Blog

  • সরকারি নির্দেশনায় শৃঙ্খলিত তেল সরবরাহে জনমনে স্বস্তি

    সরকারি নির্দেশনায় শৃঙ্খলিত তেল সরবরাহে জনমনে স্বস্তি

    হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর: শ্যামনগরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলা সদরের শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন যানবাহনে তেল বিক্রয় করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ট্যাগ অফিসার, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে এবং ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকিতে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি নিয়মিত মনিটরিং করছেন। তেল বিক্রয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা প্রবেশপথে বাঁশের ফেন্সিং করা হয়েছে, যাতে একসঙ্গে একটি মোটরসাইকেলই প্রবেশ করতে পারে। ফুয়েল পাম্প এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। “নো পেপারস, নো ফুয়েল; নো ডিএল, নো ফুয়েল; নো হেলমেট, নো ফুয়েল” নীতি। তবে অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের যেকোনো একটি প্রদর্শন করলেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট ব্যবহারে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ধরনের সুশৃঙ্খল উদ্যোগে তেল ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নিয়মতান্ত্রিকভাবে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং জনভোগান্তি কমে আসবে।

  • ডিপোতে সরবরাহ সংকট, পাম্পে রেশনিং

    ডিপোতে সরবরাহ সংকট, পাম্পে রেশনিং

    খুলনা ব্যুরো: খুলনাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়া, ট্যাংকলরিতে অর্ধেক তেল দেওয়া, ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হওয়া এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনের কারণে নগরজুড়ে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর দৌলতপুর এলাকায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি প্রধান তেল ডিপোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কম। ডিপোর সামনে শতাধিক ট্যাংকলরি ও ট্রাক দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। অনেক গাড়ি তেল নিয়ে বের হলেও অধিকাংশ চালকের অভিযোগ তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না। চালকরা জানান, ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংকলরিতে তারা মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার তেল পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকেরও কম দেওয়া হচ্ছে, আবার কেউ কেউ কোনো তেল না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। এতে করে পরিবহন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ট্যাংকলরি চালক আমজাদ বলেন, আমরা দূর-দূরান্ত থেকে তেল নিতে আসি। কিন্তু যদি অর্ধেক তেল নিয়ে ফিরে যেতে হয়, তাহলে খরচই উঠে না। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। ডিপো সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে প্রায় ৩০টি এবং পদ্মা ডিপো থেকে প্রায় ৪২টি ট্যাংকলরি তেল নিয়ে বিভিন্ন জেলায় গেছে। তবে খুলনা বিভাগসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মোট ১৫টি জেলার চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অত্যন্ত অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে ডিপো এলাকায় একটি জাহাজ থেকে ডিজেল খালাস করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও দুটি জাহাজে করে ডিজেল ও অকটেন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চালান পৌঁছালে বর্তমান সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে। অনেক পাম্পে সকাল থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। কিছু পাম্প অল্প সময়ের জন্য খুললেও দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যেসব পাম্প খোলা রয়েছে, সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অনেক জায়গায় রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে কোথাও ২০০ টাকা, কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেল চালক আসাদুল্লাহ বলেন, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। এতে করে দৈনন্দিন কাজ চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক যানবাহন নগরীতে এসে তেল নেওয়ার চেষ্টা করায় শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। কোথাও বাকবিতণ্ডা, কোথাও ধাক্কাধাক্কি এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটছে। একাধিক স্থানে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি নড়াইলে একটি ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেলের পরিমাপে কারচুপি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযান জোরদার করেছে। খুলনা বাইপাস সড়কের খানজাহান আলী এলাকায় আকন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত, র‌্যাব-৬ ও বিএসটিআই এর যৌথ অভিযানে তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে প্রতি ১০ লিটার তেলে প্রায় ৮০০ থেকে ৮২০ গ্রাম পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট পাম্পকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
    অভিযানে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হোসেন জানান, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নিয়মিত তদারকি চালানো হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে খুলনার তিনটি ডিপো থেকেই খুলনা বিভাগ ও আশপাশের জেলাগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় পুরো ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ডিলাররা বলছেন, তারা পর্যাপ্ত তেল না পেলে পাম্পে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।
    এদিকে কালোবাজারি ঠেকাতে ডিপো থেকে সীমিত তেল দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এতে করে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ডিপো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন জাহাজে তেল আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট এখন বহুমাত্রিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। ডিপো থেকে শুরু করে পাম্প পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’

    আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’

    খুলনা ব্যুরো: খুলনা বিভাগে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব। গত কয়েকদিনে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। ইতোমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভাগের ১০ জেলায় ৭৮ শিশু চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনজন শিশু গুরুতর অবস্থায় আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এদের ৮ মাস, ৭ মাস এবং ৫ মাস বয়সি এই তিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফেইল করায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সৈয়দা রুখসানা পারভীন। এছাড়া খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১৩ এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে আরও ৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া যশোরে ৬, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নবজাতক থেকে ৬ মাসের মধ্যে। ৬ মাসের কম বয়সি ৪ জন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি ৭ জন, ৯ থেকে ১১ মাস ৪ জন, ১ বছর থেকে ৪ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫ বছর থেকে ৯ বছর এর মধ্যে ২ জন, এছাড়া ২০ বছরের নীচে ৩ জনের শরীরে এই হাম আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, যার কারণে কিছু শিশুকে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সৈয়েদা রুখসানা পারভীন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যে-সব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। তিনি আরও বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে হামসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের ভর্তি করা হয় না। কিন্তু এই রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ও খুলনায় যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি রয়েছে, তার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখানে (খুমেক হাসপাতলে) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে সেখানে তিনটি শিশুকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনটি শিশুর অবস্থাই খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের ব্যাপকভাবে একটি ভ্যাকসিনেশন ব্যবস্থা চালু করা দরকার।
    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের পাশে পৃথক ‘হাম কর্ণার’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চারজন শিশুকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স এক বছরের কম এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন রোগী এলে প্রয়োজন অনুযায়ী মীরের ডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে হাম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • আশাশুনিতে অবৈধ পেট্রোল জব্দ, জরিমানা

    আশাশুনিতে অবৈধ পেট্রোল জব্দ, জরিমানা

    আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কালিবাড়ি বাজারে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৮১০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ তাওহিদুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দোকানের পেছনে লুকানো ৪টি ড্রামে থাকা পেট্রোল উদ্ধার করে পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। জব্দকৃত তেল তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। প্রতি ৫ লিটার ৬০০ টাকায় বিক্রির মাধ্যমে ৯৭,২৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বসন্তপুর মাদ্রাসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    বসন্তপুর মাদ্রাসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    জয়নগর প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার বসন্তপুর আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনার আয়োজন করেন মাদ্রাসার সাবেক সফল সভাপতি ও তরুণ সমাজসেবক মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসার দাবিদার হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মো. কামারুজ্জামান, সুপারেনটেনডেন্ট নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ। মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ অনুষ্ঠানে বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উদ্বুদ্ধ হবে। শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।” অতিথিরা তার এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে আসা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা হলেন— জি.এম. নাবিল, শাহারা তাসনিম, ঋতু এবং মো. ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে তাদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

  • শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী আয়োজনে পানি দিবস পালন

    শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী আয়োজনে পানি দিবস পালন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানব প্রদর্শনী, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও ব্যতিক্রমী নৌকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পানি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠে পানি দিবসের মানব ও কলস প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে কলস দিয়ে ‘পানির ফোটা’ ফুটিয়ে তোলা হয় এবং দেড় শাতধিক নারীদের অংশগ্রহণে ‘পানি দিবস’ লেখাটি ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রদর্শনী শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় মুন্সিগঞ্জের শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠ থেকে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যানার সহকারে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এরপর দুপুর ২টায় বুড়িগোয়ালীনির চুনা নদীতে ব্যাতিক্রমী এক নৌকা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসব প্রদর্শনী ও র‌্যালিতে শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের ১৫০ জন সদস্যসহ জিহা সদস্যবৃন্দ অংশ নেয়। এমবাসি অব সুইডেন ঢাকা ও ইউএন উইমেন এর সহযোগিতায় এবং এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ ও বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে নারী দিবসের এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়ার নেতৃত্বে অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, জিহা সদস্য শেফালি বিবি, শাহানারা খাতুন সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

  • শহরের মধুবাগে ডাস্টবিন বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    শহরের মধুবাগে ডাস্টবিন বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    শাহ জাহান আলী মিটন: সাতক্ষীরার মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে ডাস্টবিন বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০টি ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দ্দৌলা সাগর। এ সময় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সেলিম, অলোক কুমার তরফদার, মোঃ আনিছুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ (অবঃ) আবু সাঈদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তালেব, সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল জলিল, অর্থ সম্পাদক ব্যাংকার আব্দুস সাত্তার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লায়লা আফরোজ, দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান, সদস্য মনজুরুল ইসলাম ও সাকিব হাসানসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অতিথিবৃন্দ মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির এমন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

  • শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা

    শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ভূরুলিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে এই মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। এতে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি হলুদ ফুলের সমারোহে এলাকা হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৪৯৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। ধান কাটার পর পতিত জমি কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম সময়ে উৎপাদনযোগ্য ও লাভজনক এ ফসল চাষ করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বারি হাইব্রিড-৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষে ভালো ফলন ও বাজার মূল্য পাওয়ার আশায় তারা উৎসাহিত। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত মাটিতে প্রচলিত অনেক ফসলের চাষ কঠিন হলেও সূর্যমুখী লবণ সহনশীল হওয়ায় এটি কার্যকর বিকল্প ফসল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় উপসহকারী কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সহায়তা দিচ্ছেন। কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “আগে এই জমি ধান কাটার পর ফেলে রাখা হতো। এখন সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছি। খরচ কম, লাভ বেশি- আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা করছি।” দেশে ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী তেলবীজ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদন ও সংরক্ষণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা বাড়ালে সূর্যমুখী চাষ দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে সূর্যমুখীর মনোরম ক্ষেত দর্শকদেরও আকৃষ্ট করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত শ্যামনগরে উন্মোচিত হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাজারজাতকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বৃদ্ধি পেলে শ্যামনগরের সূর্যমুখী চাষ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • কালিগঞ্জে দীর্ঘ অনুপস্থিতির জেরে শিক্ষক বরখাস্ত

    কালিগঞ্জে দীর্ঘ অনুপস্থিতির জেরে শিক্ষক বরখাস্ত

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২১ নং ড্যামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জি.এম. ইয়াছির আরাফাত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও তিনি তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এ অবস্থায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।