Blog

  • সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

    সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত

    আবু সাইদ বিশ্বাস: দেশের দক্ষিণ উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিক ঢাল হয়ে থাকা ‘সুন্দরবন’ উপকূলীয় সাড়ে ৪ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা। সুন্দরবনকে আশ্রয় করে মধূ সংগ্রহে যাদের সংসার চলে মৌয়াল তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৮৬০ সাল থেকে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। প্রতিবছর বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। দেশে বিদেশে এসব মধুর সূনাম সূখ্যাতি অনেক বেশি। ভিন্ন স্বাদ ও একক ফুলের মধু হিসেবে সকলের নিকট এ মধু অধিক প্রিয়, চাহিদা বেশি কিন্তু উৎপাদন কম। চিকিৎসকদের মতে সুন্দরবনের মধু শক্তি প্রদায়ী, হজমে সহায়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময় করে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে এই মধু পাওয়া যায়। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুম চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। চলতি বছর সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু ও ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই মৌয়ালদের অনাগ্রহ সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। যে কারনে মৌয়ালরা দলবদ্ধ হয়ে ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য বনে ঢোকে। খুব ভোরে ধারালো দা, লাঠি, ধোঁয়া তৈরি করার মশালসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে বনের গভীরে যায়। গামছা বা অন্যান্য কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা থাকে মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে তারা বাঘসহ অন্যান্য হিংস্র প্রাণীদের ভয় দেখানোর জন্য। এ সময় হরগোজা, কেয়া কাঁটা, হেতালসহ নানা কাঁটা জাতীয় গাছ ও বড় বড় গাছের মাটি থেকে ওঠা শ্বাসমূল থেকে শরীর বাঁচিয়ে তারা এগিয়ে চলে। তাদের দলনেতা ঠিক করে দেয় কোন এলাকায় তারা মধু খুঁজবে। এরপর চলে মৌচাক খোঁজার কাজ। হঠাৎ চাক চোখে পড়লে তারা সাংকেতিক শব্দ করে, তখন অন্যরা বুঝে যায় চাক পাওয়া গেছে। চাকের আকার, গঠন ও রঙ দেখে তারা বুঝতে পারে চাকটির বয়স কত এবং কতটুকু মধু ওই চাকে থাকতে পারে। এরপর চাক কাটার জন্য দলের ভিতরে নির্দিষ্ট মৌয়াল গাছে ওঠে। ধোয়ার মশাল নিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে চাক কাটে। তবে চাক কাটা খুব একটা সহজ কাজ নয়। এর জন্য আলাদা দক্ষতার দরকার হয়। প্রথমে ধোঁয়া তৈরির জন্য শুকনো পাতা ও গাছের ডাল যোগাড় করতে হয়। মূলত গোলগাছের শুকনো পাতাই বেশি ব্যবহার করা হয়। বেশিরভাগ সময় চাকের আশপাশে এগুলো পাওয়া যায় না। তখন এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি করে শুকনো পাতার ব্যবস্থা করে মশাল বানাতে হয়। শুকনো পাতা ও ডালপালা বাঁধার জন্য আবার লতা জাতীয় গাছ খুঁজতে হয়। লতা জাতীয় গাছ থেকে লতা কেটে তারপর শুকনো পাতা ও ডালপালা একসঙ্গে বাঁধা হয়। কখনো কখনো গোলগাছেরই কচি মাথার অংশ ব্যবহার করা হয়। যেটা অনেক টেকসই। মৌচাকের তিনটি অংশ থাকে। এক পাশে মৌমাছির বাসা আরেক পাশে ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু। আর মধুর নিচে থাকে আরেকটা অংশ, যাকে গুটলি (ফুলের পরাগরেণু) বলে। সেই অংশটাই প্রথমে কেটে ফেলে দিতে হয়। এরপর যেই পাতিলে মধু রাখা হয়, সেটা মৌচাকের নিচে ধরে দা দিয়ে মধুর অংশটা কাটা হয়। সংগ্রহ করা হয় চাকসহ মধু। তবে মৌমাছির বাসার অংশটা কাটা হয় না। যদি বাসাটা রেখে দেয়া হয় তাহলে সেই চাকে আবারো মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে জমা করে। ১০/১২ দিনের মধ্যেই সেই চাক আবার কাটার উপযোগী হয়ে যায়। এরপর কাটা মৌচাক থেকে চেপে মধু ও মোম বের করা হয়। মধু আর মোম আলাদা হয়ে গেলে মোমটা একটা ব্যাগে আর মধু একটি পাত্রে রাখা হয়। এরপর আবার শুরু হয় নতুন চাক খোঁজা। এভাবে বনের ভিতর ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে চাক খুঁজে মধু সংগ্রহ করা হয়। এভাবে দিনের পর দিন চলে মধু সংগ্রহের কাজ। সুন্দরবনের মধুর নানা প্রকারভেদ রয়েছে। খলিষামধু, গরানের মধু, গেওয়া মধু, কালিজিরা মধু প্রভৃতি। এগুলোর রঙ, গন্ধ ও স্বাদ ভিন্ন। খলিষামধু সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু। সুন্দরবন থেকে যখন মধু সংগ্রহের সময় হয় বছরের শুরুতে সংগ্রহ করা হয় খলিষামধু। খলিষা নামক এক প্রকার গাছের সাদা ফুল থেকে মৌমাছিরা এই মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে। যখন সুন্দরবনে খলিষা গাছে ফুল ফোটে তখন অন্য সব গাছে মুকুল থাকলেও ফোটে না। গরানের মধু সবচেয়ে বেশি সময় ও বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করা হয়। গেওয়ামধু গেওয়া গাছের ফুল থেকে মৌমাছিরা সংগ্রহ করে। মধু সংগ্রহের মৌসুমের শেষসময়ে সংগ্রহ করা হয় এই মধু। গেওয়া ফুলের মধুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও তেমন চাহিদা নেই। কালিজিরা মধু কালিজিরা ফুল থেকে পাওয়া মধু। দেখতে কালচে রঙের হয়। খেতে একেবারে খেজুরের গুড়ের মতো স্বাদ। ঘ্রাণটাও খেজুরের গুড়ের সাথে মিলে যায়। মধুর ঘনত্ব কম বা বেশি হতে পারে। মধু পাতলা হলে ফেনা হতে দেখা যায়। আর ঘনত্ব বেশি হলে ফেনা হয় না। সাধারণত কালোজিরা ফুলের খাঁটি মধু জমে যেতে দেখা যায় না। বনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরে দু’ বার তারা মধু সংগ্রহ করতে বনে যায়। একবার এপ্রিল মাসে, আরেকবার সেপ্টেম্বরে। দু’ তিন মাস করে সে সময় তারা বনে থাকে। মৌচাক বিষয়ে তারা বলে, একটি চাকে মৌমাছিরা তিন ধরনের বিশেষ কক্ষ তৈরি করে। কর্মী মৌমাছিদের জন্য ছোট কক্ষ, পুরুষদের জন্য বড় কক্ষ এবং রাণীর জন্য বিশেষ কক্ষ। কর্মী মৌমাছিরা নতুন প্রজন্ম আসার আগেই বিশেষভাবে ফুলের রেণু এবং রস চিবিয়ে, অর্ধেক হজম করে পেটে জমা করে রাখে। তারপর বাচ্চাদের সেই অর্ধেক হজম করা খাবার খেতে দেয়, কারণ বাচ্চারা সরাসরি রেণু এবং ফুলের রস খেতে পারে না। তারপর যখন বাচ্চাগুলো কিছুটা বড় হয়, তখন কর্মী মৌমাছিরা এই চিবানোর কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে শুধু মধু এবং রেণু খায়। বাচ্চাদের অর্ধেক হজম করা খাবার দিতে হবে, না হলে বাচ্চারা মারা যাবে। মৌমাছি যখন ফুলের রস, রেণু নিয়ে বাসায় ফিরে আসে, তখন সেটি এক বিশেষ নাচ এবং সাংকেতিক শব্দ তৈরির মাধ্যমে অন্য মৌমাছিদের জানিয়ে দেয় কোথায় মধু পাওয়া যাবে। প্রায় সময় মৌাছিরা চাক থেকে মধু খেয়ে চলে যায়, শূন্য চাক পড়ে থাকে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার মৌয়াল হাবিব সরকার জানায়, মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে তার বড়ভাই ইয়াকুব সরদার বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারায়। হঠাৎ বাঘ আক্রমণ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দলের যে কোনো একজনকে ধরে নিয়ে বাঘ বনের ভিতরে চলে যায়। পরে ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের কয়েক মাইল ভিতরে। আবার অনেকে বাঘের সাথে লড়াই করে বেঁচে ফেরে। মৌয়ালদের অভিযোগ, ডাকাতদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া বনে প্রবেশ ও নিরাপদে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাধিক ডাকাত দলের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে অপহরণ, নির্যাতন বা লুটপাটের ঝুঁকি থাকে। তাঁদের ভাষ্য, প্রতি নৌকার জন্য ডাকাতেরা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। আবার কোথাও জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাছানুর রহমান বলেন, মধু আহরণের মৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার করা হয়েছে। সূত্রমতে এ বনে মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় অসাধু মৌয়াল চক্র ও মধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল মধু তৈরির ব্যবসা করে আসছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার হরিনগর, কদমতলা, কাশিমারি, বল্লভটুপি, ঝাপালী, জয়নগর, গাবুরা এলাকার চকবারা, পার্শেমারি, ডুমরিয়া প্রভৃতি গ্রামের মৌয়ালদের একাংশ দির্ঘ দিন ধরে ভেজাল মধু তৈরি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় বিপুল পরিমানে নকল মধু জব্দ করে নষ্ট করা হয়।

  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    স্টাফ রিপোটার: আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রত্যেক কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার পরীক্ষার্থীদের ওপর থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সাইবার নজরদারি ও গুজব রোধ: পরীক্ষার আগে গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে সাইবার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল- জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। পরিদর্শন ও মনিটরিং টিম: শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রতিটি কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ও প্রস্তুতি যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলের প্রবণতা বন্ধে এবার বিশেষ ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘কেন্দ্র কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষা পরিচালনার যাবতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা: এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নকলমুক্ত এবং প্রশ্নফাঁসের নূন্যতম সুযোগহীন পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ নিয়মিত বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই নিশ্চিন্ন পাহারায় কোনো ধরনের অনিয়ম ঢাকা পড়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় আমরা এবার ফয়েল প্যাক এবং ওয়ান টাইম সিকিউরিটি খাম ব্যবহার করছি, যা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি কোনো কেন্দ্রে বা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কেবল পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ অন্যদিকে, আসন্ন দাখিল পরীক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এই পরীক্ষা কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। সরকার এক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আমরাও সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে— এই বার্তা আমরা এরই মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি।’ পরীক্ষার আগেই সচল করতে হবে সব সিসিটিভি ক্যামেরা : মাউশি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১টি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১. এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। ২. যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল বা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, সেসব কেন্দ্রের ক্যামেরা পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করতে হবে। ৩. সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা সব ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করতে হবে। ৪. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দেয়ালঘড়ি (কাঁটাওয়ালা) স্থাপন করতে হবে। ৫. স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে। ৬. কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. কোনো পরীক্ষার্থী যাতে নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা টাঙিয়ে দিতে হবে। ৯. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১০. সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কেন্দ্রসচিবদের দেওয়া নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ১১. উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে; কোনো অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাউশি জানিয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে সব ধরনের অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দেবহাটায় কমিউনিটি শিশুদের জন্মদিন উদযাপন

    দেবহাটায় কমিউনিটি শিশুদের জন্মদিন উদযাপন

    দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কমিউনিটি শিশুদের অংশগ্রহণে সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ব্যতিক্রমধর্মী জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলার পারুলিয়া ফুটবল মাঠে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুশীলনের দেবহাটা এরিয়া অফিসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মামুন হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জোৎসা বালা ও শিশু ফোরামের সভাপতি অনামিকা পাড়ের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দেবহাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, ওয়ার্ল্ড ভিশনের দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রামের এপি ম্যানেজার মিল্টন সিং, স্পন্সরশিপ অফিসার পল্টন বিশ্বাস, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান ও আসাদুজ্জামান রিপনসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াই শতাধিক কমিউনিটি শিশুদের অংশগ্রহণে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা হয়। এ সময় শিশুদের মাঝে স্কুল খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও শিশুদের অংশগ্রহণে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশ, আনন্দ ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • দেবহাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, নতুন করে নির্মাণের দাবি

    দেবহাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, নতুন করে নির্মাণের দাবি

    দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের গড়িয়াডাঙা এলাকায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সেতুটি এখন ‘মরণফাঁদ’ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গড়িয়াডাঙা ও শাহাজাহানপুর গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পারাপার হন। সেতুর পাশেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করতে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের ঢালাই রেলিং ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও রেলিং সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সেতুর গায়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। সেতুতে ওঠার পথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে—দুই পাশের সংযোগস্থল খালে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সেতুতে ওঠানামার সুবিধার জন্য বাঁশের ভারা তৈরি করা হলেও সেটিও এখন নষ্ট হয়ে গেছে। ঘুণে ধরা সেই বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন মানুষজনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

  • কলারোয়ায় ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    কলারোয়ায় ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান সাংবাদিকেরা। এ সময় ইউএনও সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইউএনও পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। পরে উপজেলা জামায়াত নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন, সহকারী প্রোগ্রামার মো. মোতাহার হোসেন, কলারোয়া প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ এ সাজেদ, কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তাক আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আসাদুজ্জামান ফারুকীসহ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। সভায় সাংবাদিকেরা উপজেলার নানা সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেল সংকটজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদান সহজ করতে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওসির তত্ত্বাবধানে পৃথক একটি গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

  • সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন ২৩ এপ্রিল

    সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন ২৩ এপ্রিল

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন ও পূর্ণাঙ্গ তপশীল ঘোষণা করা হয়েছে। সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে। ঘোষিত তপশীল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ চলবে বিরতিহীনভাবে সমিতির দ্বিতীয় তলায়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সবুরকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ১২ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট স. ম. মোমতাজুর রহমান মামুন, আ. ক. ম. সামছুদ্দোহা খোকন, মো. ফকরুল আলম বাবু, মো. আবুল বাসার, আজমির হোসেন রোকন, সাহেদুজ্জামান সাহেদ, এম আব্দুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান অনিক, এম এ হাসান, শংকর কুমার মজুমদার ও রাব্বি আহম্মেদ। ঘোষিত তপশীল অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১ এপ্রিল। এ তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ করা হবে ২ এপ্রিল এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে ৬ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ৮ এপ্রিল (দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত) এবং যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ৯ এপ্রিল (দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত)। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৩ এপ্রিল। সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নান বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বাবু আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • চার সন্তানকে ইয়াতিম করে বিদায় নিলেন জনক

    চার সন্তানকে ইয়াতিম করে বিদায় নিলেন জনক

    শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম
    স্টাফ রিপোর্টার: চার পুত্র সন্তানের জনক শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম—একজন সংগ্রামী, দায়িত্ববান ও সৎ মানুষ। বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করা সাইফুল ইসলামের পিতা মরহুম কুদ্দুস সিকদার এবং মাতা আমেনা খাতুন। জীবিকার তাগিদে তিনি রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমান এবং হাজারীবাগ এলাকায় স্ত্রী আমেনা বেগম ও চার সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। অল্প আয়ের মধ্যেও তিনি পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সততার সঙ্গে। তার বড় ছেলে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বাবার মৃত্যুর পর পরিবার চালানোর কঠিন দায়িত্ব এখন তার কাঁধে এসে পড়েছে। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় সে ইতোমধ্যেই শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছে। মেজ ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, আর ছোট দুই সন্তানের এখনও স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি। এই চারটি নিষ্পাপ সন্তানকে ইয়াতিম করে চিরবিদায় নিয়েছেন তাদের প্রিয় পিতা। শহীদ সাইফুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও সদালাপী মানুষ। সহজেই মানুষের সাথে মিশে যেতে পারতেন এবং সবার কাছে ছিলেন প্রিয়। দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান, আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন আন্তরিকভাবে। অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। তার অকাল প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজেরও এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার রেখে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে, যা আমাদের সবার বিবেককে নাড়া দেয়।

  • সাতক্ষীরা স্কলার হাবের উদ্যোগে ইতালিতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ

    সাতক্ষীরা স্কলার হাবের উদ্যোগে ইতালিতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ

    বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অনেক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা, তথ্যের অভাব ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে তা অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। তবে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য এবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

    সাতক্ষীরা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্কলারহাব-এর উদ্যোগে ইতালির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে DSU Scholarship Programme-এর আওতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে।

    এই স্কলারশিপের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

    আবেদনকারীদের প্রাথমিক বাছাই শেষে অভিভাবকসহ সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া হবে। ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে।

    আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ এপ্রিল ২০২৬। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৮৯৪৫৪৮৯৩৫ নম্বরে।

    এছাড়া প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী আসলাম, জব প্লেসমেন্ট অফিসার, সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (মোবাইল: ০১৬১৮৬১৮৭৫১)।

    উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পেলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে।

  • বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

    বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

    ডেস্ক রিপোর্ট: চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্রমাগতভাবে বাড়ছে দাম। জ্বালানির এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির তেলের দাম বাড়বে বলে গুঞ্জন উঠে। তবে, আপাতত দাম বাড়াচ্ছে না সরকার। এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করে তা বহাল রাখা হয়েছে। নতুন এই মূল্য ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে, সকালে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে ডিজেল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল দেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এদিকে, জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।