Blog

  • দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘ভূমিসেবা কেন্দ্রসমৃদ্ধ’ জেলা সাতক্ষীরা: জেলা প্রশাসক

    দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘ভূমিসেবা কেন্দ্রসমৃদ্ধ’ জেলা সাতক্ষীরা: জেলা প্রশাসক

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা জেলা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভূমিসেবা কেন্দ্রসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। তিনি বলেন, এ জেলায় বর্তমানে মোট ৪৩টি ভূমিসেবা কেন্দ্র রয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রেসব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, ভূমিসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলায় ৭টি উপজেলা ভূমি অফিস, ২টি পৌর ভূমি অফিস এবং ৫৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মোট ১৬টি স্টল থাকবে, যেখানে নাগরিকদের সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, মেলার দ্বিতীয় দিনে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এদিন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তৃতীয় দিন বিকেলে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ আসিফ রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের নির্দেশ

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের নির্দেশ

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকস্বল্পতা মোকাবিলা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের মিরপুর কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়, বিভিন্ন কারণে—যেমন শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, বিনা বেতনে ছুটি ও প্রশিক্ষণজনিত অনুপস্থিতি—অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট দেখা দেয়। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক একটি ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে এই পুল থেকে রিসোর্স পার্সন নিয়োগ করে পাঠদান চালু রাখা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে।

    ডিপিই জানায়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে রিসোর্স পার্সন নির্বাচন করতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হওয়া, স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, রিসোর্স পার্সন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ থাকা এবং সিইনএড, বিএড বা এমএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া।

    বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাবে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা ও জেলা পর্যায় হয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। নির্ধারিত ছকে বিদ্যালয়ভিত্তিক রিসোর্স পুলের তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকস্বল্পতা সাময়িকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি অনেকাংশে কমবে।

  • লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    আবু সুফিয়ান :

    সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লবণাক্ততা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল, স্মার্ট ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। লিডার্স এর “ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) ” প্রকল্পের উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলার ১ নং ভুরুলিয়া ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন উপলক্ষে এক প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জলবায়ু সহনশীল কৃষি, জৈব কৃষি প্রযুক্তি ও সাসটেইনেবল খাদ্য উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃগাজীয়ার রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মহিউদ্দিন । বিশেষ অতিথি জনাবা, আইরুননেছাদ, নারী উদ্যোক্তা এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ক্লাইমেট জাস্টিস গ্রুপের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন

    মাঠ দিবসে জলবায়ু সহনশীল, লবণাক্ততা ও খরা সহিঞ্চু কৃষি প্রযুক্তি, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী চাষাবাদ এবং সাসটেইনেবল কৃষি উন্নয়ন নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলুর সম্ভাবনা ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান চাষে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কৃষাক মোঃ মশিউর রহমান । তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেলেও ব্রি-৯৯ জাতের ধান কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে।

    এসময় বায়োফর্টিফাইড জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ ধান নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন রেক্সোনা পারভীন । অন্যদিকে সবজি চাষ, জৈব সার ব্যবহার, পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন মাসুদ রানা । বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জৈব কৃষি প্রযুক্তি, পানি সংরক্ষণ, বহুমুখী ফসল চাষ এবং আধুনিক স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের লবণসহনশীল ধান, ভুট্টা, সূর্যমুখীসহ বিকল্প ফসল চাষে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ী এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতি, খাল ও পুকুর খনন এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।” তিনি কৃষিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব, মোঃ মহিউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তনের উদ্বোধন করেন এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অনুপ কুমার মন্ডল এবং সার্বিক সহোযোগিতা করেন মোঃ,কানিজুর রহমান, সালমা খাতুন কল প্রকল্প, লিডার্স।

    মাঠ দিবসে বিপুল সংখ্যক কৃষক কৃষানীর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে স্মার্ট, জৈব ও সাসটেইনেবল কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে আয়োজকরা জানান। কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল GAIN⁠ এবং বাস্তবায়নে ছিল LEDARS⁠।