স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৬ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, তলুইগাছা বিওপির সদস্যরা সদর উপজেলার চারাবাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেন। চান্দুরিয়া বিওপি কলারোয়ার গাড়ালবাড়ি মোড় এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের শাড়ি, থ্রি-পিস, হিরোইন মিনি সাবান, নেহা মেহেদি এবং ইমিটেশন গয়না জব্দ করে। এ ছাড়া কুশখালী বিওপি সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া এলাকা থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, মাদরা বিওপি কলারোয়ার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, গাজীপুর বিওপি আনিসের ঘের এলাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং কালিয়ানী বিওপি খৈতলা এলাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা এসব পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে আনা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এ অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
Author: news_admin
-

আশাশুনিতে ত্রাণ আত্মসাতের তদন্তে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সাংবাদিকদের বাগবিতণ্ডা
বিশেষ প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ত্রাণ ও ফিতরার চাল আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ত্রাণসামগ্রী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বিতরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু তা নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে বিতরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তিনি অবশিষ্ট ত্রাণসামগ্রী পুনরায় পরিষদে নিয়ে আসেন। তদন্তকালে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে ৩ বস্তা ফিতরার চাল (প্রায় ৯০ কেজি) এবং শীতকালীন ৬টি কম্বল পাওয়া যায়। তবে এসব মালামাল জব্দ না করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রেখে যান সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট। ঈদুল ফিতরের ২১ দিন পরও ফিতরার চাল বিতরণ না হওয়া এবং গরমের মধ্যে কম্বল গুদামে পড়ে থাকার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযান চলাকালে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পরিষদে পাওয়া যায়নি। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় কক্ষের তালা খুলে মজুদ ত্রাণসামগ্রী দেখা হয়। এ সময় তদন্তের অগ্রগতি ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে আপত্তি জানান এবং তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্পষ্ট অনিয়মের পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টির উচ্চতর তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
-

আশাশুনিতে ইয়াবা ও গাঁজাসহ যুবক আটক
আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি থানা পুলিশ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছোট ভাই, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ ইসমাইল হোসেনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ৩টায় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে এএসআই সেলিম ও পিএসআই দীপ্তিষ ঢালীর নেতৃত্বে পুলিশের সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া কালীবাড়ি রেডিয়েন্স ক্লাব থেকে ইসমাইল হোসেনকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাকে গ্রেফতার করার সময় ধস্তাধস্তি হয়। স্থানীয়দের মতে, ইসমাইল হোসেন একজন দীর্ঘদিনের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
-

তালায় শিশুকে নির্মম প্রহারের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে
এস এম মোতাহিরুল হক শাহিন: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ২য় শ্রেণির এক ছাত্রী শিবাঙ্গী বাছাড়কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক জি এম আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা দীপা বাছাড় জানান, স্কুল থেকে মেয়ের কান্নার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন তার পিঠে লাল দাগ, মুখে ফোলা এবং কানে রক্তসহ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পরীক্ষা নেওয়ায় মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আহত ছাত্রীকে পরে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শিবাঙ্গী বাছাড় জানিয়েছেন, “স্যার আগে না জানিয়ে পরীক্ষা নেন। আমি না পারলে স্যার আমাকে মুখে, পিঠে ও কানে মারেন।” প্রধান শিক্ষক জি এম আবুল হাশেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, “শিক্ষার্থীকে দুইটি চড় লেগে গেছে।” উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল রহমান বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, জি এম আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে পূর্বেও ছাত্র/ছাত্রীদের শারীরিক শাসনের অভিযোগ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
-

জ্বালানি তেল সংকটে সাতক্ষীরার পেশাজীবীরা চরম বিপাকে
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকটে স্কুল-কলেজ শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র চাকরিজীবীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করা ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে, জরুরি সেবা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হলেও সাধারণ মানুষ এখনও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু অসাধু বাইকার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে গ্রামে বেশি দামে বিক্রি করছেন। জ্বালানি তেল সংকটের কারণে শিক্ষকরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকরা বিলম্ব করছেন এবং সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভরা তাদের নির্ধারিত কাজে অনিয়মিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক জিএম আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, জরুরি ও জনসেবামূলক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা উচিত। বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগের একটি নোটিশেও এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সাতক্ষীরাতেও সংকটের সময় জরুরি পেশাজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভোগান্তি অনেক কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি ও তেলের কালোবাজারি বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
-

পাটকেলঘাটায় গাড়ি থেকে অকটেন উদ্ধার, জরিমানা
কামরুজ্জামান মিঠু: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় অভার ব্রিজের পাশে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-খ ১৪-০৪৯৩) থেকে ১৩ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ির মধ্যে রাখা বোতল থেকে এসব অকটেন বের করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনতার হাতে গাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ হামিদ আটক হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিনি নিজের গাড়ি থেকে তেল বের করার সময় জনতা তাকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ হোসনে আরা ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ হামিদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত গ্রাহকরা তেল পেতে সমস্যায় পড়ছেন।
-

পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
ডেস্ক রিপোর্ট: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ক্ষেতের জমির পানিতে খেলতে গিয়ে একই পরিবারের ৩ শিশু শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিকগুলি গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে আশপাশের কৃষিজমি পানিতে টইটুম্বুর হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি থামার পর দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকগুলি গ্রামের শিপার আহমদের ছেলে জিসান আহমেদ (১২), আশিক আলীর ছেলে ইমাদ আহমেদ (৯) এবং শাহেব আলীর ছেলে লাবিব আহমেদ (৭) বাড়ির পাশের জমিতে জমে থাকা পানিতে খেলতে নামে। খেলার একপর্যায়ে তারা সদ্য মাটি কেটে নিচু করা একটি জমিতে নেমে পড়ে এবং হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এসময় এক পথচারী বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রবির বাজারে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৩ শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মোল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
-

সুন্দরবনের মধু হতে পারে বিশ্ববাজারের দৃষ্টান্ত
আবু সাইদ বিশ্বাস: দেশের দক্ষিণ উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিক ঢাল হয়ে থাকা ‘সুন্দরবন’ উপকূলীয় সাড়ে ৪ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা। সুন্দরবনকে আশ্রয় করে মধূ সংগ্রহে যাদের সংসার চলে মৌয়াল তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৮৬০ সাল থেকে তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। প্রতিবছর বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তারা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করে। দেশে বিদেশে এসব মধুর সূনাম সূখ্যাতি অনেক বেশি। ভিন্ন স্বাদ ও একক ফুলের মধু হিসেবে সকলের নিকট এ মধু অধিক প্রিয়, চাহিদা বেশি কিন্তু উৎপাদন কম। চিকিৎসকদের মতে সুন্দরবনের মধু শক্তি প্রদায়ী, হজমে সহায়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময় করে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে এই মধু পাওয়া যায়। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুম চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। চলতি বছর সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু ও ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই মৌয়ালদের অনাগ্রহ সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। যে কারনে মৌয়ালরা দলবদ্ধ হয়ে ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য বনে ঢোকে। খুব ভোরে ধারালো দা, লাঠি, ধোঁয়া তৈরি করার মশালসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে বনের গভীরে যায়। গামছা বা অন্যান্য কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা থাকে মৌমাছির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব শব্দ করে তারা বাঘসহ অন্যান্য হিংস্র প্রাণীদের ভয় দেখানোর জন্য। এ সময় হরগোজা, কেয়া কাঁটা, হেতালসহ নানা কাঁটা জাতীয় গাছ ও বড় বড় গাছের মাটি থেকে ওঠা শ্বাসমূল থেকে শরীর বাঁচিয়ে তারা এগিয়ে চলে। তাদের দলনেতা ঠিক করে দেয় কোন এলাকায় তারা মধু খুঁজবে। এরপর চলে মৌচাক খোঁজার কাজ। হঠাৎ চাক চোখে পড়লে তারা সাংকেতিক শব্দ করে, তখন অন্যরা বুঝে যায় চাক পাওয়া গেছে। চাকের আকার, গঠন ও রঙ দেখে তারা বুঝতে পারে চাকটির বয়স কত এবং কতটুকু মধু ওই চাকে থাকতে পারে। এরপর চাক কাটার জন্য দলের ভিতরে নির্দিষ্ট মৌয়াল গাছে ওঠে। ধোয়ার মশাল নিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে চাক কাটে। তবে চাক কাটা খুব একটা সহজ কাজ নয়। এর জন্য আলাদা দক্ষতার দরকার হয়। প্রথমে ধোঁয়া তৈরির জন্য শুকনো পাতা ও গাছের ডাল যোগাড় করতে হয়। মূলত গোলগাছের শুকনো পাতাই বেশি ব্যবহার করা হয়। বেশিরভাগ সময় চাকের আশপাশে এগুলো পাওয়া যায় না। তখন এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি করে শুকনো পাতার ব্যবস্থা করে মশাল বানাতে হয়। শুকনো পাতা ও ডালপালা বাঁধার জন্য আবার লতা জাতীয় গাছ খুঁজতে হয়। লতা জাতীয় গাছ থেকে লতা কেটে তারপর শুকনো পাতা ও ডালপালা একসঙ্গে বাঁধা হয়। কখনো কখনো গোলগাছেরই কচি মাথার অংশ ব্যবহার করা হয়। যেটা অনেক টেকসই। মৌচাকের তিনটি অংশ থাকে। এক পাশে মৌমাছির বাসা আরেক পাশে ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু। আর মধুর নিচে থাকে আরেকটা অংশ, যাকে গুটলি (ফুলের পরাগরেণু) বলে। সেই অংশটাই প্রথমে কেটে ফেলে দিতে হয়। এরপর যেই পাতিলে মধু রাখা হয়, সেটা মৌচাকের নিচে ধরে দা দিয়ে মধুর অংশটা কাটা হয়। সংগ্রহ করা হয় চাকসহ মধু। তবে মৌমাছির বাসার অংশটা কাটা হয় না। যদি বাসাটা রেখে দেয়া হয় তাহলে সেই চাকে আবারো মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে জমা করে। ১০/১২ দিনের মধ্যেই সেই চাক আবার কাটার উপযোগী হয়ে যায়। এরপর কাটা মৌচাক থেকে চেপে মধু ও মোম বের করা হয়। মধু আর মোম আলাদা হয়ে গেলে মোমটা একটা ব্যাগে আর মধু একটি পাত্রে রাখা হয়। এরপর আবার শুরু হয় নতুন চাক খোঁজা। এভাবে বনের ভিতর ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে চাক খুঁজে মধু সংগ্রহ করা হয়। এভাবে দিনের পর দিন চলে মধু সংগ্রহের কাজ। সুন্দরবনের মধুর নানা প্রকারভেদ রয়েছে। খলিষামধু, গরানের মধু, গেওয়া মধু, কালিজিরা মধু প্রভৃতি। এগুলোর রঙ, গন্ধ ও স্বাদ ভিন্ন। খলিষামধু সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু। সুন্দরবন থেকে যখন মধু সংগ্রহের সময় হয় বছরের শুরুতে সংগ্রহ করা হয় খলিষামধু। খলিষা নামক এক প্রকার গাছের সাদা ফুল থেকে মৌমাছিরা এই মধু সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা করে। যখন সুন্দরবনে খলিষা গাছে ফুল ফোটে তখন অন্য সব গাছে মুকুল থাকলেও ফোটে না। গরানের মধু সবচেয়ে বেশি সময় ও বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করা হয়। গেওয়ামধু গেওয়া গাছের ফুল থেকে মৌমাছিরা সংগ্রহ করে। মধু সংগ্রহের মৌসুমের শেষসময়ে সংগ্রহ করা হয় এই মধু। গেওয়া ফুলের মধুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও তেমন চাহিদা নেই। কালিজিরা মধু কালিজিরা ফুল থেকে পাওয়া মধু। দেখতে কালচে রঙের হয়। খেতে একেবারে খেজুরের গুড়ের মতো স্বাদ। ঘ্রাণটাও খেজুরের গুড়ের সাথে মিলে যায়। মধুর ঘনত্ব কম বা বেশি হতে পারে। মধু পাতলা হলে ফেনা হতে দেখা যায়। আর ঘনত্ব বেশি হলে ফেনা হয় না। সাধারণত কালোজিরা ফুলের খাঁটি মধু জমে যেতে দেখা যায় না। বনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরে দু’ বার তারা মধু সংগ্রহ করতে বনে যায়। একবার এপ্রিল মাসে, আরেকবার সেপ্টেম্বরে। দু’ তিন মাস করে সে সময় তারা বনে থাকে। মৌচাক বিষয়ে তারা বলে, একটি চাকে মৌমাছিরা তিন ধরনের বিশেষ কক্ষ তৈরি করে। কর্মী মৌমাছিদের জন্য ছোট কক্ষ, পুরুষদের জন্য বড় কক্ষ এবং রাণীর জন্য বিশেষ কক্ষ। কর্মী মৌমাছিরা নতুন প্রজন্ম আসার আগেই বিশেষভাবে ফুলের রেণু এবং রস চিবিয়ে, অর্ধেক হজম করে পেটে জমা করে রাখে। তারপর বাচ্চাদের সেই অর্ধেক হজম করা খাবার খেতে দেয়, কারণ বাচ্চারা সরাসরি রেণু এবং ফুলের রস খেতে পারে না। তারপর যখন বাচ্চাগুলো কিছুটা বড় হয়, তখন কর্মী মৌমাছিরা এই চিবানোর কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে শুধু মধু এবং রেণু খায়। বাচ্চাদের অর্ধেক হজম করা খাবার দিতে হবে, না হলে বাচ্চারা মারা যাবে। মৌমাছি যখন ফুলের রস, রেণু নিয়ে বাসায় ফিরে আসে, তখন সেটি এক বিশেষ নাচ এবং সাংকেতিক শব্দ তৈরির মাধ্যমে অন্য মৌমাছিদের জানিয়ে দেয় কোথায় মধু পাওয়া যাবে। প্রায় সময় মৌাছিরা চাক থেকে মধু খেয়ে চলে যায়, শূন্য চাক পড়ে থাকে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার মৌয়াল হাবিব সরকার জানায়, মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে তার বড়ভাই ইয়াকুব সরদার বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারায়। হঠাৎ বাঘ আক্রমণ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দলের যে কোনো একজনকে ধরে নিয়ে বাঘ বনের ভিতরে চলে যায়। পরে ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের কয়েক মাইল ভিতরে। আবার অনেকে বাঘের সাথে লড়াই করে বেঁচে ফেরে। মৌয়ালদের অভিযোগ, ডাকাতদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া বনে প্রবেশ ও নিরাপদে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাধিক ডাকাত দলের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে অপহরণ, নির্যাতন বা লুটপাটের ঝুঁকি থাকে। তাঁদের ভাষ্য, প্রতি নৌকার জন্য ডাকাতেরা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করছে। আবার কোথাও জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাছানুর রহমান বলেন, মধু আহরণের মৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার করা হয়েছে। সূত্রমতে এ বনে মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় অসাধু মৌয়াল চক্র ও মধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় ভেজাল মধু তৈরির ব্যবসা করে আসছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার হরিনগর, কদমতলা, কাশিমারি, বল্লভটুপি, ঝাপালী, জয়নগর, গাবুরা এলাকার চকবারা, পার্শেমারি, ডুমরিয়া প্রভৃতি গ্রামের মৌয়ালদের একাংশ দির্ঘ দিন ধরে ভেজাল মধু তৈরি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় বিপুল পরিমানে নকল মধু জব্দ করে নষ্ট করা হয়।
-

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা
স্টাফ রিপোটার: আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রত্যেক কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার পরীক্ষার্থীদের ওপর থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সাইবার নজরদারি ও গুজব রোধ: পরীক্ষার আগে গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে সাইবার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল- জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। পরিদর্শন ও মনিটরিং টিম: শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রতিটি কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ও প্রস্তুতি যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলের প্রবণতা বন্ধে এবার বিশেষ ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘কেন্দ্র কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষা পরিচালনার যাবতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা: এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নকলমুক্ত এবং প্রশ্নফাঁসের নূন্যতম সুযোগহীন পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ নিয়মিত বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই নিশ্চিন্ন পাহারায় কোনো ধরনের অনিয়ম ঢাকা পড়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় আমরা এবার ফয়েল প্যাক এবং ওয়ান টাইম সিকিউরিটি খাম ব্যবহার করছি, যা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি কোনো কেন্দ্রে বা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কেবল পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ অন্যদিকে, আসন্ন দাখিল পরীক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এই পরীক্ষা কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। সরকার এক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আমরাও সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে— এই বার্তা আমরা এরই মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি।’ পরীক্ষার আগেই সচল করতে হবে সব সিসিটিভি ক্যামেরা : মাউশি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১টি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১. এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। ২. যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল বা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, সেসব কেন্দ্রের ক্যামেরা পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করতে হবে। ৩. সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা সব ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করতে হবে। ৪. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দেয়ালঘড়ি (কাঁটাওয়ালা) স্থাপন করতে হবে। ৫. স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে। ৬. কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. কোনো পরীক্ষার্থী যাতে নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা টাঙিয়ে দিতে হবে। ৯. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১০. সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কেন্দ্রসচিবদের দেওয়া নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ১১. উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে; কোনো অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাউশি জানিয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে সব ধরনের অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


