Blog

  • ফসিল ফ্রি ভবিষ্যতের দাবিতে শ্যামনগরে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক

    ফসিল ফ্রি ভবিষ্যতের দাবিতে শ্যামনগরে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক

    এবিএম কাইয়ুম রাজ : জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালক্ষী খোলপেটুয়া নদীর তীরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে উপকূলীয় যুব সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম। কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে এ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের অর্ধশতাধিক তরুণ-তরুণী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম ও এক্টিভিস্টা বাংলাদেশ। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী উপকূলীয় জনগোষ্ঠী হলেও এ সংকট তৈরিতে তাদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশ্বকে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। শরুব ইয়ুথ টিমের নির্বাহী পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম বলেন, উপকূলের মানুষ প্রতিনিয়ত লবণাক্ততা, পানির সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছে। অথচ জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে তাদের অবদান খুবই সামান্য। তাই ফসিল ফ্রি ভবিষ্যতের দাবিতে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা হচ্ছে। এস ওয়াই এস টি’র সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজ এখন আর নীরব নয়। ভবিষ্যৎ রক্ষায় কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। শরুব ইয়ুথ টিমের কমিউনিকেশন ফোকাল জেবা তাসনিয়া বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তরুণদের আরও সংগঠিত হওয়া প্রয়োজন। উপকূলের বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন শরুব ইয়ুথ টিমের ফাইন্যান্স ফোকাল এস এম রাশিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা, রবিউল ইসলাম, শামীম হোসেন, নাহিদা সুলতানা, সালাম ও রাজীবসহ অন্যান্যরা।

  • নতুন সরকারের ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে: এমপি আব্দুল খালেক

    নতুন সরকারের ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে: এমপি আব্দুল খালেক

    স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকারের দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ ক্রমশই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি জুলাই সনদ উপেক্ষা করছে এবং গণভোটের রায় নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা শুরু করছে। দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, দেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সমাজে ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে সকলকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে কাজ করতে হবে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি দায়িত্বশীলকে ধৈর্যের সাথে জনগণের পাশে থাকতে হবে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত উপজেলা মজলিসে শূরা ও ইউনিয়ন আমীর, সভাপতি-সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি। খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাউসুল আযম হাদি, কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, মুহা. আশরাফুল আলম। শিক্ষশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন মাওলানা মুহা. মনিরুজ্জামান। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আত্মসমালোচনার সুরে বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আমাদের এখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দান করেননিÑএর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো আমরা এখনো সেই বিশাল গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের যথাযথভাবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের চারিত্রিক ও আদর্শিক মানে আরো উন্নতি সাধন করতে হবে।’ তিনি ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাহাবায়ে কেরামদের (রা.) অতুলনীয় ত্যাগ ও কুরবানির উদাহরণ টেনে দয়িত্বশীলদের সেই আদর্শ ও দৃঢ়তা নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করার আহ্বান জানান।
    মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াত কর্মীদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে, রুকনদের দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে দেশের সকল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের আলেম সমাজ এই দেশের সম্মানিত অভিভাবক, তাদেরও মানুষের পরিবর্তনের কাজে উৎসাহিত করতে হবে। অনেক সাহাবীদের হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তের ব্যাপারে আপত্তি সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল সেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে হুদাইবিয়ার সন্ধিকে কার্যকর করেছিলেন এবং সমস্ত আরব বিশ্বে দাওয়াতের বাণীকে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। নতুন প্রেক্ষাপটে আমরা সকল জায়গায় দাওয়াত পৌঁছানোর যে সুযোগ পাচ্ছি এটাকে গণিমত হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভিত্তি অর্জন ও সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। গণভিত্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকতার সাথে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা ও সামাজিক কাজের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, সংগঠনকে মজবুত করতে অবশ্যই যোগ্য কর্মী প্রয়োজন, তা না হলে সংগঠনিক মজবুতি অর্জন করা সম্ভব না।

  • ঝুঁকির মুখে শ্যামনগরের উপকূল

    ঝুঁকির মুখে শ্যামনগরের উপকূল

    আবু কওছার, শ্যামনগর: শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নদীভাঙন, জোয়ার-ভাটার চাপ এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৪ কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি চুনকুড়ি নদীর তীরে সিংহড়তলী এলাকায় কয়েক দশ মিটারজুড়ে ফাটল দেখা দেয় এবং পরে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। একই সময়ে খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানেও ক্ষয় ও দুর্বলতা দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত জোয়ার-ভাটার প্রভাবে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মে মাস থেকে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হওয়ায় ঝুঁকির বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে ‘সিডর’, ‘আইলা’, ‘আম্পান’ ও ‘ইয়াস’ ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাবুরা ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল আলম জানান, ২০০৯ সালের আইলা ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয় এবং তার ওষুধের ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা সূর্য বিবি পানিতে ডুবে মারা যান। কামাল শেখ জানান, জলোচ্ছ্বাসে তার গবাদিপশু ভেসে যায়। এছাড়া সোরা এলাকায় বাঁধ ভেঙে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, আইলার সময় প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার অনেকাংশ এখনো পুরোপুরি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি ভেসে যায় এবং ওই দুর্যোগে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কিছু বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও কিছু এলাকায় তা এখনো অসম্পূর্ণ। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ৪ কিলোমিটার বাঁধ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সুমন বলেন, জরুরি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থানীয়ভাবে মজুদ রাখা হয়েছে।
    এদিকে ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার-১৫ পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় গাবুরা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রায় ১০২০ দশমিক ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৫টি রেগুলেটার প্রতিস্থাপন এবং ৯টি ইনলেট নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৪৪১ হেক্টর এলাকা সুরক্ষা পাবে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং চলমান প্রকল্প দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সুন্দরবন ঘিরে বাড়ছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

    সুন্দরবন ঘিরে বাড়ছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা প্রকৃতি, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্যের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ঘিরে গড়ে ওঠা এই জেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল এখন ধীরে ধীরে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালী ও গাবুরা এলাকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। প্রকৃতির এক অনন্য লীলাভূমি সাতক্ষীরা। একদিকে সুন্দরবনের ঘন সবুজ বন, অন্যদিকে নদীঘেরা জনপদ, জেলে ও মৌয়ালদের জীবন, কাঁকড়া ও মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ- সব মিলিয়ে এটি পর্যটনের জন্য একটি আদর্শ এলাকা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ সুন্দরবন দেখতে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় আসছেন। স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ফটোগ্রাফার, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সুন্দরবন ভ্রমণ এখন অন্যতম আকর্ষণ। মুন্সিগঞ্জ ঘাট থেকে ট্রলার ও নৌযানে করে পর্যটকরা সুন্দরবনের বিভিন্ন স্পট যেমন করমজল, কটকা, কচিখালী, হাড়বাড়িয়া ও দুবলার চর এলাকায় ভ্রমণ করেন। স্থানীয় সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ জানান, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটলে পুরো উপকূলীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। পর্যটন খাতকে ঘিরে হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্রলার সার্ভিস, ট্যুর গাইড, পরিবহন, হস্তশিল্প ও স্থানীয় খাদ্যপণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠতে পারে। এতে বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ এলাকার ট্রলার মালিক রেজাউন জানান, আগে মৌসুমভিত্তিক আয় হতো মাছ ধরা বা নদীকেন্দ্রিক কাজের মাধ্যমে। কিন্তু এখন পর্যটক বাড়ায় অনেকেই ট্রলার ভাড়া দিয়ে আয় করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। এছাড়া নদীর মাঝখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য, বনভূমির নীরবতা এবং প্রকৃতির বিশালতা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে সাতক্ষীরা আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। কারণ সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা চালু করা গেলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এত সম্ভাবনার মাঝেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। উপকূলীয় অনেক এলাকায় এখনো উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পর্যাপ্ত আবাসিক হোটেল, নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার অভাব রয়েছে। অনেক পর্যটক অভিযোগ করেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এই অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইলা, আম্পান ও রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ ভ্রমণ সুবিধা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানো হলে সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলায় পরিণত হতে পারে। তাদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাতক্ষীরা শুধু একটি উপকূলীয় জেলা নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত।

  • স্বাদে-গন্ধে অনন্য সাতক্ষীরার আম, দেশজুড়ে বাড়ছে চাহিদা

    স্বাদে-গন্ধে অনন্য সাতক্ষীরার আম, দেশজুড়ে বাড়ছে চাহিদা

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা একসময় সুন্দরবন, নদী ও চিংড়ি শিল্পের জন্য বেশি পরিচিত থাকলেও বর্তমানে গাছপাকা সুস্বাদু আমের জন্যও দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে। গ্রীষ্ম মৌসুম এলেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা বিশেষ করে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, তালা, আশাশুনি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা যায় আমের সমারোহ। ছোট-বড় অসংখ্য বাগানে ঝুলতে থাকে নানা জাতের আম, আর সেই আমকে ঘিরেই শুরু হয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা। সাতক্ষীরার আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আমে পাওয়া যায় আলাদা স্বাদ ও ঘ্রাণ। বিশেষ করে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি জাতের আম স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেক চাষি এখন রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে আম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে নিরাপদ ও গাছপাকা আমের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাগানে চলছে আম সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকেটজাত করার কাজ। মৌসুমি এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে অস্থায়ী কর্মসংস্থানও। অনেক শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ মৌসুমজুড়ে আম বাগানে কাজ করে অতিরিক্ত আয় করছেন। এছাড়া পরিবহন, প্যাকেজিং ও অনলাইন ডেলিভারি খাতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া এলাকার আম বাগান মালিক হাবিবুর মোড়ল বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সম্পূর্ণ গাছপাকা ও নিরাপদ আম ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিতে। সাতক্ষীরার আমের স্বাদ একবার যারা খায়, তারা প্রতিবছর আবারও অর্ডার করে।” কালিগঞ্জ উপজেলার আমচাষি হাফিজুর রহমান জানান, “এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় আমের ফলনও ভালো হয়েছে। তবে ঝড়-বৃষ্টি না হলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর আগেও সাতক্ষীরার আম দেশের বড় বাজারে তেমন পরিচিত ছিল না। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা, অনলাইন অর্ডার ও কুরিয়ার সার্ভিস সহজ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি সাতক্ষীরার আমের চাহিদা বাড়ছে। প্রতিদিন ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনায় যাচ্ছে শত শত কেজি গাছপাকা আম। তবে আমচাষিদের দুশ্চিন্তাও কম নয়। বৈরী আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহের কারণে অনেক সময় বাগানে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথাও জানিয়েছেন তারা। কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা ও সহজ ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে আমচাষ আরও সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাতক্ষীরায় প্রতিবছর আম চাষের পরিধি বাড়ছে। কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ ফল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার আমকে একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে  সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের বিপণন নিশ্চিত করা গেলে খুব শিগগিরই সাতক্ষীরার গাছপাকা আম দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশের বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।