
Blog
-

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে সংঘটিত দুর্র্ধষ চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও সহিংসতা কমবে এমন প্রত্যাশা ছিল। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভোলায় নারী ধর্ষণ, চট্টগ্রাম, বগুড়া, কক্সবাজার, যশোর ও ময়মনসিংহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং কুমিল্লায় মন্দিরে ককটেল হামলার ঘটনা চরম উদ্বেগজনক। এসব সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, গত ১১ মার্চ সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মন্দির (পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি) ও কাটিয়া সদর সার্বজনীন পূজা মন্দিরে চুরির ঘটনায় মন্দিরগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অবিলম্বে চুরি হওয়া মূল্যবান মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জি, জেলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য গৌর দত্ত, মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত, শিক্ষাবিদ কিশোরী মোহন সরকার, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন, সদর উপজেলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সিংহ, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, দীনবন্ধু মিত্র, সুকৃতি রায়, যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অমিত ঘোষ ও ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুজন বিশ্বাসসহ অনেকে।
-

সাতক্ষীরায় বিএনপির ইফতার মাহফিলে সাবেক এমপি হাবিবের বিতর্কিত বক্তব্যে উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব অভিযোগ করেছেন, খুলনা বিভাগের নির্বাচনে ২৫টি আসন বিশেষ দলের জন্য “হাইজ্যাক” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের পরিকল্পনায় খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টি আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রী হিসেবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৪টি আসনে বিএনপিকে হারিয়েছে।” হাবিব আরও বলেন, “নির্বাচনের সময়ে সাবেক ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, জেলা প্রশাসক, তালা ও কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার একটি বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেছেন। নির্বাচনের পর ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যাহার হয়েছে। সেই ব্যক্তি সাতক্ষীরার মাটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা উচিত। ডিসিকে অবিলম্বে সাতক্ষীরা ছাড়তে হবে।” তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। তাই আগামী উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে সকল নির্বাচনী যুদ্ধে আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।” শুক্রবার বিকালে শহরের লেকভিউ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে এধরনের আক্রশমূলক বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার এই বক্তব্যে বিভিন্ন গনমাধ্যমের ফেসবুক পেজ এ নিম্নলিখিত কমেন্ট দেখা গেছে। কলারোয়া স্পিস-এ রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২ শতাধিক জন নেচিবাচক কমেন্ট করেন। এরমধ্যে একজন কমেন্ট করেছেন- ‘ আসল কথা এটা যে টাকা খরচ করে হাবিব নির্বাচন করছে সে টাকা তুলে নিবে এবং চাঁদাবাজি করবে, চাঁদাবাজি ভাগ নিতে পারছে না তাই তাদের অপসারণের জন্য বলছে। এটাই বাস্তব’। হাসিবুজ্জামান নামে একজন লিখেছেন, পাগল হয়ে গেছে মনে হচ্ছে, কেউ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। নজরুল ইসলাম লিখেছেন, মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সাইফুল ইসলাম লেখেন, চাচা এটা ইফতার মাহফিল, মাথা ঠিক আছে তো?
বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দদের দাওয়াত করে এধরনের অশোভনীয় বক্তব্য প্রদানে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান, তাছকিন আহমেদ চিশতি, বিএনপি নেতা কামুল ইসলাম ফারুক, নাসিম ফারুক খান মিঠু প্রমুখ। সভা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, সাতক্ষীরার উন্নয়নে মন্ত্রী পরিষদের সাবেক সচিব আব্দুর রশীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণসহ জেলাকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করায় সাতক্ষীরাবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখতে বিএনপি-জামায়াত একসাথে কাজ করা দরকার। এই বক্তব্যের পর পরই ক্ষেপে যান বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। পরে তার বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এরপর ইফতার তিনি ইফতার শুরু করেন। কিন্তু তখনও ইফতারের কয়েক মিনিট সময় বাকি ছিল। -

বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শিবিরের আহবান
সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে
স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আহবান জানিয়েছেন ছাত্র শিবির। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ২৩ শে রমজান সন্ধায় আল আমিন ট্রাস্টের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল বক্তরা এ আহবান জানান। শহর শিবিরের সভাপতি মো. মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সেক্রেটারী মাওলা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, অফিস সম্পাদক মো, রুহুল আমীন সাতক্ষীরা শহর জামায়াতে সেক্রেটারী মো. খোরশেদ আলম, জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন। এসময় সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাইদ বিশ্বাস, আলোর পরশের বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের জেলা প্রতিনিধি মুহা: জিল্লুর রহমান, একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক বরুণ ব্যাণার্জী, এখন টিভির জেলা প্রতিনিধি আহসানুর রহমান রাজিব, ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, স্টার টিভির জেলা প্রতিনিধি গাজী ফরহাদ, সাংবাদিক আনিচুর রহমান, মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি বিপ্লব হোসেনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকবৃন্দ। ছাত্র শিবিরের ইফতার মাহফিলে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি মিলন মেলায় পরিনত হয়। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, রমজান মাস এসেছে মিথ্যাকে পরিহার করে ভালোকে গ্রহন করতে। মানব জাতীকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বোঝাতে। রমজানের শিক্ষা নিয়ে আগামীর পথ চলতে হবে। সাংবাদিকরা সমাজের সঠিক তথ্য তুলে ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী। সভাপতির বক্তব্যে মেহেদী হাসান বলেন, পবিত্র রমজান আমাদের সত্যবাদিতা, নৈতিকতা ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। আমরা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই আপনারা সত্য প্রকাশ করুন এবং ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিন। তিনি বলেন, আপনারা আমাদের ভালো কাজগুলোর পাশাপাশি ভুলত্রুটিগুলোও তুলে ধরবেন। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের আরও পরিশুদ্ধ ও গুছিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, আমরা অতীতেও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম এবং আগামীতেও থাকব। নতুন বাংলাদেশের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা জাতির বিবেক সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই আপনারা সব ধরনের বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন এবং সত্য প্রকাশ করুন। আপনারা যদি এভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে এ দেশে আর ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। -

পাটকেলঘাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় কন্ট্রাক্টর রাজ্জাকের ছেলে নিহত
শাহ আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ভ্যান ও বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের নামাজের পর কুমিরা ইউনিয়নের মেলেকবাড়ি কোনারবাড়ি এলাকায়। নিহত ফরহাদ হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আমতলা কাঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুর রাজ্জাক কন্ট্রাক্টরের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরহাদ হোসেন সাতক্ষীরা থেকে বাসযোগে পাটকেলঘাটায় এসে ভ্যানযোগে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মহাদেবপুরে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্যানটি মেলেকবাড়ি কোনারবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার জেরে ফরহাদ হোসেন ভ্যান থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান এবং ট্রাক তার মাথা ও বুকের উপর দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, ট্রাকটি পাটকেলঘাটার মজুমদারদের মালিকানাধীন। ট্রাকটির নং যশোর ট-১১-৩২৬৩। পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি জব্দ করেন এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পুলিশের প্রাথমিক জানানো মতে, এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। নিহত ফরহাদ হোসেনের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
-

চোর আতঙ্কে সাতক্ষীরা পৌরবাসী
স্টাফ রিপোর্টার: বারান্দার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে চেতনাশক স্প্রে করে বাড়ির সবাইকে অজ্ঞান করে এক হোটেল ব্যবসায়ীর সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া এলাকার সন্তোষ ঘোষের বাড়িতে এঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকা সহ ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। মাত্র চারদিনের ব্যবধানে শহরের তিনটি চুরির ঘটনায় চোর আতঙ্কে রয়েছে সাতক্ষীরা পৌরবাসী। এছাড়াও সম্প্রতি শহরের রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ায় এলাকাবাসী হাতেনাতে একচোরকে ধরে পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ চোর না ধরে উল্টা গ্রামবাসীকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। বাড়ির মালিক সন্তোষ ঘোষ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমি বাড়িতে আসি। রাতে আমরা ঘুমিয়ে পড়ার পর আর কিছু বলতে পারিনা। অন্যদিন রাতে আমি ২/৩ বার উঠি। কিন্তু আজকে রাতে আমার ঘুম ভাঙেনি। সকালে উঠে দেখি আমার স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। ঘরে তার মাথার কাছে জানালার গ্রিল কাটা। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি বাড়ির সব জিনিসপত্র তছনছ করা। এছাড়া তিন তলার বরান্দার গ্রিল কাটা। তিনি বলেন, ধারনা করা হচ্ছে রাতে বাড়ির তিনতলার বারান্দার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ভিতরে ঢোকে। পরে ঘরের জানালা দিয়ে চেতনা নাশক স্প্রে করে। একপর্যায় আমার স্ত্রীর মাথার কাছে জানালার গ্রিল কেটে চোরেরা ঘরে ঢুকে সবকিছু তছনছ করে। এসময় তারা ঘরের আলমীরাতে রাখা প্রায় ৬ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পুরাতন সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলাই দে জানান, কয়েকদিন আগে কাঠিয়া কর্মকার পাড়া মন্দিওে চুরি হয়েছে। দুইদিন আগে পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্বর্ণের গহনাস ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল খোয়া গেছে। শুক্রবার ভোর রাত ৩টার দিকে একই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী সন্তোষ ঘোষের বাড়িতে ফের চুরির ঘটনা ঘটায় এই এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিশেষ করে সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি রাতে এলাকায় পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরায় চলছে না কোন স্যালো মেশিন
মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরায় প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। গত কয়েকদিন ধরে প্রেট্রোল পাম্প ও দোকান থেকে কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি না করায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা দুই লিটার করে ডিজেল দিচ্ছেন দাবি করলেও অধিকাংশ কৃষকরা ডিজেলের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষক ডিজেলের জন্য দোকানে দোকানে ধর্ণা দিচ্ছেন। সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তার ৫বিঘা জমির একটি বোরো ধানের ব্লক রয়েছে। দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ায় জমিতে সেচের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে পারছিনা। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ দোকানে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও যে পরিমাণ ডিজেল দিচ্ছে তাতে সেচ পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামের কৃষক মো. ইউনুচ আলী বলেন, তার ৩১ বিঘা জমির ইরি ব্লক রয়েছে। জমিতে সেচ দিতে প্রতিদিন তার প্রায় ১০ লিটার ডিজেল লাগে। বেশ কয়েকদিন আগে স্থানীয় ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন থেকে ১০লিটার ডিজেল কিনেছিলাম। কিন্তু এখন আর ২লিটারের বেশি দিচ্ছে না। যা দিয়ে আমার পুরো ইরির ব্লকে পান সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ধান ক্ষেতের মাটি শুকিয়ে ফাটল ধরা শুরু করেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার পুরো ব্লক মার খেয়ে যেতে হবে। তিনি বোরা ধানের জমিতে সেচ দেয়ার স্বার্থে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।
সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের প্রো: সিদ্দিকুল ইসলাম বকুল জানান, বাস, ট্রাক ও ডিজেল চালিত অন্যান্য যানবাহনে নির্ধারিত মাত্রার ডিজেল সরবরাহের পাশাপাশি কৃষকদেরকে প্রতিদিন ২লিটার করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক লোক আসছে ডিজেল নিতে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি মোটামুটি সবাই যাতে কমবেশি ডিজেল পায়।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছািড়িয়ে আমাদের চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রযেছে ৭০৪০টি এবং ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেল চালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তবে এসময় বৃষ্টিপাত হলে ডিজেলের পরিমান কিছুটা কম লাগে।
এবিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, আমরা কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ রাখার চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিষয়টি তদরকি করছেন। সংকটের অজুহাতে যারা কৃষকের কাছে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -

নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন উপকূলের গৃহবধূ অপর্ণা
স্টাফ রিপোর্টার: নিজের জীবনের সংগ্রাম আর নেতৃত্বে উঠে আসার অনুপ্রেরণামূলক গল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে তানজানিয়া সফরে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার গৃহবধূ অপর্ণা মল্লিক। তিনি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মাঝিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। একজন সাধারণ গৃহবধূ জীবন থেকে বেরিয়ে এসে অপর্ণা মল্লিক এনগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন নেত্রী হিসেবে গড়ে তোলেন। সমাজের নানা বাধা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আজ তিনি একজন সফল নারী নেত্রী হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত।
তার এই সাফল্যের গল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে কোডি ইনিস্টিটিউট নামক একটি কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান তাকে তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এনগেজ গ্লোবাল গেদারিং অন ওমেনস লিডারশিপ এ্যান্ড একটিভ সিটিজেশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির আমন্ত্রণে তিনি ২০ মার্চ ২০২৬ তানজানিয়ায় উক্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই প্রোগ্রামে আরও অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশসহ ভারত, ইথিউপিয়া, হাইতি ও তানজানিয়ার প্রতিনিধিরা। সেখানে তিনি আগামী ২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত অবস্থান করবেন। উক্ত প্রোগ্রামে তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও শ্যামনগরের নারীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার গল্প তুলে ধরবেন।
অপর্ণা মল্লিকের এই আন্তর্জাতিক সফর স্থানীয় নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তার এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও অনেক নারীকে ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে। -

শোক কাঁদাচ্ছে প্রতিবেশীদেরও: পাশাপাশি সমাহিত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা ব্যুরো: যে বাড়িতে নতুন বউকে ঘিরে আনন্দ আর উৎসবের আমেজ থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। স্বজনদের কাঁধে চড়ে শেষযাত্রায় বিদায় নিলেন বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) পৃথক পৃথক স্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকালে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কয়রায় পারিবারিক কবরস্থানে মিতু, লামিয়া ও রাশিদার দাফন করা হয়। দাকোপে আনোয়ারা বেগমের আরেকটি জানাজা শেষে সেখানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে গ্রামের বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে জুমার পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক তার পুত্র বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। শুক্রবার ভোরে তাদের কফিন মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারীতে এলাকার পরিবেশ ভারী হযে ওঠে। শুক্রবার জুমার আগে মোংলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার মোংলা উপজেলা মাঠে নামাজে জানাজায় অংশ নেয় বাগেরহাট-৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ নিহতদের স্বজন এবং কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি নয়জনকে দাফন করা হয়। কানায় কানায় ভরে যায় উপজেলা পরিষদ মাঠ। জানাজার আগে আবেগঘন কণ্ঠে নিহতদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাই ও বোন হারানো আশরাফুল আলম জনি। তার আকুতিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জনি বলেন, “আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন, ভাগ্নেÑসবই হারিয়েছি।
আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন। কারও যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করব। আর সবাইকে তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”
জানাজার আগে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।”
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “যে বাড়িতে আজ আনন্দের পল্গুধারা থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
এদিকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো লাশ আগে কখনো দেখিনি। এই দৃশ্য সহ্য করা খুবই কঠিন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। রাজ্জাক ভাই মেয়ের বিয়েও কয়রায় দিয়েছিলেন, এবার ছেলের বিয়েও সেখানে হলো। কিন্তু পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। তিনি জানান, আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে। নিহতদের গোসল শেষে একে একে খাটিয়ায় রাখা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মোংলা কবরস্থানের খাদেম মুজিবুর ফকির জানান, পরিবারের সম্মতিতে একই স্থানে ৯টি কবর খোঁড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের জন্য কখনো কবর খুঁড়তে হয়নি। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক।
মাইক্রোবাসের চালক নাঈমও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে নিজ গ্রামের বাড়িতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রীজের দক্ষিণ পাশে এখনো ছড়িয়ে আছে শিশুদের পানির ফিডারের অংশ, কয়েক জোড়া জুতা এবং অসংখ্য কাচের টুকরো। এগুলোই যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে ভয়াবহ সেই সড়ক দুর্ঘটনার, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে এখনো ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক মানুষ। অনেকেই সেখানে ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরো, জুতা ও বিভিন্ন সামগ্রী দেখে মর্মাহত হচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবনে এত বড় দুর্ঘটনা দেখিনি। আমি তখন মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফিরছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম গরুটা হয়তো বাসের সামনে পড়ে গেছে। পরে দেখি দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ। চারদিকে রক্ত আর আহত মানুষ-এত মানুষকে একসঙ্গে এভাবে কখনো দেখিনি। শুধু রফিকুল ইসলামই নন, এলাকার অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের প্রতি প্রকাশ করছেন শোক সমবেদনা।
অপরদিকে বাগেরহাট-৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোর ভাবে কাজ করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহন করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারী ভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। -

দেবহাটায় আনসার ভিডিপি ব্লাড ব্যাংকের ইফতার মাহফিল
স্টাফ রিপোর্টার: দেবহাটা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি ব্লাড ব্যাংকের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি উপজেলা সহকারী আনসার কোম্পানি কমান্ডার নূর হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকছেদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সখিপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াকুব আলী, দৈনিক দৃষ্টিপাতের নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, জেলা রোভার স্কাউটের সেক্রেটারি আবু তালেব, দেবহাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সখিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ আবুল হোসেন বকুল, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরুজ্জামান কামরুল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়ান ব্রিকস্ এর স্বত্বাধিকারী সাহেব আলী, পারুলিয়া মানহা হাসপাতাল পরিচালক মনিরুজ্জামান মুন্না, দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী মুজাহিদ হোসেন লিটু, দুবাই প্রবাসী ইয়ানুর রহমান, এসএম মইদুর রহমান, রায়হান বাবু, গোলাম হোসেন, আবুল হাসান, মিলন হোসেন সহ আনসার ভিডিপি কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য, সাধারণ সদস্য ও রক্তযোদ্ধা গন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, আনসার ও ভিডিপি ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্টা হওয়ার পর থেকে দেবহাটায় বৃক্ষরোপন, বিনামূল্যে রক্তদান, সামাজিক সচেতনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহ নানামূখি কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।
