নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের আমির হামজা নামক এক ব্যাবাসায়ীর ২৩ লক্ষ টাকা তার দুইজন কর্মচারীর থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবকদলনেতা মো. রফিকুজ্জামান(২৬) মো. আলিম উদ্দীন গাজীকে(৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার দুপুরে এক প্রেসবিফিংএ এতথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম।জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৯ডিসেম্বর সাতক্ষীরা থেকে ভোমরাস্থল বন্দরের যাওয়ার পথে আলিপুর ঢালীপাড়া এলাকা থেকে আমির হামজা নামে এক ব্যাবসায়ীর দুই কর্মচারীকে মারপিট করে ২৩লক্ষ৩৮হাজার ৫শত টাকা সহ একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয় দূর্বিত্তরা।ওই সময় মেহেদি হাসান মুন্না নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সেপার্দ করে স্থানীয়জনতা । এরপর আসামী ১৬৪ধারার জবানবন্ধী অনুযায়ী ঘটনায় জড়িতদের খুঁজতে থাকে পুলিশ। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রবিবার রাতে শহরের কাশিমপুর এলাকা থেকে রফিকুজ্জামানকে এবং ভোররাতে লক্ষীদাঁড়ি এলাকা থেকে আলিম উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের কাছ থেকে ৩লক্ষ ৯৩হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।এছাড়া মামলার অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিহত খাদিজা খাতুন (১৯) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবকাটি গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি সদর উপজেলার নারায়নজোল গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে। ঘাতক স্বামী আমিরুল ইসলাম (২৩) মাধবকাটি গ্রামের এলাই বক্সের ছেলে।
নিহতের আত্মীয় নারায়নজল গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, মাত্র তিন মাস আগে সদর উপজেলার মাধবকাটি গ্রামের এলাই বক্সের ছেলে আমিরুল ইসলামের সাথে নারায়ণজোল গ্রামের সিদ্দিক মালির মেয়ে খাদিজা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আমিরুল শ্বশুরের কাছ থেকে যৌতুকের দুই লাখ টাকা আনার জন্য খাদিজা খাতুনের উপরে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। খাদিজা টাকা আনতে বাবার বাড়ি যেতে রাজি না হওয়ায় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে আমিরুল। এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমিরুল লাঠি দিয়ে তার স্ত্রী খাদিজার মাথায় আঘাত করে। এসময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে আমিরুল।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর ঘাতক আমিরুল একরকম উন্মাদের মত হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে এসে বাড়ি আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। এসময় বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় জনতা ঘাতক আমিরুলকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি সামিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্বামী আমিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।









