বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম

আবু সাইদ বিশ্বাস: বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম। স্বাদে ও মানে অন্যন্য হওয়ায় সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে, রপ্তানি হয় বিদেশেও। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দেশের মধ্যে প্রথম বাজারে আসে এ জেলার আম। তাই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ। জেলা প্রশাসন ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামীকাল (৫ মে) গাছ থেকে ভাঙা শুরু হবে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম। আর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে ৫ জুন। এদিকে আম ব্যবসাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা অবস্থান নিয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বাজার ও বাগান ঘুরে দেখছেন। ‘আগামী এক মাসে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।’
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় আম বাগানের সংখ্যা ৩২০টি, চাষি ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ টন আম।
পারকুকরালী এলাকার আম চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান বিক্রি হয়েছে। বাগানে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লক্ষাধিক টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অপরিপক্ব আম ভাঙা ও কৃত্রিমভাবে পাকানোর প্রবণতা রোধে জেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা বাগানিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ফলে ভালো দামের আশায় আছেন স্থানীয় চাষিরা।
সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘুরছেন। এখনই দাম বলা যাবে না। আগামীকাল সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও শ্রেণিভেদে কোন আম প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তখন বলা যাবে।’
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, আগামীকাল ৫ মে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি আম বাগান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে এখানকার আম স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার কেমিক্যাল-মিশ্রিত আম বাজারজাত করা যাবে না। ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা একটাই: পরিপক্ব, নিরাপদ, বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আগামী এক মাসে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে সাতক্ষীরায়।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *