আব্দুর রহমান: সাতক্ষীরা জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান পালিত হয়। সকালে শিক্ষার্থীরা রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের র্যালিতে অংশ নেয়। এছাড়া সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। বিদ্যালয়ে বৈশাখী আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা গান, নাচ ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরে। বিদ্যালয়সমূহে চিত্রাংকন, রচনা প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আনন্দ আর প্রাণচাঞ্চল্য। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এসব অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের ঘুড়ি উৎসবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা অংশগ্রহণ করে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা বাড়াতে সাহায্য করে।
Author: news_admin
-

ঐক্যের বন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ #সাতক্ষীরায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন
আবু সাইদ বিশ্বাস: বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের বন্ধনে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাতেও সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর, জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন হচ্ছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা – এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে আজ সোমবার সাতক্ষীরা জেলাতে উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। বর্ষপরিক্রমায় চৈত্র সংক্রান্তির শেষ সূর্যাস্তের সাথে সাথেই বিদায় নেবে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, আর ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হবে নতুন বছর ১৪৩৩। দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা শহর ও সব উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা চলছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজনসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি অনুযায়ী, ০১ বৈশাখ ১৪৩৩ (১৪ এপ্রিল ২০২৬) মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সঙ্গীত ও “এসো হে বৈশাখ” গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হবে।সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কালেক্টরেট পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে, যা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে মিলিত হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক হিসেবে ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও পায়জামা, লুঙ্গি, লাল শাড়ি এবং বৈশাখী শাড়ি পরিধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। মেলায় থাকবে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প, খাবারসহ নানা আয়োজন। বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ঘুড়ি উৎসব ও লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। একই দিন বিকাল ৫টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে শিশু একাডেমি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার এবং শিশু পরিবার (এতিমখানা)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা নববর্ষের এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। উৎসব বরণ করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় চারু ও মৃৎশিল্পীরা। শহরের মোড় থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সবখানেই চলছে বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর কাগজের স্তর বসিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বিশাল বাঘ, হাতি আর নানা লোকজ মোটিফ, যেন প্রতিটি ছাঁচে, প্রতিটি রঙে ফিরে আসছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। শহরের প্রাণকেন্দ্র মিনিমার্কেটে শিল্পী রফিকুল ইসলাম তখন তুলির শেষ টান দিতে ব্যস্ত। ক্লান্তি আছে, তবু চোখে তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই ঘুমহীন সময় কাটছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাজ এগোচ্ছে দ্রুত। তাঁর কণ্ঠে একধরনের গর্ব—এই শিল্পের ভেতর দিয়েই তিনি তুলে ধরতে চান সাতক্ষীরার ঐতিহ্য। সেখানেই কথা হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জীর সঙ্গে। তাঁর কাছে পয়লা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি শিকড়ে ফেরার দিন। এদিনই মনে করিয়ে দেয়, বহু শতাব্দীর পথ পেরিয়েও বাঙালির সম্প্রীতির বন্ধন অটুট আছে। বাঙালি সংস্কৃতি এগিয়ে চলছে। মানুষ শিকড় ভুলে যায় না, ফিরে আসে মাটির টানে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আশা করছি, বৈশাখী অনুষ্ঠান সাতক্ষীরার মানুষ এবার আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করবে।’
-

খেলাধুলা মেধা ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে: জেলা প্রশাসক
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এবং প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ছে। খেলাধুলা মেধা ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো তোমরাও একদিন জাতীয় দলে খেলতে পারবে।’ তিনি উপজেলা পর্যায়েও এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড সাতক্ষীরা শাখার প্রধান জালাল আহমেদ এবং জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো পত্রিকার সম্পাদক ওয়ারেশ খান চৌধুরী পল্টু, বাংলাদেশ আম্পায়ার অ্যান্ড স্কোরার অ্যাসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সৈকতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। টুর্নামেন্টে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
দ্বিতীয় ম্যাচে অংশ নেয় কারীমা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। উদ্বোধনী দিনের খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন ওয়াহিদুজ্জামান শামীম ও ফিরোজ রহমান। স্কোরার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জিএম সাইফুল ইসলাম বাপ্পি। অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্রাইম ব্যাংকের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। -

কালিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ডিজেল জব্দ, জরিমানা
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় তাকে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইশতিয়াক আহমেদ অপু। অভিযানে প্রায় ১ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে মজুদ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত জ্বালানি তেল থানায় জমা দেওয়া হয়। অভিযানকালে সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়ল দাবি করেন, চিংড়ি ঘেরে পানি উত্তোলনের সেচ মেশিন ও ভেকু গাড়ি পরিচালনার জন্য তিনি এসব ডিজেল সংরক্ষণ করেছিলেন। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু বলেন, অনুমোদিত সীমার বাইরে জ্বালানি তেল মজুদ রাখার কারণে তাকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে।
-

দিগন্তজুড়ে দুলছে সবুজ ইরি-বোরো ধান
স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও বন্যার দুর্ভোগ কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখছে সাতক্ষীরার বেতনা নদী তীরবর্তী এলাকা। একসময় বছরের অধিকাংশ সময় পানির নিচে থাকা ফসলি জমিতে এখন দিগন্তজুড়ে দুলছে সবুজ ইরি-বোরো ধান। এতে কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি, বুকভরা আশা নিয়ে তারা অপেক্ষা করছেন ঘরে ধান তোলার। সদর উপজেলার ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর ও ফিংড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছিল। ফলে আমন চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের উদ্যোগে বদলে গেছে সেই চিত্র। এক ফসলি জমিতেই এবার বাম্পার ইরি-বোরো আবাদ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর। তবে তা ছাড়িয়ে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন চাল। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলাতেই ২৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ২৩ হাজার ৩১০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন চাল। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো চাষাবাদ এবং নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এ বছর ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-৮৮, ব্রি-৮১, ব্রি-১০১, ব্রি-১০২, ৫০ শুভলতা, এসএল-৮এইচ শক্তি-২, শক্তি-৩, ইস্পাহানী-৯ ও আলোড়ন রেড মিনিকেটসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকার ফলে জমির আগাছা পচে জৈব সারে পরিণত হয়েছে, যা মাটির উর্বরতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। এতে ধানের ফলন আরও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মাছখোলা গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গতবারের তুলনায় ফলন ভালো হবে।” দামারপোতা গ্রামের কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, “এভাবে আবহাওয়া ভালো থাকলে বাম্পার ফলন নিশ্চিত।” ধুলিহর এলাকার কৃষক ইলিয়াস হোসেন বাবু জানান, “ঘেরের জমিতে মাছ চাষের পর ধান আবাদ করে এবার দ্বিগুণ লাভের আশা করছি।” সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, “ধান ভালো হয়েছে, তবে ঘরে না তোলা পর্যন্ত শঙ্কা থেকেই যায়।” তবে আশার মাঝেও রয়েছে কিছু শঙ্কা। বিশেষ করে ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। স্থানীয় কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, “ডিজেল না পেলে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, এতে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, “পরিমিত সার প্রয়োগ, নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো পরামর্শ দেওয়ার ফলে রোগবালাই কম হয়েছে। আমরা আশা করছি, এবার বাম্পার ফলন হবে।” সবকিছু অনুকূলে থাকলে বেতনা নদী তীরবর্তী এই অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের রেকর্ড ফলন হতে পারে, যা বদলে দিতে পারে হাজারো কৃষকের জীবন-জীবিকা।
-

সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। রবিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩ টায় সাতক্ষীরা শহরের আমতলা গণমুখী মাঠে প্রথমে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত। সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জনগণের রায় মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরে হাজারো নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক- নারকেলতলা মোড়, আসিফ চত্বর, কোর্ট মোড়, নিউমার্কেট মোড় ও পাঁকাপোল অতিক্রম করে নাজমুল স্মরণী হয়ে পুনরায় আমতলা মাঠে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। এই গণরায় নিয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা আশা করেছিলাম সরকার জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেবে, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। সভাপতির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, নির্বাচনের দুই মাস পার না হতেই সরকার জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে। যে আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে তারা ক্ষমতায় এসেছে, সেই জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে তারা ভুলে যাচ্ছে। ৭১ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করা মানে জনগণের সঙ্গে বেইমানি করা। সমাবেশে বক্তারা ব্রিটিশ আমলের ‘পচা আইন’ বাতিল করে জুলাই আন্দোলনের চেতনার আলোকে নতুন আইন প্রণয়ন ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, ডা. মাহমুদুল হক, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী প্রভাষক ওমর ফারুক, অফিস সেক্রেটারী রুহুল আমিন, এনসিপি নেতা কামরুজ্জামান বুলু, এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব সালাউদ্দিন শাকিল, শহর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, জাতীয় ছাত্র শক্তি’র হাসিবুল রহমান রুম্মানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করেন, জনগণের ভোটাধিকার ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
-

জ্বালানি তেল সরবরাহে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। সভায় জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে জেলায় প্রায় দেড় গুণ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়েছে। সভায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, অবৈধ মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান বৃদ্ধি, যানজট নিরসনে বাস থামার নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিতকরণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে অভিযান বৃদ্ধি এবং সরকারি খাস জমি উদ্ধারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এম. রাজু আহমেদ, জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






