Category: সাতক্ষীরা সদর

  • শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রাখলেন আব্দুর রউফ

    শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রাখলেন আব্দুর রউফ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফ পরাজিত হলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি শাখরা–কোমরপুর সড়কের জরাজীর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিলেন। নির্বাচনে জয়ী না হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ব্রিজ সংস্কারসহ সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস পান। এরই ধারাবাহিকতায় শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ সংস্কারের জন্য ৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা-২ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আব্দুর রউফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে শাখরা–কোমরপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আব্দুর রউফ। এ সময় তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি, কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাইনি। আমি আগে যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিজ সংস্কারের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে ইনশাল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ধাপে ধাপে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহানুর রহমান, দেবহাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটির সংস্কার কাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি পাবেন।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ

    স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরাতে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে সাতক্ষীরা নিউমার্টে চত্বর থেকে তুফান কোম্পানি মোড় সংলগ্ন সড়কের পথচারি ও দোকানদারদের মাঝে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। অপরদিকে তুফান কোম্পানী মোড় থেকে সুলতানপুর বড় বাজার পর্যন্ত গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান। কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির জেলা আহবায়ক কামরুজ্জামান বুলু, বিডিপির সদস্য সচিব, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারী ও মেয়ার প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক, শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারী খোরশেদ আলম প্রমুখ। লিফলেট বিতরণকালে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, অবিলন্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। তিনি বলেন গণভোট মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দলীয়করণ বন্ধ হবে, একনায়কতন্ত্র বন্ধ হবে, সংসদে উচ্চ কক্ষ গঠন হবে এজন্যই বিএনপি গণভোট মানে না। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্য রচিত বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য। এজন্যই সংবিধান সংস্কার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন আমাদেরকে জেল-জুলুম, অত্যাচারের ভয় দেখাবেন না। এসব পার করে আমরা আজ এখানে এসেছি। যদি দেশ ভালো চালাতে চান তবে সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। কিন্তু আপনারা জনগণের বিপক্ষে গেলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, গণভোট অবৈধ হলে সংসদ নির্বাচনও অবৈধ। বিএনপি সরকার জনগণের বিপক্ষে হাঁটছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের বিপক্ষে কেবলমাত্র ফ্যাসিবাদী সরকার হাঁটে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা চলতে পারে না, চলতে দেওয়া হবে না।

  • সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরের অনুমোদিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল। তিনি বলেন, খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখে এবং সাঁতার একটি জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা। সাঁতার জানলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। তাই সবাইকে সাঁতার শেখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফুটবল কোচ ইকবাল কবির খান বাপ্পি, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ শেখ মাসুদ আলী এবং সাঁতার প্রশিক্ষক জাহিদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আয়োজকেরা জানান, মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে জেলার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাঁতারে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।

  • জ্বালানি বিক্রয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সময়সূচি নির্ধারণ

    জ্বালানি বিক্রয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সময়সূচি নির্ধারণ

    বিশেষ প্রতিনিধি: চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন পেট্রোল ও অকটেন বিক্রয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণসহ বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজ-এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে জানানো হয়, জেলা সদরের সকল ফিলিং স্টেশন ও ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন দুই শিফটে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা যাবে। এতে বলা হয়, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়সীমায় সরকারের জরুরি পরিসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ব্যক্তিদের জ্বালানি গ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আরও উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেলে জ্বালানি নেওয়ার সময় চালকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট সঙ্গে রাখতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো মোটরসাইকেল ফিলিং স্টেশনের ভেতরে অবস্থান করতে পারবে না। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া, কোনো অবস্থাতেই বোতল বা কন্টেইনারে পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি করা যাবে না বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন, ডিলার ও অনুমোদিত এজেন্ট পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • রইচপুরে ইঞ্জিনভ্যান খাদে পড়ে আহত ১

    রইচপুরে ইঞ্জিনভ্যান খাদে পড়ে আহত ১

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় এক ধর্মীয় মাহফিল থেকে অন্য মাহফিলে যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি মালবাহী ইঞ্জিনভ্যান খাদে পড়ে গেছে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ভ্যানে থাকা মিষ্টি ও মিষ্টান্ন তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রইচপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার খানপুর গ্রামের একটি মাহফিল শেষে মালামাল বোঝাই করে ইঞ্জিনভ্যানটি গুনাকরকাটি বাজারের আরেকটি মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে রইচপুর উত্তরপাড়া ব্রিজে ওঠার সময় হঠাৎ ভ্যানটির চেইন ছিঁড়ে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢালু পথে ভ্যানটি দ্রুত পেছনে সরে গিয়ে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ভ্যানে তিনজন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বাসিন্দা পুণ্য নন্দীর ছেলে মদন নন্দী (৩৫) গুরুতর আহত হন। তাঁর হাতে আঘাত লাগে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। অপর দুইজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা গেছে, ভ্যানটিতে গুনাকরকাটি বাজারের একটি মিষ্টির দোকানের তৈরি মিষ্টি এবং মিষ্টি তৈরির প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। খাদে পড়ে যাওয়ায় মিষ্টিগুলো কাদা-পানিতে মিশে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার পর ভ্যানচালক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ব্রিজে ওঠার সময় হঠাৎ চেইন ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি আর ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই ভ্যানটি পেছনে খাদে পড়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির দায় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। ব্রিজের ওই অংশে যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • জ্বালানি সংকটে কৈখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলনেও ন্যায্য দাম নেই

    জ্বালানি সংকটে কৈখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলনেও ন্যায্য দাম নেই

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং কৃষকদের পরিশ্রমে শুরুতে আশাবাদী ছিলেন চাষিরা। তবে বৃষ্টির অনিয়মিততা কিছু জমিতে ফসলের ক্ষতি ঘটায়। এরপর জ্বালানি সংকটের কারণে পাইকারি ক্রেতারা বাইরের জেলা থেকে আসতে না পারায় পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠেছে। ফলে শতাধিক চাষি আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কৈখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও আবাদি জমিতে এ বছর ব্যাপক পরিসরে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হওয়ায় মাঠজুড়ে সারি সারি তরমুজ থাকলেও বাজারজাতকরণে কৃষকরা চরম সংকটে রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তরমুজ পড়ে থাকছে, সময়মতো বিক্রি না হলে তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকসহ বিপুল খরচ হয়েছে। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। মৌসুম শুরুর দিকে ভালো দামের আশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা ভেস্তে গেছে। কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, “প্রতি বছরই বাইরের পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এবার জ্বালানি সংকটের কারণে কেউ আসতে পারছে না। ফলে আমরা কম দামে বিক্রি করছি, এতে লাভ তো দূরের কথা খরচই ওঠে না।” আরেক চাষি আব্দুল গনি মোড়ল বলেন, “এত ভালো ফলন জীবনে কমই দেখেছি। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় অনেকেই হতাশ। ক্ষেতেই তরমুজ পড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।” চাষি মোমিন আলি কারিকর জানান, “পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। নিজেরা ভাড়া করে পণ্য পাঠানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার ক্রেতাও নেই। দুই দিক থেকেই ক্ষতির মধ্যে আছি।” কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, “কৃষকরা খুব কষ্ট করে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে বাইরের ক্রেতারা আসতে পারছেন না। এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছি।” উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ জানান, “এ বছর তরমুজের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার অন্যতম কারণ জ্বালানি সংকট। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং বিকল্প বাজার ব্যবস্থার বিষয়েও কাজ করছি। ”স্থানীয় সমাধান প্রস্তাব সচেতন মহল মনে করছেন- দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষিপণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা প্রদান, অস্থায়ী হাট বা সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করা সরকারি পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়, চাষিরা দাবি করেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এবারের বাম্পার ফলনই তাদের জন্য বড় লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • কলারোয়ায় সিভিল সার্জনের অভিযানে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

    কলারোয়ায় সিভিল সার্জনের অভিযানে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছেন। বিভিন্ন অনিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কলারোয়ার গয়ড়া বাজারের ডাক্তার রমজান আলীর আছিয়া মেমোরিয়াল ক্লিনিক, ডাক্তার কবিরুল ইসলামের মায়ের হাসি ক্লিনিক, কলারোয়া পৌর সদরের জনসেবা ক্লিনিক এবং গরু হাটখোলা মোড়ের দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স ও কাগজপত্র যাচাই বাণিজ্যিক নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনের এই পদক্ষেপের পর এলাকার সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তবে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেননি।

  • এতিম শিশুদের হাসি আর ভ্যানচালকদের পাশে যমুনা টেলিভিশন

    এতিম শিশুদের হাসি আর ভ্যানচালকদের পাশে যমুনা টেলিভিশন

    স্টাফ রিপোর্টার: একটি কেক, কিছু হাসি আর ভাগাভাগি করা ভালোবাসা- এভাবেই সাতক্ষীরায় উদযাপিত হলো যমুনা টেলিভিশনের একযুগ পূর্তি। উৎসবের এই দিনটি ছড়িয়ে দেয় মানবিকতার আলো; এতিম শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি, আর পথের শ্রমজীবী মানুষের হাতে পৌঁছে যায় ভালোবাসার খাবার। রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টায় সরকারি শিশু পরিবারে এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি মুহূর্তেই অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে উৎসবমুখর। এর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক আবুল কাশেম। বক্তব্য দেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ, কল্যাণ ব্যানার্জী, মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-পরিচালক আয়েশা খাতুন, স্বাগত বক্তব্যে যমুনা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকরামুল ইসলাম বলেন, “মানুষের পাশে থেকে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের পথচলার মূল শক্তি।” অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক হোসেন আলী। আলোচনা শেষে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম বাবুলের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সকল কলাকুশলীদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা ইউনুচ আলী। পরে এই মানবিক আয়োজন ছড়িয়ে পড়ে শহরের পথে। দরিদ্র ভ্যানচালকদের মাঝে ফুড প্যাকেজ বিতরণ করা হলে তাদের মুখেও ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। একযুগের এই পথচলা শুধু একটি গণমাধ্যমের সাফল্যের গল্প নয়-এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার এক নিরন্তর অঙ্গীকার।

  • বকচরা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৬১তম বার্ষিক মাহফিল সম্পন্ন

    বকচরা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৬১তম বার্ষিক মাহফিল সম্পন্ন

    বিশেষ প্রতিনিধি: বকচরা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৬১তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শনিবার (৪ এপ্রিল) সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বাদ আসরের পর বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম বিপ্লবী। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মাওঃ আফছার উদ্দীন, খানপুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওঃ শফিকুল ইসলাম চিকরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাওঃ শাহাদাৎ হোসাইন, মাওঃ মোশারফ হোসেন, মোঃ কবির হোসেন (মিলন), মোঃ আফতাবুজ্জামান (আফতাব) এবং মুফতি মাওঃ এম. এ. আবুল খায়ের। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবুল হামান, যা ধর্মীয় শিক্ষার আলোয় উপস্থিত দর্শক ও শিক্ষার্থীদের মননশীলতার উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।

  • তীব্র দাবদাহে জনজীবনে স্থবিরতা

    তীব্র দাবদাহে জনজীবনে স্থবিরতা

    স্টাফ রিপোর্টার: ভোর হতেই সূর্যের উত্তাপ জানান দিচ্ছে দিনটি কতটা অসহনীয় হতে চলেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আকাশ যেন আগুনের গোলার মতো জ্বলছে। গত তিন দিন ধরে তীব্র দাবদাহে দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলাটির জনজীবন। গাছপালা ঝিমিয়ে পড়ছে, মাঠঘাট ফেটে চৌচির, আর মানুষ ও প্রাণিকুল হাঁসফাঁস করছে একটু স্বস্তির খোঁজে। একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দোসর-সব মিলিয়ে জনজীবন এখন এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে সাতক্ষীরার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। শনিবার আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও তাপমাত্রার পারদ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। এর ওপর বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গরমের তীব্রতা অনুভব হচ্ছে আরও বেশি। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হতে বাধ্য হচ্ছেন, তারা তীব্র রোদ আর ধুলোবালি থেকে বাঁচতে ছাতা, হ্যাট বা স্কার্ফ ব্যবহার করছেন। সাতক্ষীরা শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় কথা হয় ভ্যানচালক রফিকুল ইসলামের সাথে। পেশার তাগিদে এই তীব্র রোদেও রাস্তায় বের হতে হয়েছে তাকে। তিনি জানান, “গত তিন দিন ধরে ভ্যান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শরীর দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে না, শুধু জ্বালাপোড়া করছে। দুপুরের দিকে রাস্তা দিয়ে তাকালে মনে হয় রাস্তা থেকে ধোঁয়া উঠছে। এই সময়ে এমন গরম গত কয়েক বছরে খুব একটা দেখা যায়নি।” সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান সহকারী জুলফিকার আলি রিপন বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দুপুর আড়াইটায় তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রির একটু বেশি। এ অবস্থা আরও দুই-একদিন থাকতে পারে। এদিকে তীব্র গরমের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হিটস্ট্রোকের ভয়ে বা গরমে অসুস্থ হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার খাওয়ার জন্য।সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, গত তিন দিনে প্রচুর সংখ্যক মানুষ জ্বর, মাথাব্যথা, পানিশূন্যতা এবং হিট-ক্র্যাম্পের সমস্যা নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “তীব্র দাবদাহের সময় বাইরের কাজ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। যদি বাইরে বের হতেই হয়, তবে ছাতা ব্যবহার করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করাও শরীরের জন্য এখন খুবই প্রয়োজন।” দাবদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাত। সাতক্ষীরার মাঠগুলোতে এখন ধান পাকার সময়। দিনের বেলা শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। মাঠের মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যার ফলে সেচ ব্যবস্থা সচল রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমের মুকুল ও গুটির ওপরও এই তাপপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।বাগানিরা বলছেন, তাপমাত্রা যদি আরও কয়েক দিন এমন থাকে এবং ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয় তবে আমের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাতে না পারলে ফলের আকার ছোট হয়ে যেতে পারে এবং ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে। শুধু মানুষ নয়, গৃহপালিত পশু ও পাখিরাও এই দাবদাহ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ছায়াঘেরা জায়গার সন্ধানে প্রাণীরা ছোটাছুটি করছে। গবাদি পশুর খামারিরা জানিয়েছেন, গরমে গরুর দুধ উৎপাদন কমে গেছে। তাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে খামারিরা সারাদিন ফ্যান চালানো বা গবাদি পশুকে পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়ার মতো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।প্রকৃতি যেন বৃষ্টির জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। খাল-বিল, পুকুর ও নদীগুলোর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চারপাশের গাছপালা মলিন হয়ে গেছে। সবুজের ওপর ধূসর আস্তরণ জমেছে যেন। তবে আশার কথা হলো, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিল থেকে কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইতে পারে। সেদিন বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই দীর্ঘ দাবদাহের অবসান ঘটাতে পারে। তীব্র গরমে শহরের কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও শরবত বিতরণ করতে দেখা গেছে। অসহনীয় এই পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পথচারীদের। তবুও, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নাগরিক জনজীবন এখন এক ধরনের ক্লান্তিতে ডুবে আছে। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তি মানুষের সীমাবদ্ধতাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানো ও সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দারা এখন কেবলই আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন, এক পশলা বৃষ্টির প্রতীক্ষায়। বৃষ্টির কোমল স্পর্শে পৃথিবী আবার সজীব হয়ে উঠবে-এই কামনাই এখন সাতক্ষীরাবাসীর কণ্ঠে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও সাধারণ মানুষকে রোদের তীব্রতা থেকে সতর্ক থাকতে নিয়মিত নির্দেশনা প্রচার করছে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং জনজীবনে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও গরমের তীব্রতা বজায় থাকবে। পরবর্তী ২-৩ দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।