ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটে কোশী নদীর উপচে পড়া পানিতে সৃষ্ট বন্যায় ডুবে যায় রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রাম। সেখানে একটি ভবনে বন্যার ধ্বংসাবশেষের নিচে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা।

উদ্ধার অভিযান পরিচালানোর সময় আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। এ সময় তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং মাটি খোড়া শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন এপিএফের সদস্যরা।

প্রাথমিকভাবে তিমুরে অবস্থিত এপিএফের সীমান্ত চৌকিতে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারে করে দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব ঘটে।

পরে শনিবার দুপুরের দিকে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় হেলিকপ্টারে করে তাকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিশুটি র্ব্তমানে কাঠমাণ্ডুর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

শিশুটিকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করায় নেপালের দুযোর্গ মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‌‌‘‘আর্মড পুলিশ ফোর্স টিমকে সম্মান, যারা কখনোই খোঁজাখুঁজি থামায়নি।’’

বিজ্ঞাপন

অন্য এক ব্যবহারকারী বলেন, ‘‘যখন সব আশা হারিয়ে গিয়েছিল, তখন তাকে খুঁজে পাওয়া গেল।’’

এমনকি কেউ কেউ শিশুটিকে উদ্ধারের খবর শেয়ার করার জন্য অন্যদের অনুরোধ করেছেন; যাতে শিশুটির পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। এক্সে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ এখন তার পরিবার বা আত্মীয়দের খুঁজছে। যদি কেউ মণীষা মগরকে চিনে থাকেন কিংবা তার পরিবারের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।’’

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শনিবার বলেছেন, ভয়াবহ বন্যার পর দেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের ব্যয় শত কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘‘পুনর্নির্মাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য শত কোটি ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার জন্য আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

দেশটির উদ্ধারকারী বিভিন্ন দলের সদস্যরা আকস্মিক ওই বন্যায় এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া বন্যায় নেপালে এখনও ২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি।