Blog

  • সাতক্ষীরায় অস্ত্র-ইয়াবাসহ কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী ও সহযোগী গ্রেপ্তার

    সাতক্ষীরায় অস্ত্র-ইয়াবাসহ কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী ও সহযোগী গ্রেপ্তার

    বিশেষ প্রতিনিধি(কালিগঞ্জ):
    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী (৪৩) ও তার সহযোগী আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল (৩৪) অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শংকরপুর গ্রামের মো: আলমগীরের বাড়ির সামনে থেকে ইয়ার আলীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের জব্বার আলী তরফদারের ছেলে।

    অভিযানে ইয়ার আলীর কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ১০০ পিস ইয়াবা ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেনাদনা গ্রামের মাহমুদ আলী বিশ্বাসের ছেলে আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং পৃথক অভিযানে আরও ২টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে।

    কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাজিব হোসেন জানান, র‍্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্প ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ইয়ার আলীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী উজ্জ্বলকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। তিনি আরও জানান, ইয়ার আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ অন্তত ২৩টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার কাছে আরও অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য থাকতে পারে। সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা এই সন্ত্রাসীর গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

  • ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে : শফিকুল ইসলাম

    ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে : শফিকুল ইসলাম

    সাতক্ষীরা জামায়াতের দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

    ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে : শফিকুল ইসলাম

    সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা.শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এই দেশের জনগণ রক্ত দিয়ে ৫ আগস্ট একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব সাধন করেছে, বহু মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই বিপ্লব কোনো অবস্থাতেই বেহাত হতে দেয়া যাবে না।

    ২৮ মার্চ শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা আল আমিন ট্রাস্টের কাযী শামসুর রহমান মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াত কর্মীদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে, দায়িত্বশীলদের দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে দেশের সকল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের ইউনিয়ন দায়িত্বশীলগণ এই দেশের সম্মানিত অভিভাবক, তাদেরও মানুষের পরিবর্তনের কাজে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি বলেন,নতুন প্রেক্ষাপটে আমরা সকল জায়গায় দাওয়াত পৌঁছানোর যে সুযোগ পাচ্ছি এটাকে গণিমত হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
    জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা:মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভিত্তি অর্জন ও সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। গণভিত্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকতার সাথে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা ও সামাজিক কাজের কোনো বিকল্প নেই।
    শিক্ষা শিবিরে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর শেখ নূরুল হুদা, ডা: মাহমুদুল হক, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম,প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, প্রভাষক ওমর ফারুক, অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, মাওলানা ওসমান গনি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আজিজুল ইসলাম, অফিস সেক্রেটারী মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

  • সাতক্ষীরায় ১৬১ জনকে কিশোর কন্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ

    সাতক্ষীরায় ১৬১ জনকে কিশোর কন্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় দেশের জনপ্রিয় শিশু কিশোর ম্যাগাজিন কিশোর কন্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম সাতক্ষীরা জেলার উদ্যোগ দুপুর ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কিশোর কণ্ঠের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার আল মামুন রাসেল, প্রভাষক ওমর ফারুক অতিথির বক্তব্য রাখেন। কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশের সাতক্ষীরার চেয়ারম্যান জোবায়ের হোসেনের সভাপতিত্বে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন নাজমুল ইসলাম, নাহিদ হাসান, আবু বক্কর, আনিচুর রহমান, ফয়সাল হোসেন, নাজমুল হাসান, জাহিদ হাসান, মতিউর রহমান, আব্দুস সামাদ প্রমুখ।কিশোরদের মেধা বিকাশ ও নৈতিক শিক্ষায় উৎসাহ দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি ব্যারিষ্টার আল মামুন ফয়সাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শুধু ভালো ফল করলেই আজকের দিনে সফল হওয়া যায় না। পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন সময়ের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক মূল্যবোধ এই চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থী যদি নৈতিকতায় দৃঢ় না হয়, তবে তার অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সৎ চরিত্র, মানবিকতা ও দেশপ্রেম এই গুণগুলো ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশন সেই আলোকিত মানুষ তৈরির কাজটিই করে যাচ্ছে।” অনুষ্ঠানে মোট ১৬১ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বাই সাইকেল, দ্বতীয় পর্যাযে নগদ অর্থসহ ক্রেস্ট, সনদ, কলম ও স্কুল ব্যাগ প্রদান করা হয়। এছাড়াও ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ সময় সাইকেল বিজয়ী এক শিক্ষার্থী তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এই সম্মাননা আমাকে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে অনুপ্রাণিত করবে। কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে আমি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে চাই।” অনুষ্ঠানে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে মোট ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়।

  • কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    দক্ষিণ শ্রীপুর প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুরে নারী-পুরুষসহ মসজিদের মুসুল্লীরা মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তারা মাদকের সাথে জড়িতদের আটকপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে শাহাজী পাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ভগবান যশোমন্তপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম তার সহযোগী মাসুম শাহ ও শাহিন-এর মাধ্যমে এলাকার যুবসমাজকে মাদকের নেটওয়ার্কে যুক্ত করছে। প্রতিবাদ করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি বা মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। মানববন্ধনে বাইতুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি আব্দুল আজিজ, উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোমেন, শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওঃ রওশান আলী, ইউপি সদস্য আব্দুল গনি এবং অন্যান্য নেতা বক্তব্য রাখেন। বিক্ষোভকারীরা মনিরুল ইসলাম, মাসুম শাহ, শাহিন ও নাঈমকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকাকে মাদকমুক্ত করবে।

  • স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ”আবাবিল” এর যাত্রা শুরু

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ”আবাবিল” এর যাত্রা শুরু

    প্রভাতের আলোয় এক ঝাঁক পায়রা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২৬ মার্চ ২০২৬ দেবহাটা উপজেলার ৫নং ইউনিয়নের অর্ধশত যুবকের একান্ত প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মূলক প্রতিষ্ঠান ”আবাবিল” এর যাত্রা শুরু। যার মূল উদ্দেশ্য সমাজের দারিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানে সহযোগিতা, লাইব্রেরি, সামাজিক মান উন্নয়ন, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মাদক প্রতিরোধে সরকারকে সহযোগিতা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সর্বোপরি সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করা। উক্ত সংগঠনের সামগ্রিক উন্নয়নে সমাজের বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষের সার্বিক সহযোগিতা এবং পরামর্শ একান্ত কাম্য। উক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” আবাবিল’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ওসমান গনি বাবলা এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল আলম সুমন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

  • ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধুর পাশে বন্ধুরা

    ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধুর পাশে বন্ধুরা

    স্টাফ রিপোর্টার: ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধু সাদ্দাম হোসেন লিটন (৩৬)-এর জীবন বাঁচাতে পাশে দাঁড়ালেন তাঁর ২০০৬ ব্যাচের সহপাঠী ও বন্ধুরা। লিটন দুই মাস ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন। দরিদ্র পরিবারে তিনি দুটি সন্তানের অভিভাবক। লিটনের সহপাঠী, শিক্ষক, সিনিয়র ও জুনিয়ররা তার চিকিৎসার জন্য নগদ ৭৬ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। বন্ধু মেহেদি হাসান জানান, সকলের সহযোগিতায় এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। লিটন বলেন, “ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। আমার পরিবার একা তা বহন করতে পারছে না। বর্তমানে আমি সাতক্ষীরা সিবি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খালেকুজ্জামান-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করি।”

  • শ্যামনগরে কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

    শ্যামনগরে কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীতে একটি কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার কাঁকড়া মারা গেছে বলে ফার্মের মালিক বিল্লাল গাজী দাবি করেছেন। বিল্লাল গাজী জানান, স্থানীয় আশরাফ আলী তার কাছে কাঁকড়া চেয়েছিলেন খাবারের জন্য। কাঁকড়া দিতে না পারায় আশরাফ তার বাড়ি থেকে ফার্মে থাকা কারেন্টের লাইন খুলে নিতে চেয়েছিলেন এবং তার কাছে থাকা পাওনা টাকা পরিশোধের দাবি করেন। বিল্লালের দাবি, কারেন্ট খরচ পরিশোধ না করার কারণে আশরাফ তার সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধর করেন এবং ফার্মে বিষ প্রয়োগের হুমকি দেন। বিল্লাল আরও জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে তার ফার্মে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এরপর সকালে কর্মচারীরা গিয়ে দেখেন, পানিতে রাখা বক্সে অধিকাংশ কাঁকড়া মৃত অবস্থায় ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত আশরাফ আলী এ বিষয়ে বলেন, তার এবং বিল্লালের মধ্যে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খালেদুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জীবিকার তাগিদে মৃত্যুঝুঁকিতে উপকূলবাসী

    জীবিকার তাগিদে মৃত্যুঝুঁকিতে উপকূলবাসী

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর সঙ্গে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে এই বনে ছুটে চলেন তারা। মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ, মধু আহরণ ও গোলপাতা কাটা—এসবই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। শ্যামনগরের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। ভোরের আলো ফুটতেই ছোট নৌকায় তারা নদী পাড়ি দিয়ে বনের গভীরে প্রবেশ করেন। কখনো তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত বনের মধ্যে অবস্থান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের জেলে মোঃ মফিদুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবনে না গেলে সংসার চলে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই বনে যেতে হয়। কখনো মাছ পাই, কখনো খালি হাতে ফিরি, তবুও পরিবারের জন্য আবার যাই।” গাবুরার জেলে মোছাঃ আছমা খাতুন বলেন, “আমাদের জন্য সুন্দরবনই সব। এখন আগের মতো মাছ-কাঁকড়া পাওয়া যায় না, তবুও দিন পার করতে চলে এখানে।” স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমায় এবং সীমিত সংখ্যক জেলে বনের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন। তবুও ঝুঁকি কমে না। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, চিকিৎসা সেবার অনুপস্থিতি, বাঘের আক্রমণ, কুমির, দস্যু, আকস্মিক ঝড়—সবই জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর কেউ না কেউ বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান, ফলে নারীরা ‘বাঘ-বিধবা’ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও স্পষ্ট। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে। নদী ভাঙনের ফলে অনেক পরিবার বসতভিটা হারাচ্ছেন। তবুও তারা আশা ছাড়েন না। প্রতিদিন ভোরে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নৌকা ভাসান সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটানোর সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।

  • বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধীন চান্দুরিয়া বিওপি ও বাঁকাল চেকপোস্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করে। অভিযানকালে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ও শাড়ি জব্দ করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চান্দুরিয়া বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৭/৭ এস-এর ১৮ আরবির কাছে কলারোয়া থানাধীন আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার করে। একই দিনে বাঁকাল চেকপোস্টের আভিযানিক দল ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি জানায়, এসব চোরাচালান দেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় থেকেও ক্ষতি ঘটাচ্ছে। তাই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বিজিবির এ ধরনের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে আরও জোরদার কার্যক্রমের আহ্বান জানিয়েছেন।