Category: সাতক্ষীরা সদর

  • জামায়াত কর্মী ওহেদ আলীর মৃত্যুতে শহর জামায়াতের শোক

    জামায়াত কর্মী ওহেদ আলীর মৃত্যুতে শহর জামায়াতের শোক

    স্টাফ রিপোর্টার: জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা পৌর শাখার জামায়াত কর্মী ওহেদ আলী সরদারের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ২টায় শহরের ৫নং ওয়ার্ডের মিয়াসাহেবের ডাঙ্গা বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ সংলগ্ন আম বাগানে জানাজা শেষে নিজ বাগান বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রুবার বিকেলে ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি এক পুত্র ও চার কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজা নামাজে ইমামতি করেন তার এক মাত্র ছেলে মাওলানা সুলাইমান সরদার। জানাজা পূর্ব মরহুমের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী মাষ্টার বদিউজ্জামান, মরহুমের জামাই মাওলানা নজিবুল ইসলাম, সুপার মাওলানা নূর হোসেন, মাও আবুল হোসেন, মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ প্রমুখ। শহর জামায়াত আমিরের শোক: জামায়াত কর্মী ওহেদ আলী সরদারের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা পৌর জামায়াতের আমীর জাহিদুল ইসলাম। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ওহেদ আলী সরদার দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। দ্বীন কায়েমের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি ইসলামী আন্দোলনের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার ইন্তেকালে জামায়াতে ইসলামী একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে হারাল। আমি তার ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাকে ক্ষমা ও রহম করুন এবং তার কবরকে প্রশস্ত করুন। তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে নেকিতে পরিণত করুন। কবর থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি মঞ্জিলকে তার জন্য সহজ, আরামদায়ক ও কল্যাণময় করে দিন।

  • প্রাণসায়ের খাল পাড়ে অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না: জেলা প্রশাসক

    প্রাণসায়ের খাল পাড়ে অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না: জেলা প্রশাসক

    স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে শহরের প্রাণসায়ের খাল ও সুলতানপুর বড় বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে এবং জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অনুযায়ী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাণসায়ের খাল পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় বা অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ সরেজমিনে দেখে বলে গেলাম, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী শনিবার আবারও পরিদর্শনে আসবো।” তিনি আরও বলেন, “ব্রিজের ওপর দোকানপাট ও রাস্তার দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাতক্ষীরাকে বাসযোগ্য করতে অভিযান চলমান থাকবে।” অভিযানে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা শেখ কামরুল ইসলাম ফারুক এবং জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পৌর প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী মো. আসাদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নূর আহম্মেদ, সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ, উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাব্বাত হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে জানান, প্রাণসায়ের খালের পাড়ে কসাইখানা (পিলখানা) স্থাপন করা হলে খাল আবারও বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে এবং পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। তারা বলেন, “এ জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু তার পরও পৌরসভা টেন্ডার দিয়েছে, যা দুঃখজনক।” এ সময় বক্তব্য রাখেন সুলতানপুর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, শহর কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতি এবং মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। এছাড়া জেলা রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিন, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন।

  • সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে শেষ ভরসা বাঁশবাগান

    সাতক্ষীরায় তীব্র গরমে শেষ ভরসা বাঁশবাগান

    এসএম আশরাফুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় তীব্র তাপপ্রবাহ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। দুপুরের তীব্র রোদে গ্রামের মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান-বিদ্যুৎহীন অসহনীয় হয়ে উঠেছে জনজীবন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও পাটি বা চাটাই বিছিয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। বকচরা গ্রামের আলমগীর লস্কর বলেন, দিনে ও রাতে মিলেও ১৪ ঘন্টা কারেন্ট থাকে না। ফলে ইটের দালান বা টিনের ঘরের ভ্যাপসা গরমে থাকাটাই অসহনীয় ব্যাপার, তার চেয়ে দুপুরে কারেন্ট গেলে বাঁশবাগানের ভেতরের পরিবেশ অনেকটাই সহনীয় হয়ে ওঠে। বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়া একটু তো স্বস্তি দিচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দা মুকুল বলেন, “ঘরের ভেতর গরমে থাকা যায় না, লোডশেডিং তো আছেই। তাই বিকেলে বাঁশবাগানে চলে আসি। এখানে বসলে একটু ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায় কিন্তু বাড়ি ঘরে মহিলাদের এই অসহনীয় গরম সহ্য করতে হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, ঘন সবুজ উদ্ভিদ এলাকাভেদে আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম অনুভব করাতে পারে, যা তাপদাহের সময় গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দেয়। চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দিনের তীব্র তাপদাহ এবং রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে খোলা ও গাছের ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নিচ্ছেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমাধান চান দেশবাসী। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিবেদন তৈরি করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে সংবাদটি ইমেইলে পাঠানোর সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে এলে আবারও সংবাদটি পাঠাতে হয়। লোডশেডিংয়ের এই চক্র শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সংবাদকর্মীদের কাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • সাতক্ষীরায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

    সাতক্ষীরায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন

    ফিরোজ হোসেন: “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন হয়েছে। এ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে একই কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং সিভিল সার্জন অফিসের বাস্তবায়নে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। তিনি জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক রওশানারা জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
    জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে নতুন প্রজন্মের পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান।

  • আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ধীরগতি, পাঠদান ব্যাহত

    আশাশুনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ধীরগতি, পাঠদান ব্যাহত

    জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা
    বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরম ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার ৯৫নং দক্ষিণ কাদাকাটি কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে এ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি রয়েছে ৪০ শতাংশ। অভিযোগে বলা হয়, নির্মাণকাজে শ্রমিকসংখ্যা কম এবং কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। অনেক সময় শ্রমিকরা নিয়মিত কাজও করেন না। এদিকে তীব্র দাবদাহ ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে টিনশেডের নিচু কক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। এতে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অফিস কক্ষের সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে ২০২৪ সাল থেকে মাসিক দুই হাজার টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষ নেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যালয়ের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া টয়লেট সুবিধা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি আপাতত শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মর্নিং স্কুল চালুর অনুমতি চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমান তাপপ্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে মর্নিং স্কুল চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো যায়।”

  • সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের বিআরটিএ’র কর্মশালা

    সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের বিআরটিএ’র কর্মশালা

    স্টাফ রিপোর্টার: “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি-কমাবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৫-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ‘২৬) দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রিপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুগ্ম সচিব বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের পরিচালক (অডিট ও আইন) রুবাইয়াৎ-ই আশিক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান, বিআরটিএ সাতক্ষীরা শাখার সহকারি পরিচালক প্রকৌশলী উসমান সরোয়ার আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডাঃ জয়ন্ত সরকার, ট্রাফিক পরিদর্শক মশিউর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান খোকন, ম্যাকানিকাল এসিসট্যান্ট ওবায়দুর রহমান ও উচ্চমান সহকারি মোঃ নাসিরউদ্দিন। প্রধান অতিথি বলেন, গাড়ি চালানো শুরুর আগে নিজের সন্তানের কথা ভাববেন। কারণ পরিবার প্রধান যদি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তাহলে সেই পরিবারের সদস্যদের জীবনে যে চরম দুর্বিসহ অবস্থা নেমে আসে তা কেবল ওই পরিবারের সদস্যরাই বলতে পারেন। হর্ণ না বাজিয়ে গাড়ি চালানো কঠিন হলেও তা সম্ভব। দুর্ঘটনা কমানো না গেলে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সারিতে দাঁড়াতে পারবে না। সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তী ৯৯৯ এ ফোন দেওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শিক্ষার অংশ হিসেব চিহ্ন চেনা, লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা, ভাল সড়ক, আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্য ও আহত হওয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএ এর ফাণ্ড থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উপর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, গাড়িতে যাত্রী ওঠানোর সময় টানা হ্যাঁচড়া, ভোরে বা রাতে গাড়িতে একমাত্র নারী যাত্রী থাকলে হেলপারদের সচেতন করা ও ওভারটেকিং করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে হবে। হাইড্রলিক হর্ণ বাজানো বন্ধ করা, গাড়িতে অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিণ্ডার মজুত রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখা, নেশা না করা, গাড়িতে নিয়ম অনুযায়ি লাইট লাগানো ও ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কর্মশালা শুরুতেই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত দুটি ভিডিও ডকুমেন্টারী প্রদর্শণ করা হয়। বিকেল তিনটায় সাতক্ষীরা সিটি কলেজ মাঠে নিবন্ধিত ৯৩ জন চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা শাখার পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান।

  • বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বাইরে বসেই রোগী দেখছেন কলারোয়ার চিকিৎসকরা

    বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বাইরে বসেই রোগী দেখছেন কলারোয়ার চিকিৎসকরা

    স্টাফ রিপোর্টার: কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে চিকিৎসকরা হাসপাতালের ভেতরের পরিবর্তে বাইরে বসে রোগীদের সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত আলো ও শীতল পরিবেশ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় জরুরি সেবা কার্যক্রম কিছুটা চালু থাকলেও রোগী ও চিকিৎসকদের ভোগান্তি বেড়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, গরম ও অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

  • সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরার কৃষি অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রচণ্ড দাবদাহ, অন্যদিকে সেচ সংকটে ফসলের মাঠ রোদে পুড়ে চৌচির হওয়ার উপক্রম। তাই শেষ মুহূর্তে এসে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরার কয়েক হাজার কৃষক। সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সোনালী স্বপ্নের হাতছানি। ইরি-বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে ধানের শীষে দুধল দানা কেবল পুষ্ট হতে শুরু করেছে। এই সময়ে ফসলের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন সেচ। কিন্তু সারাদেশের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই কৃষি প্রধান এই জেলায় জেঁকে বসেছে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ডিজেল সংকট। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে সাত হাজার ৪০টি এবং ডিজেলচালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেলচালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। ইতিমধ্যে কিছু উপজেলায় ৫ শতাংশ ফসল কাটা হয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ উপজেলায় এখনো দশ-পনের দিন পরে ধান কাটা শুরু হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ধানে এখনো দুই-একটি সেচের প্রয়োজন হবে। তবে আশা করছি, কৃষিতে সেচের সমস্যা হবে না। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং সমস্যার প্রভাব ফসলে পড়বে না।’ তবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেলো তাদের কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে লোডশেডিংয়ের কারণে ভালভাবে সেচ দিতে পারিনি। সর্বশেষ দুই সপ্তাহ ধরে দিনে ও রাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে গভীর রাতে যখন সেচ পাম্পগুলো চালানোর কথা, তখনই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না গ্রামাঞ্চলে। ফলে ফসলে এবার মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছি। ’ তালা উপজেলার কৃষক সমির আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধানের শীষ কেবল বের হইছে। এই সময় মাটি শুকায়ে গেলে চাল হবে না, সব চিটা হয়ে যাবে। সারারাত পাম্পের গোড়ায় বসে থাকি বিদ্যুতের আশায়, কিন্তু দেখা নাই। যখন আসে, তখন ভোল্টেজ এতো কম যে পানি ঠিকমতো উঠে না।’ সাতক্ষীরা পৌনসভা এলাকার কৃষক ও পানি ব্যবসায়ী সুরাত আলী বলেন, ‘আমার একটি গভীর নলকূপ আছে। কিন্তু বিদ্যুৎ তো আসে আর যায়! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকে না। যখন আসে, তখন ভোল্টেজ এতো কম থাকে যে মোটরের কয়েল পুড়ে যাওয়ার ভয়ে পাম্প ছাড়তে পারি না।’ ‘মাঠের কৃষকরা পানির জন্য প্রতিদিন আমার বাড়িতে এসে ভিড় করছে, গালিগালাজ করছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে আমি পানি দেবো কোত্থেকে? অনেকটা ক্ষুব্ধভাবেই বললেন হাবিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের অভাবে পাম্প না চললেও মাস শেষে ঠিকই বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ডিজেল দিয়ে পাম্প চালাতে গেলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যা কৃষকরা দিতে রাজি নন। এই অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক লাখ টাকা লোকসান দিয়ে তাকে পানি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষকরা বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকলেও সেখানেও বিপত্তি বাঁধে। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সাতক্ষীরার স্থানীয় বাজারগুলোতে ডিজেলের তীব্র সংকট রয়েছে। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না চাষীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে ড্রামপ্রতি চড়া দাম দিয়ে কালোবাজার থেকে তেল কিনছেন। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ‘তেল নাই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। কিছু কিছু পাম্পে বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও কৃষকদের দীর্ঘ লাইনের কারণে মিলছে না কাক্সিক্ষত পরিমান জ্বালানি। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত দেখাচ্ছেন পাম্প মালিকরা। প্রতি লিটার ডিজেলে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি দিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের অনেক সময় জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। এ বছর এপ্রিলের শুরু থেকেই সাতক্ষীরার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি হওয়ায় মাঠের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বোরো ধানের এই পর্যায়ে জমিতে পরিমান মতো পানি না থাকলে ধানের দানা পুষ্ট হবে না এবং ‘হিট শক’-এর কারণে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজুর রহমান সরকার বলেন, ‘বর্তমান কৃষকদের সেচ চাহিদার বিপরীতে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে দিতে পারছিনা। রেশনিং পদ্ধতিতে লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিদ্যুৎ বিভাগকে সেচ কাজে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা রোদ কম থাকলে অর্থাৎ বিকেলে বা ভোরে সেচ দেন। তবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটে কৃষকরা যে চাপে আছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।’ কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে রেশনিং করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সেচ মৌসুমে কৃষি ফিডারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। সাতক্ষীরা জেলা দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। এখান থেকে উৎপাদিত ধান দেশের একটি বড় অংশের চালের চাহিদা মেটায়। কিন্তু মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে জ্বালানি আর বিদ্যুতের এই হাহাকার কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে এবং ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মাঠের পাকা ধানের বদলে কেবল খড় নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে তাদের। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

  • মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ

    মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জেলা মানব পাচার প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক (সিটিএন) সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে আশ্বাস প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রকল্প সমন্বয়কারী সুবল কুমার ঘোষ মানব পাচার পরিস্থিতি ও প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিঠুন সরকার এবং জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, স্বদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এবং সিটিআইপি সদস্য সোহেল আহমেদসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি। প্রশিক্ষণে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন এবং সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। জেলায় কর্মরত ১৭টি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। শেষে অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • সাতক্ষীরায় যুব কর্মসংস্থান ও সাইবার সুরক্ষায় এডভোকেসি সভা

    সাতক্ষীরায় যুব কর্মসংস্থান ও সাইবার সুরক্ষায় এডভোকেসি সভা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় যুব নেতৃত্বে বিকল্প কর্মসংস্থান, সবুজ উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সাইবার সুরক্ষা এবং যুব ও নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে তুফান কনভেনশন সেন্টার এন্ড রিসোর্ট (লেক ভিউ)-তে সিডো’র বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডো’র নির্বাহী পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজার মো. আরিফ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সংকট ও শহরমুখী জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। এছাড়া যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং অনলাইন ডেটাবেজ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সাতক্ষীরা ইয়ুথ হাবের সদস্যরা নাটকের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভা সঞ্চালনা করেন সাকিব হাসান। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. তহিদুজ্জামান, একশনএইড বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্রিয়াংকা সেন মৌ, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার ও ফাইন্যান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য।