মুহাম্মদ হাফিজ, সাতক্ষীরা : ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের প্রথম সারির সংগঠনদের বাদ দিয়ে দলছুট, অনগপ্রবেশকারী, বহিরাগত ও আন্দোলনে যাদের কোনো ভৃমিকা ছিলনা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা কমিটি গঠন করার অভিযোগ উঠছে।
এ কমিটি বাতিলের দাবিতে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) খুলনা রোডস্থ মোড় শহীদ আসিফ চত্বরে জরুরী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির সংগঠক মুহাম্মদ ইমরান হোসেন।
উল্লেখ্য গত ২রা জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্যসচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত পত্রে এ কমিটি দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আরাফাত হোসাইন ও সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুহাইল মাহদীন। মুখ্য সংগঠক আল শাহরিয়ার এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোহেনী পারভীন। কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম, মো. মিজানুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, সোহেলী তামান্না, মইনুল ইসলাম দীপু, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আরও আটজন। যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. নাজমুল হোসেন, মো: রেজওয়ান আহমেদ, ওমর তাসনিম রাহাতসহ আরও সাতজন।
সংগঠক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো: হাসিবুল হাসান, আমিনুর রহমান রাতুল, শেখ ওমর ফারুকসহ মোট সাতজন। এছাড়াও ১২২ জন সদস্য কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। এদিকে উক্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ৪ জানুয়ারী সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে সাতক্ষীরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির একাংশ।
Category: সাতক্ষীরা সদর
-

সাতক্ষীরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলনের ডাক
-

সাতক্ষীরায় ত্রিশমাইল সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যান চালক নিহত
মামুন হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি,
সাতক্ষীরা বিনেরপোতা সড়ক দুর্ঘটনায় ১ ভ্যান চালক নিহত হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি ) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সাতক্ষীরা ত্রিশমাইলে এ ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে বিনেরপোতা এলাকায় পরিবহনের সাথে মালবাহীভ্যানের ধাক্কা লাগে , ঘটনাস্থলে ভ্যান চালক আমানুল্লাহ (৬৫) নিহত হন। তার বাসা সাতক্ষীরা সদরের তালতলা গ্রামে। ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজ ইনস্পেক্টর নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বলেন, ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী পরিবহন সাতক্ষীরা দিক থেকে আসা মালবাহীভ্যানের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক আমানুল্লাহ নিহত হয়। -
সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ
শাহ জাহান আলী মিটন, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষা-২০২৪ এর ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর ) সকালে মাদ্রাসার হল রুমে এ বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড.মুফতি আখতারুজ্জামান’র সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার হেড মহাদ্দিস মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মহাদ্দিস শামসুজ্জামান, আরবি প্রভাষক মাওলানা হাফিজুর রহমান,মোঃ ইউনুস আলী, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ আলমগীর কবির,মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মো. রায়হানুল কবির,সেলিনা আক্তার, দীপ্তি মন্ডলসহ মাদ্রাসা শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষে মেধাক্রম ১ম,২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী ১ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতারণ করা হয়। -
খানপুর সিদ্দিকিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরষ্কার বিতরণ
তৌফিক ,সাতক্ষীরা থেকে: সাতক্ষীরা সদর খানপুর আলিম মাদ্রাসার ২০২৪ সালের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা১১টায় মাদ্রাসার হলরুমে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী সভার সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল আহাদ সাহেব অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পীরজাদা মহসেন আল মঞ্জুর শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন।
মাওলানা দেলোয়ার হোসেন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মাওলানা নজরুল ইসলাম সাহেব,খতিব খানপুর মাদরাসা জামে মসজিদ মোঃ শাহাদাত হুসাইন খানপুর মাদ্রাসার অবিভাবক সদস্য, , ডাঃ ওয়াজেদ আলী, ,মাদরাসার পরিচালক, আবুল কাশেম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, মিজানুর রহমান মাদ্রাসার অবিভাবক সদস্য, মোহাম্মদ মোস্তাকিম বিল্লাহ ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহ সভাপতি, । এ সময় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ উপস্থিত শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন। -

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত
মুহাম্মদ হাফিজ, সাতক্ষীরা :বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) মাছখোলা উত্তরপাড়া জামে মসজিদে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
যুব সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে দারস পরিবেশন করেন ৯ নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা জাকির হোসেন।
০৯ নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের যুব ইউনিট শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল ওয়ারেশ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক সহিদুর রহমান,০৯ নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের জামায়াতের আমীর মাওলানা জাকির হোসেন,হাফেজ মোঃ রফিকুল ইসলাম,ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের যুব বিভাগের সভাপতি মোঃ হাফিজুল ইসলাম, ০৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ সহিদুর রশীদ মুকুল,হাফেজ মফিজুল ইসলাম,মোঃ শাহাদুজ্জামান,১নং ইউনিটের সভাপতি মাওলানা রোকনুজ্জামান বিপ্লবী ও সেক্রেটারি ফেরদাউস আলম,২নং ইউনিটের সভাপতি আব্দুল গফুর ও সেক্রেটারি আল মামুন প্রমুখ।
-

সাতক্ষীরা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কমিটি গঠন : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়নের দাবী
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার দ্বি—বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ডিসেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা মুন্সিপাড়াস্থ কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে এই দ্বি—বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে আগামী ২০২৪—২৬ সেশনের জন্য জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী এবং অধ্যাপক মোঃ আব্দুল গফ্ফা কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।
জেলা সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী সভাপতিত্বে উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ—সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল সভাপতি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর মাষ্টার শফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলার প্রধান উপদেষ্টা জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা।
সম্মেলনে অধ্যাপক গাজী সুজায়াত আলী সভাপতি, সহ—সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল জলিল, ও মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল গফফার, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু হোরায়রা ও মোঃ ফিরোজ আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা রুহুল কুদ্দুস নির্বাচিত হন।
সম্মেলনে নতুন সভাপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ—সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল সভাপতি মাষ্টার শফিকুল আলম। এরপর সব নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান নবনির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক গাজী সুজায়াত আলী ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি মাষ্টার শফিকুল আলম বলেন, দেশে যত পেশা আছে সব পেশায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। কোনে পেশায় যেন শ্রমিকরা হয়রানির শিকার না হয় সেটির প্রতি সজাগ থাকতে ফেডারেশনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়ন অনিবার্য। শ্রমিকরা দেশের মূল চালিকা শক্তি। শ্রমিকদের সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিপদে আপদে সবাইকে পাশে থাকতে হবে। -

সাতক্ষীরায় ঐতিহাসিক কর্মী সম্মেলন জীবন দিবো দেশের এক ইঞ্চি মাটি দিবো না ——————————————————— ডা. শফিকুর রহমান
আবু সাঈদ বিশ^াস, শাহজান, মুজাহিদ: জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে ইস্পাত কঠিন ঐক্য চাইলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন দেশের আকাশে কালো মেঘ জমেছে। দেশের আাকাশে কালো শকুন দেখা যাচ্ছে। তাদেরকে কোনরকম সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা জেলার ঐতিহাসিন কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা সদরের সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোরআনের কথা বলতে গিয়ে, আল্লাহর দ্বীনের কথা বলতে গিয়ে সত্য কথা গিয়ে বাংলাদেশের কোন জেলা এতো জীবন এবং রক্ত উপহার দেয়নি। সাতক্ষীরার মতো বাংলাদেশের কোন জেলা সাতক্ষীরার মতো এত রক্ত উপহার দেয়নি। এজন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে সাতক্ষীরা মর্যাদা অনন্য উচ্চতায়। আল্লাহ যেন এই জেলার মর্যাদা যেন ক্রমাগত বৃদ্ধি করে দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানি। দুনিয়ের খুব কম জায়গাতেই এমন দেশ রয়েছে। আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি; মাটির উপর অফুরন্ত সম্পদ। মাটির গর্ভে অফুরন্ত সম্পদ, সমুদ্রেও অফুরন্ত সম্পদ। কিন্তু আমাদের সম্পদগুলো জনগণের উপকারে আসছে না। যারা জনগণের কর্তা হয়ে ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন সময় দেশ শাসন করেছেন; তারা জনগনের সম্পদ সুকৌশলে চুরি করে লুন্ঠন করে পকেটে ঢুকিয়েছেন। এজন্য বাংলাদেশের জনগণ তাদের হিস্যা পায়নি।
আমীরে জামায়াত উল্লেখ করেন ২০১৫ সালে শহীদ পরিবারের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। সকাল ৯/১০ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত আমি দেখেছি এই জেলার রাস্তাঘাট ভাঙ্গাচুরা দেখেছি। মোটর সাইকেলে করে সারা জেলা ঘুরার চেষ্টা করেছি। তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম——— উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসছে ? জোয়ারের সামান্য ছিটেফোটা কি এখানে আসে না ?তারা জানায়না আসে না। তারা জানায় বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী সাতক্ষীরাকে বাংলাদেশের অংশ মনে করে না। আপনাদের ওপর তারা জুলুম করেছে।
তারা জনগণের অধিকার দেয়নি। সাতকীরার ওপর জুলুম করেছে। খুন—গুম করেছে। ইজ্জতের ওপর হাত দিয়েছে। সম্পদ লুন্ঠন করেছে মানুষকে তারা দাসে পরিণত করেছে। সবচেয়ে খারাপ করেছে সাতক্ষীরায়।শুধু দ্বীনের পক্ষ নেওয়ায় যদি এই অবস্থা হয় তাহলে হে আল্লাহ দুনিয়া এবং আখেরাতে এই জেলার মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান ওয়াদা করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সুষম উন্নয়ন দিতে চাই। কেউ চাইলেও. না চাইলেও তার অধিকার পাবে। লক্ষ যুবক বেকার থাকবে না। শিক্ষা সমাপনির সাথে সাথে কাজ ধরিয়ে দেওয়া হবে। নৈতিক এবং জাগিতিক শিক্ষার সমন্বয় হবে।
তিনি বলেন আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মাবোনেরা ঘরে এবং বাইরে নিরাপদে থাকবে। তারা কর্মস্থল এবং রাস্তাঘাটে সুরক্ষা পাবেন. নিরাপদে থাকবেন। দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। নবী যুদ্ধক্ষেত্রেও নারীদের যুক্ত করেছেন।
তিনি ইতিহাস টেনে বলেন. বিশেষ করে বদরের যুদ্ধের কঠিন দিনে তিনি নারীকে যুক্ত করেছেন। যখন কাফেররা খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল হত্যা করার জন্য। যখন পরুষযোদ্ধারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন একজন নারী আল্লাহর রাসুল (সা) কে ঘুরে ঘুরে সুরক্ষা দিয়েছিলেন। তার শরীরে ৩৭ তীর ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। রাসুল সা. বলেছেন যখনই শক্র আমার প্রতি তীর নিক্ষেপ করেছেন তখনই ওই নারী তীর আমার শরীরে লাগতে দেননি। যখনই তীর এসেছে ওই নারী ঘুরে ঘুরে তিনি নবীকে সেফ করেছেন। তিনি হলেন মুসাইবা (রা :)। রাছুল যদি নারীকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারীকে কর্ম দিয়ে থাকেন তাহলে আমরা কে ? যে তাদের হাত বন্ধ করার।
আমাদের ব্যাপারে ইসলামের প্রতিপক্ষ শত্রুরা অপপ্রচার চালায়, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মহিলাদের ঘর থেকে বের হতে দিবে না। আর যদি দেয়ও তাদের জোর করে একটা বোরকা পরিয়ে দিবে।
জামায়াতের আমীর নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, জামায়াতে ক্ষমতায় গেলে কারো ওপর জোর খাটানো হবে না। যখন ইসলাম কায়েম হবে তখন মা বোনেরা আনন্দের সাথে ইজ্জত রক্ষার জর্য পর্দা পালন করবে। এরপরও যদি কোন মা বোন পোশাকের ক্ষেত্রে আপত্তি থাকে তাদের কোন রকম বাধ্য করা হবে না। এদেশে অন্য ধর্মের মানুষ বসবাস করে। অন্য ধর্মের মানুষকে ধর্ম গ্রহন করতে বাধ্য করা হবে না। মন্দির গির্জা পাহারা লাগবে না।
বাগানে মাঝে মাঝে হুতুম পেঁচা ঢুকে পড়ে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আশরাফুর মাখলুকাত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হবে না। পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও আমাদের কাছে ভিআইপি। রিকশাওয়ালাকে স্যালুট জানাই। তাদের কাজের মর্যাদা দেওয়া হবে। কৃষক আপমর জনতা মর্যাদা এবঙ দায়িত্বের সাথে কাজ করবে।
চমৎকার সাম্প্রদায়িক দেশ আমাদের। কিন্তু আমাদের বাগানে মাঝে মধ্যে হুতুম পেঁচা ঢু ক পরে। হুতুম পেচাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সম্পৃতি নষ্ট হতে দিবো না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই; সব মানুষকে কাজের মর্যাদা দিবো। আমরা যদি এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই তাহলে সবাই কাজ করতে হবে। আমরা চাই, জাতীয় স্বার্থে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে ইস্পাত কঠিন ঐক্য চাই।
তিনি বলেন, এই যে ২৪ এর স্বাধীনতা এমনি এমনিতে আসেনি। ২০০৬ সালে ২৮অক্টোবর প্রকাশ্যে দিবালোকে লগি বৈঠা দিয়ে হত্যা করে আমার সন্তানদের ওপর খুনিরা লাফালাফি করেছে। সেইদিন বাংলাদেশপথ হারিয়েছিল। সেই পথহারা বাংলাদেশ দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর ২০২৪ সালে আবার তার পথে ফিরে এসেছে। এরমাঝে অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। ৫৭ জন চৌকস সেনা অফিসারকে খুন করা হয়েছে। এরপর জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দকে খুন করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে জুলুম করে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া আপনাদের পাশ^র্বর্তী জেলা ঝিনাইদাহ খুনের তান্ডব চালানো হয়েছে। সবশেষ ২০২৪ পর্যন্ত খুনের রক্তে ভাসতে হয়েছে। এসব অভিযোগে ছাত্র—জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল। ছাত্রদের হাতে কোন আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। এমনকি তাদের হাতে কোনইট পাথরও ছিল না। কোটা সংস্কারের জন্য; কোটা বাতিলের জন্যও না। তারা বলেছিল কোটার নামে জাতির সাথে মেধার সাথে তামাশা করবেন তা আমরা মানবো না।
কিন্তু সরকার একদিকে তাদের বাহিনীকে নামিয়ে দিলো; আরেকদিকে সরকার তাদের স্বশস্ত্র গোন্ডাদের নামিয়ে দিলো। এতে দেড় হাজারের বেশি আমাদের সন্তান ছোট সময়ের মধ্যে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোর থেকে ২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত জালিমদের অত্যাচারে যারা বিদায় নিয়েছেন, আমরা আল্লার দরবারে দোয়া করি তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন।
তিনি বলেন, আসার পথে দেখলাম রাস্তাঘাটে উপচেপড়া মানুষ। বাঙলাদেশকে প্রাণ উজার করে ভালবাসি। জুলুম করা হলেও দেশ থেকে পালিয়ে যাইনি। যারা দেশকে ভালবাসে তারা পালিয়ে যেতে পারে না। এখানে বাঁচতে চাই। লড়াই করতে চাই। এবং এই দেশকে দুনিয়ার একটি শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত করতে চাই।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন আপনারা প্রস্তুত? লাখো কন্ঠে জবাব আসে জি¦ পৃস্তুত। সারাদেশে আওয়াজ উঠেছে। জীবন দিবো দেশের এক ইঞ্চি মাটি দিবো না। যারা বুক চিতিয়ে দিয়েছে তাদের নূর দা¦রা পরিপূর্ণ করে দাও। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। যুবসমাজের হাতে তুলে দিতে চাই্। যারা বয়স্করা কি বেজার হয়েছেন। না। ছেলের কৃতিত্ব বাবার কাছে অটোমেটিক হয়ে যাবে।
গরে ঘরে আওয়াজ ছড়িয়ে দিন। পৃথিবীর শ্রেষ্ট দেশ গড়তে চাই। শকৃনকে মাটিতে নামতে দেওয়া যাবে না। কেউ কেউ সুরসুরি দেয়। প্রতিপক্ষ বলে ৫ লাখ লোক হত্যা করা হবে বলা হয়েছিল। হত্যা করা কি হয়েছে? না।
উস্কানি দেওয়া হলেও পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। দেশে বিদেশে সমান তালে লড়াই করেছে। বিদেশে যারা আছেন তাদের অভিবাদন জানাই। তাদের আত্মীয় স্বজনকে হয়রাণি করা হয়েছে।
এরা পশু। পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। ঐজাত থেকে চিরমুক্তি চাই। এরা যেন ফিরে না আসতে পারে। এক টুকরা কোরআনের বাংলাদেশ কবুল করুন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ইনসাফপূর্ণ সমাজের জন্য গণঅভ্যুত্থান সফল করতে হলে সৎ নেতৃত্বে কায়েমের বিকল্প নাই। সকল পর্যায়ের নেতৃত্বে ,সৎ মানুষের সমাহার ঘটাতে হবে। নইলে আমরা প্রতারিত হতে হবে। ৪৭ সালে ৭১ সালে এবং ২৪ স্বাধীনতায় আমরা স্বাধীন হতে পারেনি। আমরা কাঙ্খিত সমাজ পেতে সাতক্ষীরা জেলার ৪টি আসন সহ সবখানে যোগ্য মানুষের নেতৃত্ব যেন কায়েম করি।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের মৃত্যুর ভয় দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু মাওলানা নিজামী প্রমাণ করেছেন যে আমরা মৃত্যুকে ভয় করি না। তারা মূলত বাঘের লেজে পা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার সাবেক আমীর ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন— জালিম সরকার বিচারিক হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় হয়রাণি করেছে। বার বার নেতার পরিবর্তন হলেও নীতির পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতা এখনো বাকী রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরাতে আমাদের ৪৬ জন ভাইকে শহীদ করেছে। কিন্তু আমাদের নরম করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলনের জন্য সাতক্ষীরা দেশের মডেল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক এমপি ও জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করেছিল এই দেশ থেকে জামায়াত শিবির উৎখাত করবে। কিন্তু তারা নিজেরাই উৎখাত হয়ে গেছে।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেদ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জেলা নায়েবে আমীর নুরুল হুদা, ডা. মাহমুদুর হক, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাফুজুর রহমান,বাগের হাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম প্রমূখ।
কর্মী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলার আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল।
জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ তিনবার ভোট চুরি ডাকাতি এবং প্রশাসনের লোকজনকে দিয়ে করিয়েছে। দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। তিনি বলেন নতুন বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।
কর্মী সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি গাজী সুজাআত আলীম অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা ওসমানগণি, সাতক্ষীরা শহর শাখা সভাপতি আল—মামুন ও জেলা শাখা শিবিরের সভাপতি ইমামুল ইসলাম প্রমূখ।
বেলা তিনটায় ডা. শফিকুর রহমান সম্মেলনের সভামঞ্চে আসেন। ততক্ষণে কর্মী সম্মেলনের মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের অলিগলি মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে যায়। শহরের অলিগলি পেরিয়ে বাসাবাড়ীর ছাদে ওঠেও কর্মী সম্মেলনের ভাষণ শোনার চেষ্টা করেন। এসময় পুরো সাতক্ষীরা শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
এদিকে এর আগে জেলা শহরের পল্লীমঙ্গল হাইস্কুল মাঠে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখাানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ। ##
-

সাতক্ষীরায় আমনের বাম্পার ফলন
আবু সাইদ বিশ^াস, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় ২০২৪—২০২৫ মওসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন চাষীরা। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ ভাগের বেশি ধান কাটা শেষ হয়েছে। জলাবদ্ধতা থাকার পরও লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে অতিরিক্ত ধান উৎপাদন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। চলতি মওসুমে আমন ফসলের উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় তিন ৫৮ হাজার ৫৫০ লাখ চাষী পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ চাষী পরিবার আমন চাষে যুক্ত। চলতি বছর জেলায় ৭৮ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জন হয়েছে প্রায় ৮৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর। যা গত মৌসুমের তুলনায় ৪২৭ হেক্টর জমি বেশি।
কয়েকদিন পূর্বে ও সাতক্ষীরার মাঠ ছিল সবুজের সমারোহের বেড়াজালে। তারপর হলুদাভাব, স্নিগ্ধ হওয়ায় মন মাতানো উদাসী দোলায় মাঠময় ঝিকিরমিকির এক অন্য প্রকৃতি দেখতে দেখতে সবুজ, আর হলুদাভাবের সেই গোছায় গোছা ধান গাছ পাকা ধানে পরিপূর্ণতা পেয়ে বর্তমানে তা কৃষকের ঘরে যেতে চলেছে। পাকা ধান কাটার শুরু হয়েছে মহাউৎসব, এ দৃশ্য সাতক্ষীরার দিগন্ত বিস্তৃ মাঠে। শস্য ভান্ডার সাতক্ষীরার কৃষকরা তাদের স্বপ্ন সাধ পুরনে ব্যস্ত, অবিরাম, ক্লান্তহীন ভাবে কেটে চলেছে আমন ধান। সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোদমে চলছে ধানকাটা, গোছানো। মহা ব্যস্ততায় কৃষকরা। কাকডাকা ভোরে আবার কেউ কেউ সকালে গাতার খেয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কেটেই চলেছে দৃশ্যতঃ সাতক্ষীরার গ্রামীন অর্থনীতিতে আমন ধান নির্ভর অর্থনীতির সুবাতাস বইছে। কৃষক এবং কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ধান কাটা, বাছা, গোছানো এবং মাড়াই করার কাজে নিয়োজিত। উৎপাদনের ঘাটতি নেই, বলা চলে এবার সাতক্ষীরায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে, কিন্তু ধানের দাম কিছুটা কম এমন হতাশা ময় কথা বললেন কৃষক সুলাইমান। তিনি জানান বীজ সার কিছুটা কৃষি দপ্তর হতে বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও শ্রমিক মজুরী সহ অপরাপর খরচ পরবর্তি খুববেশী লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান সময়ে আমন ধান ওঠা শুরু হওয়ায় ধানের বাজার কিছুটা নিন্মমুখি, কোন কোন এলাকায় বস্তা প্রতি পনেরশত। কৃষকরা ধানের পাশাপাশি বিচুলী বিক্রয়ে অর্থ পাচ্ছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন ধানকাটা মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে ক্ষেতে মধ্যেই কৃষক আধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনের সাহায্যে ধান মাড়াই করে সেখান থেকেই চিক্রি করছে। তবে এমন দৃশ্য খুব কম, অধিকাংশ কৃষক ধান কেটে বাগের সাহায্যে ছাড়াও ভ্যান, ঠেলাগাড়ী সহ বিভিন্ন যানবাহনে বাড়ীতে নিচ্ছে। আমন ধানের সোদা গন্ধে গ্রামের মেঠো পথ হতে শুরু করে কৃষকের বাড়ী পর্যন্ত মৌ মৌ সুসভিত গন্ধে ভরপুর। কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীরাও মহাব্যস্ত সময় অতিক্রম করছে। ধান সিদ্ধ, শুকানো এবং মাড়াই করার জন্য প্রস্তুত করতে কৃষাণীরা গভীর রাতে উঠছে সূর্য উঠতে না উঠতে ধান সিদ্ধ শেষ করে দৌড়ে শুকাচ্ছে। ধান, সিদ্ধ, রৌদ্রে শুকানো, মাড়াই করা সব মিলে গ্রামীন জনপদ এক ধরনের কমংযজ্ঞে চিত্র চিত্রায়িত হচ্ছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে তাদের অনেকে মহাজন সহ বিভিন্ন এনজিও হতে ঋন গ্রহন করে ধান চাষে নেমেছে। আমন ধান ঘরে তুলেছে কিন্তু ঘরে থাকার সুযোগ কই? ধান বিক্রি করে ঋন পরিশোধ করছে এবং বাদ বাকি ধান সারা বছরের খোরাকির জন্য রাখতে হচ্ছে। আমন ধানের চালের আটার মেহমানদারী এবং আথিথেয়তা হবে। শীত পড়তে শুরু করেছে। গ্রামীন জনপদে শীতের সময় গুলোতে পিঠা পায়েস তৈরীর ধুম পড়ে এই ধানের উপস্থিতি পিঠা পায়েসের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। সবমিলে কৃষক খুশি, লাভ লোকসান বড় কথা নয়, নতুন ধান উঠেছে তাই সর্বত্র বইছে আনন্দ স্রোত। ধান চাষে লাভবানই হচ্ছে কৃষকরা, তবে আরও বেশী লাভবান হতেন যদি না প্রনোদনা এবং বিনা সুদে কৃষি ধানের ব্যবস্থা করা হতো।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে, যা গত মৌসুমে ছিল ৭৮ হাজার ৬৮ হেক্টর জমি। তাদের সার্বিক সহযোগীতার কারণে এবার আমনে বাম্পার ফলন পেয়েছে চাষিরা।







