্রয় তদারকি করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ সময় মেসার্স হোসেন, মেসার্স ইউরেকা, মেসার্স ডেলমা ও মেসার্স সোনিয়া ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন পরিলক্ষিত হয়। সবাইকে মোটরসাইকেলের লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় চাহিদা মোতাবেক পেট্রোল দেয়া হচ্ছে কি না তা দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ দেখা যায়নি। তদারকির সময় রিজার্ভ ট্যাংক, সরবরাহ চালান এবং বিক্রয় ও মজুদ রেজিস্ট্রার চেক করা হয়। এসময় চন্দনপুর ইউনিয়ন, কলারোয়া উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন জ্বালানি তেলের মজুদ এবং খোলা বাজারে তেল সরবরাহ করায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী একটি মামলায় ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালীন মুদি দোকানী, খোলা বাজারে তেল বিক্রেতাকে এবং জনসাধারণকে অতিরিক্ত তেল মজুদ এবং লাইসেন্সবিহীন খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা অপরাধ সেই বিষয়টি অবগত করা হয়। সরকারি আইনানুযায়ী ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হয়। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শিগগির শেষ না হলে বাংলাদেশের মতো দেশকে অনেক খেসারত দিতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে আসবে এবং তেলের জন্য অনেক মূল্য দিতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ দাম বাড়াতে পারবে না। তাই তেলের অপচয় এবং মজুত রোধে ফুয়েল কার্ড চালুর বিকল্প নেই। সেই কার্ড দিয়ে মোটরসাইকেল, কার, ট্রাক বা বাস তার পরিবহণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এ জন্য থাকবে একটি কিউআর কোড। সেই কোড দিয়ে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়া যাবে। তবে এটি চালু করতে সময় লাগবে। ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিটকার্ড হলো- পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা সাধারণত কোম্পানি বা গাড়ির মালিকরা ব্যবহার করে থাকেন। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জ্বালানি খরচ ট্র্যাকিং, নিয়ন্ত্রণ এবং নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যায়।
ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা: সহজ পেমেন্ট ও ট্র্যাকিং, এটি ব্যবহার করে চালকরা সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড রাখা যায়। কোম্পানিগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এটি ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করে। কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা চুরি বা অপব্যবহার রোধ করে।সময়ের সাশ্রয়: কাগজের রসিদ জমানোর ঝামেলা কমে এবং এককালীন চালান পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকি করতে ইতিমধ্যে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি বন্ধে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
Blog
-

তেল সংকট উত্তরণে আসছে ফুয়েল কার্ড: সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
-

নীরব এক সংগ্রামী আলোকবর্তিকা- এবিএম কাইয়ুম রাজ
সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে যিনি অবিচল—তিনি এবিএম কাইয়ুম রাজ। শ্যামনগরের কৈখালী থেকে উঠে আসা এই তরুণ শুধু একজন সাংবাদিক নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আত্মার আত্মীয়, সময়ের দর্পণে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
ছোটবেলা থেকেই বই আর বাস্তবতার হাত ধরে যাঁর যাত্রা, সেই কাইয়ুম রাজ নিজের জীবনকে গড়ে তুলেছেন সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক নীরব বিপ্লবী হিসেবে। কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিষ্পাপ শৈশব থেকে শুরু করে গুমানতলী কামিল মাদ্রাসার কঠোর শিক্ষাজীবন, সবকিছুর পেছনে ছিল একটি লক্ষ্য—মানুষের জন্য কিছু করা।
তিনি এখন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ-এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর পরিচয় শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রভাত বার্তা, দক্ষিণের বার্তা এবং দেশ জনতা’র মতো পত্রিকায় লেখালেখি করে তিনি সমাজের নানা দিক তুলে ধরছেন সাহসিকতার সঙ্গে।
তাঁর কলম শুধু সংবাদ লেখে না, লেখে প্রান্তিক মানুষের না-বলা কষ্ট, প্রতিবাদহীন অন্যায় আর অবহেলিত জনপদের বুকচেরা গল্প। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের নদীভাঙা জনপদের কষ্টকে তুলে ধরতে গিয়ে কখনো তিনি হয়ে ওঠেন মাঠের কর্মী, কখনো মানবিক সহায়ক, আবার কখনো দুর্নীতির প্রতিবাদে বজ্রকণ্ঠ।
কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়—কাইয়ুম রাজের মধ্যে আছে সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা। শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসহায় পরিবারে খাবার পৌঁছে দেওয়া, কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো—সবখানেই দেখা যায় তাঁর আন্তরিক অংশগ্রহণ।
তিনি বিশ্বাস করেন, “সাংবাদিকতা কেবল তথ্য জানানোর মাধ্যম নয়, এটি হতে পারে সমাজ বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।” সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিদিন লিখে চলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, প্রান্তিক মানুষের পক্ষে।
এবিএম কাইয়ুম রাজ রাজনীতির মাঠে নেই, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নীরব আলোকবর্তিকা হিসেবে। যাঁরা তাঁকে চেনেন, বলেন—“এই ছেলেটার চোখে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনি হৃদয়ে আছে মানুষের ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা।”
এই তরুণের নিরলস পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তনের জন্য বয়স নয়, প্রয়োজন একান্ত ইচ্ছা, সাহসিকতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মন। এবিএম কাইয়ুম রাজ হোক বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা, কলমধারীদের আদর্শ, এবং শ্যামনগরের গর্ব।
-

কুরআন-সুন্নাহর সৌন্দর্য সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্যই ঈদের আগমন: অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে শহরের আল-আমিন ট্রাস্ট মিলনায়তনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং জেলা আকরাম পরিষদের সদস্য ও সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, কেবল আল্লাহর গোলামি করার মাধ্যমেই প্রকৃত ঈদের স্বার্থকতা অর্জিত হয়। তিনি বলেন, “ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা বাহ্যিক আনন্দের জন্য নয়; বরং মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি জাগ্রত করে কুরআন-সুন্নাহর সৌন্দর্য সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্যই ঈদের আগমন।” তিনি আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান উপেক্ষা করে মানবসৃষ্ট আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হলে প্রকৃত ঈদের আনন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় না। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। তিনি বলেন, ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য উপলক্ষ। এ ধরনের পুনর্মিলনী সামাজিক ঐক্য ও সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, প্রভাষক ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গনি প্রমুখ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসান, মানিকগঞ্জ পৌর আমির হুমায়ুন কবীর, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজাদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে শেষ হয়।
-

সাতক্ষীরায় রাতের আঁধারে গোপনে বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরা জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুইদিন ধরে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প থেকে তেল না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা রাতের আঁধারে গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বাইরে বিক্রি করছেন। কিন্তু পাম্প মালিদের অভিযোগ সাতক্ষীরাতে চাহিদা অনুযায়ি অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল ডিপো থেকে সরবরহ না থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পাম্পে তেল নিতে আসা গাড়ীর মালিকদের অভিযোগ ড্রামে ভরে ভ্যানে করে এসব তেল পাচার করা হচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু বাইকে ট্রাংকি ফুল করে স্বজনপ্রীতি করার দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে জ্বালানি তেলের সংকট ও অবৈধ বিক্রির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, জেলার কোন পাম্পে তেল পাওয়া না গেলেও বাইরের দোকানে অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে। এসব তেল গোপানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ এবং অকটেন ২২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ ক্রেতারা পাম্পে তেল না পেয়ে অনেকে চড়া দাম দিয়ে বাইরের দোকান থেকে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অল্প সংখ্যাক গ্রাহকদেরেকে সামান্য তেল দিয়ে বাকিটা মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা যায়। পরে গভীর রাতে ওই তেল ড্রামে ভরে ভ্যান করে পাচার করা হচ্ছে। যা সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা বেশি দামে কিনছেন খুচরা দোকানীরা। পরে ওই তেল এক লিটারের বোতলে ভরে প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে গ্রাহকদের কাছে। যা সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের এবি খান প্রেট্রোল পাম্প ও সংগ্রাম ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে তেল বিক্রির মেশিনের গায়ে সাদা কাগজে লেখা তেল নেই। দূরদূরান্ত থেকে মটর সাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য গ্রাহকরা এসে ফিরে যাচ্ছে। এসব ফিলিং স্টেশনে কর্মরত কর্মচারীরা কখন থেকে তেল দিবে তাও বলতে পারছেন না। একই অবস্থা শহরের প্রায় সব পাম্পেই।
আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ জানান, সকালে শহরের এসেছিলাম মটর সাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য। এসে দেখি পাম্পে কোন তেল নেই। শহর থেবে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে আমার বাড়ি। মটর সাইকেলে যে তেল আছে তাতে আমি বাড়ি পর্যন্ত পৌছাতে পারবো না। এখন মটর সাইকেল শহরে রেখে যাওয়া ছাড়া কোন গতি নেই।
এবি খান প্রেট্রোল পাম্প তেল নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানান, দুই/তিনদিন ধরে পাম্পে আসছি তেল নিতে। কিন্ত কোন তেলা পাই না। বাধ্য হয়ে গতকাল (রোববার) শহরের কুখরালী এলাকার একটি মুদি দোকান থেকে ২০০ টাকা দিয়ে এক লিটার তেল কিনেছিলাম, যা প্রায় শেষের পথে। আজ তেল না পেলে মটর সাইকলে ঘরে উঠিয়ে রাখতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহরের কোন পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শহরে ও এর আাশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় মুদি দোকানে গোপনে চড়া দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। পাম্প বন্ধ থাকায় গাড়িতে তেল ভরতে অনেকেই চড়া দামে বাইরে থেকে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি কালো বাজারে জ্বালানী তেল বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানান।
আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মো. হুসাইন আলী জানান, ঈদের আগে তিনি একটি জিক্সার মটর সাইকেল কিনেছেন। কিন্তু তেলের অভাবে নতুন মটরসাইকেল চালাতে পারছে না। বাড়ি থেকে সাতক্ষীরায় আসার পথে স্থানীয় বুধহাটা বাজারে এসে গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। ফলে সেখানেই মটর সাইকেল রেখে তিনি তেল নেওয়ার জন্য পট নিয়ে শহরে চলে আসেন।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা শহরের ৫টি পাম্প ঘুরে তেল না পেয়ে তিনি বাসে চড়ে যশোরে চলে যান। সেখানে আরো ৭টি পাম্প ঘুরে পরে একটি বন্ধ পাম্পের পিছন থেকে ৫লিটার তেল কিনে আনেন। তারা আমার সমস্যার কথা শুনে পটে আমাকে ৫লিটার পেট্রোল দেয়। তেল নিয়ে সোমবার ভোর রাত ২টার দিকে তিনি সাতক্ষীরায় আসেন। ওই ৫লিটার পেট্রোল কিনতে তার প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।
শহরের সংগ্রাম পাম্পের ম্যানেজার জানান, গোপনে রাতে তেল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পাম্পের কোন লোক এধরনের অবৈধ কাজের সাথে জড়িত নয়। আমার পাম্পে যতক্ষন তেল থাকে আমি বিক্রি করি। ঈদের পরে এখনো নতুন কোন চালান না আসায় কিছুটা সংকট তৈরী হয়েছে। তেল আসলে আবার গ্রাহকরা আমার পাম্প থেকে তেল পাবেন বলে জানান তিনি।
শ্যামনগর ফিলিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুল ইসলাম বকুল বলেন , আমরা পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে চাহিদা আনুযায়ী ডিডি করছি কিন্তু ডিপো খেকে পেট্রোল অকটেন ও ডিজেল না দেয়ায় যে গাড়ীতে করে আমরা থ্যামনগরে তেল এনে বিক্রি করছি তাতে গাড়ীর ভাড়ার টাকা উঠছে না। আমাদের চাহিদা পেট্রোল ৬ হাজার লিটার অকটেন ৩ হাজার লিটার ও ডিজেল ৫ হাজার লিটার সেখানে আমরা ডিপো থেকে পাচ্ছি পেট্রোল ১/২ হাজার লিটার অকটেন নাই ডিজেল ৩ হাজার লিটার।
এদিকে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শহরের লস্কর ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে যান। এসময় সেখানে উপস্থিত গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, পাম্প থেকে তেল দিচ্ছে না, অথচ বাইরের দোকানে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় এক লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে । পাম্পে তেল না থাকলে তারা তেল পাচ্ছে কিভাবে? প্রশ্ন রাখেন গ্রাহকরা। সংসদ সদস্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সাতক্ষীরায় তেল সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার জানান, জ্বালানী তেল নিয়ে যে কোন ধরনের অনিয়ম দূর করতে আমার ভিজিলেন্স টিম সব সময় মাঠে কাজ করছে। সুনিদিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলায় জ্বালানী তেলের সংকট সমাধানে কালো বাজারে বিক্রি বন্ধে আজ থেকে অভিযান আরো জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরায় পরিকল্পিতভাবে জ্বালানী তেলের সংকট সৃষ্টি করে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রির ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। -

ঈদের ছটিতে ভাই-বোনসহ ৪ জনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরায় ঈদে নানাবাড়ি বেড়াতে এসে ঘেরের পানিতে ডুবে আপন দুই খালাতো ভাই বোনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকাল তিনটার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীরচক গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পানিতে ডুবে মৃত দুই শিশু হলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীরচক গ্রামের মো. ফারুক গাজীর ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন (১৩) ও নলতা কাশিমপুর গ্রামের মো. আহসান আলী খা’র মেয়ে জান্নাতুল (১০)। প্রত্যক্ষদর্শী দক্ষিণ নলতা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী জানান, জাকারিয়া ও জান্নাতুল আপন দুই খালাতো ভাই বোন। ঈদে তারা নলতা ইউনিয়নের সন্ন্যাসীরচক গ্রামের নানা আব্দুল মজিদ ঢালীর বাড়িতে বেড়াতে আসে। মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে তারা দুই ভাই-বোন একসাথে নানার মাছের ঘেরে বেড়াতে যায়। ঘেরের বাঁধের উপর দিয়ে হাঁটার সময় এক পর্যায়ে তারা দুইজনেই পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর জাকারিয়া পানির উপরে ভেসে ওঠে। এ সময় গ্রামবাসী তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি পানির মধ্য থেকে খুঁজে জান্নাতুলের মরদেহ উদ্ধার করে। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেওয়ার জন্য সিরিয়াল দিতে যাওয়ার পথে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের মধ্যে পড়ে এক যুবক নিহত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেবহাটা উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের কুলিয়া খাসখামার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম ফরহাদ হোসেন (১৬)। তিনি দেবহাটা উপজেলার সেকেন্দ্রা গ্রামের মো. সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ হোসেন মোটর সাইকেলে তেল নিতে আগে থেকে সিরিয়াল দেয়ার জন্য পেট্রোল পাম্পে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দেবহাটা উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের কুলিয়া খাসখামার এলাকায় পৌঁছালে সড়কে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের ভিতরে ১৫ ফিট উপর থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা: মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুষ্পকাটি ইটভাটা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ফরহাদ হোসেন (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুষ্পকাটি ইটভাটা সংলগ্ন কালভার্ট সংস্কার কাজ চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফরহাদ হোসেন সেকেন্দ্রা গ্রামের সিদ্দিক সরদারের বড় ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পুষ্পকাটি এলাকায় সংস্কারাধীন কালভার্টের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারান ফরহাদ। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের বড় সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
-

বৃষ্টির মধ্যেও উৎসব মুখর পরিবেশে সাতক্ষীরায় ঈদ উদযাপন
স্টাফ রিপোটার: প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে শনিবার (২১ মার্চ) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় সাতক্ষীরায় মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ভোর রাত থেকে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে এবার জেলার অধিকাংশ স্থানে ঈদগাহের পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মুসল্লিদের নামাজে অংশ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রায় প্রতিটি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে। সাতক্ষীরায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের মুনজিতপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের পাশে অবস্থিত একাডেমি মসজিদে। একই সাথে মসজিদের মধ্যে পর্দার ভিতর মহিলাদের ঈদের জামাতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার। নামাজে ইমামতি করেন ইসলামী বক্তা হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন মমিন। বয়ান শেষে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, জেলা জামায়াতের আমির উপধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম মুকুল, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক, কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্বোধন কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ। এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তার বক্তব্য বলেন, ইসলামের পরিপূর্ণ বিধান মেনে সমাজে যাকাত ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। পবিত্র এই দিনে আজ থেকে আমরা সকলেই শপথ গ্রহণ করি ভালো মানুষ হিসেবে ইসলামের নির্দেশনা মেনে সত্য কথা বলব, সুদ, ঘুস ও অন্যের হক ফাঁকি দিবো না এবং আমানতদারি ও ভাই বোনের হক পূরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ সবকিছু দেখেন মনের ভিতরে একথা ধারণ করে আল্লাহর প্রতি ভয় রেখে তাকওয়া ভিত্তিক জীবন গঠন করতে হবে। রমজানের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে সমাজ, জাতি ও দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এসময় জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। পরবর্তীতে বৃষ্টি কিছুটা কমলে সাতক্ষীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এখানে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মুফতি মাছুম বিল্লাহ। এছাড়া সাতক্ষীরায় ঈদেও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সদর থানা জামে মসজিদে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নেন। এতে উৎসবের আমেজ কিছুটা ম্লান হলেও ঈদের আনন্দে কোনো ঘাটতি ছিল না। নামাজ পূর্ববর্তী আলোচনায় ইমাম বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই শুদ্ধতার জয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের এই খুশির দিন উপহার দিয়েছেন। আবহাওয়ার বৈরিতায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও আল্লাহর ঘরে সমবেত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। এই আনন্দ সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেন।







