Category: সারাদেশ

  • রূপসায় কার্বন কোম্পানির বিষাক্ত ধোয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৮ গ্রামের মানুষ

    রূপসায় কার্বন কোম্পানির বিষাক্ত ধোয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৮ গ্রামের মানুষ

    খুলনা ব্যুরো: প্রতিনিয়ত কুণ্ডলি পাঁকানো কালো বিষাক্ত ধোয়ায় আচ্ছন্ন হচ্ছে খুলনা জেলার রূপসার ৮ গ্রামসহ বিশাল পদ্ধবিলের ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘের। জনজীবনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের। গত দুই দশক ধরে কৃষি, মৎস্য ও জনজীবনের ওপর চলছে এই নীরব দুর্যোগ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মিমকো কার্বন কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি কারখানার কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই বদলে গেছে পদ্মবিলসহ এ জনপদের চিত্র। ২০১৩ সালে জামালপুরের ইউসুফ মোল্লা পদ্মবিলের পাশে তিলক গ্রামে ৪৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন মিমকো কার্বন কোম্পানি। ওই বছরের মার্চ মাসে এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। ঋণ খেলাপির দায়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে পরবর্তীতে বেসিক ব্যাংক থেকে লিজ নিয়ে পরিচালনা করছেন ওই এলাকার শাহজাহান শিকারি ও তার ভাতিজা মাসুম বিল্লাহ শিকারি। ওই কোম্পানিতে ৪২টি চুলায় পাটকাঠি পুড়িয়ে কালি তৈরি করা হচ্ছে। আরও ১৮টি চুলা নির্মাণাধীন রয়েছে। এখানকার কালি রফতানি করা হয় চীনে। কিন্তু কালি তৈরি করতে গিয়ে পাটকাঠি পোড়ানোর কারণে কালো ধোয়ায় ঢেকে যাচ্ছে পদ্মবিল। এই ধোয়া বিস্তার লাভ করে তিলক, আমদাবাদ, মাছুয়াডাঙ্গা, নৈহাটী, দেবীপুর, সামন্তসেনা, পাথরঘাটা, গদাইখালি গ্রামে। এখান থেকে যে নির্গমন ধোঁয়া আধুনিক যন্ত্রপাতি বা ফিল্টার করার কেন ব্যবস্থা নেই। রূপসা পদ্মবিলের আয়তন প্রায় ১৪০ হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ১১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। একসময় এই বিল থেকেই রূপসা উপজেলার কৃষি ও মৎস্যপণ্যের বড় অংশের জোগান আসত। কিন্তু এখন কার্বন কোম্পানির ধোয়ায় ফলন কমে যাওয়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় অর্ধশতাধিক চুল্লি থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও ছাইয়ে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে আশপাশের কৃষিজমি, মাছের ঘের ও বসতভিটা। কারখানাটি উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে, সম্পূর্ণ কৃষিপ্রধান এলাকায় অবস্থিত। এক কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত দশটির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেও তারা কোনো সমাধান পাননি। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর। তিলক গ্রামের মরিয়ম বলেন- ‘হাঁপানি, কাশি ও হার্টের রোগীরা এই বিষাক্ত ধোয়ায় সীমাহীন কষ্টের মধ্যে রয়েছে। শিশুরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সন্ধ্যা হলে ওনারা ধোঁয়া ছেড়ে দেয়, সব চুলা জ¦ালিয়ে দেয়। কাশতে কাশতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে যায়।’ স্থানীয় কৃষক গফফার শেখ বলেন- ‘কার্বন ফ্যাক্টরির কারণে আমাদের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আগের মত ফলন পাচ্ছিনা। ধানগাছ মারা যাচ্ছে। টমেটো ও লাউসহ অন্যান্য ফলন কমে গেছে। ফুলগুলো ঝরে যাচ্ছে শুধু ওই ধোঁয়ার কালির কারণে। এই ছাই ঘেরেও পড়ে যে কারণে মাছ অক্সিজেন পায় না এবং বড়ো হতে পারেনা।’ কৃষক জুলফিকার আলী বলেন- ‘ধানের বাইল বের হওয়ার সময় ফুলগুলো ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। এলাকায় কেউ সুস্থ নেই, সব সর্দি-কাশি, জ্বর ও অ্যাজমায় ভুগছে। এই কোম্পানি অবৈধভাবে প্রশাসনকে অর্থ দিয়ে চালিয়ে আসছে।’ কৃষক আব্দুল বারিক বলেন- ‘মন্নুজান এসে উদ্বোধন করে গেলেন, কাগজপত্র নেই, তাহলে কীভাবে উদ্বোধন করলেন? আমরা গরিব মানুষ, আমাদেরই ভোগ করতে হচ্ছে।’ কৃষক মো. হাবিবুল্লাহ হাওলাদার বলেন- ‘কার্বনের ছাইয়ের কারণে পানির ওপর আবরণ পড়ে গেছে। আমরা মাছ চাষ করতে পারছি না। সব কালো হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যায় এমন ধোঁয়া আসে থাকা যায় না। আমরা আন্দোলন করেছি, কিন্তু ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।’
    গৃহিণী সাজেদা বেগম বলেন- ‘ধোঁয়ায় খুব সমস্যা। রাতে ঘুমাতে পারি না। সব দিক থেকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত।’ দিনমজুর রমেশ বলেন- ‘ধানের ফলন, গাছের ফলন সব কমে গেছে। বিশ্রী গন্ধে অধিকাংশ মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগছে।’ আমদাবাদ এলাকার শিক্ষক শাহজাহান বলেন- ‘স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও লোকালয়ের পাশে এ ধরনের কারখানা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন করেছি, কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি।’
    কারখানার নিকটে অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস কওমি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ ছানি বলেন- ‘কারখানার ধোঁয়া আমাদের হেফজখানা, কেরাতখানা, জামাতখানা সব জায়গায় ঢুকে পড়ে।’ কেরাত বিভাগের ছাত্র সাজিদ বলেন- ‘মাঝে মাঝে ধোঁয়ার পরিমাণ এত বেড়ে যায় যে সবাই কষ্ট পায়, কাশতে থাকে।’ মিমকো কার্বন ফ্যাক্টরির শেয়ার হোল্ডার মাসুম বিল্লাহ শিকারি বলেন- ‘এই ফ্যাক্টরির আদলে সারা দেশে ৫০টির ও বেশি ফ্যাক্টরি হচ্ছে। আমরাই প্রথম শুরু করি। এটা বাংলাদেশের কোনো প্রোডাক্ট না। এখান থেকে সম্পূর্ণটা চায়নায় রফতানি করা হয়। ধোয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘চিমনিতে কানেকশন দিলে আগুনের সমস্যা হয়। তাই চুল্লির মুখ খুলে জ¦ালানো হয়। এটা ফাঁকা জায়গা তাই পরিবেশের ক্ষতি হয় না। বিশেষ করে আশেপাশের যত গাছগাছালি ও ধানের কোন ধরনের ক্ষতি বা সমস্যা নেই।’ রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার তরুণ কুমার বালা বলেন, ‘অতিরিক্ত ধোঁয়া ও ফ্লাই অ্যাশের কারণে পলিনেশনে সমস্যা হচ্ছে, উপকারী পোকামাকড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার অভিযোগ করছেন।’ পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা জেলার সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ সালে ছাড়পত্র পেলেও পরবর্তীতে পরিবেশগত শর্ত পূরণ না করায় পরবর্তীতে নবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জমশেদ খোন্দকার বলেন, ‘উপযুক্ত ফিল্টারিং ব্যবস্থা না থাকলে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষণ ঘটাতে পারে এবং মৎস্য, কৃষি উৎপাদনসহ জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্যারামিটারটি অবশ্যই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

  • ১১ দিনেও মেলেনি ব্যবসায়ী সুজনের খোঁজ

    ১১ দিনেও মেলেনি ব্যবসায়ী সুজনের খোঁজ

    খুলনা ব্যুরো: খুলনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের (৩৫) ১১ দিনেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে তাঁর মা রোকসানা সোবহান মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তাঁকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন সুজন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও এখনো তাঁর কোনো হদিস মেলেনি। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন সুজনের পরিবারের সদস্যরা। জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামসেদ খোন্দকার স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।

  • খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার সাংবাদিকদের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার সাংবাদিকদের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ

    সাংবাদিকদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ: মুহাম্মদ আবদুল্লাহ
    খুলনা প্রতিনিধি : সাংবাদিকদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ট্রাস্টের বোর্ড সভায় ‘হেলথ কার্ড’ চালুর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সহযোগিতায় এবং মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার ব্যবস্থাপনায় খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা ও মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান আরিফ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন এবং খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের চিকিৎসা ব্যয় একটি বড় সমস্যা। বর্তমানে জটিল রোগে আক্রান্ত সাংবাদিকদের সহায়তা দেওয়া হলেও তা নিয়মিত বা কাঠামোবদ্ধ নয়। এ সমস্যা সমাধানে প্রথমে সাংবাদিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে এবং নিবন্ধনের ভিত্তিতে ‘হেলথ কার্ড’ প্রদান করা হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করে পরে বিভাগীয় ও জেলা শহরে তা বিস্তৃত করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দলীয় লেজুড়বৃত্তি না হয়ে প্রকৃত সাংবাদিকতা চর্চা করতে হবে। সাংবাদিকদের মানোন্নয়নে ফেলোশিপ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক বাস্তবতা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। মাস শেষে অনেক সাংবাদিক নিয়মিত বেতন পান না, কিন্তু সন্তানদের শিক্ষার খরচ ঠিকই বহন করতে হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিকদের মেধাবী সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এবার দ্বিতীয়বারের মতো খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হলো। তিনি জানান, এবারে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার সাংবাদিকদের জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার অনুদান ও শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে।

  • বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা ও হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করে। বিজিবি সূত্র জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুটি আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস-এর ৩ ও ৪ আরবি এলাকা থেকে আনুমানিক ২০০ ও ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন কেড়াগাছি এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। এ ছাড়া মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস-এর ৯ আরবি এলাকা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন তেতুলতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় আগরবাতি উদ্ধার করে। অন্যদিকে হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৫/৫ এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন তালশারি কুলবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে। সব মিলিয়ে অভিযানে সর্বমোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, চোরাকারবারীরা শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব মালামাল ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। বিজিবি আরও জানায়, ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। উদ্ধার করা মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, দেশের রাজস্ব সুরক্ষা ও স্থানীয় শিল্প বিকাশে জনস্বার্থে এ ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণও বিজিবির এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে নিয়মিতভাবে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

  • বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য পেয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী মাদ্রাসা 

    বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য পেয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী মাদ্রাসা 

    অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, শ্যামনগর ‌

    শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। দাখিল অষ্টম শ্রেণি থেকে অংশগ্রহণকারী ১০ জন শিক্ষার্থীর সবাই বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংগঠন এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমি-এর পঞ্চম শ্রেণি থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং, মডেল টেস্ট ও বিশেষ কোচিং ব্যবস্থার ফলেই এ কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    উল্লেখযোগ্য এ সাফল্যে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

    প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক পৃথক বার্তায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এটি সমগ্র প্রতিষ্ঠানের গৌরব। শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

  • সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা

    সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা

    খুলনা ব্যুরো: খুলনা জেলার ডুমুরিয়া জনসনে লবণাক্ত পতিত জমিতেই এখন হলুদ রঙের নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। উপকূলঘেঁষা এলাকা ও তালার নিম্নাঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের চছে সাফল্য আসাত জেলায় ভোজতেলের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম খরচ, আল্পসময় এবং সরকারি প্রণোদনা এই তিন কারণে সূর্যমুখী চাষে কথকদের আগ্রহ বাড়ছে। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মওসুমে ৯টি উপজেলায় মোট ৪৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ৪২২ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবযানে আবাদ বেড়েছে ২০ হেক্টর। খুলনা জেলায় আটক কোটি লিটার ভোজ্য তেল উৎপাদন হবে। এতে করে দুই লক্ষ মানুষের ভোজ্য তেল চাহিদা মিটাবে। সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। ডুমুরিয়ায় ১০৭ হেক্টর জমিতে এ ফসলের চাষ হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার মডেল মসজিদের সামনের মাঠে গেলে চোখে পড়ে বিস্টার্ণ হলুদের আভা। দূর থেকে মনে হয় যেন হলুদ গালিচা বিছানো। কাছে গেলে দেখা যায় সারি সারি সূর্যমুখী ফুল বাতাসে দুলছে। পানীয়রা বলছেন, শুধু সৌন্দর্য নয়, এই ফুল এখন আয়েরও বড় উৎস। কৃষক শেখ জাহিদুর রহমান জানান, সূর্যমুখী চাষের মূল লক্ষ্য তেল উৎপাদন। প্রতি বিঘা জমিতে সাত থেকে দশ মণ পর্যন্ত বীজ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে অন্তত আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেল মিলতে পারে। বর্তমানে প্রতি নিটার সুর্যমুখী তেলের দাম কমপক্ষে ২৫০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় খরচ হয় সর্বোচ সাড়ে তিন হাজার টাকা। ভেল ছাড়াও বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষক মো. জাহিদুর রহমান বলেন, লবণাক্ত জমিতে অন্য ফসল ভালো না হলেও সূর্যমুখী তুলনামূলক ভালো ফলন দিছে। স্বল্প সেচ ও কম পরিচর্যায় এ ফসল উৎপাদন সম্ভব। তাই কৃষকেরা ঝুঁকছেন এ আবাদে। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্ত কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় তেলবীজ ফসল। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছেন, পাশাপাশি মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ করা হছে। তিনি বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। পানীয়ভাবে দুর্যমুখী উৎপাদন বাড়লে আমদানির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন বাড়াতে চলতি মওসুমে ৬০০ কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বীজ ও সার বাবদ মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই চাষে প্রণোদনা মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি। ডুমুরিয়ার কৃষকদের চাওয়া, সরকারিভাবে ক্রয়ব্যবসা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা হলে সূর্যমুখী চাষ আরো সম্প্রসারিত হবে। এদিকে ডুমুরিয়ার মাঠে মাঠে এখন সূর্যমুখী শুধু ফুল নয়, সম্ভাবনারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

  • বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে হওয়ায় জনমনে স্বস্তি

    বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে হওয়ায় জনমনে স্বস্তি

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা ও খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার বেদকাশী এলাকায় ৩২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৪৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে উপকূলবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরঘেঁষা বেদকাশী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের কারণে লোকালয় প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। লবণাক্ত পানির আগ্রাসন থেকে জনপদ রক্ষায় সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও সুইচগেট স্থাপনের কাজ চলছে। পাউবো সূত্রে জানা যায়, ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ২২ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এবং বাকি অংশের দায়িত্বে রয়েছে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার বেদকাশীর ১৪/২ পোল্ডারের গাববুনিয়া ও ১৪/১ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া অংশে ব্লক নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বাঁধের ঢালে সিমেন্টের ব্লক ও জিও ব্যাগ বসানোর কাজ চলছে। এছাড়া দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চোরামুখা এলাকায় বেড়িবাঁধের চারটি স্থানে প্রায় ১ হাজার ২০ মিটার এলাকায় রিং-ডাইক ও অস্থায়ী ঢাল সংরক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামুন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা জানান, পাউবোর নকশা অনুযায়ী ইনলেটের ১০টি গেটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হরিহরপুর ও মেদেরচর এলাকাতেও বাঁধের ঢাল উঁচু করা এবং মাটি ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা চারু মণ্ডল বলেন, “বাঁধের কাজ ভালোভাবে হচ্ছে। কাজ শেষ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।” ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গণেশ মণ্ডল জানান, নিয়ম অনুযায়ী দূরবর্তী স্থান থেকে মাটি এনে বাঁধের উচ্চতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির মাজহার জানান, কয়রার জোড়শিং থেকে আংটিহারা গোলখালি পর্যন্ত ১৪/১ পোল্ডারে চারটি রেগুলেটর ও ১০টি ইনলেট গেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। কিছু জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্যাকেজের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
    সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
    সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং কাজের মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করা হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি ও জীবিকা সুরক্ষিত হবে।

  • একুশের প্রথম প্রহরে শ্যামনগরে ভাষা শহীদদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধা

    একুশের প্রথম প্রহরে শ্যামনগরে ভাষা শহীদদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধা

    মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা শাখা। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ শ্যামনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নীরবতা পালন করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তাঁদের এই আত্মদান পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে শক্তিশালী করেছে। নেতারা আরও বলেন, ভাষা শহীদদের আদর্শ ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও জাতীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মাতৃভাষার সঠিক চর্চা ও সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

  • নূরনগরে নির্বাচন-পরবর্তী যুবদলের মতবিনিময় সভা

    নূরনগরে নির্বাচন-পরবর্তী যুবদলের মতবিনিময় সভা

    আবু হাসান,নূরনগর, শ্যামনগর :

     

    নির্বাচন-পরবর্তী ও আগামী দিনের সাংগঠনিক করণীয় নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নে নূরনগর ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

     

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নাজমুল হক এবং অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাফিজ আল আসাদ কল্লোল। এছাড়াও মো. মতলবে হোসেন, মো. মোশারফ, মমিনুল, আমিনুরসহ আরও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

     

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নূরনগর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নেতা আবু ইউসুফ, একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন মন্টু, বিএনপি নেতা লাবলু ঢালী, প্রবীণ নেতা মো. নজরুল ইসলাম এবং কৃষক দলের আহ্বায়ক সরদার শাহনেওয়াজ। তাদের উপস্থিতি সভাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

     

    সভায় সভাপতিত্ব করেন নূরনগর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোহা. গোলাম মাহমুদ রাজু। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম রেজা। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মো. আলমগীর হোসেন, মো. সোহাগ হোসেন, জাকির হোসেন ছোট, মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন খোকন, আজগার তরফদার, মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোল্লা, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খোকন, মো. আসাদুর, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মানসুর, মো. আবু হাসান, মোহাম্মদ হাবিবুর বাশার বুলবুলি, শামীম আহমেদ, ফজলুল রহমান, আমিনুর রহমান, শমসের গাজী, আশিক ইলাহী, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আবুবক্কার, সাগর হোসেন, মো. শাহরুখ হাসান, মো. আমিনুর ইসলামসহ আরও অনেকে।

     

    বক্তারা বলেন, নূরনগর ইউনিয়ন যুবদল অতীতেও আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। আগামীতেও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তারা ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের মাধ্যমে মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

     

    সভার শেষে নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর অঙ্গসংগঠন হিসেবে যুবদল নূরনগর ইউনিয়নে সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় সভাটি শেষ হয়।

  • ধুলিহরে কৃষকের অংশগ্রহণে আইজিএ কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত

    ধুলিহরে কৃষকের অংশগ্রহণে আইজিএ কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর ফুটবল মাঠে বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কৃষকের আয়বন্ধনমূলক কার্যক্রম আইজিএ কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত। মেলায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরহাদ জামিল, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার প্লাবনী সরকার, ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় যুবসংঘের নেতৃবৃন্দ। ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর ও ফিংড়ি ইউনিয়নের কৃষকেরা মেলায় অংশগ্রহণ করে তাদের নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত কেমিক্যাল মুক্ত শাকসবজি, হাঁস-মুরগি, মাছ, মাংস, ছাগল সহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য প্রদর্শন করেন। মেলা চলাকালীন সময়ে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।