Category: জাতীয়

  • আশাশুনি নবাগত ওসির সাথে জামায়াতের সৌজন্য সাক্ষাত

    আশাশুনি নবাগত ওসির সাথে জামায়াতের সৌজন্য সাক্ষাত

    আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি থানায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ নোমান হোসেনের সাথে বড়দল ইউনিয়ন জামায়াত নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার অফিসার ইনচার্জের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামাতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান,বড়দল ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল ওয়াজেদ, সেক্রেটারী সেকেন্দার আলী,হাফেজ রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। উপজেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে থানা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে নেতৃবৃন্দ আশ্বাস প্রদান করেন।

     

  • আশাশুনির সাবেক ওসি বিশ্বজিৎ এর নির্দেশে ইন্সপেক্টর রফিকুলের নেতৃত্বে নবীর কটুক্তিকারী প্রতিবাদী মিছিলে বাধা দেন পুলিশ

    আশাশুনির সাবেক ওসি বিশ্বজিৎ এর নির্দেশে ইন্সপেক্টর রফিকুলের নেতৃত্বে নবীর কটুক্তিকারী প্রতিবাদী মিছিলে বাধা দেন পুলিশ

    স্টাফ রিপোর্টার: আশাশুনির মিত্র তেতুলিয়া কাদাকাটি ইউনিয়নের মন্টু অধিকারীর পুত্র রাকেশ অধিকারী ফেসবুকে মুসলিম জাহানের হৃদয়ের স্পন্দন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করায় কাদাকাটি ইউনিয়নের মিত্র তেতুলিয়া ইউনিয়নসহ আশাশুনি উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতিবাদী মিছিল বের করেন এ সময় আশাশুনি থানার সাবেক ওসি বিশ্বজিৎ কুমার অধিকারীর নির্দেশে সাবেক তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এস আই শাহিনুর রহমান ও আশাশুনি থানার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ডিবি পুলিশ বাজারে অবস্থান করেন । আসর নামাজ শেষে বিভিন্ন মসজিদ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মিছিলে যুক্ত হয়ে মেইন রোডে উঠার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, এস আই শাহিনুর রহমান ও সাথে থাকা ডিবি পুলিশ শান্তিপূর্ণ ওই মিছিলে বাধা প্রদান করেন । পুলিশের ভয়ে এতদিন মুখ না খুললেও গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর এলাকাবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একের পর এক মুখ খুলতে শুরু করেছে । তেতুলিয়া বাজার জামে মসজিদের ইমাম রমজান আলী বলেন ২৪ মে ২০২৪ বাদ জুম্মা রোজ শুক্রবার আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আসরের নামাজের পূর্বে সাবেক তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলাম আমার মসজিদে এসে আমাকে বললেন মিছিল করা যাবে না, আমি বললাম কেন করা যাবে না তারপর তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলাম আমাকে ধমক দিয়ে বলেন বললাম না করা যাবে না । এবং মিছিল প্রত্যাহারের মাইকে ঘোষণা দিতে বাধ্য করেন । তেতুলিয়া চর মসজিদের আরেক ইমাম মাওলানা হোসাইন আহমদ জানান তদন্ত ওসি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ আমাদের মিছিলে বাধা দেন ও এস আই শরিফুল ইসলাম আমার উপর চড় উঠিয়ে মারতে আসে আমি এর বিচার চাই ।

    আশাশুনি থানার পুলিশ পরিদর্শক সাবেক ওসি তদন্ত রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও প্রতিবাদী মিছিলে বাধা দেওয়া এবং গ্রেফতারের হুমকির বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেন ।

    বড়দল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাফেজ রুহুল আমিন বলেন সেদিন আশাশুনি থানার সাবেক ওসি বিশ্বজিৎ কুমার অধিকারীর নির্দেশে পুলিশ আমাদের গ্রেফতার করার হুমকি ও মিছিলে বাঁধা প্রদান করে ।
    আমি বাদী হয়ে রাকেশ অধিকারীর বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছিলাম কিন্তু আশানরূপ কোন ফল পাইনি ।
    বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি একে ইউসুফ বলেন স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পুলিশ ছিল অন্যতম হাতিয়ার । আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কটুক্তি কারীকে প্রকাশ্যে ও গোপনে যে সকল প্রশাসন সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে চাকরি থেকে অপসারণ করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি ।

  • যুবকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় দেশবাসী : জামায়াতে আমীর

    যুবকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় দেশবাসী : জামায়াতে আমীর

    অনলাইন: যুবকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় দেশবাসী মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যে যুবকেরা আগামীর বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে বুক পেতে দিয়ে বলেছে, ‘বুকের ভিতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।’ সেই যুবকদেরকে সম্মানিত করতে শুধু জামায়াত না, তাদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে চায় দেশবাসীও।
    সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বাদ মাগরিব চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
    জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ মিলেমিশে সমান অধিকারের ভিত্তিতে বসবাস করবে। সর্বক্ষেত্রে দেশাত্ববোধের মাধ্যমে দেশকে উন্নত করতে সচেষ্ট থাকবে। কোনো চাঁদাবাজ, দুষ্কৃতিকারী, দুর্নীতিবাজ থাকবে না। কেউ কোনোভাবে অন্যায়ের শিকার হবে না।’
    তিনি বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে ১৫ বছরে দেশের ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আন্দোলন করে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে পারিনি। তার পতন ঘটিয়ে যে সন্তানেরা আজ আমাদের স্বাধীনতা এনে দিল, এদেশের মানুষকে মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে দিল তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চিরিরবন্দর উপজেলা শাখা আয়োজিত পথসভায় উপজেলা আমির মো: রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
    এছাড়া সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজউদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য মাহাবুবুর রহমান বেলাল, দিনাজপুর জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান, ঢাকা মহানগরী মোহাম্মদপুর (দক্ষিণ) থানা আমির শাখাওয়াত হোসেন, সাবেক জেলা আমির ও সাবেক চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আফতাবউদ্দীন মোল্লা, জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমান পলাশ ও সাইদুল ইসলাম সৈকত, জামায়াতের জেলা কর্মপরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন, জেলা ইউনিট সদস্য মাওলানা লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
    এ সময় খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমির আনিছুর রহমান, চিরিরবন্দর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল মমিন, পার্বতীপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো: আবু সায়েদ, খানসামা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আতাউর রহমান, খানসামা ওলামা বিভাগের সভাপতি মনিরুজ্জামান নিয়াজী, চিরিরবন্দর উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহসিন আলী, পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি মো: রাজিউল ইসলাম, খানসামা উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কাফি, উপজেলা ছাত্রশিবিরের (উত্তর) সভাপতি মো: হারুনুর রশিদ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের (দক্ষিণ) সভাপতি হেলাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • থার্টি ফার্স্টে আতশবাজি-পটকা ফোটানো বন্ধে মোবাইল কোর্ট

    থার্টি ফার্স্টে আতশবাজি-পটকা ফোটানো বন্ধে মোবাইল কোর্ট

    অনলাইন : ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস উড়ানো বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর কারণে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ হয়। অতিরিক্ত শব্দদূষণে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মানসিক চাপের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া, ফানুস উড়ানোর ফলে আগুনের ঘটনা ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়।
    সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার দীপংকর বর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী এসব কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রথমবার আইন লঙ্ঘনে এক মাসের জেল বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। পুনরায় অপরাধ করলে ছয় মাসের জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইংরেজি নববর্ষে আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস উড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকার ক্লাবগুলোতে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এ কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকতে সকলের প্রতি অনুরোধও জানানো হয়।

  • যমুনা রেলসেতু চালু হচ্ছে জানুয়ারির শেষ দিকে

    যমুনা রেলসেতু চালু হচ্ছে জানুয়ারির শেষ দিকে

    ডেস্ক: যমুনা নদীর উপর প্রথম ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ রেলওয়ে সেতুটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর প্রকল্প’ পরিচালক আল ফাত্তাহ মো: মাসুদুর রহমান সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বাসস’কে বলেন, আমরা মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করেছি এবং কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৯৮ শতাংশের বেশি।
    তিনি বলেন, সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার, পূর্ব রেলস্টেশন থেকে পশ্চিম রেলস্টেশনের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার।
    প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমরা ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ রেলওয়ে সেতুতে পরীক্ষামূলক চালানো শেষ করেছি এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছি।’
    তিনি বলেন, সেতুর প্যারামিটার পরিমাপ এবং স্ট্যাটিক লোড পরিমাপসহ সব ধরনের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।
    প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, ১৬ হাজার ৭৮০ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের বৃহত্তম ডেডিকেটেড ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ সেতটিু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে মূল সেতু নির্মাণসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) দিয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা, বাকি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
    এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে গৃহীত প্রকল্পের মূল কাজ করছে দু’টি জাপানি যৌথ-উদ্যোগ সংস্থা। বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রায় ৩০০ মিটার উজানে গ্যাস পাইপলাইন সুবিধা সম্বলিত ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু প্রকল্পটি পাস করে এবং প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের ভৌত কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের আগস্টে এবং সেতুর ভিত্তি স্থাপনের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের মার্চ মাসে।
    এই রেল সেতুটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়াতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রাজধানী এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে ট্রেন পরিচালনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে। এটি ট্রেনের সময়সূচিতে বিলম্ব কমাতেও সাহায্য করবে। নতুন এই রেল সেতুতে দৈনিক ৮৮টি ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা থাকবে, যেখানে বঙ্গবন্ধু সেতুতে দিনে সর্বোচ্চ ২২টি ট্রেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

  • মাস্টার হাফিজুর রহমানের শ্বশুরের ইন্তেকাল, জানাযা সম্পন্ন

    মাস্টার হাফিজুর রহমানের শ্বশুরের ইন্তেকাল, জানাযা সম্পন্ন

    শফিকুল ইসলাম, লাঙ্গলঝাড়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার হাফিজুর রহমানের শ্বশুর মাস্টার আব্দুল আজিজ (৮০) ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন। বুধবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় বার্ধক্য জনিত কারণে নিজ বাড়ি কলারোয়ার লাঙ্গলঝাড়ায় ইন্তেকাল করেন।

    জানাযা পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা ওমর আলী, মাস্টার হাফিজুর রহমান, লাঙ্গল ঝড়া জামে মসজিদের ইমাম আজহারুল ইসলাম, মরহুমের ছোট ছেলে অধ্যাপক মহসিন রেজা পিন্টু প্রমুখ।

  • সাতক্ষীরায় বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৪ উপলক্ষে ১০ জনকে জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান

    সাতক্ষীরায় বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৪ উপলক্ষে ১০ জনকে জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান

     

    মুহাম্মদ হাফিজ, সাতক্ষীরা : বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৪ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় জয়িতা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে ১০ জনকে জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন
    সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজিব খান, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম টুটুল, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাঃ আবুল কালাম বাবলা।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে  স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা অধিদপ্তর সাতক্ষীরার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় বিশ্বাস, নারী নেত্রী খুরশিদ জাহান শিলা, জোস্না দত্ত, লিলি খাতুন, সদর হাসপাতালের ওসিসি প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিকী, সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন, শাকিবুর রহমান বাবলা, ফারহা দিবা খান সাথী প্রমুখ। সম্মাননা অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ে ৫ জন ও উপজেলা পর্যায়ে ৫ জন জয়িতাকে  সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ জন জয়িতারা হলেন, আফরোজা খাতুন, নাহিদাল আরজিন, মমতাজ খাতুন, জুলেখা খাতুন, প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস, নুরুন্নাহার, স্বর্ণলতা পাল।

  • সাতক্ষীরায় ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল

    সাতক্ষীরায় ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল

    ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা এবং দেশের কয়েকটি সীমান্তে ভারতীয় উগ্রবাদীদের হামলার প্রতিবাদে ও ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    আজ ৪ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মেইন গেটের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

    মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘হিন্দু-মুসলিম ঐ’ক্য গড়ো, বাংলাদেশ র’ক্ষা করো’,‘ভারতীয় আধিপত্য-ভেঙে দাও রুখে দাও’,‘আবু সাইদ মুগ্ধ-শেষ হয়নি যুদ্ধ’,‘দিয়েছিতো রক্ত-আরও দেব রক্ত’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দেব আমরা’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ জেগেছে’

    দূতাবাসে হামলা, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মানবে না।’ ‘সীমান্তে হামলা, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মানবে না। ইত্যাদি স্লোগান দেন।

    সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তারিক ইসলামের নেতৃত্বে সমাবেশে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের স্নতক পর্যায়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    আরো উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইমরান হোসেন, এ.এইচ.রিফাত হোসেন, বখতিয়ার রহমান, জাস্টিস ফর জুলাই সাতক্ষীরার আহব্বায়ক ইখতেয়ার উদ্দীন, যুগ্ম আহব্বায়ক সায়েম রহমান সিয়াম প্রমুখ।

    সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তারিক ইসলাম বলেন, ‘ভারত দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ নানা ধরনের আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। ২৪ এর রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে এ দেশের ছাত্র-জনতা শুধুমাত্র হাসিনাকেই লাল কার্ড দেখায়নি, একই সঙ্গে লাল কার্ড দেখিয়েছে ভারতের আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনকেও।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেন বলেন, ‘যেভাবে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকদের এতে প্রতিবাদ জানাতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা একতাবদ্ধ থাকব।’
    সমাবেশে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের আবুহুরায়রা, গণিত বিভাগের, ইব্রাহিম হোসেন, প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের রিয়াজ রহমান, অর্থনিতি বিভাগের রায়হান রাফি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সোহাগ হোসেন, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের ইমরান বাসার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের, সাগর হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

  • সাতক্ষীরায় ঐতিহাসিক কর্মী সম্মেলন  জীবন দিবো দেশের এক ইঞ্চি মাটি দিবো না ——————————————————— ডা. শফিকুর রহমান

    সাতক্ষীরায় ঐতিহাসিক কর্মী সম্মেলন জীবন দিবো দেশের এক ইঞ্চি মাটি দিবো না ——————————————————— ডা. শফিকুর রহমান

    আবু সাঈদ বিশ^াস, শাহজান, মুজাহিদ: জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে ইস্পাত কঠিন ঐক্য চাইলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন দেশের আকাশে কালো মেঘ জমেছে। দেশের আাকাশে কালো শকুন দেখা যাচ্ছে। তাদেরকে কোনরকম সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

    গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা জেলার ঐতিহাসিন কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা সদরের সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোরআনের কথা বলতে গিয়ে, আল্লাহর দ্বীনের কথা বলতে গিয়ে সত্য কথা গিয়ে বাংলাদেশের কোন জেলা  এতো জীবন এবং রক্ত উপহার দেয়নি।   সাতক্ষীরার মতো বাংলাদেশের কোন জেলা সাতক্ষীরার মতো এত রক্ত উপহার দেয়নি। এজন্য বাংলাদেশ  জামায়াতে ইসলামীর কাছে সাতক্ষীরা মর্যাদা অনন্য উচ্চতায়। আল্লাহ যেন এই জেলার মর্যাদা যেন ক্রমাগত বৃদ্ধি করে দেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানি। দুনিয়ের খুব কম জায়গাতেই এমন দেশ রয়েছে। আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি;  মাটির উপর অফুরন্ত সম্পদ।  মাটির গর্ভে অফুরন্ত সম্পদ,  সমুদ্রেও অফুরন্ত সম্পদ। কিন্তু আমাদের সম্পদগুলো জনগণের উপকারে আসছে না। যারা জনগণের কর্তা হয়ে ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন সময় দেশ শাসন করেছেন; তারা জনগনের সম্পদ সুকৌশলে চুরি করে লুন্ঠন করে পকেটে ঢুকিয়েছেন। এজন্য বাংলাদেশের জনগণ তাদের হিস্যা পায়নি।

    আমীরে জামায়াত উল্লেখ করেন ২০১৫ সালে শহীদ পরিবারের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম।  সকাল ৯/১০ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত আমি দেখেছি এই জেলার রাস্তাঘাট ভাঙ্গাচুরা দেখেছি। মোটর সাইকেলে করে সারা জেলা ঘুরার চেষ্টা করেছি। তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম———  উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসছে ? জোয়ারের সামান্য ছিটেফোটা কি এখানে আসে না ?তারা জানায়না আসে না। তারা জানায় বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী সাতক্ষীরাকে বাংলাদেশের অংশ মনে করে না। আপনাদের ওপর তারা জুলুম করেছে।

    তারা জনগণের  অধিকার দেয়নি। সাতকীরার ওপর জুলুম করেছে। খুন—গুম করেছে। ইজ্জতের ওপর হাত দিয়েছে। সম্পদ লুন্ঠন করেছে মানুষকে তারা দাসে পরিণত করেছে। সবচেয়ে খারাপ করেছে সাতক্ষীরায়।শুধু দ্বীনের পক্ষ নেওয়ায় যদি এই অবস্থা হয় তাহলে হে আল্লাহ দুনিয়া এবং আখেরাতে এই জেলার মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান ওয়াদা করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সুষম উন্নয়ন দিতে চাই। কেউ চাইলেও. না চাইলেও  তার অধিকার পাবে। লক্ষ যুবক বেকার থাকবে না।  শিক্ষা সমাপনির সাথে সাথে কাজ ধরিয়ে দেওয়া হবে। নৈতিক এবং জাগিতিক শিক্ষার সমন্বয় হবে।

    তিনি বলেন আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে  মাবোনেরা ঘরে এবং বাইরে নিরাপদে থাকবে। তারা কর্মস্থল এবং রাস্তাঘাটে সুরক্ষা পাবেন. নিরাপদে থাকবেন। দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। নবী যুদ্ধক্ষেত্রেও নারীদের যুক্ত করেছেন।

    তিনি ইতিহাস টেনে বলেন. বিশেষ করে বদরের যুদ্ধের কঠিন দিনে তিনি নারীকে যুক্ত করেছেন। যখন কাফেররা খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল হত্যা করার জন্য। যখন পরুষযোদ্ধারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন একজন নারী আল্লাহর রাসুল (সা) কে ঘুরে ঘুরে সুরক্ষা দিয়েছিলেন। তার শরীরে ৩৭ তীর ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। রাসুল সা. বলেছেন যখনই শক্র আমার প্রতি তীর নিক্ষেপ করেছেন তখনই ওই নারী তীর আমার শরীরে লাগতে দেননি। যখনই তীর এসেছে ওই নারী ঘুরে ঘুরে তিনি নবীকে সেফ করেছেন। তিনি হলেন মুসাইবা (রা :)। রাছুল যদি নারীকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারীকে কর্ম দিয়ে থাকেন তাহলে আমরা কে ? যে তাদের হাত বন্ধ করার।

    আমাদের ব্যাপারে ইসলামের প্রতিপক্ষ শত্রুরা অপপ্রচার চালায়, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মহিলাদের ঘর থেকে বের হতে দিবে না। আর যদি দেয়ও তাদের জোর করে  একটা  বোরকা পরিয়ে দিবে।

    জামায়াতের আমীর নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, জামায়াতে ক্ষমতায় গেলে কারো ওপর জোর খাটানো হবে না।  যখন ইসলাম কায়েম হবে তখন মা বোনেরা আনন্দের সাথে ইজ্জত রক্ষার জর‌্য পর্দা পালন করবে। এরপরও যদি কোন মা বোন পোশাকের ক্ষেত্রে আপত্তি থাকে তাদের কোন রকম বাধ্য করা হবে না। এদেশে অন্য ধর্মের মানুষ বসবাস করে। অন্য ধর্মের মানুষকে ধর্ম গ্রহন করতে বাধ্য করা হবে না। মন্দির গির্জা পাহারা লাগবে না।

    বাগানে মাঝে মাঝে হুতুম পেঁচা ঢুকে পড়ে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আশরাফুর মাখলুকাত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হবে না। পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও আমাদের কাছে ভিআইপি। রিকশাওয়ালাকে স্যালুট জানাই। তাদের কাজের মর্যাদা দেওয়া হবে। কৃষক আপমর জনতা মর্যাদা এবঙ দায়িত্বের সাথে কাজ করবে।

    চমৎকার সাম্প্রদায়িক দেশ আমাদের। কিন্তু আমাদের বাগানে মাঝে মধ্যে হুতুম পেঁচা ঢু ক পরে। হুতুম পেচাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সম্পৃতি নষ্ট হতে দিবো না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই; সব মানুষকে কাজের মর্যাদা দিবো। আমরা যদি এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই তাহলে সবাই কাজ করতে হবে। আমরা চাই,  জাতীয় স্বার্থে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে ইস্পাত কঠিন ঐক্য চাই।

    তিনি বলেন, এই যে ২৪ এর স্বাধীনতা এমনি এমনিতে আসেনি। ২০০৬ সালে ২৮অক্টোবর প্রকাশ্যে দিবালোকে লগি বৈঠা দিয়ে হত্যা করে আমার সন্তানদের ওপর খুনিরা লাফালাফি করেছে। সেইদিন বাংলাদেশপথ হারিয়েছিল। সেই পথহারা বাংলাদেশ দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর ২০২৪ সালে আবার তার পথে ফিরে এসেছে। এরমাঝে অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। ৫৭ জন চৌকস সেনা অফিসারকে খুন করা হয়েছে। এরপর জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দকে খুন করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে জুলুম করে হত্যা করা হয়েছে।

    এছাড়া আপনাদের পাশ^র্বর্তী জেলা ঝিনাইদাহ খুনের তান্ডব চালানো হয়েছে। সবশেষ ২০২৪ পর্যন্ত খুনের রক্তে ভাসতে হয়েছে। এসব অভিযোগে ছাত্র—জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল। ছাত্রদের হাতে কোন আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। এমনকি তাদের হাতে কোনইট পাথরও ছিল না। কোটা সংস্কারের জন্য; কোটা বাতিলের জন্যও না। তারা বলেছিল কোটার নামে জাতির সাথে মেধার সাথে তামাশা করবেন তা আমরা মানবো না।

    কিন্তু সরকার একদিকে তাদের বাহিনীকে নামিয়ে দিলো; আরেকদিকে সরকার তাদের স্বশস্ত্র গোন্ডাদের নামিয়ে দিলো। এতে দেড় হাজারের বেশি আমাদের সন্তান ছোট সময়ের মধ্যে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোর থেকে ২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত জালিমদের অত্যাচারে যারা বিদায় নিয়েছেন, আমরা আল্লার দরবারে দোয়া করি তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন।

    তিনি বলেন, আসার পথে দেখলাম রাস্তাঘাটে উপচেপড়া মানুষ। বাঙলাদেশকে প্রাণ উজার করে ভালবাসি। জুলুম করা হলেও দেশ থেকে পালিয়ে যাইনি। যারা দেশকে ভালবাসে তারা পালিয়ে যেতে পারে না। এখানে বাঁচতে চাই। লড়াই করতে চাই। এবং এই দেশকে দুনিয়ার একটি শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত করতে চাই।

    তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন আপনারা প্রস্তুত?  লাখো কন্ঠে জবাব আসে জি¦ পৃস্তুত। সারাদেশে আওয়াজ উঠেছে। জীবন দিবো দেশের এক ইঞ্চি মাটি দিবো না। যারা বুক চিতিয়ে দিয়েছে তাদের নূর দা¦রা পরিপূর্ণ করে দাও। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। যুবসমাজের হাতে তুলে দিতে চাই্। যারা বয়স্করা কি বেজার হয়েছেন। না। ছেলের কৃতিত্ব বাবার কাছে অটোমেটিক হয়ে যাবে।

    গরে ঘরে আওয়াজ ছড়িয়ে দিন। পৃথিবীর শ্রেষ্ট দেশ গড়তে চাই। শকৃনকে মাটিতে নামতে দেওয়া যাবে না। কেউ কেউ সুরসুরি দেয়। প্রতিপক্ষ বলে ৫ লাখ লোক হত্যা করা হবে বলা হয়েছিল। হত্যা করা কি হয়েছে? না।

    উস্কানি দেওয়া হলেও পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। দেশে বিদেশে সমান তালে লড়াই করেছে। বিদেশে যারা আছেন তাদের অভিবাদন জানাই। তাদের আত্মীয় স্বজনকে হয়রাণি করা হয়েছে।

    এরা পশু। পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। ঐজাত থেকে চিরমুক্তি চাই। এরা যেন ফিরে না আসতে পারে। এক টুকরা কোরআনের বাংলাদেশ কবুল করুন।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ইনসাফপূর্ণ সমাজের জন্য গণঅভ্যুত্থান সফল করতে হলে সৎ নেতৃত্বে কায়েমের বিকল্প নাই। সকল পর্যায়ের নেতৃত্বে ,সৎ মানুষের সমাহার ঘটাতে হবে।  নইলে আমরা প্রতারিত হতে হবে।  ৪৭ সালে ৭১ সালে এবং ২৪ স্বাধীনতায় আমরা স্বাধীন হতে পারেনি। আমরা কাঙ্খিত সমাজ পেতে সাতক্ষীরা জেলার ৪টি আসন সহ সবখানে যোগ্য মানুষের নেতৃত্ব যেন কায়েম করি।

    কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক  বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের মৃত্যুর ভয় দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু মাওলানা নিজামী প্রমাণ করেছেন যে আমরা মৃত্যুকে ভয় করি না। তারা মূলত বাঘের লেজে পা দিয়েছে।

    সাতক্ষীরা জেলার সাবেক আমীর ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য  মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন— জালিম সরকার বিচারিক হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় হয়রাণি করেছে। বার বার নেতার পরিবর্তন হলেও নীতির পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতা এখনো বাকী রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরাতে আমাদের ৪৬ জন ভাইকে শহীদ করেছে। কিন্তু আমাদের নরম করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলনের জন্য সাতক্ষীরা দেশের মডেল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    সাবেক এমপি ও জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করেছিল এই দেশ থেকে জামায়াত শিবির উৎখাত করবে। কিন্তু তারা নিজেরাই উৎখাত হয়ে গেছে।

    অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেদ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জেলা নায়েবে আমীর নুরুল হুদা, ডা. মাহমুদুর হক,  খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাফুজুর রহমান,বাগের হাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম প্রমূখ।

    কর্মী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলার আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল।

    জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ তিনবার ভোট চুরি ডাকাতি এবং প্রশাসনের লোকজনকে দিয়ে করিয়েছে। দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। তিনি বলেন নতুন বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।

    কর্মী সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি গাজী সুজাআত আলীম অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা ওসমানগণি, সাতক্ষীরা শহর শাখা সভাপতি আল—মামুন ও জেলা শাখা শিবিরের সভাপতি ইমামুল ইসলাম প্রমূখ।

    বেলা তিনটায় ডা. শফিকুর রহমান সম্মেলনের সভামঞ্চে আসেন। ততক্ষণে কর্মী সম্মেলনের মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের অলিগলি মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে যায়। শহরের অলিগলি পেরিয়ে বাসাবাড়ীর ছাদে ওঠেও কর্মী সম্মেলনের ভাষণ শোনার চেষ্টা করেন। এসময় পুরো সাতক্ষীরা শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

    এদিকে এর আগে জেলা শহরের পল্লীমঙ্গল হাইস্কুল মাঠে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখাানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ।  ##

     

     

     

     

     

     

     

  • আর কোন ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মেনে নিবে নাঃ রুকন সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান

    আর কোন ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মেনে নিবে নাঃ রুকন সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান

    হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, যাদের হাতে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ নয় সে ধরনের কোন সংস্থা দেশের মানুষ দেখতে চাই না। তাদের বিয়য়ে রাষ্ট্র সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এমনটাই আশা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র যে ভাবেই হোক না কেন তাদেরকে কুপকাত করবে দেশের জনগন।

    শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টায়  সাতক্ষীরা পল্লিমঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রটারী মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিসদষদ সদস্য মোবারক হোসেন, অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জতউল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক  সেক্রেটারী ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারী মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, শুরা সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য শফিকুল আলম, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।

    সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, ডা,মাহমুদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি প্রফেসর ওবায়দুল্লাহ, প্রফেসর ওমর ফারুক,  মাহবুবুল আলম, মাওলানা ওসমান গণি,  সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ। প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান  আরো বলেন, শহীদরা আমাদের সম্পদ, তাদের আদর্শ অনুপ্রেরনা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।