ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনের ফল নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে পারে, আবার সৃষ্টি করতে পারে নতুন রাজনৈতিক অচলাবস্থা।
১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। তবে নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপগুলোতে কোনো জোটেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি। জরিপ অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি ২২ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সম্ভাব্য আসন ১৯ থেকে ২১টি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের জোট পেতে পারে ১৪ থেকে ১৫টি আসন।
জরিপে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোটের সম্ভাব্য আসন ৫০টি। বিপরীতে বিরোধী জোট পেতে পারে ৫২ থেকে ৫৬টি আসন। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাবেক সামরিক প্রধান ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকোট সরকারি জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে তাঁর অবস্থান নেতানিয়াহুর অবস্থানের কাছাকাছি এবং তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন।
অন্যদিকে, ৭৭ বছর বয়সী নেতানিয়াহু জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়া, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তাঁকে রাজনৈতিক চাপে রেখেছে।
গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের প্রশ্নও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘ দর-কষাকষি এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলে ভোট আজ
কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নেতানিয়াহু




