Author: news_admin

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য: সহকারী শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য: সহকারী শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (মেসেঞ্জার গ্রুপে) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক উপজেলার ৭৪ নম্বর নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ‘নলতা ক্লাস্টার, কালিগঞ্জ’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল একাধিক পোস্টে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, অমর্যাদকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই গ্রুপটি সরকারি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ এপ্রিল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ উপলক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনভিজিলেটরদের ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ওই শিক্ষক। পাশাপাশি কালিগঞ্জের একটি তেল পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অপ্রাসঙ্গিক ও অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং তেল পাম্প ঘেরাওয়ের আহ্বান জানান, যা শিক্ষকদের ফৌজদারি অপরাধে প্ররোচিত করার শামিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ লঙ্ঘনের শামিল। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০২৩ অনুযায়ীও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব তিন কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল করতে হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল খালেকের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

  • জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির ভোমরা স্থলবন্দর

    জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির ভোমরা স্থলবন্দর

    আবু সাইদ বিশ্বাস: জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পরিবহন সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা দিয়েছে স্থবির। ডিজেলের স্বল্পতার কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, বাড়ছে ট্রাকভাড়া ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০টিতে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাকগুলো সময়মতো ফিরতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে। ফলে বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না এবং পণ্যের স্তূপ জমে থাকছে। ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক রিপন হোসেন বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রান্সপোর্টগুলো ঠিকমতো গাড়ি দিতে পারছে না। অল্প কিছু গাড়ি দেওয়া হলেও অনেক সময় সেগুলো মাঝপথে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের দিকে যতগুলো গাড়ি পাঠাচ্ছি, তার অর্ধেক পথেই গিয়ে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা থেকে স্বল্প পরিমাণ তেল নিয়ে গাড়ি ছাড়লেও তা গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। ফলে মাল দেরিতে পৌঁছাচ্ছে এবং কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে অনেক পার্টি কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সাতক্ষীরা ভোমরা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন কিরণ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাকভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আগে এক ট্রাক মাল ঢাকায় পৌঁছাতে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হতো। বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে আমরা ট্রাক পাঠাতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে তেল সংকট তীব্র হওয়ায় এসব রুটে ট্রাক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তেল সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন পরপর একটি করে ট্রাক ভোমরায় ঢুকছে। অনেক সময় ফল, আদা ও অন্যান্য কাঁচামাল রাস্তায় তেল ফুরিয়ে পড়ে থাকছে, বলেন তিনি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বন্দরে খালাস হওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য ট্রাকের অভাবে সময়মতো সরানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ট্রাকচালক বাবু বলেন, ভোমরা থেকে মাল নিয়ে বাইরে গেলে অনেক জায়গায় তেল পাওয়া যায় না। এতে আমাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়ও কমে যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। আরেক ট্রাকচালক সুমন হোসেন বলেন, আগে যেখানে দুই দিনে একটি ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন সেখানে এক সপ্তাহেও একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, গতকাল রাতে পাম্পে সিরিয়াল দিয়েছি, দুপুর হয়ে গেছে তবুও তেল পাইনি। কখন পাব, তারও নিশ্চয়তা নেই। ট্রাকচালক আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমও হচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে প্রায় ১৮০ লিটার তেল লাগত। এখন অল্প অল্প করে তেল নিতে নিতে মোট প্রায় ২১০ লিটার পর্যন্ত লাগছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্য। সময়মতো পরিবহন না হওয়ায় কাঁচামরিচ, আদা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে রূপান্তর হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা নানা সুবিধা পাচ্ছেন এবং বাণিজ্য কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিক এ সময় জ্বালানি সংকট আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিবহন সংকটের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে সরকারকে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বন্দরের কার্যক্রমে আরও স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।

  • সাতক্ষীরায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয় সভা

    সাতক্ষীরায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয় সভা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের সঙ্গে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চিফ লিগ্যাল অফিসার (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান। সভায় বিশেষ আলোচনা উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। সভায় সরকারি বিনা খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, বিস্তৃত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সমাজের অধিকারবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান প্রদত্ত ন্যায়বিচারের অধিকার বাস্তবায়নে জাতীয় লিগ্যাল এইড কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। এই কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। সভায় আগামী ২৮ এপ্রিল ‘জাতীয় লিগ্যাল এইড দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও সাফল্যের সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করা হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সমন্বয় করেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী সিভিল জজ) লিটন দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাড. মো. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড. মো. খাইরুল বদিউজ্জামান, উত্তরণের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাড. মুহা. মনির উদ্দিন, সুশীলনের সহকারী পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামান এবং অধিকারকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা।

  • ব্রক্ষরাজপুরে ফিলিং স্টেশনে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

    ব্রক্ষরাজপুরে ফিলিং স্টেশনে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

    হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরা সদরের ব্রক্ষরাজপুর এলাকায় অবস্থিত ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন-এ দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ বাইক ও গাড়িচালকরা। অভিযোগ উঠেছে, টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে নির্দিষ্ট কিছু গাড়িকে আগে তেল দেওয়া হচ্ছে, আর সাধারণ চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল থেকেই এ অনিয়ম চলতে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন চালকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডজনখানেক দালাল সেখানে সক্রিয় রয়েছে। ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে পিছনের সিরিয়াল থেকে গাড়িকে সামনে এনে আগে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত চালকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমনকি যাদের নিজস্ব কোনো যানবাহন নেই, তারাও লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে- যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকা এ দালালচক্রের দৌরাত্ম্য দমন করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া থাকায় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চালকদের আরও অভিযোগ, পুলিশের সদস্য ও দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসারদের সামনেই এসব অনিয়ম সংঘটিত হলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। চালকদের একাংশ বলেন, “সেনাবাহিনী অথবা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে তেল বিতরণ করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।” তারা আরও বলেন, তেল নেওয়ার সময় চালক ছাড়া অন্য কাউকে লাইনে দাঁড়াতে না দেওয়ার নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী চালকরা।

  • সাতক্ষীরা বাইপাস জুড়ে বাঁশ-বালু ফেলে দখল

    সাতক্ষীরা বাইপাস জুড়ে বাঁশ-বালু ফেলে দখল

    বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্য। বিশেষ করে মৌবন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশের ফুটপাত বাঁশ ফেলে দখল করে রেখেছেন কিছু ব্যবসায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারিত্ব চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ও দুপুরে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দ্রুতগতির যানবাহনের ভিড়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

  • নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় গড়ে তোলার আহবান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

    নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় গড়ে তোলার আহবান এমপি ইজ্জত উল্লাহর

    কলারোয়া ব্যুরো: কলারোয়া উপজেলার মরহুম আছির উদ্দিন শায়েদা অডিটোরিয়ামে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষক সমাবেশ। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাবেশটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তিনি তার বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান। তিনি শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি উন্নত ও আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও সমাবেশে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা শেষে ভবিষ্যতে শিক্ষক সমাজের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সমগ্র আয়োজনের দায়িত্বে ছিল আদর্শ শিক্ষক পরিষদ, কলারোয়া উপজেলা শাখা।

  • আশাশুনিতে ১০ গ্রামের একমাত্র সাঁকো নদীতে ভেসে গেছে, এমপির পরিদর্শন

    আশাশুনিতে ১০ গ্রামের একমাত্র সাঁকো নদীতে ভেসে গেছে, এমপির পরিদর্শন

    এস.এম মোস্তাফিজুর রহমান: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা-এর শোভনালী ইউনিয়নে ১০ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র কাঠের সাঁকো জোয়ারের পানিতে ভেসে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গেছে, শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া ও বুধহাটা ইউনিয়নের কুন্দুড়িয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মরিচ্চাপ নদী-র ওপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকোটি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে প্রবল স্রোতের মুখে ধসে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায়। এর আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হলেও নদী খননের ফলে প্রায় ৩-৪ বছর আগে সেটি ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়, যা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী এবং পণ্যবাহী সাইকেল-মোটরসাইকেল চলাচল করত। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বুধহাটা, পাইথালী, ব্যাংদহা, গাজীরমাঠ ও কামালকাটি হাট-বাজারসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৪-৫টি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমান দাশ, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী। পরিদর্শনকালে এমপি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন এবং দ্রুত বিকল্প পারাপার ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাময়িকভাবে নতুন করে কাঠের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে ২-৩ দিনের মধ্যে সাঁকো নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ ও স্টিমেট প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন।

  • সাতক্ষীরায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

    সাতক্ষীরায় সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান। সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান। ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের। সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’ সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।