Category: শ্যামনগর

  • উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে: এমপি গাজী নজরুল

    উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে: এমপি গাজী নজরুল

    স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নে এক কিলোমিটার দীর্ঘ হেরিংবোন সড়কের উদ্বোধন করেছেন সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইসরাফিল সাহেবের মোড় থেকে শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উদ্বোধনকালে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগের মান উন্নত করা। এই সড়ক এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ জনগণের জন্য সহজ চলাচলের সুযোগ তৈরি করবে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, প্রকল্প কর্মকর্তা মিরাজ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • সরকারি নির্দেশনায় শৃঙ্খলিত তেল সরবরাহে জনমনে স্বস্তি

    সরকারি নির্দেশনায় শৃঙ্খলিত তেল সরবরাহে জনমনে স্বস্তি

    হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর: শ্যামনগরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলা সদরের শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন যানবাহনে তেল বিক্রয় করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ট্যাগ অফিসার, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে এবং ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকিতে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি নিয়মিত মনিটরিং করছেন। তেল বিক্রয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা প্রবেশপথে বাঁশের ফেন্সিং করা হয়েছে, যাতে একসঙ্গে একটি মোটরসাইকেলই প্রবেশ করতে পারে। ফুয়েল পাম্প এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। “নো পেপারস, নো ফুয়েল; নো ডিএল, নো ফুয়েল; নো হেলমেট, নো ফুয়েল” নীতি। তবে অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের যেকোনো একটি প্রদর্শন করলেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট ব্যবহারে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ধরনের সুশৃঙ্খল উদ্যোগে তেল ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নিয়মতান্ত্রিকভাবে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং জনভোগান্তি কমে আসবে।

  • শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী আয়োজনে পানি দিবস পালন

    শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী আয়োজনে পানি দিবস পালন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানব প্রদর্শনী, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও ব্যতিক্রমী নৌকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পানি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠে পানি দিবসের মানব ও কলস প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে কলস দিয়ে ‘পানির ফোটা’ ফুটিয়ে তোলা হয় এবং দেড় শাতধিক নারীদের অংশগ্রহণে ‘পানি দিবস’ লেখাটি ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রদর্শনী শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় মুন্সিগঞ্জের শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠ থেকে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যানার সহকারে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এরপর দুপুর ২টায় বুড়িগোয়ালীনির চুনা নদীতে ব্যাতিক্রমী এক নৌকা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসব প্রদর্শনী ও র‌্যালিতে শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের ১৫০ জন সদস্যসহ জিহা সদস্যবৃন্দ অংশ নেয়। এমবাসি অব সুইডেন ঢাকা ও ইউএন উইমেন এর সহযোগিতায় এবং এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ ও বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে নারী দিবসের এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়ার নেতৃত্বে অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, জিহা সদস্য শেফালি বিবি, শাহানারা খাতুন সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

  • শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা

    শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ভূরুলিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে এই মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। এতে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি হলুদ ফুলের সমারোহে এলাকা হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৪৯৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। ধান কাটার পর পতিত জমি কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম সময়ে উৎপাদনযোগ্য ও লাভজনক এ ফসল চাষ করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বারি হাইব্রিড-৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষে ভালো ফলন ও বাজার মূল্য পাওয়ার আশায় তারা উৎসাহিত। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত মাটিতে প্রচলিত অনেক ফসলের চাষ কঠিন হলেও সূর্যমুখী লবণ সহনশীল হওয়ায় এটি কার্যকর বিকল্প ফসল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় উপসহকারী কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সহায়তা দিচ্ছেন। কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “আগে এই জমি ধান কাটার পর ফেলে রাখা হতো। এখন সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছি। খরচ কম, লাভ বেশি- আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা করছি।” দেশে ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী তেলবীজ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদন ও সংরক্ষণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা বাড়ালে সূর্যমুখী চাষ দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে সূর্যমুখীর মনোরম ক্ষেত দর্শকদেরও আকৃষ্ট করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত শ্যামনগরে উন্মোচিত হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাজারজাতকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বৃদ্ধি পেলে শ্যামনগরের সূর্যমুখী চাষ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার

    কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর জেলে পাড়ায় দুর্যোগকালীন প্রয়োজন নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ‘আবির্ভাব’ টিম। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে টিমের সদস্যরা সরাসরি স্থানীয় জেলে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রভাবসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির সংকট এবং জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ঘাটতি তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবও প্রকট আকার ধারণ করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ‘আবির্ভাব’-এর কো-ফাউন্ডার এস এম জান্নাতুল নাঈমসহ সুজয় চক্রবর্তী, জেবা তাসনিয়া, হাসনা হেনা ও খালিদ হোসেন। তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর ও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ‘আবির্ভাব’ টিম জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগকালীন সময়ে নারী ও শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও প্রয়োজনভিত্তিক কিট নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

  • লবণাক্ত পানির প্রভাব ও সুপেয় পানির সংকট

    লবণাক্ত পানির প্রভাব ও সুপেয় পানির সংকট

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে লবণাক্ত পানির প্রভাব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে নীরব দুর্যোগ হিসেবে আঘাত হানছে। নদ-নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে পুকুর এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় নদীতে লবণাক্ত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং তা আশপাশের জলাধার ও মাটির নিচের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। অনেক স্থানে নলকূপ থাকলেও সেই পানি পানযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও একটি মাত্র মিঠা পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে পুরো গ্রাম। ফলে ভোর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী ও শিশুদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের এখানে সুপেয় পানির খুব অভাব। প্রতিদিন অনেক দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পানি পাই না। তখন বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”এদিকে, অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের কিছু সময় পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির সংকটে ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনি জটিলতার মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সচেতন মহল ও গণমাধ্যম কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা সংবাদদাতা হুসাইন বিন আফতাব বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে এটি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক স্থানে স্থাপিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণাক্ততা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, আধুনিক পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারাৃ। সবমিলিয়ে, শ্যামনগরের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সংকট এখন একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এই নীরব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • শ্যামনগরে কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

    শ্যামনগরে কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীতে একটি কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার কাঁকড়া মারা গেছে বলে ফার্মের মালিক বিল্লাল গাজী দাবি করেছেন। বিল্লাল গাজী জানান, স্থানীয় আশরাফ আলী তার কাছে কাঁকড়া চেয়েছিলেন খাবারের জন্য। কাঁকড়া দিতে না পারায় আশরাফ তার বাড়ি থেকে ফার্মে থাকা কারেন্টের লাইন খুলে নিতে চেয়েছিলেন এবং তার কাছে থাকা পাওনা টাকা পরিশোধের দাবি করেন। বিল্লালের দাবি, কারেন্ট খরচ পরিশোধ না করার কারণে আশরাফ তার সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধর করেন এবং ফার্মে বিষ প্রয়োগের হুমকি দেন। বিল্লাল আরও জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে তার ফার্মে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এরপর সকালে কর্মচারীরা গিয়ে দেখেন, পানিতে রাখা বক্সে অধিকাংশ কাঁকড়া মৃত অবস্থায় ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত আশরাফ আলী এ বিষয়ে বলেন, তার এবং বিল্লালের মধ্যে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খালেদুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জীবিকার তাগিদে মৃত্যুঝুঁকিতে উপকূলবাসী

    জীবিকার তাগিদে মৃত্যুঝুঁকিতে উপকূলবাসী

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর সঙ্গে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে এই বনে ছুটে চলেন তারা। মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ, মধু আহরণ ও গোলপাতা কাটা—এসবই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। শ্যামনগরের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। ভোরের আলো ফুটতেই ছোট নৌকায় তারা নদী পাড়ি দিয়ে বনের গভীরে প্রবেশ করেন। কখনো তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত বনের মধ্যে অবস্থান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের জেলে মোঃ মফিদুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবনে না গেলে সংসার চলে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই বনে যেতে হয়। কখনো মাছ পাই, কখনো খালি হাতে ফিরি, তবুও পরিবারের জন্য আবার যাই।” গাবুরার জেলে মোছাঃ আছমা খাতুন বলেন, “আমাদের জন্য সুন্দরবনই সব। এখন আগের মতো মাছ-কাঁকড়া পাওয়া যায় না, তবুও দিন পার করতে চলে এখানে।” স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমায় এবং সীমিত সংখ্যক জেলে বনের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন। তবুও ঝুঁকি কমে না। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, চিকিৎসা সেবার অনুপস্থিতি, বাঘের আক্রমণ, কুমির, দস্যু, আকস্মিক ঝড়—সবই জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর কেউ না কেউ বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান, ফলে নারীরা ‘বাঘ-বিধবা’ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও স্পষ্ট। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে। নদী ভাঙনের ফলে অনেক পরিবার বসতভিটা হারাচ্ছেন। তবুও তারা আশা ছাড়েন না। প্রতিদিন ভোরে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নৌকা ভাসান সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটানোর সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।

  • নীরব এক সংগ্রামী আলোকবর্তিকা- এবিএম কাইয়ুম রাজ

    নীরব এক সংগ্রামী আলোকবর্তিকা- এবিএম কাইয়ুম রাজ

    সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে যিনি অবিচল—তিনি এবিএম কাইয়ুম রাজ। শ্যামনগরের কৈখালী থেকে উঠে আসা এই তরুণ শুধু একজন সাংবাদিক নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আত্মার আত্মীয়, সময়ের দর্পণে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

    ছোটবেলা থেকেই বই আর বাস্তবতার হাত ধরে যাঁর যাত্রা, সেই কাইয়ুম রাজ নিজের জীবনকে গড়ে তুলেছেন সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক নীরব বিপ্লবী হিসেবে। কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিষ্পাপ শৈশব থেকে শুরু করে গুমানতলী কামিল মাদ্রাসার কঠোর শিক্ষাজীবন, সবকিছুর পেছনে ছিল একটি লক্ষ্য—মানুষের জন্য কিছু করা।

    তিনি এখন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ-এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর পরিচয় শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রভাত বার্তা, দক্ষিণের বার্তা এবং দেশ জনতা’র মতো পত্রিকায় লেখালেখি করে তিনি সমাজের নানা দিক তুলে ধরছেন সাহসিকতার সঙ্গে।

    তাঁর কলম শুধু সংবাদ লেখে না, লেখে প্রান্তিক মানুষের না-বলা কষ্ট, প্রতিবাদহীন অন্যায় আর অবহেলিত জনপদের বুকচেরা গল্প। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের নদীভাঙা জনপদের কষ্টকে তুলে ধরতে গিয়ে কখনো তিনি হয়ে ওঠেন মাঠের কর্মী, কখনো মানবিক সহায়ক, আবার কখনো দুর্নীতির প্রতিবাদে বজ্রকণ্ঠ।

    কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়—কাইয়ুম রাজের মধ্যে আছে সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা। শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসহায় পরিবারে খাবার পৌঁছে দেওয়া, কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো—সবখানেই দেখা যায় তাঁর আন্তরিক অংশগ্রহণ।

    তিনি বিশ্বাস করেন, “সাংবাদিকতা কেবল তথ্য জানানোর মাধ্যম নয়, এটি হতে পারে সমাজ বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।” সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিদিন লিখে চলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, প্রান্তিক মানুষের পক্ষে।

    এবিএম কাইয়ুম রাজ রাজনীতির মাঠে নেই, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নীরব আলোকবর্তিকা হিসেবে। যাঁরা তাঁকে চেনেন, বলেন—“এই ছেলেটার চোখে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনি হৃদয়ে আছে মানুষের ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা।”

    এই তরুণের নিরলস পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তনের জন্য বয়স নয়, প্রয়োজন একান্ত ইচ্ছা, সাহসিকতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মন। এবিএম কাইয়ুম রাজ হোক বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা, কলমধারীদের আদর্শ, এবং শ্যামনগরের গর্ব।

  • গাবুরায় ৫০০ দুস্থ পরিবার পেল ‘নাবিক’র খাদ্যসামগ্রী

    গাবুরায় ৫০০ দুস্থ পরিবার পেল ‘নাবিক’র খাদ্যসামগ্রী

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে ৫০০ দুস্থ ও প্রান্তিক পরিবারের মাঝে রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে দাতব্য সংস্থা নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ইসলামিক কমিউনিটি (নাবিক)। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় গাবুরার চাঁদনীমুখা ঘাটে ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার বাস্তবায়নে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জিএম মাছুদুল আলম, নাবিকের শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের ম্যানেজার সাইফুর রহমান, সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা ও নাবিকের অন্যান্য স্টাফ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার কর্মএলাকা গাবুরার চকবারা, চৌদ্দরশি, চাঁদনীমুখা ও ডুমুরিয়া ঘাটে নদীপথে ৫০০ পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল- চাল ৪ কেজি, ডাল ১ কেজি, আলু ৩ কেজি, চিনি ১ কেজি, পেঁয়াজ ২ কেজি, তেল ১ লিটার, খেজুর ৫০০ গ্রাম, সেমাই ২ প্যাকেট ও ছোলা ১ কেজি। পবিত্র রমজান মাসে গাবুরার অনেক দুস্থ, নারীপ্রধান ও প্রান্তিক পরিবার খাদ্যসংকটে ভোগে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছরের মতো নাবিকের এই খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা নাবিকের খাদ্য সহায়তা, বস্ত্র বিতরণ, নিরাপদ বাসস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নাবিকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে গাবুরার দুর্যোগকবলিত নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উল্লেখ্য, নাবিকের সহায়তায় ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা গাবুরায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিদরিদ্র পরিবারের শিশু পুনর্বাসন, সুপেয় পানি সরবরাহ, ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি প্রশিক্ষণ, আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম এবং মানবাধিকার সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এছাড়া দুর্যোগকালে খাদ্য সহায়তা, কুরবানির মাংস ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা জরুরি সহায়তা প্রদান করছে।