ডেস্ক রিপোর্ট:সাতক্ষীরায় ধর্ষণ, বিশেষ করে শিশু ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার মিলবাজারে জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের (রিইবি) হোপ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত মানববন্ধনে সহযোগিতা করে নেটজ বাংলাদেশ এবং জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়।

জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সদস্য জুলফিকার রায়হানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য শাহাজাহান সিরাজ। এতে বক্তব্য দেন সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন, শিক্ষক অরুণ কান্তি সানা এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা খাতুন ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী খুশি আক্তার। এ সময় রিইবের হোপ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হাসান চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হুমকি-ভয়ভীতি বন্ধ করা এবং মামলা প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগের মতো ঘটনা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

মানববন্ধনে উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ভুক্তভোগীদের পরিচয়, ছবি ও ভিডিওর অননুমোদিত প্রচার বন্ধ করে তাঁদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা; এবং নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

কর্মসূচিতে সিএসও সদস্য লাভলু, মোস্তাকিম, রাবেয়া খাতুন, জান্নাতুল, শাহাদাৎ ও শাকিবসহ জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা বলেন, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।