স্টাফ রিপোর্টার: “আক্রান্ত গণমাধ্যম মানেই আক্রান্ত রাষ্ট্র”, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়” এমন স্লোগানে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে সাতক্ষীরায়। রোববার (৩ মে) সকালে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এর পাদদেশে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সাংবাদিকরা মুখে ও চোখে কালো কাপড় বেঁধে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ও কারাবন্দি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় বাধা। তারা অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার এবং সকল কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তি দাবি জানান। অবস্থান কর্মসূচিতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্র সুসংহত করে”, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ কর”, “গণমাধ্যম কার্যালয়ে মব সন্ত্রাসের বিচার কর”, “স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা দূর কর”সহ বিভিন্ন স্লোগান প্রদর্শিত হয়। বক্তারা আরও বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুস সামাদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান রাজীব। এতে বিভিন্ন সাংবাদিক, লেখক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংহতি জানান।
Category: সাতক্ষীরা
-

সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য কারিগরি দক্ষতা মেলা
শাহ জাহান আলী মিটন: “দক্ষতায় শক্তি” এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে কারিগরি দক্ষতা মেলা। তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে এ আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডো-এর বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় “এরফরটি” প্রকল্পের আওতায় এ ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫০ জন তরুণ এতে অংশ নেন এবং তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত হন। সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার সাতক্ষীরার অধ্যক্ষ অপু হালদার, অজন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মহুয়া মঞ্জুরী, বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি মো. আসাদুজ্জামান, মাইটিভি সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবু এবং উন্নয়ন কর্মী মৃনাল সরকার। আয়োজকরা জানান, এই ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো আগ্রহী তরুণদের চিহ্নিত করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তোলা।
টিটিসির অধীনে আইটি সাপোর্ট সার্ভিস, ইলেকট্রিক্যাল, অটোমোবাইল, অটো-ক্যাড, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, গার্মেন্টস, ওয়েল্ডিং, গ্রাফিক্স ও ভিজ্যুয়াল ডিজাইন, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা কোর্স এবং ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বেসিক কম্পিউটার, মাছ চাষ, হাউজ ওয়্যারিং, রেডিও-টিভি ও ফ্রিজ মেরামত, ব্লক প্রিন্টিং ও হস্তশিল্প, ওয়েল্ডিং, ক্যাটারিং, আধুনিক অফিস ম্যানেজমেন্ট, পোশাক তৈরি, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, গবাদিপশু পালন এবং হাঁস-মুরগি পালন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রশিক্ষণে যুক্ত হওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হন। উপস্থিত অতিথিরা একশনএইড বাংলাদেশ ও সিডো-কে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। -

খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধে সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভা
ফিরোজ হোসেন: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা সংক্রান্ত একটি এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। মুখ্য উপস্থাপক হিসেবে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং বিএফএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এডভোকেসি সভার কনসালটেন্ট মুস্তাক হাসান মুহাঃ ইফতেখার। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক ডা. ইসমত জাহান সুমনা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিঞ্চুপদ পাল, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, বাসস জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, শহর আমীর খোরশেদ আলম, কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আনিসুর রহমানসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, ড্রামে বিক্রিত খোলা ভোজ্যতেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, এতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশ্রণের আশঙ্কা থাকে এবং উপকারী পুষ্টি উপাদান (যেমন ভিটামিন ‘এ’) পর্যাপ্ত থাকে না। ফলে এসব তেল দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তারা আরও বলেন, জনগণকে সচেতন করে খোলা ভোজ্যতেল পরিহার করে বোতলজাত ও মানসম্মত তেল ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে হবে। একইসাথে খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া লবণ আয়োডিনসমৃদ্ধ কিনা তা নিশ্চিত না হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করা হয়। তাই প্যাকেটজাত লবণ ও মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক।
-

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ আজ
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও নান্দনিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা)। আজ (১ মে) বিকেল ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলার মতো সাতক্ষীরাতেও ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন উপজেলার চ্যাম্পিয়ন দলগুলো। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত চারটি ম্যাচে বালক ও বালিকা বিভাগে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দেখা যায়। বালক বিভাগে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২-০ গোলে পরাজিত করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভাড়ুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অপর ম্যাচে কালিগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩-১ গোলে তালা উপজেলার লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারায়। বালিকা বিভাগে শ্যামনগর উপজেলার পূর্ব মিরগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪-০ গোলে দেবহাটা উপজেলার হাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে। অন্য ম্যাচে কালিগঞ্জ উপজেলার এন.এন.টি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২-০ গোলে তালা উপজেলার লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে জয়লাভ করে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, এ ধরনের টুর্নামেন্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, সহিষ্ণুতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, বিপিএম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন।
-

তালায় আরএমও ডা. খালিদ হাসান নয়নকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. খালিদ হাসান নয়নকে ঘিরে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের একটি জরুরি ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
জানা যায়, সোমবার রাতে তালা হাসপাতাল থেকে দুইজন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে একটি সরকারি ও একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্স সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে পাটকেলঘাটার শাকদহ ব্রিজ এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় রোগীদের জীবনঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অপর অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে উভয় রোগীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি ছিল সম্পূর্ণ মানবিক উদ্যোগ।
এ ঘটনায় ডা. খালিদ হাসান নয়নকে জড়িয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, একটি চক্র আংশিক তথ্য উপস্থাপন করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “দুটি অ্যাম্বুলেন্সেই মুমূর্ষু রোগী ছিল। একটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় রোগীদের জীবন রক্ষার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ ছিল না, এটি ছিল শুধুই মানবিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু অনলাইন মাধ্যম যাচাই ছাড়া তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করছে, যা তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা। এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশ বলছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
-

প্রাণসায়ের খাল পাড়ে অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না: জেলা প্রশাসক
স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে শহরের প্রাণসায়ের খাল ও সুলতানপুর বড় বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে এবং জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অনুযায়ী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাণসায়ের খাল পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় বা অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ সরেজমিনে দেখে বলে গেলাম, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী শনিবার আবারও পরিদর্শনে আসবো।” তিনি আরও বলেন, “ব্রিজের ওপর দোকানপাট ও রাস্তার দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাতক্ষীরাকে বাসযোগ্য করতে অভিযান চলমান থাকবে।” অভিযানে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা শেখ কামরুল ইসলাম ফারুক এবং জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পৌর প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মো. আসাদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মেদ, সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ, উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাব্বাত হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে জানান, প্রাণসায়ের খালের পাড়ে কসাইখানা (পিলখানা) স্থাপন করা হলে খাল আবারও বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে এবং পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। তারা বলেন, “এ জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তার পরও পৌরসভা টেন্ডার দিয়েছে, যা দুঃখজনক।” এ সময় বক্তব্য রাখেন সুলতানপুর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, শহর কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতি এবং মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। এছাড়া জেলা রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিন, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন।
-

সাতক্ষীরায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন
ফিরোজ হোসেন: “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে একই কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং সিভিল সার্জন অফিসের বাস্তবায়নে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। তিনি জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক রওশানারা জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে নতুন প্রজন্মের পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান। -

সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের বিআরটিএ’র কর্মশালা
স্টাফ রিপোর্টার: “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি-কমাবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৫-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ‘২৬) দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রিপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুগ্ম সচিব বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের পরিচালক (অডিট ও আইন) রুবাইয়াৎ-ই আশিক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান, বিআরটিএ সাতক্ষীরা শাখার সহকারি পরিচালক প্রকৌশলী উসমান সরোয়ার আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাঃ জয়ন্ত সরকার, ট্রাফিক পরিদর্শক মশিউর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান খোকন, ম্যাকানিকাল এসিসট্যান্ট ওবায়দুর রহমান ও উচ্চমান সহকারি মোঃ নাসিরউদ্দিন। প্রধান অতিথি বলেন, গাড়ি চালানো শুরুর আগে নিজের সন্তানের কথা ভাববেন। কারণ পরিবার প্রধান যদি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তাহলে সেই পরিবারের সদস্যদের জীবনে যে চরম দুর্বিসহ অবস্থা নেমে আসে তা কেবল ওই পরিবারের সদস্যরাই বলতে পারেন। হর্ণ না বাজিয়ে গাড়ি চালানো কঠিন হলেও তা সম্ভব। দুর্ঘটনা কমানো না গেলে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সারিতে দাঁড়াতে পারবে না। সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তী ৯৯৯ এ ফোন দেওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শিক্ষার অংশ হিসেব চিহ্ন চেনা, লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা, ভাল সড়ক, আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্য ও আহত হওয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএ এর ফাণ্ড থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উপর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, গাড়িতে যাত্রী ওঠানোর সময় টানা হ্যাঁচড়া, ভোরে বা রাতে গাড়িতে একমাত্র নারী যাত্রী থাকলে হেলপারদের সচেতন করা ও ওভারটেকিং করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে হবে। হাইড্রলিক হর্ণ বাজানো বন্ধ করা, গাড়িতে অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিণ্ডার মজুত রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখা, নেশা না করা, গাড়িতে নিয়ম অনুযায়ি লাইট লাগানো ও ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কর্মশালা শুরুতেই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত দুটি ভিডিও ডকুমেন্টারী প্রদর্শণ করা হয়। বিকেল তিনটায় সাতক্ষীরা সিটি কলেজ মাঠে নিবন্ধিত ৯৩ জন চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা শাখার পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান।
-

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বাইরে বসেই রোগী দেখছেন কলারোয়ার চিকিৎসকরা
স্টাফ রিপোর্টার: কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে চিকিৎসকরা হাসপাতালের ভেতরের পরিবর্তে বাইরে বসে রোগীদের সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত আলো ও শীতল পরিবেশ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় জরুরি সেবা কার্যক্রম কিছুটা চালু থাকলেও রোগী ও চিকিৎসকদের ভোগান্তি বেড়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, গরম ও অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
-

মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক (সিটিএন) সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রকল্প সমন্বয়কারী সুবল কুমার ঘোষ মানব পাচার পরিস্থিতি ও প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিঠুন সরকার এবং জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, স্বদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এবং সিটিআইপি সদস্য সোহেল আহমেদসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি। প্রশিক্ষণে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন এবং সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। জেলায় কর্মরত ১৭টি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। শেষে অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
