Category: জাতীয়

  • সংসদে ‘বাঘ বিধবা’দের জন্য বিশেষ ভাতার দাবি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের

    সংসদে ‘বাঘ বিধবা’দের জন্য বিশেষ ভাতার দাবি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের

    স্টাফ রিপোর্টার: সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার অসহায় ‘বাঘ বিধবা’দের মানবেতর জীবনের চিত্র তুলে ধরে তাদের জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই মানবিক দাবিটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা সুন্দরবন কেন্দ্রিক হওয়ায় বহু মানুষ মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা ও কাঠ সংগ্রহের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর জঙ্গলে যান। সেখানে বাঘের আক্রমণে প্রতি বছর অনেক উপার্জনক্ষম মানুষ প্রাণ হারান। সংসদ সদস্য জানান, বাঘের আক্রমণে স্বামী হারানো এই নারীদের স্থানীয়ভাবে ‘বাঘ বিধবা’ বলা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এই নারীরা সমাজ ও পরিবারে চরম অবহেলা এবং আর্থিক অনটনের শিকার হন। সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবিকা নির্বাহের কোনো পথ না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই নারীদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। গাজী নজরুল ইসলাম বিগত দিনের একটি উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বাঘের আক্রমণে নিহতদের পরিবারের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্পের আওতায় বাঘ বিধবাদের ভাতা প্রদান, তাদের সন্তানদের শিক্ষা এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এমনকি ভূমি অধিগ্রহণের কাজও প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই মহতী উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, উপকূলীয় এলাকার এই বিশেষ সমস্যাটি বিবেচনায় নিয়ে বাঘ বিধবাদের জন্য দ্রুত আলাদা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা বিশেষ ভাতা চালু করা হোক। পাশাপাশি স্থগিত হওয়া সেই প্রকল্পটি পুনরায় চালু করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি। সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবটি অধিবেশনে উপস্থিত অন্য সদস্যদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপকূলীয় মানুষের জীবনের ঝুঁকি ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার এই দাবি বিবেচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন মঙ্গলবার

    ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন মঙ্গলবার

    ডেস্ক রিপোর্ট: নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারী প্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী প্রধান পরিবার এ কার্ড পাবেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এজন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল), রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। পাইলট পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। এরপর একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নেওয়া, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। মন্ত্রী বলেন , প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের ৫ জন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহ প্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান সেক্ষেত্রে সেই সব বিদ্যমান সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় যোগ্য উপকারভোগীরা পাইলটিং পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রাপ্ত হবেন এবং পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হতে বেতন, ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবার প্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী হিসেবে চাকুরিরত থাকলে উক্ত পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবে না। এছাড়া পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন: গাড়ি, এসি) থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে উক্ত পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন না- বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তথ্য সংগ্রহকালীন সময়েই উপকারভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে করে কোনো প্রকার বিলম্ব, ভুল অ্যাকাউন্টে জমা বা কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়া উপকারভোগীগণ ঘরে বসেই সরাসরি সরকার হতে ভাতা প্রাপ্ত হবেন। মন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন-২০২৬ সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬ শতাংশ) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪ শতাংশ) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

  • দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

    ডেস্ক রিপোট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সবসময় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার (৬ মার্চ) কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সমৃদ্ধি গড়ে ওঠে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নয়।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশী মিশনের প্রতিনিধিরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। ইফতারের আগে দেয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আজকের এ ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্বের কথা। এই মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করবে, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরো সহজ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য আমাদের জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করা।

    তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ নীতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই। তিনি আরো বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করি এবং আগামী বছরগুলোতে উন্মুক্ত আলোচনা ও শক্তিশালী সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত রয়েছি। তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমাজের সব স্তরে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে। তিনি আরো বলেন, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন উদার অর্থনৈতিক নীতিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নারীর ক্ষমতায়ন ঘটাবে, উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে উৎসাহিত করবে এবং সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
    তিনি আরো বলেন, সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়।
    তিনি বলেন, আমরা স্বীকার করি যে, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও সততার ওপর এবং শাসনের সব স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।

    তারেক রহমান বলেন, সরকারের অঙ্গীকার দৃঢ়— গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও আমরা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • তাহলে কি চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো: জামায়াত আমির

    তাহলে কি চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো: জামায়াত আমির

    ডেস্ক রিপোর্ট: নবগঠিত সরকারের সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই প্রশ্ন তুলেন তিনি। জামায়াত আমির পোস্ট লেখেন, ‘তাহলে কি নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো। তাহলে কীভাবে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে? ব্যাকরণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সূচনাতেই বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে?’ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আরও লেখেন, ‘প্রিয় জনগণ, চাঁদার কালো থাবা থেকে বাঁচতে হলে লড়তে হবে। এ লড়াইয়ে আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি, ইনশাআল্লাহ।’ সম্প্রতি সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা টাকা নিয়ে একটি বক্তব্য দেন। তাঁর এই বক্তব্য অনেকে নেতিবাচকভাবে নিয়েছেন। অনেকে জোরালো সমালোচনা করছেন। এই প্রেক্ষিতেই আজ পোস্ট করলেন জামায়াত আমির।

  • জুলাইয়ের পক্ষে থাকা সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    জুলাইয়ের পক্ষে থাকা সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    এফএনএস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমডি ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ এবং এখন টেলিভিশনের চার সাংবাদিককে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে ডাকসু গ্রুপে তিনি লেখেন: ঘটনার পরিক্রমায় যতদূর জানলাম, তাদের কাউকে জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করা হয়েছে, আবার কাউকে কাউকে অফিস প্রাঙ্গণে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এটাই তাহলে বিএনপি সরকারের প্রথম কার্যদিবসে গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ পুরস্কার। তাদের অপরাধ? তাদের অপরাধ হলো, জুলাইয়ের পক্ষে থাকা। জুলাইকে ধারণ করা। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে নয় দফা প্রচারে এই সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অনেক। জুলাইপন্থি সাংবাদিক হওয়ার কারণে তাদের আজ হেনস্তা করা হয়েছে। মব করে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। আমি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রধানদের বলছি, কারও ওপর জুলুম করবেন না। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করুন।

  • জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না: ডা. শফিকুর রহমান

    জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না: ডা. শফিকুর রহমান

    ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধী দলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফজরের নামাজের পর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদ এলাকায় পরিষ্কার কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করতে চাই। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়বো। নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার করলে দেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধী দলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা। কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ‘ক্লিন ঢাকা মহানগরী’ নামে কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার সকাল ৬টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত মহানগর উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এসময় বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বাজারের আশেপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হবে।

  • ভেঙে দেয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

    ভেঙে দেয়া হলো অন্তর্বর্তী সরকার

    তারেক রহমানকে সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে নিয়োগদান করেছেন। সেইসাথে নতুন সরকার গঠনের সাথে সাথে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আজ তারেক রহমানকে সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে নিয়োগদান করেছেন। প্রজ্ঞাপনটি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া আরেকটি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার গঠনের সাথে সাথে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।

  • তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে নিতাই রায়

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে জহির উদ্দিন স্বপন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে নিতাই রায়

    ডেক্স রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নতুন মন্ত্রিসভার ২৫ জন সদস্য পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলটির মিডিয়া সেলের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন। অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাগুরা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী-কে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা এর আগে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • আব্বাস-নজরুল-রিজভীসহ ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ

    আব্বাস-নজরুল-রিজভীসহ ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ

    ডেক্স রিপোর্ট: মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন দিয়ে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। হুমায়ূন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন, রেহান আসিফ আসাদ।

  • জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু: সারজিস

    জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু: সারজিস

    ডেক্স রিপোর্ট: জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই কথা বলেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম হেরেছেন। মূলত, সংসদ ভবনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলীয় এমপিদের উদ্দেশে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তারা আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিচ্ছেন না। সালাহউদ্দিন আহমদ সাদা ও নীল রংয়ের দুটি ফরম হাতে নিয়ে বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। এমন ফরম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছি। আশা করি সামনের দিনেও চলবো, বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম।