আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৮০ বছর বয়সি এই নেতা। ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে জয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তিনি।

ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, লুলা পেয়েছেন প্রায় ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ বৈধ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। প্রথম দফার নির্বাচনে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুলা। দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এটি একটি উল্লেখযোগ্য নজির।

লুলার এই জয়কে শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং লাতিন আমেরিকায় বাম ও ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। নির্বাচনে ফ্লাভিওর প্রচারে রক্ষণশীল রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পেয়েছিল। অন্যদিকে লুলা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য মোকাবিলার বিষয়গুলো সামনে আনেন।

শ্রমিক নেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে ওঠা লুলা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৩ সালে আবার ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন এই নেতা। তাঁর নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থানের জন্যও পরিচিত লুলা। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সমালোচনা করেছেন তিনি। ব্রাজিল দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুই রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে লুলাকে প্রায়ই ফিলিস্তিনপন্থি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে নির্বাচনে জয়ের পরও লুলার সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দ্রব্যমূল্য, পরিবারের ঋণের বোঝা, অপরাধ দমন এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে। পাশাপাশি দেশটির কংগ্রেসে রক্ষণশীল শক্তির প্রভাব বেশি থাকায় নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নেও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হবে।

লুলার এই বিজয়কে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। একই সঙ্গে তাঁর নতুন মেয়াদে ব্রাজিলের অর্থনীতি, সামাজিক নীতি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশটির অবস্থান কীভাবে এগোয়, সেদিকেও নজর থাকবে বিশ্বরাজনীতির পর্যবেক্ষকদের।