স্টাফ রিপোটার: গত কয়েক সপ্তাহে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক মাসে আক্রান্তের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরাতে এবং ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এই প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতাই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ। প্রধান উপসর্গ ও ঝুঁকি: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিতে বলেছেন:* তীব্র জ্বর এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।* নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।* শরীরে ছোট ছোট লালচে দানার মতো র্যাশ ওঠা।* কাশি এবং শ্বাসকষ্ট।বিশেষজ্ঞের মতামত: “হাম কেবল একটি সাধারণ জ্বর নয়; সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ এমনকি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি।” ডা. মাহফুজুর রহমান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সরকারি পদক্ষেপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনার যা করণীয়: ১. আপনার শিশুর টিকার কার্ড চেক করুন এবং হামের (গজ) ডোজ পূর্ণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন। ২. আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন এবং প্রচুর তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার দিন। ৩. গুজব এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করাবেন না।
Blog
-

সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি
স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের কারণে জ্বালানি মিলছে না। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এর মধ্যে জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে সেটি এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি রয়ে গেছে অনিশ্চয়তায়।সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তেমনভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে কাগজপত্র বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। এ কারণে বিআরটিএ অফিসেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ৩০০ থেকে ৪০০টি পড়েছে। ঈদ ও ছুটির কারণে সংখ্যাটি কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষের হাতে টাকা থাকলে বাইক কেনে, কিন্তু বর্তমানে টাকার সংকট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নির্দিষ্ট আবেদন সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কারণ এসব আবেদন অনলাইনে করা হয়। তবে এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরার মোটরসাইকেল বাজারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কমছে পেট্রোল ও অকটেনচালিত মোটরসাইকেলের বিক্রি, আর বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা। সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত ‘ভেনাস অটোস’ শোরুমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের ১০ থেকে ১২টি পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩টিতে। তবে একই সময়ে মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টিই ছিল ব্যাটারিচালিত। শোরুমটির ম্যানেজার আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে মোট বিক্রি বেড়েছে। তবে তেলচালিত বাইক কমে গেছে, মানুষ এখন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে। তেলের সংকটই এর প্রধান কারণ। অন্যদিকে, শহরের চায়না বাংলা মোড়ে অবস্থিত ‘ইকো মটরস’-এর ম্যানেজার শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে মাত্র ১৫টি। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ৮-১০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯-১০টি বিক্রি হলেও মার্চে এসে ২০ থেকে ২৫টি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের বাইকের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। আরেক বিক্রেতা বলেন, অনেকে শোরুমে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু কিনছেন না। জ্বালানি পাওয়া ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে বাজার কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। জেলায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক কড়াকড়ি যুক্ত হওয়ায় পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামগ্রিক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
-

সাতক্ষীরায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ: কারাদণ্ড, জরিমানা
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুত এবং বিক্রির অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের সময় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ যমুনা পেট্রোলিয়ামের লোগোযুক্ত একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চালকসহ চারজন ডিলারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার গাভা এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আটক চালক মো. রিপন শেখ (৩৮)। তিনি খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে গাভা এলাকায় একটি ট্রাক সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ট্রাকটির কাগজপত্র যাচাই করতে চাইলে চালক তা দেখাতে পারেননি। পরে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয় এবং চালককে আটক করা হয়। জব্দ করা পেট্রোলের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ জব্দ করা ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আটক চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, যমুনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, ওই পেট্রোল তাদের ওখান থেকে বের হয়নি। এ কারণে পেট্রোলের দাবিদার ওই চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সোমবার বিকেলে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার পেট্রোলের দাবিদার চার ডিলারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তারা হলেন- মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম, মেসার্স আলেয়া অয়েল সাপ্লাইয়ের মো. ইউনুস আলী মৃধা, মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের ইউসুফ আলী এবং মেসার্স এম এ জলিল এন্টারপ্রাইজের মো. জলিল। জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, এদিকে বেশী দামে তেল বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত সোমবার দুপুরে শহরের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা সিআরবি’র সহযোগিতায় ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পলাশপোল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে পলাশপোল শাহাজুদ্দিনের পুত্র আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে রক্ষিত ৩০ লিটার পেট্টোল ও অকটেন পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, এসব পেট্টোল ৩শ থেকে ৫শ টাকা লিটারে বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এছাড়া আনোয়ার হোসেনকে ৫হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযানে পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খোকনকে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও বিক্রির দায়ে আটক করা হয়। পরে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
-

মহাদেব চন্দ্র সাধুরর প্রতারণায় দুই ব্যবসায়ী খুয়ালেন ১৯ কোটি টাকা
স্টাফ রিপোটার: মেসার্স সাধু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর প্রতারণার শিকার হয়ে দুই ব্যবসায়ী খুইয়েছেন ১৯ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের ১৫ কোটি টাকা এবং মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী লিটন কুমার আইজের ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জানা গেছে, ডিও ব্যবসার আড়ালে এই টাকা হাতিয়ে নেয় মাহাদেব সাহা। টাকা পরিশোধ না করে উল্টো মামলা করে হয়রানির করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইজকে। মামলার হয়রানি থেকে বাঁচাতে ও জীবনের নিরাপত্তা এবং প্রতারক মাহাদেব সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহাবার এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতন ও রাধিকা ডাল মিল অ্যান্ড ওয়েল কোম্পানির মালিক লিটন কুমার আইজ। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়িক লেনদেনের নামে প্রতারণা, চেক ডিজঅনার, নারী ধর্ষণ, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১৬টির বেশি মামলা রয়েছে। তারপর ভিন্ন কৌশলে ব্যবসার নামে প্রতারণা করে উল্টো ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দিয়ে র্দীঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার ভাগিনাসহ ১৫ -১৬ জনের একটি চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। লিখিত অভিযোগে ইসমাইল হোসেন রতন জানান, ২০২৫ সালে চট্টগামের জনৈক ব্যবসায়ী ওয়াহেদ মাহমুদের মাধ্যমে টেলিফোনে পরিচয় হয় প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর সঙ্গে। মাহদেব চন্দ্র সাধু নিজেকে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী জয়দেব সাহার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয় দেন। পরে জয়দেব সাহা নামে আমার কাছ থেকে ভুট্টা নেয়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেন। ভুট্টার পাশাপাশি মুসর ডাল, সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্যের ডিও ক্রয়-বিক্রয় শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ১৫ কেটি টাকার পণ্য নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চুয়াডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কথিত জয়দেব সাহা। পরে ওই থানায় গিয়ে প্রথমে জানতে পারি সে জয়দেব সাহা নয়, তার আসল নাম মহাদেব চন্দ্র সাহা। শুধু আমার সঙ্গে নয়, দেশের আরও অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট প্রতারক মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীদের আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করি। মামলার পর মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে মর্মে আদালত থেকে জামিন নেন; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাহা ও তার ভাগিনা শুভ সাহা অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ আমাকে (ইসমাইল হোসেন রতন) গ্রেফতার করে। ১০ দিনের জেল খেটে ১৭ মার্চ জামিন পান। ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় আমার বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ইসমাইল অভিযোগ করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধু বর্তমানে টাকা যাতে আমাকে পরিশোধ করতে না হয় এজন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে চিরতরে মেরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করছে। এ অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। এ সময় তার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাহাবার এগ্রোর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, রাধিকা ডাল অ্যান্ড ওয়েল মিলের মালিক লিটন কুমার আইজ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নাহিদ, বালু লাল চক্রবতীসহ অনেকে।
-

সাতক্ষীরায় বিজিবি-ম্যাজিস্ট্রেটের যৌথ অভিযানে জ্বালানি তেল মজুদকারী আটক, কারাদণ্ড
মোঃ হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও বেশি দামে বিক্রি বন্ধে পরিচালিত যৌথ অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জেলার বিভিন্ন ফুয়েল স্টেশনে তেল বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিং করা হয় এবং অবৈধ মজুদ, পাচার ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানের এক পর্যায়ে শহরের নিকটবর্তী পলাশপোল এলাকায় একটি বসতবাড়িতে লুকিয়ে রাখা জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন খোকন (গ্রাম: পলাশপোল, সাতক্ষীরা সদর) কে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে কারাভোগ করতে হবে বলে জানা গেছে।বিজিবি জানায়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, স্থানীয় জনগণ এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। -

কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার
এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর জেলে পাড়ায় দুর্যোগকালীন প্রয়োজন নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ‘আবির্ভাব’ টিম। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে টিমের সদস্যরা সরাসরি স্থানীয় জেলে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রভাবসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির সংকট এবং জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ঘাটতি তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবও প্রকট আকার ধারণ করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ‘আবির্ভাব’-এর কো-ফাউন্ডার এস এম জান্নাতুল নাঈমসহ সুজয় চক্রবর্তী, জেবা তাসনিয়া, হাসনা হেনা ও খালিদ হোসেন। তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর ও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ‘আবির্ভাব’ টিম জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগকালীন সময়ে নারী ও শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও প্রয়োজনভিত্তিক কিট নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
-

লবণাক্ত পানির প্রভাব ও সুপেয় পানির সংকট
এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে লবণাক্ত পানির প্রভাব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে নীরব দুর্যোগ হিসেবে আঘাত হানছে। নদ-নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে পুকুর এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় নদীতে লবণাক্ত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং তা আশপাশের জলাধার ও মাটির নিচের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। অনেক স্থানে নলকূপ থাকলেও সেই পানি পানযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও একটি মাত্র মিঠা পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে পুরো গ্রাম। ফলে ভোর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী ও শিশুদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের এখানে সুপেয় পানির খুব অভাব। প্রতিদিন অনেক দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পানি পাই না। তখন বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”এদিকে, অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের কিছু সময় পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির সংকটে ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনি জটিলতার মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সচেতন মহল ও গণমাধ্যম কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা সংবাদদাতা হুসাইন বিন আফতাব বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে এটি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক স্থানে স্থাপিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণাক্ততা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, আধুনিক পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারাৃ। সবমিলিয়ে, শ্যামনগরের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সংকট এখন একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এই নীরব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
-

আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে ৬২ তম বার্ষিক ওরছ শরীফ
মোঃ হারুন উর রশীদ, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিশিষ্ট দার্শনিক, সাহিত্যিক, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, সুফী-সাধক, পীরে কামেল আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) এঁর ৬২ তম বার্ষিক ৩দিন ব্যাপী ওরছ শরীফ ২৮ মার্চ শনিবার বাদ ফজর থেকে মিলাদ শরীফ ও আলোচানা শুরু হয়ে সকাল ৯ টায় আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও খানবাহাদুর আহ্্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহা পরিচালক আলহাজ্জ এ এফ এম এনামুল হক’র সভাপতিত্বে নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম আলহাজ্জ মুফতী মাওলানা গোলাম কিবরিয়া কাদেরী ৩৫ মিনিট ব্যাপী আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে মানবজাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং ইহকালে শান্তি ও পরকালের মাগফিরাত এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। আখেরী মোনাজাতের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন, জইমাম,আড়ংগাছা হাফিজিয়া মাদ্রাসা হাফেজ ক্বারী মো. শামছুর রহমান। মিলাদ শরীফ ও ফাতেহা পাঠ করেন, শানপুকুর জামে মসজিদের ইমাম মৌ. মো. আব্দুল হাকিম। আলোচনা করেন, ঢাকা গুলশান-১ জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্জ অধ্যাপক হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমান, ঢাকা আহ্্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ এফ এম গোলাম সরফুদ্দীন, নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম আলহাজ্জ মুফতী মাওলানা গোলাম কিবরিয়া কাদেরী প্রমূখ। গজল পরিবেশন করেন, মো. মানছুরুর রহমান, মো. ফিরোজ আলম, মো. মাসুম বিল্লাহ, মো. আবতাব হোসেন বাচ্চু, মো. শাহীন আলম। ভক্তের পত্র থেকে পাঠ করেন, মিশনের সহ-সভাপতি আলহাজ্জ মোঃ সাইদুর রহমান। কেয়াম পরিবেশন করেন, মাওলানা মোঃ এনায়েত উল্লাহ। এদিকে আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে নলতা শরীফ এলাকা ধর্মীয় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দু’হাত তুলে মহান আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়। এ সময় আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখখরিত করে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসুল্লিরা আকুতি জানান। এ সময় কারো দুই চোখ ছিল মুদিত, কারো দৃষ্টি ছিল সুদূরে প্রসারিত। আর থরথর কম্পমান দুই ঠোঁটে মৃদুস্বরে উচ্চারিত হয়েছে আমিন আমিন ধ্বনি। আল্লাহুমা আমিন ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে নলতা শরীফ। জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তির জন্য, পরম দয়াময় আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহভিক্ষা করছিলেন তারা। মোনাজাতে নলতা শরীফে লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। ফজরের নামাজের পরই নলতা শরীফসহ আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করে। ৩দিন ব্যাপী ওরছ শরীফে আগতদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ, উৎসাহ, উদ্দীপনা। ওরছ শরীফের সুস্বাদু তাবারক খাবার পর তাদের চোখে মুখে পরিতৃপ্তির ছাপ। কোন একজন মানুষও যেন তাবারক না খেয়ে যায়, সবাই যেন এক লোকমা তাবারক খেয়ে যেতে পারে, কোনরকম যেন তাদের অসুবিধা না হয় সে ব্যাপারে সেই ব্যবস্থা করে মিশন কর্তৃপক্ষ। আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে কোথাও একটু টান বা গরমিল দেখা যায় নাই। ৩দিন এভাবেই খানাপিনা চলেছে বিরামহীন। এই মহা নিয়ামত ও বরকতপূর্ণ তাবারক খেয়ে যে, কত মানুষের জটিল ও কঠিন অসুখ-বিসুখ, রোগ-শোক, জরা-ব্যাধি বালা-মসিবত, বদজীন-ভূতের তাছির থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়ও অনেকে এই তাবারুক খেয়েছেন বলেও জানা গেছে। ৩দিন ব্যাপী এই পবিত্র ওরছ শরীফ মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন, মিশনের কর্মকর্তা সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নজরুল ইসলাম, কর্মকর্তা খায়রুল হাসান ও হিসাব রক্ষক মোঃ এবাদুল হক। আখেরি মোনাজাত শেষে বেলা ১১ টা থেকে নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
-

ফিংড়ী ইউনিয়ন যুব জামায়াতের উদ্যোগে শিক্ষা শিবির
ফিংড়ী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফিংড়ী ইউনিয়ন যুব জামায়াতরে উদ্যোগে যুব শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৪টায় ফিংড়ী আলিম মাদ্রাসার হলরুমে দিনব্যাপী এ যুব শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আলহাজ্ব মাস্টার হাবিবুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা আজাদুল ইসলাম, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য শহীদ হাসান, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম, উপজেলা মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আনিসুর রহমান, উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি প্রভাষক আশরাফুল আলম প্রমুখ।
বক্তরা বলেন, অনুষ্ঠানে জামায়াত কর্মীদেরকে মানবতার সেবা, দেশ পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন ও মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে কর্মীদের নিয়ে বড় কোনো প্রোগ্রাম করা যেতোনা। এখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণে দীর্ঘ অনেক বছর পর কর্মীদের নৈতিক মানোন্নয়নের জন্য এই শিক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।


