Blog

  • শ্যামনগরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হ্যাচারীর জমি দখলের অভিযোগ

    শ্যামনগরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হ্যাচারীর জমি দখলের অভিযোগ

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বিড়ালাক্ষ্মী গ্রামে রেডিয়েন্ট হ্যাচারীর প্রায় দুই বিঘা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা জি. এমন হাবিবুল্লাহ এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার বিকালে হাবিবুল্লাহ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে হ্যাচারীর সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমি দখল করে এবং বাঁশ ও নাইলন দিয়ে ঘেরা বানিয়ে নেয়। হ্যাচারীর মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। হ্যাচারীর ম্যানেজার জামাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত উক্ত জমি রঞ্জিলা খাতুন নামের এক নারীর জন্য বরাদ্দ ছিল। হাবিবুল্লাহর ১২-১৪ জন সহযোগী ওই জমি দখল করার সময় প্রাচীর ভেঙে নারীর যাতায়াতের সুবিধা রেখেছেন। হাবিবুল্লাহ দাবি করেন, হ্যাচারীর মালিক সফিকুর রহমান তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা দেনা রাখায় ওই জমি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “টাকা পরিশোধ করলে জমি ফিরিয়ে দেয়া হবে।” উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলায়মান কবির বলেন, “কেউ টাকা পেলে তার জন্য আইন আছে, কিন্তু এভাবে কারও জায়গা-জমি দখল করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।” স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উত্তেজনা রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

     

  • প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন

    প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো শ্যামনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের দূরমুজখালি এলাকায় সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে নূরনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) রনজিৎ মন্ডল। স্থানীয়রা জানান, দূরমুজখালি ও পার্শ্ববর্তী কৈখালী ইউনিয়নের সীমানাবর্তী সরকারি খালের অংশে গভীর নলকূপ ও খননযন্ত্র (ড্রেজার) বসিয়ে বালি উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, মোমরেজ গাজীর ছেলে ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান ও ড্রেজার মালিক আব্দুস সালাম এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রনজিৎ মন্ডল জানান, “অবৈধ বালি উত্তোলন পরিবেশ ও কৃষিজমির জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এতে ভূমিধস, ফসলি জমির ক্ষতি ও আশপাশের বসতবাড়ির ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত নজরদারি চলবে। এলাকাবাসী প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

     

  • নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন

    নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন দশম শ্রেণীর ছাত্রী এবং খুদে সাংবাদিক নওরিন উলফাত অনন্যা। অন্য অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ছিলেন অরনা জামান, ওয়াফা ও অনিন্দিতা রায়। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি তত্ত্বাবধান করেছিলেন সিনিয়র শিক্ষক নাজমুল লায়লা বিথী। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সমর্থনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা আরও উন্নত হবে।

  • কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে স্মার্ট টিসিবি পণ্য বিতরণ

    কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে স্মার্ট টিসিবি পণ্য বিতরণ

    কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ৪নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৬৩০ জন উপকারভোগীর মাঝে স্মার্ট টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় দক্ষিণ শ্রীপুর বাজারে মেসার্স আলহাজ্ব ট্রেডার্স মার্কেট সংলগ্ন স্থানে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। স্মার্ট টিসিবির অনুমোদিত ডিলার মোঃ আবুবকর সিদ্দীকের সহযোগিতায় বিতরণকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল চিনি, ছোলা, ডাল, চাল ও সয়াবিন তেল। প্রতিটি প্যাকেজের মোট মূল্য ৬০০ টাকা, যেখানে চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, ডাল ৬০ টাকা, চাল ৩০ টাকা ও সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা দরে সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শ্মশান কুমার মন্ডল কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা নির্ধারিত মূল্যে পণ্য পেতে পারেন।” স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে রমজান মাসে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রাপ্তি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ভার কিছুটা হ্রাস করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজান মাসজুড়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডেও স্মার্ট টিসিবি পণ্য বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

     

  • নলতা শরীফ ক্রিকেট একাডেমির নতুন কমিটি গঠন

    নলতা শরীফ ক্রিকেট একাডেমির নতুন কমিটি গঠন

    হারুন উর রশীদ,কালিগঞ্জ: ঐতিহ্যবাহী নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্রিকেট মাঠে দুই বছর মেয়াদে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে নলতা শরীফ ক্রিকেট একাডেমিতে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪ টায় বিদ্যালয়ের এডিশনাল বিল্ডিংয়ের হল রুমে অনুষ্ঠিত কমিটি গঠন ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ রমজান হোসেন। ক্রীড়া সংগঠক শেখ অজিবর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক দোলন, নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম, শেরে বাংলা ক্লিনিকের সহ-পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা, কালিগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম, প্রধান কোচ মোঃ রবিউল ইসলাম এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা। নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য ডাঃ মোঃ আকছেদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শেখ অজিবর রহমান, কোষাধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম (তপু)। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ রমজান হোসেন, সহ-সভাপতি মোঃ মাসুম ইবনে মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বিন আকবার, প্রধান কোচ মোঃ রবিউল ইসলাম। কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ গোলাম মোস্তফা, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ ইকবাল হোসেন, মোঃ আকরাম হোসেন, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ মনিরুল ইসলাম, মোঃ সাইফুল হোসেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক দোলন।

     

  • ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম

    ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগপ্রাপ্ত হলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। আইন পেশায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০০ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতি-এর সদস্য হিসেবে তার আইনজীবী জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি-এর সদস্যপদ লাভ করেন। শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও প্রথম সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ আইন সমিতির দপ্তর সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার ইউনিটের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণ কাটিয়া (মাস্টারপাড়া) গ্রামে জন্মগ্রহণকারী শফিকুল ইসলাম নুরুল ইসলাম ও মরহুমা জাহানারা ইসলামের সন্তান। তার এ নিয়োগে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে আনন্দের সাড়া পড়েছে। স্থানীয় আইনজীবী ও সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন দায়িত্বে তিনি দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিষয়সমূহ সফলভাবে পরিচালনা করবেন।

  • সাতক্ষীরায় বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা

    সাতক্ষীরায় বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা

    আবু সাইদ বিশ্বাসঃ লবণক্ষতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, নদী ও জলাধারে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, গ্রীষ্মকাল না আসার আগেই লোডশেডিং থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে সাতক্ষীরার বোরো চাষ লক্ষ্যমাত্রা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা চাষিদের। বর্তমানে বোরো আবাদের ধুম পড়েছে। প্রচণ্ড শীত, কুয়াশা, বীজতলা নষ্ট হওয়াসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সকাল থেকে দুপুর অবধি ধান লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। প্রায় ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৯২৩ কৃষক পরিবারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগীতায় চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে চাষিরা।

    সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর সাতক্ষীরা জেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৮০ হাজার ৫৬৮হেক্টর জমিতে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সদর উপজেলার ২৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর, কলারোয়ার ১২ হাজার ৭৮০ হেক্টর, তালার ১৯ হাজার ১৫৫ হেক্টর, দেবহাটার ৬ হাজার ১২৫ হেক্টর, কালিগঞ্জের ৬ হাজার ৯৫৫ হেক্টর, আশাশুনির ৯হাজার ৬৯০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলার ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে চলতি বোরো মৌসুমে ৩ লাখ ৪১ হাজার৪৪২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯৭ হাজার ১১৮ মেট্রিক টন, কলারোয়ায় ৫৩ হাজার ৩৭৮মেট্রিক টন, তালায় ৮১ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন, দেবহাটায় ২৬ হাজার ৭৪১মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ২৮ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন, আশাশুনিতে ৪২ হাজার ৪০১ মেট্রিক টন ও শ্যামনগরে ১১হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
    সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার ঘের থেকে মাছ ধরার পর পানি শুকিয়ে বোরা ধানের আবাদ করছেন কৃষকরা। গেল প্রায় দেড় দশক মিঠাপানি ও সল্প লবণাক্ত পানির মাছের ঘেরে ধানের আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন তারা। একই সাথে উৎপাদন হচ্ছে বাড়তি ধান। বিশেষ করে জলাবদ্ধ এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই চাষ পদ্ধতি। মাছের ঘেরে ধানের ফলন হয় প্রায় দ্বিগুণ। বাড়তি কোন চাষের প্রয়োজন হয় না। সার ও সেচ খরচও অনেক কম। বর্তমানে মাছের চেয়ে ধানের দাম বেশি হওয়ায় ধান আবাদে ভালো লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। এছাড়া মাছের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ঘেরের পাড়ে সবজির আবাদ করছেন তারা।
    পানি সেচের সংকট না হলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাবে উল্লেখ করে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং না দেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কয়েকজন চাষী। শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক দিলীপ তরফদার জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে ২৮ ধান লাগিয়েছেন। প্রয়োজনের সময় অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট না হলে ভাল ফলন পাওয়া যাবে।
    জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলীয় মিঠা পানির ঘেরের উপর বোরো ধান চাষ করা হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘেরের মাছ উঠিয়ে সেখানে চলে বোরো ধানের চাষ। জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কুয়াশায় বোরো ধানের পাতার কোনো ক্ষতি হবে না। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবারও ছাড়িয়ে যাবে।
    আবু সাইদ বিশ্বাস
    সাতক্ষীরা
    ১৭/২/২৬

     

  • ইতিহাসের কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে কালিগঞ্জের ‘নবরত্ন’ মন্দির

    ইতিহাসের কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে কালিগঞ্জের ‘নবরত্ন’ মন্দির

    স্টাফ রিপোর্টার: জলাধারের স্থির জলে প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে এক খণ্ড ভাঙাচোরা ইতিহাস। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নে একসময়ের জৌলুসপূর্ণ ৫০০ বছরের পুরনো ড্যামরাইল নবরত্ন মন্দিরটি এখন কেবল ইটের এক কঙ্কালসার স্তূপ। আগাছা আর পরগাছার শেকড়ে বন্দী এই স্থাপত্যটি যেন নি:শব্দে ধসে পড়ার প্রহর গুনছে। জলাধারের পাড়ে বিষণ্ণ দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এই জীবন্ত সাক্ষী। সম্প্রতি মন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। একসময় যেখানে চূড়াগুলো আকাশ ছুঁতে চাইত, সেখানের বট-পাকুড়ের ডালপালা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে মন্দিরটিকে। পাতলা ইটের গাঁথুনি খসে পড়ছে। মন্দিরের চারপাশের জলাধারটি ইতিহাসের সাক্ষ্য দিলেও এর অবকাঠামো এখন জরাজীর্ণ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কোনো এক পরিত্যক্ত টিলা সিক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫৮০-এর দশকে রাজা প্রতাপাদিত্যের পিতা রাজা বিক্রমাদিত্য এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। বাংলার নিজস্ব নবরত্ন শৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরের ছাদে ছিল ৯টি সুদৃশ্য চূড়া। তৎকালীন দক্ষিণবঙ্গের ধর্মীয় স্থাপত্যের এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ ছিল এটি। কিন্তু আজ চূড়া নেই, নেই সেই কারুকাজ করা দেয়াল; আছে শুধু ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমীরা যখন এই দুর্লভ স্থাপত্য দেখতে আসেন, তাদের চোখেমুখে ধরা পড়ে বিষাদ। পর্যটকদের জন্য কোনো পথ নেই, নেই সামান্য বিশ্রামের জায়গা। স্থানীয়রা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ‘‘প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। বছরের পর বছর যায়, সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগে না। জরুরি ভিত্তিতে এই মন্দিরের সংস্কার করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। এটি কেবল একটি মন্দির নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ।’’ স্থানীয় কালিগঞ্জ রোকেয়া-মনসুর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন বলেন, দেয়ালের ফাঁক দিয়ে গজিয়ে ওঠা গাছগুলো মন্দিরের ভিত্তি আলগা করে দিচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে শেষ স্মৃতিটুকুও। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই দখলদার পরগাছা পরিষ্কার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মন্দিরটি সংস্কার করা হোক। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বাংলার এই অমূল্য রত্নটি কি শেষ পর্যন্ত ধুলোয় মিশে যাবে? নাকি নতুন করে প্রাণ পাবে ড্যামরাইলের এই নবরত্ন? উত্তর এখন সময়ের হাতে।

  • স্মরণকালের সেরা মিছিল —- পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব

    স্মরণকালের সেরা মিছিল —- পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব

    মো: সাদ্দাম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:- সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় স্মরণকালের সেরা নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের জামায়াত ইসলামীর ৭ নং ওয়ার্ড বাসীর আয়োজনে এ মিছিল বের হয়। এর আগে মিছিল হলোও এমন বৃহৎ মিছিল দেখা যায় নি। মিছিল দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে তাঁরা বলেন, এবার দাঁড়িপাল্লার কোন বিকল্প নেই। মিছিল টি শুরু হয়েছে শ্রীরামপুর ফুটবল মাঠ থেকে। মিছিল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। তিনি  বলেন, আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা -২ আসনের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক কে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে সাতক্ষীরার স্মরণকালের ইতিহাস তৈরি করবো ইনশাল্লাহ। ভোটের মাঠে আমাদের নেতা – কর্মীদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে এবং ব্যালটে মাধ্যমে আমরা যোগ্য জবাব দেব। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি নাঈমুর রহমান, ইউনিয়ন আমীর আনোয়ার কবির, জামায়াতের ০৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি জুম্মন আলী, ইউনিয়ন বাইতুলমাল সাইফুল ইসলাম, কুলিয়ার ইউনিয়ন সাবেক আমির আনোয়ার হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাসুম চৌধুরী, মিডিয়া বিভাগের সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ। মিছিলে ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কার্পযক্রম শেষ হয়।