Category: জাতীয়

  • আশাশুনিতে পিক আপ উল্টে ২৩ শ মুরগির মৃত্যু, আহত-৩

    আশাশুনিতে পিক আপ উল্টে ২৩ শ মুরগির মৃত্যু, আহত-৩

    এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি প্রতিনিধি। সাতক্ষীরার আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়কে মুরগি বহনকারী পিকআপ উল্টে ২ সহস্রাধিক সোনালী(কক)মুরগির মৃত্যু হয়েছে। পিকআপটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ড্রাইভার সহ ৩ জন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্র ৮ টার দিকে।
    জানাগেছে,সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা থেকে ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৬৮১৩ নং পিক আপ ২৩শ পিচ সোনালী (কক) মুরগি ক্রয় করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিল। আশাশুনি টু সাতক্ষীরা সড়কের চিলেডাঙ্গা মোড় এলাকায় পৌছলে একটি প্রাইভেটকে সাইট দিতে গিয়ে অসতর্কতা বশত রাস্তার বাম পার্শে মৎস্য ঘেরের মধ্যে পড়ে যায়। পানিতে ডুবে পিকআপে থাকা সকল মুরগি মারা যায়। মুরগির আনুমানিক মূল্য ৭ লক্ষ টাকা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আশাশুনি স্টেশন ম্যানেজার জানান,খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ড্রাইভারসহ ৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাউকে সেখানে না পাওয়ায় নাম ঠিকানা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ড্রাইভারসহ ৩ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • কালিগঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরা কুকরালী এসকে স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন

    কালিগঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরা কুকরালী এসকে স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন

    কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরা কুকরালী এসকে স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

    শুক্রবার বিকাল ৪ টায় উপজেলার কিষান মজদূর ইউনাইটেড একাডেমি হাইস্কুল মাঠে কৃষক দল কৃষ্ণনগর শাখা আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় হাজারো ক্রিড়ামোদী দর্শকদের উপস্থিতিতে সাতক্ষীরা কুকরালী এসকে স্পোর্টস ও রতনপুর ইউনাইটেড ক্লাবের মধ্য ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। চার দলীয় নকআউট টুর্নামেন্টের উত্তেজনা পূর্ণ ফাইনাল খেলাটিতে প্রথমঅর্ধে গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়। দ্বিতীয় অর্ধের শেষ ভাগে রতনপুর ও কুকরালী উভয়ই এক এক গোল করে সমতা ধরে রেখে খেলার নির্ধারিত সময় অমিমাংসিত ভাবে শেষ হলে, টাইব্রেকারে গড়ায় এবং উভয় দল ৫টি করে পেনাল্টি শট করার সুযোগ পায়। টাইব্রেকারে রতনপুর ইউনাইটেড ক্লাবকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে সাতক্ষীরা কুকরালী এসকে স্পোর্টস একাডেমি চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে টুর্নামেন্ট জুড়ে ক্রিড়ানৈপূর্ণ দেখানো ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট, ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ এবং রানার্সআপ ও চ্যাম্পিয়ন দলের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের জেলা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • কর্মী সম্মেলন উপলক্ষ্যে নূরনগর জামায়াতের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    কর্মী সম্মেলন উপলক্ষ্যে নূরনগর জামায়াতের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    হুসাইন বিন আফতাব:

    আগামী ৩০ নভেম্বর সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলন সফল করতে নুরনগর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকাল ৩টায় নুরনগর কেন্দ্রীয় মসজিদে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন নুরনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. রুহুল আমিন এবং পরিচালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি আশরাফুল আলম।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলার আমির মাওলানা আব্দুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা এবং সূরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ।

    সভায় নুরনগর ইউনিয়নের নায়েবে আমির মজিবুর রহমান, সেক্রেটারি লিয়াকত হোসেন বাবু, বাইতুল মাল সম্পাদক আবুল হোসেনসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি গাজী নজরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি নুর আলম, যুব জামায়াতের সভাপতি ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সেক্রেটারি রাজু আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব রহমান ও প্রচার সম্পাদক রাশিদুল ইসলামও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    নুরনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সভায় ৩০ তারিখের কর্মী সম্মেলন সফল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও প্রস্তুতি কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়।

  • আ.লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে বললেন জামায়াত আমির

    আ.লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে বললেন জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নিকৃষ্টতম একটি দিন ছিল ২৮ অক্টোবর ২০০৬। 

    তিনি বলেন, ২০০৬ সালের সেই দিনে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত সমাবেশে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে হত্যা করেছে। যেদিন লগি-বৈঠার তাণ্ডবে দেশ, রাজনীতি, সমাজ তার পথ হারিয়েছিল। সেদিন মানবতার মৃত্যু হয়েছিল।

    ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যাদের হত্যা করা হয়েছে প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে (রমনা) ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের লগি-বৈঠার তাণ্ডবের প্রতিবাদে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মু. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যথাক্রমে- মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম ও এডভেঅকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য যথাক্রমে- সাইফুল আলম খান মিলন, মো. আব্দুর রব, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ নেতারা।

    অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুদ্দীন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সেক্রেটারি রাশেদ খান, হেফাজতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমির মুফতি এজহারুল ইসলাম চৌধুরীসহ জাতীয় নেতারা।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ যে অপরাধ করেছে তা তাদের পালানোর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। এখন আওয়ামীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এই অন্তর্বতীকালীন সরকার হয়তো তাদের বিচার শেষ করতে পারবেন না; কিন্তু শুরুটা তাদেরই করতে হবে। আওয়ামী লীগ কাল্পনিক অভিযোগ দাঁড় করিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচারিক হত্যা করেছে। 

    তিনি আরও বলেন, পুরো জাতিকে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। পুরো জাতি ছিল একদিকে আর আওয়ামী লীগ তার শরিক ১৪ দলকে নিয়ে ছিল জনগণের বিপরীত দিকে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে কিংবা ভোটে কোনোটাতেই বিশ্বাসী নয়। তারা ভিনদেশীদের সহায়তায় ক্ষমতা দখলে বিশ্বাসী।

    অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ থেকে ৭৫ সালে বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম, একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, খুন, গুম, ভোট ডাকাতির ইতিহাস রচনা করেছে। মানুষ তার শাসনামলে জুলুম নির্যাতনে দিশেহারা ছিল। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে, তওবা করে, রাজনীতির ময়দানে একবার সুযোগ ভিক্ষা চেয়ে রাজনীতির মাঠে জনগণের দয়ায় এসেছে। আসার পর শেখ হাসিনা আবার দেশ ও জনগণকে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভারতের মদদে বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছিল।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আগে আমাদের দাবি ছিল হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশ চাই। এখন দাবি হচ্ছে আওয়ামী লীগ মুক্ত বাংলাদেশ চাই। আওয়ামী লীগের গুপ্তচর পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের স্তরে স্তরে রয়ে গেছে। এদের বহাল রেখে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আওয়ামী লীগের দোসররা প্রশাসনে থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন থিউরি বের করে।

    তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

  • পটুয়াখালী-৩ আসনে কার্যক্রম চালাতে নুরকে সহযোগিতার নির্দেশ বিএনপির

    পটুয়াখালী-৩ আসনে কার্যক্রম চালাতে নুরকে সহযোগিতার নির্দেশ বিএনপির

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে (ডাকসুর সাবেক ভিপি) তার সংসদীয় এলাকা পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে দলীয় নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। ২২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    সোমবার (২৮ অক্টোবর) চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই চিঠির বিষয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করে তা পরে জানানো হবে।

    এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার সংসদীয় এলাকায় (পটুয়াখালী-৩, গলাচিপা-দশমিনা) জনসংযোগ ও তার দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার থানা, উপজেলা বা পৌরসভায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিষয়টি জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করতে আপনাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। এই আদেশ অতীব জরুরি।

    পটুয়াখালী-৩ আসনে কার্যক্রম চালাতে নুরকে সহযোগিতার নির্দেশ বিএনপির

    তারেক রহমানের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভেচ্ছা বিনিময় মঙ্গলবার

    এই নির্দেশনা নিয়ে বিএনপিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুরুল হকের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নে। ফলে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে তার নির্বাচন করার গুঞ্জন চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

    অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের বাড়ি দশমিনা উপজেলা সদরে। তিনি পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনয়নে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    চিঠি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসান মামুন বলেন, এই চিঠির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। নুরুল হক বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে গেলে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক তাকে বাধাগ্রস্ত করে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উলানিয়ায় নুরুল হকের ওপর হামলা হয়েছিল। পুনরায় যাতে কেউ এ রকম ঘটনা না ঘটাতে পারে, সে লক্ষ্যেই মূলত বিএনপির সহযোগিতা করার নির্দেশ।

  • দেবহাটা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    দেবহাটা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠার তাণ্ডব: আজ দেবহাটা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

    দেবহাটা সখিপুর প্রতিনিধি: রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজ। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা ও লাশের উপর নৃত্য করার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবিতে এবং শহীদদের স্মরণে পারুলিয়া প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবহাটা উপজেলা শাখা।
    আজ ২৮ অক্টোবর (সোমবার) বিকাল ৩ টায় পারুলিয়া বাস স্ট্যান্ড জামায়াত অফিস চত্ত্বরের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
    উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওঃ অলিউল ইসলাম’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এইচ এম ইমদাদুল হকের সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সাতক্ষীরা জেলার সহকারী সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, জেলা অফিস সম্পাদক রুহুল আমিন, জেলার অন্যতম সদস্য মোস্তফা আছাদুজ্জামান মুকুল, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি সোলায়মান হোসাইন,ও আব্দুল গফুর সরদার, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল অহেদ, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ইসরাইল হোসেন, উপজেলা উত্তর ছাত্রশিবির সভাপতি রোকনুজ্জামান, উপজেলা সদস্য জিয়াউর রহমান, উপজেলা সদস্য মাওলানা সামছুল আরিফ, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের সভাপতি রাজু আহমেদ,সাবেক সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ময়নুদ্দীন ময়না, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আনারুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু ইউসুফ, সখিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ইয়াকুব আলী সরদার, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাহবুবুল আলম, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

  • ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

    ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত


    সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা শাখার উদ্যোগে ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ অক্টোবর সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা সদর জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল (নবাগত জেলা আমীর), শেখ নুরুল হুদা, সেক্রেটারী সমাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওমর ফারুক, জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইমামুল হোসেন, শহর ছাত্র শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আব্দুস সুবহান মুকুল, শহর জামায়াতের আমীর জাহিদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারী মাওলানা রুহুল আমিন, সদর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আজাদুল ইসলাম, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর ফখরুল হাসান লাভলু, শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান, সদর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুস সবুর প্রমুখ।
    সভায় সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন, ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবরের পথ ধরে আওয়ামী লীগ যে সন্ত্রাসী রাজনীতি শুরু করেছিল তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তখন থেকে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকারসহ মানুষের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়
    পরে সন্ধা থেকে ২৮ অক্টোবর স্মরনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, কলারোয়া, তালা, দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরে পৃথক ভাবে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সেমিনার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • আশাশুনিতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    আশাশুনিতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত


    এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি(সাতক্ষীরা)।।আশাশুনিতে শিক্ষক সম্মেলন-২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় আশাশুনি মহিলা কলেজ হলরুমে আশাশুনি উপজেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে। উপজেলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ এর সভাপতি ও আশাশুনি সরকারি কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে ও আশাশুনি আদর্শ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উপদেষ্টা ও আগরদাঁড়ি কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য- রাখেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল,উপদেষ্টা ও শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবু বক্কার সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবান মুকুল,উপদেষ্টা আবু মছা তারিকুজ্জামান তুষার, মাওলানা নুরুল আফসার মুর্তজা, সাতক্ষীরা জেলা আদর্শ শিক্ষক পরিষদের ‌ ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি প্রফেসর মাওলানা আব্দুল ওয়ারেছ, মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি ও শরাপপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, প্রতাপনগর এ পি এস ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, প্রতাপনগর ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা অহিদুজ্জামান, আশাশুনি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ নেতা মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, কাকবাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ, ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক পরিষদের উপজেলা সভাপতি মাওলানা গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। সভায় আশাশুনি উপজেলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ,মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদ, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, কারিগরি শিক্ষক পরিষদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদ ও কিন্টার গার্ডেন শিক্ষক পরিষদের উপজেলা আংশিক কমিটির গঠন করা হয়।

  • দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকা প্রকাশ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকা প্রকাশ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


    সাতক্ষীরা সংবাদদাতাঃ সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকা পূনরায় প্রকাশ উপলক্ষে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টায় সাতক্ষীরা আল আমিন ট্রাষ্টে কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার প্রকাশক শেখ নুরুল হুদা’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, জেলা মিডিয়া বিভাগের সমন্বয়ক ও দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার জেলা সংবাদদাতা আবু সাইদ বিশ্বাস, জেলা মিডিয়া বিভাগের সদস্য, মো. রুহুল আমিন, মো. হাবিবুর রহমান, এড. আবু তালেব, সাংবাদিক শাহজান আলী মিঠু, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকা ও দিগন্ত পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মুহাঃ জিল্লুর রহমানসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    এসময় প্রধান অতিথি শেখ নূরুল হুদা বলেন পত্রিকা হলো সমাজের দর্পণ। আর সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যা গৌরভের । যে পেশা একটি দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরো বলেন, আমি দেখেছি অনেক সাংবাদিক পারিবারিক সচ্ছলতা উপেক্ষা করে সংবাদ সংগ্রহ করেন। যে কারনে সৎ সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিক হিসেবে পরিচয় পায়। মতবিনিময় সভায় ওজলার ৭৮টি ইউনিয়নের ২৫০ জন সাংবাদিক অংশ গ্রহণ করেন

  • চোখের পানি ছাড়া সবই বিষাক্ত, আতঙ্কিত সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬০ লাখ মানুষ

    চোখের পানি ছাড়া সবই বিষাক্ত, আতঙ্কিত সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬০ লাখ মানুষ

    আবু সাইদ বিশ্বোস, সাতক্ষীরাঃ প্রকল্পের পর প্রকল্প, আর কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয় করার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬০ লাখ মানুষের পিছু ছাড়ছে না দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধতা। ভারি বৃষ্টিতেই পানিবদ্ধতা, প্রায় দুই যুগ ধরে চলা পানিবদ্ধতার দুঃখ স্থায়ী রূপ পেতে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা, তালা, কলারোয়া, যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর, খুলনার ডুমুরিয়া, ফুলতলা ও পাইকগাছার মানুষ প্রতি বছর পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। ভারী বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে কপোতাক্ষ, বেতনাপাড়ের ও ভবদহের জনপদ। ২০০০ ও ২০১১ সালে এ অঞ্চলে এমন বড় ধরনের বন্যা ও জলাবদ্ধতা হয়েছিল। কিন্তু তখন মানুষ এত আতঙ্কিত হয়ে পড়েনি, কেননা ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার অনেক প্রকল্প শেষ হয়েছে বা চলমান রয়েছে। প্রকল্পের পর প্রকল্প যখন ব্যর্থ, জলাবদ্ধতা নিরসনের তেমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় মানুষ বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, আসলে এরপর কোনও প্রকল্প নেওয়া হবে, তাদের কী হবে?

    চারদিকে শুধু পানি আর পানি। অসহনীয় জনদুর্ভোগ, এক কথায় মানবিক বিপর্যয়। ফসলের মাঠ, মাছের ঘের, খাল-বিল সবই পানিতে একাকার। শোয়ার ঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে পানি। উঠানে কোমর-সমান পানি। বাজারঘাট, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি। রাস্তাঘাট ডুবে আছে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা বা সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে। রান্না করার মত শুকনো জায়গাটুকুও নেই। কোন মতে খাবারই যোগাড় করতে পারলেও টয়লেট করা বিশাল ঝামেলার। অনেকে উঁচু স্থানে পলিথিন ব্যাগে টয়লেট করে। ঠিকমত না ফেললে, তা আবার ভাসতে ভাসতে ঘরবাড়িতে চলে আসে। মানুষ নিজেরাই যখন মহাবিপদে তখন তাদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে আরও এক ঝামেলায়, কোথায় রাখবে তাদের। বিষাক্ত পানির সঙ্গে বসবাসের ফলে অনেকেই চর্ম রোগসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত। ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর, পেটের পীড়া, আমাশয়ের মতো রোগ নিত্যসঙ্গী। কৃষি জমি পানির নিচে, বিষাক্ত পানিতে মাছও মারা যাচ্ছে, কাজকর্মও নাই, চারদিকে হাহাকার। অনেকে ভিটেমাটি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে ভিন্ন কোনও স্থানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা শহর-বন্দরে। এমন যখন অবস্থা এলাকার মানুষের তখন মরেও শান্তি নেই। সব জায়গায় পানি, মাটি খুঁড়ে মরদেহ দাফন করা বা শ্মশানে তোলার কোনও সুযোগও নেই। মনে হয় শুধু মানুষের চোখের পানিটুকুই বিশুদ্ধ, আর বাকি সব বিষাক্ত। এসব অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

    বিশেজ্ঞরা বলছে, বিগত কয়েক দশক বা তার আগে দেশের এই অঞ্চলে যে বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীবনধারা ছিল, বর্তমানে তা আর নেই। নদী, খালবিল, নৌকা, ম্যানগ্রোভ গাছ, ঝোপঝাড়, কৃষিপণ্য, মাছ, পশুপাখি এবং আরও অনেক কিছুর আর দেখা মেলে না। জোয়ার-ভাটার খেলা, গয়না নৌকা, টাবুরে নৌকা, পাল নৌকা, ভাটিয়ালি সুরে গান আর নেই। একসময় কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থান পণ্যবাহী জাহাজ এসে ভিড়ত পাটকেলঘাটা, চৌগাছা জাহাজ বন্দরে। ঘাটে ঘাটে ভিড়ত স্টিমার, লঞ্চ। কিছুটা প্রাকৃতিক কারণে আর অধিকাংশটা মনুষ্যসৃষ্ট কারণে সবই নষ্ট হয়ে গেছে। কপোতাক্ষ, বেতনা, শালতা, মরিচাপ, গোয়ালঘেশিয়া, খোলপেটুয়া ইত্যাদি একসময় প্রবহমান ও গতিশীল ছিল, জনপদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনত; কিন্তু এখন এগুলো মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলি পড়ে নাব্যতা হারিয়েছে। এখন ঠিকমতো পানি নিষ্কাশিত হয় না।

    অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এই সরু নদীগুলো দিয়ে সাগরের পানি উপরে উঠে আসছে। উপরের উজান প্রবাহ না থাকায় পলি জমে নদী ভরাট প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নদী মৃত্যুর পেছনে প্রধান দুটি কারণ দেখছেন পানি বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, এই অঞ্চলের নদী এবং এর উপনদীগুলো পদ্মা নদী এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কয়েকটি নদীর সাথে যুক্ত ছিল। পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজ এবং আরও কিছু বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভারত পানি প্রত্যাহার করায়এ অঞ্চলের নদীগুলো উজানের পানির প্রবাহ ও উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উজানের পানির অভাবে নদীগুলোর তলদেশে পলি জমে গতি হারিয়েছে।
    দ্বিতীয়ত, নদী ও তার পার্শ্বে অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্থাপনা নির্মাণ যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশেষত, ‘সবুজ বিপ্লব’ নামে ১৯৬০ সালের দিকে শুরু হয় উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণের কাজ। ১৯৫৪ এবং ১৯৫৫ সালের উপর্যুপরি ভয়াবহ বন্যার পর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানের লক্ষ্যে ১৯৫৭ সনে জাতিসংঘের অধীনে গঠিত ক্রগ মিশন’র সুপারিশক্রমে উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। এই পানি নীতিতে এ অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, নদীর গতি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র ও জীবনযাত্রার প্রণালীর বিষয়টি বিবেচিত হয়নি।

    সম্প্রতি পেপার-পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর মৌজার ৩৩ বিঘা জলমহাল প্রায় সাত বছর ধরে দখল করে আছে। ২০১৭ সালে ঐ ব্যক্তি জাল দলিল ও কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে বোকা বানিয়ে উক্ত জলমহাল দখল করে নেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত দলিলটি জাল হিসেবে ঘোষণা করে জব্দ করে এবং খাস খাল হিসেবে নতিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু জাল দলিলকারী চক্র বিষয়টি সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ও হাইকোর্টে আপীল করে। সেখানেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। এসব কিছুর পরও প্রভাব খাটিয়ে এই চক্র এই জলমহাল দখল অব্যাহত রেখেছে। জাল দলিল বা কাগজপত্র বানিয়ে নদী-খাল-জলমহাল-খাস জমি দখলের এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে এই এলাকায়।

    স্থানীয়রা জানান, অনেকে রাজনৈতিক প্রভাবে বা টাকার বিনিময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের অফিস বা সচিবালয় থেকে নদী-খাল-জলমহাল দীর্ঘমেয়াদী ইজারা নিয়ে যায়। আর একবার এগুলো দখলবাজদের হাতে চলে গেলে তারা যাচ্ছেতাইভাবে ব্যবহার শুরু করে। বিশেষ করে ঘনঘন বাঁধ দেওয়ার কারণে পানির সাধারণ প্রবাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।