Author: news_admin

  • কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    কালিগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

    দক্ষিণ শ্রীপুর প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুরে নারী-পুরুষসহ মসজিদের মুসুল্লীরা মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। তারা মাদকের সাথে জড়িতদের আটকপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে শাহাজী পাড়া বাইতুন নূর জামে মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, ভগবান যশোমন্তপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম তার সহযোগী মাসুম শাহ ও শাহিন-এর মাধ্যমে এলাকার যুবসমাজকে মাদকের নেটওয়ার্কে যুক্ত করছে। প্রতিবাদ করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি বা মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয়। মানববন্ধনে বাইতুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি আব্দুল আজিজ, উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোমেন, শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওঃ রওশান আলী, ইউপি সদস্য আব্দুল গনি এবং অন্যান্য নেতা বক্তব্য রাখেন। বিক্ষোভকারীরা মনিরুল ইসলাম, মাসুম শাহ, শাহিন ও নাঈমকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকাকে মাদকমুক্ত করবে।

  • স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ”আবাবিল” এর যাত্রা শুরু

    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ”আবাবিল” এর যাত্রা শুরু

    প্রভাতের আলোয় এক ঝাঁক পায়রা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২৬ মার্চ ২০২৬ দেবহাটা উপজেলার ৫নং ইউনিয়নের অর্ধশত যুবকের একান্ত প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মূলক প্রতিষ্ঠান ”আবাবিল” এর যাত্রা শুরু। যার মূল উদ্দেশ্য সমাজের দারিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানে সহযোগিতা, লাইব্রেরি, সামাজিক মান উন্নয়ন, গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, মাদক প্রতিরোধে সরকারকে সহযোগিতা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সর্বোপরি সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করা। উক্ত সংগঠনের সামগ্রিক উন্নয়নে সমাজের বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষের সার্বিক সহযোগিতা এবং পরামর্শ একান্ত কাম্য। উক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” আবাবিল’ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ওসমান গনি বাবলা এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল আলম সুমন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

  • ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধুর পাশে বন্ধুরা

    ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধুর পাশে বন্ধুরা

    স্টাফ রিপোর্টার: ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধু সাদ্দাম হোসেন লিটন (৩৬)-এর জীবন বাঁচাতে পাশে দাঁড়ালেন তাঁর ২০০৬ ব্যাচের সহপাঠী ও বন্ধুরা। লিটন দুই মাস ধরে ক্যান্সারের চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন। দরিদ্র পরিবারে তিনি দুটি সন্তানের অভিভাবক। লিটনের সহপাঠী, শিক্ষক, সিনিয়র ও জুনিয়ররা তার চিকিৎসার জন্য নগদ ৭৬ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। বন্ধু মেহেদি হাসান জানান, সকলের সহযোগিতায় এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। লিটন বলেন, “ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। আমার পরিবার একা তা বহন করতে পারছে না। বর্তমানে আমি সাতক্ষীরা সিবি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার খালেকুজ্জামান-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করি।”

  • শ্যামনগরে কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

    শ্যামনগরে কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীতে একটি কাঁকড়ার ফার্মে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার কাঁকড়া মারা গেছে বলে ফার্মের মালিক বিল্লাল গাজী দাবি করেছেন। বিল্লাল গাজী জানান, স্থানীয় আশরাফ আলী তার কাছে কাঁকড়া চেয়েছিলেন খাবারের জন্য। কাঁকড়া দিতে না পারায় আশরাফ তার বাড়ি থেকে ফার্মে থাকা কারেন্টের লাইন খুলে নিতে চেয়েছিলেন এবং তার কাছে থাকা পাওনা টাকা পরিশোধের দাবি করেন। বিল্লালের দাবি, কারেন্ট খরচ পরিশোধ না করার কারণে আশরাফ তার সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধর করেন এবং ফার্মে বিষ প্রয়োগের হুমকি দেন। বিল্লাল আরও জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে তার ফার্মে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এরপর সকালে কর্মচারীরা গিয়ে দেখেন, পানিতে রাখা বক্সে অধিকাংশ কাঁকড়া মৃত অবস্থায় ভেসে উঠেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত আশরাফ আলী এ বিষয়ে বলেন, তার এবং বিল্লালের মধ্যে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খালেদুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জীবিকার তাগিদে মৃত্যুঝুঁকিতে উপকূলবাসী

    জীবিকার তাগিদে মৃত্যুঝুঁকিতে উপকূলবাসী

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর সঙ্গে। জীবনের ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে এই বনে ছুটে চলেন তারা। মাছ ধরা, কাঁকড়া সংগ্রহ, মধু আহরণ ও গোলপাতা কাটা—এসবই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। শ্যামনগরের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। ভোরের আলো ফুটতেই ছোট নৌকায় তারা নদী পাড়ি দিয়ে বনের গভীরে প্রবেশ করেন। কখনো তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত বনের মধ্যে অবস্থান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের জেলে মোঃ মফিদুল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবনে না গেলে সংসার চলে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই বনে যেতে হয়। কখনো মাছ পাই, কখনো খালি হাতে ফিরি, তবুও পরিবারের জন্য আবার যাই।” গাবুরার জেলে মোছাঃ আছমা খাতুন বলেন, “আমাদের জন্য সুন্দরবনই সব। এখন আগের মতো মাছ-কাঁকড়া পাওয়া যায় না, তবুও দিন পার করতে চলে এখানে।” স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমায় এবং সীমিত সংখ্যক জেলে বনের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন। তবুও ঝুঁকি কমে না। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, চিকিৎসা সেবার অনুপস্থিতি, বাঘের আক্রমণ, কুমির, দস্যু, আকস্মিক ঝড়—সবই জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর কেউ না কেউ বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান, ফলে নারীরা ‘বাঘ-বিধবা’ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও স্পষ্ট। লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে। নদী ভাঙনের ফলে অনেক পরিবার বসতভিটা হারাচ্ছেন। তবুও তারা আশা ছাড়েন না। প্রতিদিন ভোরে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নৌকা ভাসান সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবার-পরিজনের মুখে হাসি ফোটানোর সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।

  • বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) অধীন চান্দুরিয়া বিওপি ও বাঁকাল চেকপোস্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল আটক করে। অভিযানকালে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ও শাড়ি জব্দ করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চান্দুরিয়া বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৭/৭ এস-এর ১৮ আরবির কাছে কলারোয়া থানাধীন আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ উদ্ধার করে। একই দিনে বাঁকাল চেকপোস্টের আভিযানিক দল ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি জানায়, এসব চোরাচালান দেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় থেকেও ক্ষতি ঘটাচ্ছে। তাই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বিজিবির এ ধরনের অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে আরও জোরদার কার্যক্রমের আহ্বান জানিয়েছেন।

  • তেল সংকট উত্তরণে আসছে ফুয়েল কার্ড: সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

    তেল সংকট উত্তরণে আসছে ফুয়েল কার্ড: সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে পেট্রোলপাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। তেল নিতে গেলেই অধিকাংশ পাম্প মালিকরা বলছে তেল নেই। আর যে পাম্পে তেল আছে সেখানে দেখা যাচ্ছে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সমাধান করার জন্য সব গাড়ির জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। এ জন্য কাজও শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে, সাতক্ষীরাতে ঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি পেট্রোলপাম্পে মটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। ২৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা-কলারোয়া সড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় মের্সাস লস্কর ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়কের উপর আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ আবারও তেল দিতে শুরু করলে বিক্ষুদ্ধ জনতা সড়ক থেকে উঠে আসে। এদিকে ২৭ মার্চ শুক্রবার সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে তেলের মজুদ ও বিক্রয় তদারকি করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ সময় মেসার্স হোসেন, মেসার্স ইউরেকা, মেসার্স ডেলমা ও মেসার্স সোনিয়া ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন পরিলক্ষিত হয়। সবাইকে মোটরসাইকেলের লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় চাহিদা মোতাবেক পেট্রোল দেয়া হচ্ছে কি না তা দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ দেখা যায়নি। তদারকির সময় রিজার্ভ ট্যাংক, সরবরাহ চালান এবং বিক্রয় ও মজুদ রেজিস্ট্রার চেক করা হয়। এসময় চন্দনপুর ইউনিয়ন, কলারোয়া উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন জ্বালানি তেলের মজুদ এবং খোলা বাজারে তেল সরবরাহ করায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী একটি মামলায় ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালীন মুদি দোকানী, খোলা বাজারে তেল বিক্রেতাকে এবং জনসাধারণকে অতিরিক্ত তেল মজুদ এবং লাইসেন্সবিহীন খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা অপরাধ সেই বিষয়টি অবগত করা হয়। সরকারি আইনানুযায়ী ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হয়। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শিগগির শেষ না হলে বাংলাদেশের মতো দেশকে অনেক খেসারত দিতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে আসবে এবং তেলের জন্য অনেক মূল্য দিতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ দাম বাড়াতে পারবে না। তাই তেলের অপচয় এবং মজুত রোধে ফুয়েল কার্ড চালুর বিকল্প নেই। সেই কার্ড দিয়ে মোটরসাইকেল, কার, ট্রাক বা বাস তার পরিবহণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এ জন্য থাকবে একটি কিউআর কোড। সেই কোড দিয়ে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়া যাবে। তবে এটি চালু করতে সময় লাগবে। ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিটকার্ড হলো- পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা সাধারণত কোম্পানি বা গাড়ির মালিকরা ব্যবহার করে থাকেন। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জ্বালানি খরচ ট্র্যাকিং, নিয়ন্ত্রণ এবং নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যায়।
    ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা: সহজ পেমেন্ট ও ট্র্যাকিং, এটি ব্যবহার করে চালকরা সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড রাখা যায়। কোম্পানিগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এটি ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করে। কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা চুরি বা অপব্যবহার রোধ করে।সময়ের সাশ্রয়: কাগজের রসিদ জমানোর ঝামেলা কমে এবং এককালীন চালান পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
    এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকি করতে ইতিমধ্যে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি বন্ধে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

  • নীরব এক সংগ্রামী আলোকবর্তিকা- এবিএম কাইয়ুম রাজ

    নীরব এক সংগ্রামী আলোকবর্তিকা- এবিএম কাইয়ুম রাজ

    সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে যিনি অবিচল—তিনি এবিএম কাইয়ুম রাজ। শ্যামনগরের কৈখালী থেকে উঠে আসা এই তরুণ শুধু একজন সাংবাদিক নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আত্মার আত্মীয়, সময়ের দর্পণে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

    ছোটবেলা থেকেই বই আর বাস্তবতার হাত ধরে যাঁর যাত্রা, সেই কাইয়ুম রাজ নিজের জীবনকে গড়ে তুলেছেন সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক নীরব বিপ্লবী হিসেবে। কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিষ্পাপ শৈশব থেকে শুরু করে গুমানতলী কামিল মাদ্রাসার কঠোর শিক্ষাজীবন, সবকিছুর পেছনে ছিল একটি লক্ষ্য—মানুষের জন্য কিছু করা।

    তিনি এখন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ-এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর পরিচয় শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রভাত বার্তা, দক্ষিণের বার্তা এবং দেশ জনতা’র মতো পত্রিকায় লেখালেখি করে তিনি সমাজের নানা দিক তুলে ধরছেন সাহসিকতার সঙ্গে।

    তাঁর কলম শুধু সংবাদ লেখে না, লেখে প্রান্তিক মানুষের না-বলা কষ্ট, প্রতিবাদহীন অন্যায় আর অবহেলিত জনপদের বুকচেরা গল্প। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের নদীভাঙা জনপদের কষ্টকে তুলে ধরতে গিয়ে কখনো তিনি হয়ে ওঠেন মাঠের কর্মী, কখনো মানবিক সহায়ক, আবার কখনো দুর্নীতির প্রতিবাদে বজ্রকণ্ঠ।

    কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়—কাইয়ুম রাজের মধ্যে আছে সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা। শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসহায় পরিবারে খাবার পৌঁছে দেওয়া, কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো—সবখানেই দেখা যায় তাঁর আন্তরিক অংশগ্রহণ।

    তিনি বিশ্বাস করেন, “সাংবাদিকতা কেবল তথ্য জানানোর মাধ্যম নয়, এটি হতে পারে সমাজ বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।” সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিদিন লিখে চলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, প্রান্তিক মানুষের পক্ষে।

    এবিএম কাইয়ুম রাজ রাজনীতির মাঠে নেই, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নীরব আলোকবর্তিকা হিসেবে। যাঁরা তাঁকে চেনেন, বলেন—“এই ছেলেটার চোখে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনি হৃদয়ে আছে মানুষের ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা।”

    এই তরুণের নিরলস পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তনের জন্য বয়স নয়, প্রয়োজন একান্ত ইচ্ছা, সাহসিকতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মন। এবিএম কাইয়ুম রাজ হোক বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা, কলমধারীদের আদর্শ, এবং শ্যামনগরের গর্ব।