Category: সাতক্ষীরা সদর

  • সপ্তাহের ব্যবধানে সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকা

    সপ্তাহের ব্যবধানে সাতক্ষীরায় পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে যখন অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তখন পেঁয়াজের এই দরপতনে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো এতে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। তবে হঠাৎ দরপতনে লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের সুলতানপুর বড়বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩০ থেকে ৩২ টাকায় নেমে এসেছে। মুড়িকাটা মোটা জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে ২৮ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা পলাশপোল এলাকার ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রমজান শুরুর আগে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সংসারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী পেঁয়াজ কিনতে পারিনি। এখন দাম কেজিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। রোজার সময় পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে, তাই এই মূল্যহ্রাস সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক।” খুচরা বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, নির্বাচনি ব্যস্ততার কারণে অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছিলেন। একই সময়ে রমজানের বাড়তি চাহিদার কারণে মোকাম পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে কৃষকরা বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ উত্তোলন করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দাম কমেছে। পাইকারি বিক্রেতা তাপস ঘোষ বলেন, “রমজান শুরুর কয়েকদিন পর থেকে পেঁয়াজের ক্রেতা কমে যায়। এদিকে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়ে গেছে। সকালে দুই বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করে ১ হাজার ৪১০ টাকা লোকসান হয়েছে। এভাবে দাম কমতে থাকলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।” সুলতানপুর বড়বাজারের মেসার্স মোল্যা ভাণ্ডারের মালিক আব্দুল আজিজ মোল্যা জানান, রমজানে বেশি দামের আশায় অনেক কৃষক পেঁয়াজ উত্তোলন বন্ধ রাখায় আগে সরবরাহ কমে যায় এবং দাম বাড়ে। বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা তুলনামূলক কম। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়লেও দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

  • একটি মডেল সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা চাইলেন এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

    একটি মডেল সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা চাইলেন এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরা ২ (সদর-দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেছেন, একটি সুন্দর ও মডেল সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে সাতক্ষীরাকে একটি উন্নত জেলায় রূপান্তর করা সম্ভব। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি আব্দুল খালেক বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। সাতক্ষীরার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা নিয়ে সাতক্ষীরার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।” তিনি মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সদর থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এবং শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি আখতারুজ্জামান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওমর ফারুক, মাওলানা হাবিবুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর ফখরুল হাসান লাভলু, সাংবাদিক আবু সাইদ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার মানুষ শান্তিপ্রিয়। মাদকই অধিকাংশ অপরাধের মূল কারণ। মাদক নির্মূল করা গেলে চুরি ও অন্যান্য অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, সদর উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব। এছাড়া সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ভোমরা বন্দরের উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ, টিসিবি পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভাটি প্রাণবন্ত আলোচনা ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

  • জামায়াত হারেনি-হারানো হয়েছে : মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি

    জামায়াত হারেনি-হারানো হয়েছে : মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি

    শাহ জাহান আলী মিটন: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী’র উদ্যোগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে মোজাফফর গার্ডেনে “দায়িত্বশীলদের সম্মানে ইফতার মাহফিল” অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন’র সভাপতিত্বে এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, “সকলেই একসাথে হয়ে আমাদের মোকাবেলা করেছে। নির্বাচন ভালো হলেও ফলাফলের কারচুপি হয়েছে। জামায়াত হারেনি, বরং হারানো হয়েছে জামায়াতকে। আমরা আশাবাদী, ইনশাল্লাহ, যে আবেগ ও উচ্ছ্বাস আমরা এই গণজোয়ারে দেখেছি, তা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা আল্লাহ দান করবেন। আমরা যেন পার্লামেন্টে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারি এবং দেশ ও জাতির আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হই।” এছাড়া তিনি রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বলেন, “রমজান আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং সমাজে ন্যায়-নীতির চর্চার মাস।” তিনি সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করেন এবং উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, প্রভাষক ওমর ফারুক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওঃ আব্দুল বারী, মাওঃ শাহাদাত হোসেন, শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলম,সদর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার হাবিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আলাউদ্দিন, অধ্যাপক শহিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

  • সাতক্ষীরায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে চরম ভোগান্তি

    সাতক্ষীরায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে চরম ভোগান্তি

    আগরদাঁড়ী প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাঁশঘাটা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি খেকো চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে ভারী যানবাহনে মাটি পরিবহনের ফলে রাস্তাটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে কাদা ও বড় বড় গর্ত, ফলে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি পরিবহন করছে। অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে রাস্তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কাদার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, অবৈধভাবে মাটি পরিবহন বন্ধ এবং জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কার করা না হলে অচিরেই এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ মাটি পরিবহন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

  • যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু হলে রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি

    যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু হলে রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি

    স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতি, দুঃশাসন, টেন্ডার ও চাঁদাবাজমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা রাষ্ট্রে চালু করার আহবান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতির কারণেই আমাদের জাতীয় অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। এতে পুঁজিপতির পুঁজি বাড়ছে; দরিদ্ররা হয়ে পড়ছেন আরো হতদরিদ্র। দুর্নীতিও বাড়ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। তাই দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশকে দুর্নীতি ও বেকারত্বমুক্ত করতে যাকাত ও কর্জে হাসানাভিত্তিক ইসলামী অর্থনীতি চালুর কোন বিকল্প নেই। আর তা করতে পারলেই দারিদ্র, দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটকে বঙ্গপোসাগরে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “রমজান ও যাকাত ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আমীর জাহিদুল ইসলাম। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, কর্মপরিষদ সদস্য এড. আজিজুল ইসলাম, ঝাউডাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নের্তৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবি, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবি ফোরামের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে বেকার, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের রাষ্ট্রের যাকাত তহবিল থেকে কর্জে হাসানা; প্রয়োজনে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। যাতে তারা অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেন। আর এভাবে পাঁচ বছর কাজ করা হলে দেশে যাকাত নেওয়ার মত কোন লোক থাকবে না। দেশ পুরোপুরি দারিদ্রমুক্ত হবে। তিনি সে স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে জামায়াতে পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

  • ধনীদের সম্পদের উপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার দিয়েছেন: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি

    ধনীদের সম্পদের উপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার দিয়েছেন: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি

    আবু সাইদ বিশ্বাস: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেছেন, ধনীদের সম্পদের উপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার দিয়েছেন। তাই যাদের সম্পদে নিসাব পরিমাণ রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে নিজ সম্পদের হিসাব থেকে যাকাত আদায় করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “সিয়াম ও যাকাত” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সফল ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রের কাছেই যাকাত আদায় ও বণ্টনের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে এবং সরকারই সুষ্ঠুভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে। তখন প্রকৃত পাওনাদাররা তাদের প্রাপ্য বুঝে পাবেন। তিনি রমজানের শুরুতেই ফরজ বিধান যাকাত ও ওশর আদায়ের মাধ্যমে সকলকে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরও বলেন, যাকাত কোনো অনুগ্রহ নয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যাকাতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ধনীদের কাছ থেকে তা আদায় করে অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। বিত্তবানদের এই হক যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। যাকাতভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্যেই আর্তমানবতার অর্থনৈতিক মুক্তি নিহিত রয়েছে। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। তিনি বলেন, যাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং এটি গরিব-দুঃখীদের ন্যায্য অধিকার। পবিত্র কুরআনে সালাতের পাশাপাশি যাকাতের কথাও বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের জন্য যাকাত আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে সরকারি বা সাংগঠনিকভাবে যাকাত আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সদর জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ, ঝাউডাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী এবং সদর জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • রমজান উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

    রমজান উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা

    হাফিজুল ইসলাম: পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাতক্ষীরা সদরের কাথন্ডা ও বাদামতলা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাভিল হোসেন তামীম ও সাইফুল ইসলাম। অভিযানের সময় বিভিন্ন মুদিদোকান ও গোডাউন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় দোকানে মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রয়ের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় চারটি মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করা হয়। এদিকে একই দিনে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারেও ফল ও মুদি দোকানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অনিয়মের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

  • ধুলিহরে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে বড় ভাইয়ের মৃত্যু

    ধুলিহরে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে বড় ভাইয়ের মৃত্যু

    সাইদুল হোসেন: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর এলাকায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে বড় ভাইয়েরও ইন্তেকালের হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভালুকা চাঁদপুর সাত্তারের মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত আবুল কাশেমের ছোট ছেলে আব্দুল গফুর (৫৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ বাড়িতে পৌঁছালে বড় ভাই আব্দুল করিম (৫৬) গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং নিজ বাড়িতেই ইন্তেকাল করেন। একই পরিবারের আপন দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর কবীর বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা সবাই তাদের জন্য দোয়া করি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” মৃত্যুকালে তারা অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। এলাকাবাসী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

  • সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

    সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর সাতক্ষীরা ইউনিটের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালেই সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ সদস্যবৃন্দ। বক্তারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার গুরুত্বারোপ করেন। বক্তব্যে তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক অনন্য মাইলফলক। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই আমাদের জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু শোকের নয়, বরং গৌরব ও আত্মমর্যাদারও দিন। সার্বিকভাবে দিবসটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ভবিষ্যতেও জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

    সাইদুল হোসেন: মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল সাতক্ষীরা লিমিটেডের আয়োজনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের নিজস্ব ভবন নিচ তলায় কনসালটেন্ট সেন্টারে আয়োজিত ক্যাম্পে মেডিসিন, গাইনি, থাইরয়েড ও অর্থোপেডিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ক্যাম্পে ১২০ থেকে ১৩০ জন রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। ডাক্তারদের মধ্যে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আসাদুল্লাহ আল গালিব (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল), ডা. ইয়াসমিন সুলতানা (গাইনি ও অবস্ বিশেষজ্ঞ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল), ডা. কামাল হোসেন (হরমোন ও থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) এবং ডা. হুমায়ুন কবির (অর্থোপেডিক সার্জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল)। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, পাবলিক রিলেশন অফিসার। উপস্থিত ছিলেন মো. মনজুরুল আলম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরিফুল আওয়াল, হিসাব কর্মকর্তা আবুহেনা মোস্তফা কামাল বুলবুল, মো. রাশেদুজ্জামান, আব্দুল হালিম, লতিফুর রহমান, আবেদুর রহমান এবং মার্কেটিং অফিসার আব্দুল হাকিম, ফজলুর রহমান, শারমিন নাহারসহ সকল স্টাফ। প্রধান অতিথি আলোচনা শেষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।