Category: সাতক্ষীরা

  • সাতক্ষীরায় যুব কর্মসংস্থান ও সাইবার সুরক্ষায় এডভোকেসি সভা

    সাতক্ষীরায় যুব কর্মসংস্থান ও সাইবার সুরক্ষায় এডভোকেসি সভা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় যুব নেতৃত্বে বিকল্প কর্মসংস্থান, সবুজ উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সাইবার সুরক্ষা এবং যুব ও নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে তুফান কনভেনশন সেন্টার এন্ড রিসোর্ট (লেক ভিউ)-তে সিডো’র বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডো’র নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজার মো. আরিফ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সংকট ও শহরমুখী জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। এছাড়া যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং অনলাইন ডেটাবেজ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সাতক্ষীরা ইয়ুথ হাবের সদস্যরা নাটকের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভা সঞ্চালনা করেন সাকিব হাসান। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. তহিদুজ্জামান, একশনএইড বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্রিয়াংকা সেন মৌ, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার ও ফাইন্যান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য।

  • সাতক্ষীরায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৫৭ জন

    সাতক্ষীরায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৫৭ জন

    সারাদেশে অনুপস্থিত ১১ হাজার ৮৯০ জন, বহিষ্কৃত ৬ জন
    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে এসএসসি ও সমনমান পরীক্ষার প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এ পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ৪৫৭ জন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে জেলার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তকতাগণ। তিনি জানান, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং সার্বিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছর জেলায় মোট ২১ হাজার ১৩২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অনুপস্থিত ছিল ৪শ ৫৭ জন। জেলায় ৫১টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি এসএসসি, ১৪টি দাখিল এবং ৮টি ভোকেশনাল কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসএসসিতে মোট পরীক্ষাথী ১৪,৩৩৩ জন, দাখিলে ৫,৬৭২ জন এবং কারিগরিতে ১,১২৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা ছিল। জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর জানান, এবারের পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এক কেন্দ্রের শিক্ষক অন্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন, যা রোটেশনাল ডিউটি হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। এদিকে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে মঙ্গলবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী। তারা পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দেয়নি। এ ছাড়া প্রথম দিনে অসদুপায়ের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছে ছয় পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে চারজন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের, একজন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আরেকজন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। গতবারের তুলনায় এবার ৭৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। গতবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। পরীক্ষা শেষে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৮৯০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১১ হাজার ২১১ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৩০৭ জন। গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এই পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ২৬ হাজার ৯২৮ পরীক্ষার্থী। তার আগের বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৯ হাজার ৩৫৯ পরীক্ষার্থী। গতবার অনুপস্থিত থাকার কারণ চেষ্টা করেছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তাদের বোর্ডে গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ছয় হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। প্রাপ্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী ১ হাজার ২০৩ জনের তথ্য বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশের (৪৮১) বিয়ে হয়েছিল। এ ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কারণে। অন্যরা অসুস্থতা, প্রস্তুতি ভালো না থাকাসহ নানা কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

  • সাতক্ষীরায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয় সভা

    সাতক্ষীরায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয় সভা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের সঙ্গে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চিফ লিগ্যাল অফিসার (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান। সভায় বিশেষ আলোচনা উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। সভায় সরকারি বিনা খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, বিস্তৃত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সমাজের অধিকারবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান প্রদত্ত ন্যায়বিচারের অধিকার বাস্তবায়নে জাতীয় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। এই কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। সভায় আগামী ২৮ এপ্রিল ‘জাতীয় লিগ্যাল এইড দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও সাফল্যের সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করা হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সমন্বয় করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী সিভিল জজ) লিটন দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাড. মো. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড. মো. খাইরুল বদিউজ্জামান, উত্তরণের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাড. মুহা. মনির উদ্দিন, সুশীলনের সহকারী পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামান এবং অধিকারকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা।

  • ব্রক্ষরাজপুরে ফিলিং স্টেশনে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

    ব্রক্ষরাজপুরে ফিলিং স্টেশনে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

    হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরা সদরের ব্রক্ষরাজপুর এলাকায় অবস্থিত ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন-এ দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ বাইক ও গাড়িচালকরা। অভিযোগ উঠেছে, টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে নির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে আগে তেল দেওয়া হচ্ছে, আর সাধারণ চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল থেকেই এ অনিয়ম চলতে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন চালকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডজনখানেক দালাল সেখানে সক্রিয় রয়েছে। ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে পিছনের সিরিয়াল থেকে গাড়িকে সামনে এনে আগে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত চালকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমনকি যাদের নিজস্ব কোনো যানবাহন নেই, তারাও লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে- যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকা এ দালালচক্রের দৌরাত্ম্য দমন করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকায় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চালকদের আরও অভিযোগ, পুলিশের সদস্য ও দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসারদের সামনেই এসব অনিয়ম সংঘটিত হলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। চালকদের একাংশ বলেন, “সেনাবাহিনী অথবা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে তেল বিতরণ করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।” তারা আরও বলেন, তেল নেওয়ার সময় চালক ছাড়া অন্য কাউকে লাইনে দাঁড়াতে না দেওয়ার নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী চালকরা।

  • সাতক্ষীরা বাইপাস জুড়ে বাঁশ-বালু ফেলে দখল

    সাতক্ষীরা বাইপাস জুড়ে বাঁশ-বালু ফেলে দখল

    বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্য। বিশেষ করে মৌবন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশের ফুটপাত বাঁশ ফেলে দখল করে রেখেছেন কিছু ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারিত্ব চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ও দুপুরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দ্রুতগতির যানবাহনের ভিড়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

  • সাতক্ষীরায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

    সাতক্ষীরায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান। সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান। ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের। সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’ সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।

  • অবৈধ ডিজেল মজুদে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা, একজনের কারাদণ্ড

    অবৈধ ডিজেল মজুদে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা, একজনের কারাদণ্ড

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ রাখার অভিযোগে দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজার ও শহরের ইটাগাছা এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. মোশারফ হোসেন (৪৬)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার নুরুন্নবীর ছেলে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু বুধবার বিকেলে মেসার্স ভাই ভাই, মেসার্স ইউরেকা, মেসার্স এবি খান, মেসার্স আলিপুর, মেসার্স সোনালী ও মেসার্স কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের মজুদ তদারকি করেন। এ সময় কোনো ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বিকেল ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে তেল পৌঁছাবে বলে জানা যায়। তদারকির সময় সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজারে আরাফাত এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন ১৭ লিটার ডিজেলের অবৈধ মজুদ পাওয়া যায়। লাইসেন্সবিহীন অবৈধ মজুদের অপরাধে আরাফাত এন্টারপ্রাইজকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর আওতায় ধারা ৪ ও ২০ অনুযায়ী ৫হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকায় ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৭০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় লাইসেন্সবিহীনভাবে ডিজেল মজুদ করার অপরাধে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ধারা ৪ ও ২০ (১১) (ঙ) অনুযায়ী ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • সাতক্ষীরায় বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৩ হাজার ৩০৪

    সাতক্ষীরায় বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৩ হাজার ৩০৪

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা জেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর প্রথম দিনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় ১৭টি কেন্দ্রে মোট ৮ হাজার ৫০২ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৩০৪ জন। উপস্থিতির হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ১৪ শতাংশ। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বালক ৩ হাজার ৩০৫ জন এবং বালিকা ৩ হাজার ৪৮৭ জন। উপজেলাভিত্তিক হিসেবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে সদর উপজেলায়। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ৪৭৫ জন পরীক্ষার্থী দেবহাটা উপজেলায়। আশাশুনি, কলারোয়া, কালিগঞ্জ, তালা ও শ্যামনগর উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। জেলার ১৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি ভালো পরীক্ষা উপহার দিতে পারব। বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে আমাদের শিশুরাই লাভবান হবে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বৃত্তির সংখ্যা ও বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাবে।

  • সাতক্ষীরায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ

    সাতক্ষীরায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ

    ফিরোজ হোসেন: সাতক্ষীরা জেলার প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন হতে বরাদ্দকৃত আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৪ টায় জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, খুলনার আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ চেক বিতরণ করা হয়। খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন এর পরিচালক মো. হাফেজ আহাম্মাদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিঞ্চুপদ পাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক এস এম ফারুক আহমেদ, সহকারী পরিচালক, অসিম কুমার বিশ্বাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে তালিকাভূক্ত ২৭ জন শ্রমিকের মাঝে ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার বলেন, সরকার দূর্ঘটনা কবলিত শ্রমিকদের ও সন্তানদের চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন উক্ত চেক বিতরণ করছেন। এটি সরকারের একটি মহত উদ্যোগ, যার অনুদান পেয়ে শ্রমিকরা উপকৃত হচ্ছে। এই অনুদান পেতে জেলার শ্রমিকরা আবেদন করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।

  • কাঁচা আমে চাঙ্গা সাতক্ষীরার বাজার

    কাঁচা আমে চাঙ্গা সাতক্ষীরার বাজার

    আবু সাইদ বিশ্বাস: কাঁচায় দাম বেশি পাকলে কম। তাই বেশি দাম পাওয়ার আশায় সাতক্ষীরার বাজারে এখন হরদম বিক্রি হচ্ছে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন কাঁচা আম। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন শত মণ কাঁচা আম যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাতে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব আম পাকলে দাম পাওয়া যায় না। তবে কাঁচা আমের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। কাঁচা আম দিয়ে মূলত বিভিন্ন কোম্পানি আচার, জেলি ও জুস তৈরি হয়। তবে গত বছরের থেকে তুলনামূলক এ বছর বাজারে আম কম আসছে। কারণ হিসেবে চাষিরা বলছেন, এ বছর গাছে আম কম হয়েছে। পুষ্টি বিশেজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ থাকে। বিশেষ করে, ওজন কমাতে, বমি ভাব দূর করতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, চুল ও ত্বক উজ্জ্বল করতে। এছাড়া ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও একাধিক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা শ্বেত রক্তকণিকার কার‌্যকারিতা বৃদ্ধি করতে ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এদিকে তীব্র দাবদাহে গোটা জেলার মানুষ যেমন বিপর্যস্ত তেমনি ঝড় বৃষ্টি ও প্রচন্ড গরমে আম ঝরে পড়ার পারিমান বাড়ছে। আম চাষিরা বলছেন, কালবৈশাখীসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের শঙ্কা বেশী। তারা যেন লোকসানের মুখে না পড়ে তাই কাঁচা আম বিক্রি করে কিছুটা পুশিয়ে নিচ্ছে। এবারও সাতক্ষীরার আম দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা যাবে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, মাটি, বাতাস ও আবহাওয়া ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে জেলায় হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রোপালি, মল্লিকা, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোপালখাসসহ অন্যান্য জাতের প্রচুর আম উৎপাদন হয়। এবার বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এ কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের শপগুলোতে যাবে সাতক্ষীরার আম।” গতকাল সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজারে সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম কিনছেন। যে আমগুলি কাঁচায় টক, পাকলেও টক, সে আমগুলি বাজারজাত করছেন আম চাষিরা। যেকারণে দামও পাচ্ছেন বেশি। সুলতানপুর বড় বাজারে কাঁচা টক আম মণপ্রতি ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগাম আম ভাঙ্গা ও বাজারজাত করা বিষয়ে সাতক্ষীরার আম চাষি আব্দুল হাকিম গাজী, লিয়াকত হোসেন জানান, যে আম কাঁচায় টক এবং পাকলেও টক, সেই আমগুলি আমরা পাড়তে শুরু করেছি, এই আম বিক্রি করে আমরা অনেক লাভবান হচ্ছি। সাতক্ষীরা শহরের বড় বাজারের কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁ জানান, এখন বাজারে আসছে কাঁচা টক আম। এই আম পাকা খাওয়া যায় না, টক লাগে। কাঁচা আম ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, চলতি বছর সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। জেলায় সাড়ে ৫ হাজার টি আমবাগান ও ১৩ হাজার আমচাষি রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আম চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কাঁচা আমের গুণ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদেরা বলেন, ১০০ গ্রাম কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকে ৪৪ ক্যালরি। এ ছাড়া ৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।