Author: news_admin

  • আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’

    আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’

    খুলনা ব্যুরো: খুলনা বিভাগে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব। গত কয়েকদিনে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। ইতোমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভাগের ১০ জেলায় ৭৮ শিশু চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনজন শিশু গুরুতর অবস্থায় আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এদের ৮ মাস, ৭ মাস এবং ৫ মাস বয়সি এই তিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফেইল করায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সৈয়দা রুখসানা পারভীন। এছাড়া খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১৩ এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে আরও ৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া যশোরে ৬, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নবজাতক থেকে ৬ মাসের মধ্যে। ৬ মাসের কম বয়সি ৪ জন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি ৭ জন, ৯ থেকে ১১ মাস ৪ জন, ১ বছর থেকে ৪ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫ বছর থেকে ৯ বছর এর মধ্যে ২ জন, এছাড়া ২০ বছরের নীচে ৩ জনের শরীরে এই হাম আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, যার কারণে কিছু শিশুকে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সৈয়েদা রুখসানা পারভীন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যে-সব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। তিনি আরও বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে হামসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্তদের ভর্তি করা হয় না। কিন্তু এই রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ও খুলনায় যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি রয়েছে, তার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখানে (খুমেক হাসপাতলে) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে সেখানে তিনটি শিশুকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনটি শিশুর অবস্থাই খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের ব্যাপকভাবে একটি ভ্যাকসিনেশন ব্যবস্থা চালু করা দরকার।
    খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের পাশে পৃথক ‘হাম কর্ণার’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চারজন শিশুকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স এক বছরের কম এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন রোগী এলে প্রয়োজন অনুযায়ী মীরের ডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পেলে হাম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • আশাশুনিতে অবৈধ পেট্রোল জব্দ, জরিমানা

    আশাশুনিতে অবৈধ পেট্রোল জব্দ, জরিমানা

    আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কালিবাড়ি বাজারে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৮১০ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মোঃ তাওহিদুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দোকানের পেছনে লুকানো ৪টি ড্রামে থাকা পেট্রোল উদ্ধার করে পেট্রোলিয়াম আইন-২০১৬ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। জব্দকৃত তেল তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। প্রতি ৫ লিটার ৬০০ টাকায় বিক্রির মাধ্যমে ৯৭,২৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • বসন্তপুর মাদ্রাসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    বসন্তপুর মাদ্রাসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

    জয়নগর প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার বসন্তপুর আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনার আয়োজন করেন মাদ্রাসার সাবেক সফল সভাপতি ও তরুণ সমাজসেবক মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসার দাবিদার হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মো. কামারুজ্জামান, সুপারেনটেনডেন্ট নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ। মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ অনুষ্ঠানে বলেন, “শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উদ্বুদ্ধ হবে। শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।” অতিথিরা তার এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে আসা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা হলেন— জি.এম. নাবিল, শাহারা তাসনিম, ঋতু এবং মো. ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে তাদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

  • শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী আয়োজনে পানি দিবস পালন

    শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী আয়োজনে পানি দিবস পালন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানব প্রদর্শনী, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও ব্যতিক্রমী নৌকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পানি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠে পানি দিবসের মানব ও কলস প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে কলস দিয়ে ‘পানির ফোটা’ ফুটিয়ে তোলা হয় এবং দেড় শাতধিক নারীদের অংশগ্রহণে ‘পানি দিবস’ লেখাটি ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রদর্শনী শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় মুন্সিগঞ্জের শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠ থেকে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যানার সহকারে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এরপর দুপুর ২টায় বুড়িগোয়ালীনির চুনা নদীতে ব্যাতিক্রমী এক নৌকা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসব প্রদর্শনী ও র‌্যালিতে শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের ১৫০ জন সদস্যসহ জিহা সদস্যবৃন্দ অংশ নেয়। এমবাসি অব সুইডেন ঢাকা ও ইউএন উইমেন এর সহযোগিতায় এবং এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ ও বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে নারী দিবসের এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়ার নেতৃত্বে অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, জিহা সদস্য শেফালি বিবি, শাহানারা খাতুন সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

  • শহরের মধুবাগে ডাস্টবিন বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    শহরের মধুবাগে ডাস্টবিন বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    শাহ জাহান আলী মিটন: সাতক্ষীরার মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে ডাস্টবিন বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০টি ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দ্দৌলা সাগর। এ সময় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সেলিম, অলোক কুমার তরফদার, মোঃ আনিছুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ (অবঃ) আবু সাঈদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তালেব, সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল জলিল, অর্থ সম্পাদক ব্যাংকার আব্দুস সাত্তার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লায়লা আফরোজ, দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান, সদস্য মনজুরুল ইসলাম ও সাকিব হাসানসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অতিথিবৃন্দ মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির এমন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

  • শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা

    শ্যামনগরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ভূরুলিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে এই মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। এতে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি হলুদ ফুলের সমারোহে এলাকা হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৪৯৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। ধান কাটার পর পতিত জমি কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম সময়ে উৎপাদনযোগ্য ও লাভজনক এ ফসল চাষ করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বারি হাইব্রিড-৩৬ জাতের সূর্যমুখী চাষে ভালো ফলন ও বাজার মূল্য পাওয়ার আশায় তারা উৎসাহিত। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত মাটিতে প্রচলিত অনেক ফসলের চাষ কঠিন হলেও সূর্যমুখী লবণ সহনশীল হওয়ায় এটি কার্যকর বিকল্প ফসল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলামের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় উপসহকারী কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সহায়তা দিচ্ছেন। কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, “আগে এই জমি ধান কাটার পর ফেলে রাখা হতো। এখন সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছি। খরচ কম, লাভ বেশি- আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা করছি।” দেশে ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী তেলবীজ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদন ও সংরক্ষণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা বাড়ালে সূর্যমুখী চাষ দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে সূর্যমুখীর মনোরম ক্ষেত দর্শকদেরও আকৃষ্ট করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত শ্যামনগরে উন্মোচিত হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাজারজাতকরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বৃদ্ধি পেলে শ্যামনগরের সূর্যমুখী চাষ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • কালিগঞ্জে দীর্ঘ অনুপস্থিতির জেরে শিক্ষক বরখাস্ত

    কালিগঞ্জে দীর্ঘ অনুপস্থিতির জেরে শিক্ষক বরখাস্ত

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২১ নং ড্যামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জি.এম. ইয়াছির আরাফাত ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও তিনি তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এ অবস্থায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

  • আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম

    আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম

    স্টাফ রিপোটার: গত কয়েক সপ্তাহে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক মাসে আক্রান্তের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরাতে এবং ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এই প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতাই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ। প্রধান উপসর্গ ও ঝুঁকি: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিতে বলেছেন:* তীব্র জ্বর এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।* নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।* শরীরে ছোট ছোট লালচে দানার মতো র‌্যাশ ওঠা।* কাশি এবং শ্বাসকষ্ট।বিশেষজ্ঞের মতামত: “হাম কেবল একটি সাধারণ জ্বর নয়; সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ এমনকি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি।” ডা. মাহফুজুর রহমান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সরকারি পদক্ষেপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনার যা করণীয়: ১. আপনার শিশুর টিকার কার্ড চেক করুন এবং হামের (গজ) ডোজ পূর্ণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন। ২. আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন এবং প্রচুর তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার দিন। ৩. গুজব এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করাবেন না।

  • সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি

    সাতক্ষীরায় ব্যাপক হারে কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি

    স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটের কারণে জ্বালানি মিলছে না। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এর মধ্যে জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে সেটি এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি রয়ে গেছে অনিশ্চয়তায়।সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তেমনভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে কাগজপত্র বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রভাব এখনও পুরোপুরি পড়েনি। এ কারণে বিআরটিএ অফিসেও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) উসমান সরওয়ার আলম বলেন, চলতি মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ৩০০ থেকে ৪০০টি পড়েছে। ঈদ ও ছুটির কারণে সংখ্যাটি কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষের হাতে টাকা থাকলে বাইক কেনে, কিন্তু বর্তমানে টাকার সংকট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নির্দিষ্ট আবেদন সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কারণ এসব আবেদন অনলাইনে করা হয়। তবে এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরার মোটরসাইকেল বাজারে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কমছে পেট্রোল ও অকটেনচালিত মোটরসাইকেলের বিক্রি, আর বাড়ছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা। সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত ‘ভেনাস অটোস’ শোরুমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের ১০ থেকে ১২টি পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও মার্চে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩টিতে। তবে একই সময়ে মোট ৩৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টিই ছিল ব্যাটারিচালিত। শোরুমটির ম্যানেজার আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে মোট বিক্রি বেড়েছে। তবে তেলচালিত বাইক কমে গেছে, মানুষ এখন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে। তেলের সংকটই এর প্রধান কারণ। অন্যদিকে, শহরের চায়না বাংলা মোড়ে অবস্থিত ‘ইকো মটরস’-এর ম্যানেজার শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে মাত্র ১৫টি। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে ৮-১০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯-১০টি বিক্রি হলেও মার্চে এসে ২০ থেকে ২৫টি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এ ধরনের বাইকের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। আরেক বিক্রেতা বলেন, অনেকে শোরুমে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, কিন্তু কিনছেন না। জ্বালানি পাওয়া ও কাগজপত্রের ঝামেলার কারণে বাজার কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। জেলায় নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক কড়াকড়ি যুক্ত হওয়ায় পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামগ্রিক পরিবহন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।