দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কমিউনিটি শিশুদের অংশগ্রহণে সুশীলন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ব্যতিক্রমধর্মী জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলার পারুলিয়া ফুটবল মাঠে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুশীলনের দেবহাটা এরিয়া অফিসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মামুন হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জোৎসা বালা ও শিশু ফোরামের সভাপতি অনামিকা পাড়ের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দেবহাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, ওয়ার্ল্ড ভিশনের দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রামের এপি ম্যানেজার মিল্টন সিং, স্পন্সরশিপ অফিসার পল্টন বিশ্বাস, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান ও আসাদুজ্জামান রিপনসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াই শতাধিক কমিউনিটি শিশুদের অংশগ্রহণে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করা হয়। এ সময় শিশুদের মাঝে স্কুল খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও শিশুদের অংশগ্রহণে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশ, আনন্দ ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Author: news_admin
-

দেবহাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, নতুন করে নির্মাণের দাবি
দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের গড়িয়াডাঙা এলাকায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সেতুটি এখন ‘মরণফাঁদ’ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গড়িয়াডাঙা ও শাহাজাহানপুর গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পারাপার হন। সেতুর পাশেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এ পথ ব্যবহার করতে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের ঢালাই রেলিং ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও রেলিং সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সেতুর গায়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। সেতুতে ওঠার পথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে—দুই পাশের সংযোগস্থল খালে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সেতুতে ওঠানামার সুবিধার জন্য বাঁশের ভারা তৈরি করা হলেও সেটিও এখন নষ্ট হয়ে গেছে। ঘুণে ধরা সেই বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন মানুষজনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এলাকার সচেতন মহল দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
-

কলারোয়ায় ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান সাংবাদিকেরা। এ সময় ইউএনও সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইউএনও পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। পরে উপজেলা জামায়াত নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন, সহকারী প্রোগ্রামার মো. মোতাহার হোসেন, কলারোয়া প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ এ সাজেদ, কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তাক আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আসাদুজ্জামান ফারুকীসহ স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। সভায় সাংবাদিকেরা উপজেলার নানা সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেল সংকটজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদান সহজ করতে সাংবাদিকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওসির তত্ত্বাবধানে পৃথক একটি গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন। ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
-

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির নির্বাচন ২৩ এপ্রিল
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন ও পূর্ণাঙ্গ তপশীল ঘোষণা করা হয়েছে। সমিতি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে। ঘোষিত তপশীল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ চলবে বিরতিহীনভাবে সমিতির দ্বিতীয় তলায়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সবুরকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ১২ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন অ্যাডভোকেট স. ম. মোমতাজুর রহমান মামুন, আ. ক. ম. সামছুদ্দোহা খোকন, মো. ফকরুল আলম বাবু, মো. আবুল বাসার, আজমির হোসেন রোকন, সাহেদুজ্জামান সাহেদ, এম আব্দুস সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান অনিক, এম এ হাসান, শংকর কুমার মজুমদার ও রাব্বি আহম্মেদ। ঘোষিত তপশীল অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১ এপ্রিল। এ তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ করা হবে ২ এপ্রিল এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে ৬ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ৮ এপ্রিল (দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত) এবং যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ৯ এপ্রিল (দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত)। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৩ এপ্রিল। সমিতির সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নান বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বাবু আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
-

চার সন্তানকে ইয়াতিম করে বিদায় নিলেন জনক
শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার: চার পুত্র সন্তানের জনক শহীদ মো: সাইফুল ইসলাম—একজন সংগ্রামী, দায়িত্ববান ও সৎ মানুষ। বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করা সাইফুল ইসলামের পিতা মরহুম কুদ্দুস সিকদার এবং মাতা আমেনা খাতুন। জীবিকার তাগিদে তিনি রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমান এবং হাজারীবাগ এলাকায় স্ত্রী আমেনা বেগম ও চার সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। অল্প আয়ের মধ্যেও তিনি পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সততার সঙ্গে। তার বড় ছেলে বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বাবার মৃত্যুর পর পরিবার চালানোর কঠিন দায়িত্ব এখন তার কাঁধে এসে পড়েছে। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় সে ইতোমধ্যেই শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছে। মেজ ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, আর ছোট দুই সন্তানের এখনও স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি। এই চারটি নিষ্পাপ সন্তানকে ইয়াতিম করে চিরবিদায় নিয়েছেন তাদের প্রিয় পিতা। শহীদ সাইফুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও সদালাপী মানুষ। সহজেই মানুষের সাথে মিশে যেতে পারতেন এবং সবার কাছে ছিলেন প্রিয়। দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান, আর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন আন্তরিকভাবে। অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। তার অকাল প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজেরও এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার রেখে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে, যা আমাদের সবার বিবেককে নাড়া দেয়। -

সাতক্ষীরা স্কলার হাবের উদ্যোগে ইতালিতে স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অনেক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা, তথ্যের অভাব ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে তা অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। তবে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য এবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সাতক্ষীরা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্কলারহাব-এর উদ্যোগে ইতালির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে DSU Scholarship Programme-এর আওতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে।
এই স্কলারশিপের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
আবেদনকারীদের প্রাথমিক বাছাই শেষে অভিভাবকসহ সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়া হবে। ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে।
আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ এপ্রিল ২০২৬। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৮৯৪৫৪৮৯৩৫ নম্বরে।
এছাড়া প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী আসলাম, জব প্লেসমেন্ট অফিসার, সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (মোবাইল: ০১৬১৮৬১৮৭৫১)।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পেলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবে।
-

বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম
ডেস্ক রিপোর্ট: চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ক্রমাগতভাবে বাড়ছে দাম। জ্বালানির এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির তেলের দাম বাড়বে বলে গুঞ্জন উঠে। তবে, আপাতত দাম বাড়াচ্ছে না সরকার। এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’ অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করে তা বহাল রাখা হয়েছে। নতুন এই মূল্য ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে, সকালে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে ডিজেল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল দেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এদিকে, জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
-

সরকারি নির্দেশনায় শৃঙ্খলিত তেল সরবরাহে জনমনে স্বস্তি
হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর: শ্যামনগরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলা সদরের শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন যানবাহনে তেল বিক্রয় করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ট্যাগ অফিসার, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে এবং ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকিতে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি নিয়মিত মনিটরিং করছেন। তেল বিক্রয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা প্রবেশপথে বাঁশের ফেন্সিং করা হয়েছে, যাতে একসঙ্গে একটি মোটরসাইকেলই প্রবেশ করতে পারে। ফুয়েল পাম্প এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। “নো পেপারস, নো ফুয়েল; নো ডিএল, নো ফুয়েল; নো হেলমেট, নো ফুয়েল” নীতি। তবে অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের যেকোনো একটি প্রদর্শন করলেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হেলমেট ব্যবহারে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ধরনের সুশৃঙ্খল উদ্যোগে তেল ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নিয়মতান্ত্রিকভাবে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং জনভোগান্তি কমে আসবে।
-

ডিপোতে সরবরাহ সংকট, পাম্পে রেশনিং
খুলনা ব্যুরো: খুলনাঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ডিপো পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়া, ট্যাংকলরিতে অর্ধেক তেল দেওয়া, ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হওয়া এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনের কারণে নগরজুড়ে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যানবাহন চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর দৌলতপুর এলাকায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি প্রধান তেল ডিপোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অনেক কম। ডিপোর সামনে শতাধিক ট্যাংকলরি ও ট্রাক দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। অনেক গাড়ি তেল নিয়ে বের হলেও অধিকাংশ চালকের অভিযোগ তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না। চালকরা জানান, ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংকলরিতে তারা মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার তেল পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকেরও কম দেওয়া হচ্ছে, আবার কেউ কেউ কোনো তেল না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। এতে করে পরিবহন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ট্যাংকলরি চালক আমজাদ বলেন, আমরা দূর-দূরান্ত থেকে তেল নিতে আসি। কিন্তু যদি অর্ধেক তেল নিয়ে ফিরে যেতে হয়, তাহলে খরচই উঠে না। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। ডিপো সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে প্রায় ৩০টি এবং পদ্মা ডিপো থেকে প্রায় ৪২টি ট্যাংকলরি তেল নিয়ে বিভিন্ন জেলায় গেছে। তবে খুলনা বিভাগসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মোট ১৫টি জেলার চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অত্যন্ত অপ্রতুল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে ডিপো এলাকায় একটি জাহাজ থেকে ডিজেল খালাস করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও দুটি জাহাজে করে ডিজেল ও অকটেন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চালান পৌঁছালে বর্তমান সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে। অনেক পাম্পে সকাল থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। কিছু পাম্প অল্প সময়ের জন্য খুললেও দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যেসব পাম্প খোলা রয়েছে, সেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। অনেক জায়গায় রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে কোথাও ২০০ টাকা, কোথাও ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেল চালক আসাদুল্লাহ বলেন, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। এতে করে দৈনন্দিন কাজ চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক যানবাহন নগরীতে এসে তেল নেওয়ার চেষ্টা করায় শহরের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। কোথাও বাকবিতণ্ডা, কোথাও ধাক্কাধাক্কি এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটছে। একাধিক স্থানে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি নড়াইলে একটি ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেলের পরিমাপে কারচুপি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযান জোরদার করেছে। খুলনা বাইপাস সড়কের খানজাহান আলী এলাকায় আকন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত, র্যাব-৬ ও বিএসটিআই এর যৌথ অভিযানে তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে প্রতি ১০ লিটার তেলে প্রায় ৮০০ থেকে ৮২০ গ্রাম পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট পাম্পকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হোসেন জানান, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। নিয়মিত তদারকি চালানো হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে খুলনার তিনটি ডিপো থেকেই খুলনা বিভাগ ও আশপাশের জেলাগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় পুরো ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ডিলাররা বলছেন, তারা পর্যাপ্ত তেল না পেলে পাম্পে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।
এদিকে কালোবাজারি ঠেকাতে ডিপো থেকে সীমিত তেল দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এতে করে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ডিপো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন জাহাজে তেল আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুলনায় জ্বালানি তেলের সংকট এখন বহুমাত্রিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। ডিপো থেকে শুরু করে পাম্প পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


