Blog

  • অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে একজনকে কুপিয়ে জখম, ৮ ট্রাক্টর জব্দ

    অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে একজনকে কুপিয়ে জখম, ৮ ট্রাক্টর জব্দ

    কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ট্রাক্টরের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছিল। পরিবেশ ও রাস্তাঘাট রক্ষায় জিয়াউল ইসলাম শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ইলাহী ও আব্দুল্লাহর ঘের থেকে ট্রাক্টরে করে মাটি নেওয়ার সময় জিয়াউল ইসলাম বাধা দেন। এ সময় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মামুনের নেতৃত্বে থাকা ট্রাক্টরচালক হেলাল ও বেলালসহ কয়েকজন শ্রমিক তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখ ও শরীরে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ট্রাক্টরচালক হেলালসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত জিয়াউল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর কলারোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি বহনে ব্যবহৃত ৮টি ট্রাক্টর জব্দ করেছে। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৮টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নির্মাণের এক বছরেও হয়নি হস্তান্তর, ধসে পড়ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

    নির্মাণের এক বছরেও হয়নি হস্তান্তর, ধসে পড়ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

    স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় এলাকায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু এখনও উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এরই মধ্যে পাশের পাড় ধসে পড়া ও ঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর দুই পাশেই রয়েছে মৎস্য ঘের। ঘরের সামনে ও পেছনের অংশে মাটি ধসে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। পাড় রক্ষায় বসানো প্যালাসাইডিংয়ের কিছু অংশ কাত হয়ে পড়েছে। এতে ভাঙন ধীরে ধীরে ঘরের কাছাকাছি চলে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
    আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ৫৫ শতক জমির ওপর ১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসেবে পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়নি। শ্রীউলা ইউনিয়নের সমাজকর্মী শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই পাড় ধসে পড়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জমির ধরন ও আশপাশের ঘেরের প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘদিন ঘরগুলো অব্যবহৃত পড়ে থাকা এবং পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত ঘরগুলো নিরাপদ করে ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
    এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটির দুই পাশে মাছের ঘের রয়েছে। এতদিন ঘেরে পানি থাকায় প্যালাসাইডিং ঠিক ছিল। সম্প্রতি ঘের মালিকরা পানি সেচ দেওয়ায় প্যালাসাইডিং কাত হয়ে পড়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঘেরে আবার পানি উঠলে তখন প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। তবে ঘর হস্তান্তরের দায়িত্ব ভূমি অফিসের বলেও জানান তিনি। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে ভাঙনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষায় দ্রুত টেকসই ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিল

    অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিল

    প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন-এর জেনারেল মিটিং এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সংগঠনের সদস্য এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিকেটকে আরও উন্নত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত সদস্যরা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, যিনি উপস্থিত থেকে ক্রিকেট নিয়ে তার অভিজ্ঞতা এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শেয়ার করেন। তার উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে মর্যাদাপূর্ণ করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টির মাধ্যম হয়েছে। সাধারণ সভা শেষে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সবাই একত্রিত হন। ইফতার পর্বটি ছিল আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মিলনমেলা। সংগঠনের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটারদের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিকেটকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে সক্ষম হবে।

  • সাতক্ষীরার বাজারে রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি: সংকটে আবাসন খাত

    সাতক্ষীরার বাজারে রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি: সংকটে আবাসন খাত

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরার বাজারে হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে রড ও সিমেন্টের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কেজি প্রতি রডের দাম প্রায় ২০ টাকা ও বস্তাপ্রতি সিমেন্টর দাম ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন আবাসন ও অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীরা। নির্মাণসামগ্রীর এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও যে রড প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, গতকাল মঙ্গলবার তা একলাফে ৯০ থেকে ১০০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ঢাকার বাজারে আনোয়ার ইস্পাত ও আকিজ: ৯১,০০০ টাকা (টনপ্রতি), কেএসআরএম: ৯১,০০০ টাকা, সিএসআরএম: ৮৪,০০০ টাকা, রহিম স্টিল: ৮৭,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সাতক্ষীরার বাজারে টনপ্রতি আরো ১০ হাজার টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি, ইরান যুদ্ধকে পুঁজি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “যুদ্ধে প্রভাব রড উৎপাদনে আরও পরে পড়ার কথা। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।” পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সরকারকে বাজার মনিটরিং করার দাবী জানান। অন্যদিকে, রি-রোলিং মিল মালিকরা সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলো বীমা সুবিধা দিচ্ছে না এবং পণ্য পরিবহন খরচ (ফ্রেইট কস্ট) ১৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং স্ক্র্যাপের মূল্যবৃদ্ধিও স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার জনস্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “যে রড বর্তমানে বাজারে আছে, তাতে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কথা নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।” বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রড ও সিমেন্টের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আবাসন খাতে বড় ধরনের ধীরগতি বা মন্দা দেখা দিতে পারে, যা এই খাতের সাথে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিকের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে সভাপতি হতে লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে সভাপতি হতে লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা

    রাজনৈতিক নেতাদের ফেরানোর বন্দোবস্ত: সারর্জিস
    স্টাফ রিপোটার: বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের ফেরানোর বন্দোবস্ত করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি হতে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাসের নিয়ম বাতিল করার সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৪ সালের প্রবিধানমালা সংশোধন করে কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হচ্ছে। এতে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের নিয়মে ফেরানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হবে না। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটিতে বিদ্যুৎ শাহী সদস্য, দাতা সদস্য, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের যুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। এ পদগুলোতে মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কিংবা তাদের অনুসারীরাই থাকেন। ফলে অঘোষিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের বসানোর নির্দেশনা এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।’শিগগির এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে বলেও জানা গেছে। ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতাও আর থাকছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ইউএনও, ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার হয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানের কাছে যাবে তিনজনের নামের তালিকা। সেখান থেকে একজন হবেন কমিটির প্রধান বা সভাপতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষাবোর্ড। ২০২৪ সালের মে মাসের আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হতো না। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালের মে মাসে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪’ প্রণয়ন করে। ওই প্রবিধানমালায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছিল, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ কোনো ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট প্রবিধানমালা সংশোধন করে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করে গেজেট জারি করে। সেই নিয়ম বাতিল করে ২০২৪ সালের আগের নিয়মে ফিরলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এনসিপির সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে হলে অন্তত স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি থাকতে হবে। কিন্তু পরে সেই শর্ত বাতিল করে সভাপতির পদে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যোগ্যতার মানদণ্ড তুলে দেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অতীতে আওয়ামী লীগ শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও গুণগত মান নষ্ট করে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, একই ধরনের পথে হাঁটলে জনগণ ভবিষ্যতে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলা হলেও বাস্তবে যোগ্যতা ও মানের প্রশ্ন উপেক্ষা করা হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে যোগ্য ও দক্ষ মানুষকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে অথবা দলের কর্মীদেরই যোগ্য করে তুলতে হবে। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বা অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

  • আল মুজাহীদের মৃত্যুতে জামায়াতের শোক

    আল মুজাহীদের মৃত্যুতে জামায়াতের শোক

    স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার অন্তর্গত সদর পূর্ব থানা শাখার সাবেক সেক্রেটারি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক অর্থ সম্পাদক এবং বর্তমানে ১৪নং ফিংড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আল-মুজাহিদ ইন্তেকাল করেছেন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান।
    মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক শোকবাণীতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আল-মুজাহিদ ভাই ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ শপথের কর্মী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠনের কাজ করে গেছেন। তারা বলেন, তার অকাল ইন্তেকালে ইসলামী আন্দোলন একজন ত্যাগী কর্মীকে হারাল। তার এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তার সকল গুনাহ মাফ করে তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

  • পাটকেলঘাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির চেষ্টা, দুইজন আটক

    পাটকেলঘাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির চেষ্টা, দুইজন আটক

    স্টাফ রিপোর্টার: রমজানের ছুটিতে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার ধানদিয়া এলাকায় ১৪৫নং কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির চেষ্টার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের সময় পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনের জানালার লোহার গ্রিল ভেঙে চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করেন। আটককৃতরা হলেন মোঃ রকি পাঠান (২৮) এবং মোঃ আবু বক্কর (৪৫)।
    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ খালিদা খাতুন (৫১) জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ তলা বিশিষ্ট পুরাতন ভবনের জানালার গ্রিল চুরি করার জন্য আসামীদ্বয় হাতুড়ি ও লোহার কাটারি ব্যবহার করছিল। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল দেখতে পেয়ে তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসামীদের হেফাজতে নেয় এবং ধৃতদের কাছ থেকে চুরি করা লোহার কাটারি, হাতুড়ি ও জানালার অংশ উদ্ধার করে।
    পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ এ.এইচ.এম লুৎফুল কবীর জানান, কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির চেষ্টার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ইতিপূর্বে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ চুরির ঘটনায়ও আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলমান রয়েছে।
    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, “বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। রমজানের ছুটিতে বিদ্যালয়ে চুরি চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনক, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হবে।”

  • সাতক্ষীরায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন

    সাতক্ষীরায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ভূমিকম্প ও অগ্নি বিষয়ক মহড়া, র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসনের আয়োজন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার সভাপতিত্বে অগ্নি বিষয়ক মহড়া ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোছা: শাহানাজ বেগম, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও উপাধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম মুকুল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাইফুজ্জামানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা। অগ্নি মহড়া ও আলোচনা শেষে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের যুব সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

  • পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল

    পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল

    মোঃ হারুন উর রশীদ: সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সহায়তার কার্যক্রম জোরদার করতে ‘যাকাত’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) বিকাল ২টায় কালিগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতে সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুর রউফের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সিটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। তিনি তার প্রবন্ধে যাকাত ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের বাস্তবসম্মত দিক ও সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে নায়েবে আমীর নাসির ও বাইতুল মাল সেক্রেটারি আবু রাসেল আশকারী। সেমিনারে উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা যাকাত ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসে সামাজিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।