নূরনগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে সুন্দরবন হেয়ার উইগ প্রতিষ্ঠানের সফলতার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় নূরনগরের তানভীর কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে মো. খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সুশান্ত কুমার মন্ডলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমিনূর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দি গ্রানাডা একাডেমি, মানিকগঞ্জের শিক্ষক মো. মহসীন কবির এবং ইউনিয়ন মিডিয়া প্রধান আবু হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. সালাহউদ্দীন, মুহাম্মাদ আল মাসুদ সাঈদী, আব্দুল মালেকসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের গত চার বছরের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
Category: সারাদেশ
-

শোক কাঁদাচ্ছে প্রতিবেশীদেরও: পাশাপাশি সমাহিত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা ব্যুরো: যে বাড়িতে নতুন বউকে ঘিরে আনন্দ আর উৎসবের আমেজ থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। স্বজনদের কাঁধে চড়ে শেষযাত্রায় বিদায় নিলেন বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) পৃথক পৃথক স্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকালে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কয়রায় পারিবারিক কবরস্থানে মিতু, লামিয়া ও রাশিদার দাফন করা হয়। দাকোপে আনোয়ারা বেগমের আরেকটি জানাজা শেষে সেখানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে গ্রামের বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে জুমার পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক তার পুত্র বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। শুক্রবার ভোরে তাদের কফিন মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারীতে এলাকার পরিবেশ ভারী হযে ওঠে। শুক্রবার জুমার আগে মোংলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার মোংলা উপজেলা মাঠে নামাজে জানাজায় অংশ নেয় বাগেরহাট-৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ নিহতদের স্বজন এবং কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি নয়জনকে দাফন করা হয়। কানায় কানায় ভরে যায় উপজেলা পরিষদ মাঠ। জানাজার আগে আবেগঘন কণ্ঠে নিহতদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাই ও বোন হারানো আশরাফুল আলম জনি। তার আকুতিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জনি বলেন, “আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন, ভাগ্নেÑসবই হারিয়েছি।
আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন। কারও যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করব। আর সবাইকে তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”
জানাজার আগে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।”
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “যে বাড়িতে আজ আনন্দের পল্গুধারা থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
এদিকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো লাশ আগে কখনো দেখিনি। এই দৃশ্য সহ্য করা খুবই কঠিন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। রাজ্জাক ভাই মেয়ের বিয়েও কয়রায় দিয়েছিলেন, এবার ছেলের বিয়েও সেখানে হলো। কিন্তু পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। তিনি জানান, আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে। নিহতদের গোসল শেষে একে একে খাটিয়ায় রাখা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মোংলা কবরস্থানের খাদেম মুজিবুর ফকির জানান, পরিবারের সম্মতিতে একই স্থানে ৯টি কবর খোঁড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের জন্য কখনো কবর খুঁড়তে হয়নি। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক।
মাইক্রোবাসের চালক নাঈমও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে নিজ গ্রামের বাড়িতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রীজের দক্ষিণ পাশে এখনো ছড়িয়ে আছে শিশুদের পানির ফিডারের অংশ, কয়েক জোড়া জুতা এবং অসংখ্য কাচের টুকরো। এগুলোই যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে ভয়াবহ সেই সড়ক দুর্ঘটনার, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে এখনো ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক মানুষ। অনেকেই সেখানে ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরো, জুতা ও বিভিন্ন সামগ্রী দেখে মর্মাহত হচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবনে এত বড় দুর্ঘটনা দেখিনি। আমি তখন মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফিরছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম গরুটা হয়তো বাসের সামনে পড়ে গেছে। পরে দেখি দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ। চারদিকে রক্ত আর আহত মানুষ-এত মানুষকে একসঙ্গে এভাবে কখনো দেখিনি। শুধু রফিকুল ইসলামই নন, এলাকার অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের প্রতি প্রকাশ করছেন শোক সমবেদনা।
অপরদিকে বাগেরহাট-৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোর ভাবে কাজ করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহন করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারী ভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। -

অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিল
প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন-এর জেনারেল মিটিং এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সংগঠনের সদস্য এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিকেটকে আরও উন্নত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত সদস্যরা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, যিনি উপস্থিত থেকে ক্রিকেট নিয়ে তার অভিজ্ঞতা এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শেয়ার করেন। তার উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে মর্যাদাপূর্ণ করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টির মাধ্যম হয়েছে। সাধারণ সভা শেষে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সবাই একত্রিত হন। ইফতার পর্বটি ছিল আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মিলনমেলা। সংগঠনের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটারদের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিকেটকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে সক্ষম হবে।
-

ইসলামি শক্তিকে পরাজিত করার নীল নকশা অব্যাহত থাকলে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি
খুলনা ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেছেন, ১৭ রমযান ৩১৩ জন মুজাহিদ এক হাজার কাফিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বদরের ইতিহাস রচনা করেছিলেন। সেই বদরের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান বিশ্বেও যেন মুসলিম মিল্লাতের বিজয় আসে সে জন্য মহান রব্বুল আলামিনের দরবারে সকলের দোয়া করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, ইরানের বিজয়ের মধ্যদিয়ে মুসলিম মিল্লাত যেন বিশ্বব্যাপী মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেজন্য বিশ্ব মুসলিমকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি রমযানের শেষ দশকে মুসলিম মিল্লাতের নাজাতের জন্য সকলকে দোয়া করার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামি শক্তিকে পরাজিত করার নীল নকশা হলেও শুধুমাত্র দেশের স্বাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফলাফল মেনে নিয়েছে। কিন্তু এ চক্রান্ত এখনও অব্যাহত থাকলে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সবক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলা করা হবে। শনিবার (৭ মার্চ) খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে হোটেল সিটি ইন এ অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি’র পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, নায়েবে অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কমৃপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর হোসেন, অধ্যাপক আবু রুবাবা, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক জুলফিকার আলী, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান, দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সাইফ নেওয়াজ, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক, মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, খুলনা আলিয়া মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুফতি আব্দুর রহিম, জিপি এডভোকেট ড. মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি আবু তৈয়ব, সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও এইচ এম আলাউদ্দিন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, খুলনা খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের খুলনা জেলা সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল. বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এডভোকেট আব্দুল মালেক, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক এডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু ও সদস্য সচিব এডভোকেট নুরুল হাসান রুবা, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট খান মনিরুজ্জামান, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান, এনডিএফ খুলনা মহানগরীর সভাপতি ডা. আসাদুল্লাহিল গালিব, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবু সাইদ মুহাম্মাদ মামুন শাহিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুকাররম বিল্লাহ আনসারী, সাংবাদিক নেতা হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, আমিরুল ইসলাম, কাজী শামীম আহমেদ, মো. নূরুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান মুন্না, সাইফুল ইসলাম বাবলু, শেখ শামসুদ্দিন দোহা, বশির হোসেন, নুরুল আমিন নূর, রামীম চৌধুরী, এম এ আজিম, ইমরান হোসেন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুৃও রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মোশাররফ আনসারী, মোনাওয়ার আনাসারী, আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান নাঈম, আব্দুল আওয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। কুরআন তেলাওয়াত করেন খুলনা মহানগরী ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দীক। ইফতার মাহফিলে মুসলিম উম্মাহ ও দেশ জাতির কল্যাণ সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, মাহে রমযানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত আমলকে আরো সুন্দর করতে হবে। খুলনা মহানগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকতে হবে। কুরআনের সমাজ কায়েমের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে হেফাজত করুন, নেক কাজের তৌফিক দেন, সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ়তা দেন। আমাদের ঈমানকে মজবুত করার সুযোগ দেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে রমযান হলো পূর্বের সকল গুনাহর জন্য ক্ষমা চেয়ে সাচ্চা মুসলমান হয়ে জীবনযাপনের প্রতিজ্ঞা করার মাস। এ মাসের সময়গুলো খুব বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা উচিত। ফরয নামায ও রোযা, ফরয নামাযের পাশাপাশি তারাবিহ পড়া, সেহরির আগে তাহাজ্জুদ পড়া, যথাসম্ভব জিকির ও কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করে সময় কাটানো উচিত। সেই সাথে যথাসম্ভব দান সদকা করা, আশেপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হক আদায় করা বাঞ্ছনীয়। অশ্লীলতা, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, অন্যের হক খাওয়া, সুদ ও জুয়াসহ সকল প্রকার হারাম কাজ থেকে তো সারা বছরই বেঁচে থাকা ফরয, রমযান মাসে এর অপরিহার্যতা আরও বেড়ে যায়। কারণ, বরকতপূর্ণ সময়ের গুনাহর কাজ অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হয়ে পড়তে পারে। তাই আমরা সবসময় প্রার্থনা করি আমাদের সবার জীবনে যেন রমযানের গুরুত্ব ও ফজিলত সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়ুক। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশের যেসব মানুষ, মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন, জেলে গিয়েছেন, তাদের সকলের ত্যাগ আল্লাহ পাক কবুল করুন এবং সবাইকে উপযুক্ত যাযা দান করুন। মুক্তি অর্জন করতে হলে অবশ্যই সংগ্রাম করতে হবে। বিনা সংগ্রামে কখনো মুক্তি আসে না। এ জন্য তিনি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ভুমিকা রাখার আহবান জানান। -

ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই কি অপরাধ খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শ্যামনগরের নূরনগরে বিক্ষোভ
এবিএম কাইয়ুম রাজ:
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী হোসাইনি খামেনি হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে নূরনগর শিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় শিয়া মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে নূরনগর শিয়া মসজিদের সভাপতি সার্জেন্ট শেখ রওশান আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সাজিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আয়াতুল্লাহ খামেনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ ঘটনায় তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিষয়টি জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানান।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এমন ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের একদিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ হাবিবুল আলম, গ্রাম ডাক্তার আলহাজ্ব শেখ আইয়ুব আলী, শেখ নেসার আলি, নূরনগর মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আল মামুন, শেখ মহতাব হোসেন, শেখ জুলফিকার আলি, নূর মোহাম্মদ, আমির হোসেন ও আমিনুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
-

উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গ্যাদন খেলা হারিয়ে যাচ্ছে
আবু সুফিয়ান, উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিধি:
উপকূলীয় বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা গ্যাদন খেলা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার শিশু-কিশোরদের আনন্দের অন্যতম উৎস ছিল এই ঐতিহ্যবাহী খেলা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, প্রযুক্তির বিস্তার এবং খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
গ্রামের প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাদন খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যমই ছিল না; এটি ছিল এক ধরনের শারীরিক ব্যায়ামও। নিয়মিত খেলাধুলার কারণে শিশু-কিশোররা শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকত এবং নানা ধরনের রোগবালাই থেকেও অনেকটা দূরে থাকত।
স্থানীয়দের মতে, গ্যাদন খেলাটির ইতিহাস বেশ পুরোনো। গ্রামবাংলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোররা দল বেঁধে এই খেলায় অংশ নিত। খেলাটির মাধ্যমে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠত।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক এলাকায় খেলার মাঠের অভাব দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি স্মার্টফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কেউ কেউ মোবাইল গেম কিংবা অন্যান্য অনলাইন বিনোদনের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে গ্যাদন খেলার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই পরিবর্তন শুধু একটি খেলার বিলুপ্তিই নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাদের মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম, আর সেই খেলাধুলা যদি নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া থেকে শুরু হয়, তবে তা সমাজ ও সংস্কৃতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
এ অবস্থায় উপকূলীয় অঞ্চলের তরুণদের প্রতি গ্যাদন খেলা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় উৎসব, গ্রামীণ মেলা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গ্যাদন খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে এই খেলাকে আবারও পরিচিত করে তোলার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্যাদন খেলা শুধু একটি গ্রামীণ খেলাই নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আবারও নতুন প্রজন্মের মাঝে স্থান করে নিতে পারবে।
-

মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা – শ্যামনগরের নূরনগরে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল
নূরনগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল ৩টায় নূরনগর তানভীর কনভেনশন সেন্টারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
নূরনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডা. আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং যুব বিভাগের সভাপতি হাসানুর বান্নার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব হলো মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। একই সঙ্গে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যদেরও বিরত রাখার চেষ্টা করা।
তিনি আরও বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর আজাব থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সাঈদী হাসান বুলবুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল হান্নান, সেক্রেটারি আলহাজ্ব লিয়াকত হোসেন বাবু, সহকারী সেক্রেটারি গাজী আশরাফুল আলম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, ইউনিয়ন মিডিয়া প্রধান আবু হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
-

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্দ্যোগে ইফতার মাহফিল
বুড়িগোয়ালিনী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ০৯ নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে ০৫ মার্চ ( ১৫ ই) রমজান) বৃহস্পতিবার কলবাড়ী বরষা রিসোটে অনুষ্ঠিত হয় ইফতার মাহফিল।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান রানা
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্যামনগর পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, বু্ড়িগোয়ালিনী ইউ/পি সদস্য মোঃ মোঃ রবিউল ইসলাম
বক্তব্যে কালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি জনাব মোঃ মাষ্টার আব্দুল্যাহ আল মামুন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে সকল কাজে সঠিক সময়ে সাহসীকতার সাথে এগিয়ে যাওঋআর নিদেশনা দেন আরো বলেন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের সার্থে কাজ করতে হবে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ফাহাদ বিন আব্দুর রউফ।
-

দোয়ার প্রতিদান, কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রবীণ ব্যক্তির দোরগোড়ায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
কৈখালী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের শ্যামনগর উপজেলার মাননীয় এমপি মহোদয় সম্প্রতি ৫নং কৈখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে এক প্রবীণ ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে সৌজন্য সাক্ষাতে যান। তিনি বৃদ্ধ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন, কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া কামনা করেন।
এ সময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমপি মহোদয় বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি এই প্রবীণ ব্যক্তির কাছেই দোয়া নিতে এসেছিলেন। মোনাজাতের মুহূর্তে বৃদ্ধ ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বারবার বলেছিলেন,
“আপনি প্রথম বিভাগে জয়ী হবেন, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার বিজয়ের মূল শক্তি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের আন্তরিক দোয়ায় আমি জয়লাভ করেছি।”
এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারা এমপি মহোদয়ের এ মানবিক ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে তাঁর ধারাবাহিক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
-

শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
এবিএম কাইয়ুম রাজ :
“টেকসই জীবিকায়নে নারী বান্ধব বাজার গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ-এর প্রগতি প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নারী অধিকার, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান এবং নারী ও কন্যাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী নেত্রী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নারী অধিকার, সমতা ও নারী বান্ধব বাজার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
পরে রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একশনএইড বাংলাদেশ প্রগতি প্রকল্পের হাব কো-অর্ডিনেটর মো. আছের আলীর সঞ্চালনায় এবং রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আল-মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনকের পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুর রহমান, ইউপি সদস্য দিপালী রানী গায়েন, মো. আব্দুস সালাম, মনোরঞ্জন মিস্ত্রি, রুহুল আমিন, আলহাজ শেখ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধি শ্রাবণী রানী মণ্ডল, কৃষি কর্মকর্তা নাজমুস সাকিবসহ একশনএইড বাংলাদেশের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় নারী নেত্রী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এম. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান শেখ আল-মামুন বলেন, নারীদের জন্য নিরাপদ ও নারী বান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে পারবেন।
একশনএইড বাংলাদেশ এলআরপি কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুল কায়ুম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং নারী বান্ধব সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী নেত্রীরাও মতামত তুলে ধরেন এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সভায় প্রগতি নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে রমজাননগর ইউনিয়নের সোনাখালী বাজারে নারী বান্ধব বিপণন কর্নার স্থাপনের অনুমতির জন্য স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নারী বান্ধব বাজার স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।
আলোচনা সভা শেষে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চায় অবদান রাখায় এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে শিরিনা পারভীন ও রাবেয়া খাতুনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
