এবিএম কাইয়ুম রাজ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা প্রকৃতি, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্যের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ঘিরে গড়ে ওঠা এই জেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল এখন ধীরে ধীরে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালী ও গাবুরা এলাকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। প্রকৃতির এক অনন্য লীলাভূমি সাতক্ষীরা। একদিকে সুন্দরবনের ঘন সবুজ বন, অন্যদিকে নদীঘেরা জনপদ, জেলে ও মৌয়ালদের জীবন, কাঁকড়া ও মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ- সব মিলিয়ে এটি পর্যটনের জন্য একটি আদর্শ এলাকা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ সুন্দরবন দেখতে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় আসছেন। স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ফটোগ্রাফার, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সুন্দরবন ভ্রমণ এখন অন্যতম আকর্ষণ। মুন্সিগঞ্জ ঘাট থেকে ট্রলার ও নৌযানে করে পর্যটকরা সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পট যেমন করমজল, কটকা, কচিখালী, হাড়বাড়িয়া ও দুবলার চর এলাকায় ভ্রমণ করেন। স্থানীয় সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ জানান, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটলে পুরো উপকূলীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। পর্যটন খাতকে ঘিরে হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্রলার সার্ভিস, ট্যুর গাইড, পরিবহন, হস্তশিল্প ও স্থানীয় খাদ্যপণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠতে পারে। এতে বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ এলাকার ট্রলার মালিক রেজাউন জানান, আগে মৌসুমভিত্তিক আয় হতো মাছ ধরা বা নদীকেন্দ্রিক কাজের মাধ্যমে। কিন্তু এখন পর্যটক বাড়ায় অনেকেই ট্রলার ভাড়া দিয়ে আয় করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। এছাড়া নদীর মাঝখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য, বনভূমির নীরবতা এবং প্রকৃতির বিশালতা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে সাতক্ষীরা আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। কারণ সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা চালু করা গেলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এত সম্ভাবনার মাঝেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। উপকূলীয় অনেক এলাকায় এখনো উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পর্যাপ্ত আবাসিক হোটেল, নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাব রয়েছে। অনেক পর্যটক অভিযোগ করেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এই অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইলা, আম্পান ও রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ ভ্রমণ সুবিধা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানো হলে সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলায় পরিণত হতে পারে। তাদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাতক্ষীরা শুধু একটি উপকূলীয় জেলা নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত।
Category: সাতক্ষীরা সদর
-

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা শুরু
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত ধাপে ধাপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা) জারি করা এক স্মারকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ এবং কাবিং- এই চারটি বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। ক্রীড়া বিভাগে ১০০ মিটার দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফসহ বিভিন্ন ইভেন্ট রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিভাগে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, গান, গল্প বলা, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্কসহ মোট ১১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে কুইজ প্রতিযোগিতা। সময়সূচি অনুযায়ী, বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে ১৯ মে’র মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পাঠাতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ১৯-২০ মে, উপজেলা পর্যায় ২২-২৩ মে, জেলা পর্যায় ৬-৭ জুন এবং বিভাগীয় পর্যায় ৮-৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে এবং ছেলে-মেয়ে পৃথক গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রতিযোগিতার সব ধাপ প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা-২০২৬ অনুসরণ করে আয়োজন করতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৮৫ সাল থেকে চালু থাকা এ পদক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সৃজনশীল অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
-

সাতক্ষীরায় ইয়ুথ অ্যাডাপটেশন ফোরামের উদ্যোগে ‘ইয়ুথ কানেক্ট সামিট
স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ৩০টিরও বেশি যুব সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইয়ুথ অ্যাডাপটেশন ফোরাম’-এর উদ্যোগে সাতক্ষীরায় ‘ইয়ুথ কানেক্ট সামিট-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) শহরের লেক ভিউতে আয়োজিত এ সামিটে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ২০২৪ সালের ৬ জুলাই সেভ দ্য চিলড্রেন ও সহযোগী সংস্থা উত্তরণের উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্মটি গঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উত্তরণের হেড অব প্রোগ্রাম জাহিদ আমিন শাশ্বত। সভাপতিত্ব করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাসরিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল। প্রধান অতিথি বলেন, সরকার প্রায় ১৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সুপেয় পানির সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সামিটে আরও উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীত কুমার দাস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, সাতক্ষীরা পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, ইয়ুথ অ্যাডাপটেশন ফোরাম তরুণদের অংশগ্রহণে জলবায়ু অভিযোজন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। ফোরামের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, তরুণদের জ্ঞান বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ফোরাম কাজ করছে।
-

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
স্টাফ রিপোর্টার: ‘রুখবো দুর্নীতি, গড়বো দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকালে লেকভিউ কনভেনশন সেন্টারে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনার আয়োজনে জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা। প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের বিভাগীয় পরিচালক মো. ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম, উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন ও মো. মহসীন আলী। কর্মশালার শুরুতে অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান।
-

বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম
আবু সাইদ বিশ্বাস: বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম। স্বাদে ও মানে অন্যন্য হওয়ায় সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে, রপ্তানি হয় বিদেশেও। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দেশের মধ্যে প্রথম বাজারে আসে এ জেলার আম। তাই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ। জেলা প্রশাসন ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামীকাল (৫ মে) গাছ থেকে ভাঙা শুরু হবে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম। আর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে ৫ জুন। এদিকে আম ব্যবসাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা অবস্থান নিয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বাজার ও বাগান ঘুরে দেখছেন। ‘আগামী এক মাসে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।’
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় আম বাগানের সংখ্যা ৩২০টি, চাষি ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ টন আম।
পারকুকরালী এলাকার আম চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান বিক্রি হয়েছে। বাগানে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লক্ষাধিক টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অপরিপক্ব আম ভাঙা ও কৃত্রিমভাবে পাকানোর প্রবণতা রোধে জেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা বাগানিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ফলে ভালো দামের আশায় আছেন স্থানীয় চাষিরা।
সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘুরছেন। এখনই দাম বলা যাবে না। আগামীকাল সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও শ্রেণিভেদে কোন আম প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তখন বলা যাবে।’
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, আগামীকাল ৫ মে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি আম বাগান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে এখানকার আম স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার কেমিক্যাল-মিশ্রিত আম বাজারজাত করা যাবে না। ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা একটাই: পরিপক্ব, নিরাপদ, বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আগামী এক মাসে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে সাতক্ষীরায়।’ -

সাতক্ষীরায় হ্রাস পাচ্ছে পাটের আবাদ
আবু সাইদ বিশ্বাস: অধিক তাপমাত্রা, কড়া রোদ্রোজ্জ¦ল ও অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টিসহ লবণাক্তার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ ঝুঁকিপূণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জমিতে সাগরের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের ফলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। গত তিন বছরে শুধু সাতক্ষীরা জেলাতে পাটের আবাদ হ্রাস পেয়েছে এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া নায্য দাম না পেয়ে চাষিরা পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, লবণাক্ততাজনিত কারণে পাট বীজের অংকুরোদগম মারাত্মকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়। এসব কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেজ্ঞরা বলছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১৮ জেলায় পরিকল্পিতভাবে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের চিত্র বদলে যাবে। এরই মধ্যে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে লবণাক্তসহিষ্ণু পাটের চাষ কৃষকদের মাঝে আগ্রহ থাকলেও প্রচারণার অভাবে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে না। প্রতি বছর খরিফ-১ মৌসুমে এই বিশাল পরিমাণ জমি পতিত পড়ে থাকে। এই পতিত জমিতেই গত পাঁচ বছর ধরে বিজেআরআই উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষকরা। পাট বিশেজ্ঞরা বলছে, লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ এখন উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীদের নতুন স্বপ্ন দেখাতে পারে। এক ফসলী জমিতে এখন দুটি ফসল আবাদ করতে পারবে চাষিরা। ফলে পাট চাষে উপকূলের গুরুত্ব বাড়বে কয়েক গুণ। সরকারি হিসাব মতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আয়তন এ দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০% এবং এ অঞ্চলে দেশের প্রায় ৩০% আবাদযোগ্য জমি রয়েছে যার পরিমাণ প্রায় ২৬.৫০ লাখ হেক্টর। উপকূলীয় অঞ্চলে মোট লবণাক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ১০.৬০ লাখ হেক্টর। এ পরিস্থিতিতে লবণাক্ততা সমস্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিবেচনায় রেখে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ কিছু কৌশল অনুসরণ করলে লবণাক্ত অঞ্চলে একদিকে যেমন পাট চাষ সম্প্রসারিত হবে তেমনি ওই অঞ্চলের শস্য নিবিড়তাও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। গবেষণার রির্পোটে বলছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি জেলার ৬টি উপজেলায় পাটের আঁশ ও বীজ ফসল উৎপাদনের উপর একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে বলা হয় বিভিন্ন এলাকায় পাটের বীজ বপনের সময় পরিবর্তন করে জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বেই শুষ্ক মৌসুমে স্বাদু পানি দ্বারা সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে যদি বীজ বপন করা যায় তবে বীজের অংকুরোদগম স্বাভাবিক লবণাক্ততা অবস্থার তুলনায় প্রায় ২০% বৃদ্ধি পায় এবং তুলনামূলকভাবে পাটের ভালো ফলন পাওয়া যায়। কারণ দেরিতে বীজ বপন করলে পাট ফসল অধিক মাত্রার লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়ে ও বীজের অংকুরোদগম মারাত্মকভাবে ক্ষতি” গ্রস্থ হয়। এর ফলে পাটের ফলন প্রায় ৫০% কমে যায়। বাংলাদেশে ১৯৭০-৭১ অর্থবছরে ৯ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে ছিল। বিগত ২০২৪-২৫অর্থবছরে দেশে পাটের আবাদের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২০হাজার হেক্টর জমিতে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ১১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৫০২০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৩ হাজার ২৫৫, তালায় ৩ হাজার ১১০, দেবহাটায় ২০, কালীগঞ্জে ১০১, আশাশুনিতে ৯৫ এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধাণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৪৩ হাজার হেক্টর কম আবাদ হয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, গত ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৮২০ হেক্টর। জেলায় এবার দেড় লাখ বেল্ট পাট উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গেল তিন বছরের মধ্যে জেলাতে পাটের আবাদ কমেছে এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ৩ মে পর্যন্ত জেলাতে পাটের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে এখনো পাট আবাদ হচ্ছে। বাকি সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে যাবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারানজাল গ্রামের পাটচাষী পলাশ হোসেন জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে পাট উৎপাদনে খরচ বেশি পড়ছে। গত বছর বিঘাপ্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকার মতো খরচ হলেও চলতি বছর ১৯-২০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। সেখানে একই জমির পাট বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, পাট একটি লাভজনক ফসল। নতুন জাতের লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ চাষের মধ্য দিয়ে উপকূলের অর্থনীতিতে পাট খাতে একটি বিপ্লব সাধিত হচ্ছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশ আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমিতে অধিক সংখ্যক প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস আয়োজন ইত্যাদির মাধ্যমে লবণাক্তসহিষ্ণু পাটের চাষাবাদ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলতে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, দেশে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ পরিকল্পনায় উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানসম্পন্ন পাট ও পাটবীজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সামগ্রিকভাবে উল্লিখিত উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন, বাজারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাটখাতকে একটি টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। -

নবজীবনে নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ
শাহ জাহান আলী মিটন: নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বাগতম উপলক্ষে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩ মে) সকালে শহরের মুন্সিপাড়াস্ত নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়। নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট এর চেয়ারম্যান তারেকুজ্জামান খান’র সভাপতিত্বে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিস ডা. জয়ন্ত সরকার, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ সাতক্ষীরার নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ সুরাইয়া ইয়াসমিন, নবজীবন নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ শামসুল আলম খান চৌধুরী, ডা. অরুণ ব্যানার্জি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ সাতক্ষীরার নার্সিং ইন্সট্রাক্টর তপতী রানী কুন্ড, ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেলথ নার্স শিরিন সুলতানা। নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, নার্সিং এর প্রথম কথায় হচ্ছে ‘মানবতার মানব সেবায় মহান ব্রত’। আমরা যেন সবসময় এই কথাটাই ধারণ করি এবং বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করে যাচ্ছে নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট। দেশের সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবায় এই প্রতিষ্ঠান মানসম্মত ভূমিকা রাখবে বলে আমি সার্বিক সফলতা কামনা করি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবজীবন নির্বাহী কমিটির সদস্য অহিদুজ্জামান খান, পাবলিক রিলেশন অফিসার মাতিনুল হামিদসহ নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সৈয়েদা যাহারা।
-
প্রাণসায়ের খাল রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার: “প্রাণ সায়ের খালকে আমরা আর ময়লার ভাগাড় হতে দেব না। আজ থেকে কোনো বাসা-বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এই খালে ফেলতে দেওয়া হবে না।” সাতক্ষীরা শহরকে দূষণমুক্ত ও সবুজ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এভাবেই নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানান বক্তারা। রবিবার (০৩ মে) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ‘অ্যাকশন ফর ট্রান্সফরমেশন’ (এ৪টি) প্রকল্পের আওতায় পরিবেশ দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের দাবিতে এই যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সমর্থনে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে সিডো ও সিডিওডব্লিউ সাতক্ষীরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় ঐতিহ্যের প্রাণ সায়ের খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। খালের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। বক্তারা অবিলম্বে পরিকল্পিত ডাম্পিং স্পট নির্মাণ এবং খাল থেকে বর্জ্য অপসারণের দাবি জানান। অন্যথায় সাতক্ষীরা পৌরসভার সামনে বিশাল মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন শফিক উদ দ্দৌলা সাগর, পল্টু বাসার, ফরিদা আক্তার বিউটি, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, মো. তহিদুজ্জামান, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার প্রমুখ। পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধন থেকে জানানো হয়, শহরের প্রতিটি পয়েন্টে ডাস্টবিন নিশ্চিত করা এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য স্তূপ করা বন্ধ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
-

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সাতক্ষীরায় অবস্থান কর্মসূচি
স্টাফ রিপোর্টার: “আক্রান্ত গণমাধ্যম মানেই আক্রান্ত রাষ্ট্র”, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়” এমন স্লোগানে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে সাতক্ষীরায়। রোববার (৩ মে) সকালে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এর পাদদেশে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সাংবাদিকরা মুখে ও চোখে কালো কাপড় বেঁধে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ও কারাবন্দি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় বাধা। তারা অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার এবং সকল কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তি দাবি জানান। অবস্থান কর্মসূচিতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্র সুসংহত করে”, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ কর”, “গণমাধ্যম কার্যালয়ে মব সন্ত্রাসের বিচার কর”, “স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা দূর কর”সহ বিভিন্ন স্লোগান প্রদর্শিত হয়। বক্তারা আরও বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি আব্দুস সামাদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান রাজীব। এতে বিভিন্ন সাংবাদিক, লেখক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংহতি জানান।
-

সাতক্ষীরায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কারাতে ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন তালা
স্টাফ রিপোর্টার: সারা দেশের গ্রাম পর্যায়ের কিশোর-কিশোরীদের (১২-১৪ বছর) প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উপজেলা পর্যায়ের বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার (৩ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়াম-এ বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাছাইয়ের কারাতে ইভেন্টে তালা উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। কারাতে ইভেন্টের রেফারির দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আঃ মাতিন। আয়োজকরা জানান, উপজেলা পর্যায়ের বাছাই শেষে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
