স্টাফ রিপোর্টার: আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগেও সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে সেহ্রিতে মানুষকে জাগানোর শতবর্ষী ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন একদল যুবক। ঘড়ির কাঁটা রাত ২টা ছুঁতেই তারা দলবেঁধে গ্রামজুড়ে ঘুরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সেহরির জন্য ডাক দেন। স্থানীয়ভাবে ‘মুসাহহির’ নামে পরিচিত এই যুবকেরা জানান, প্রায় ৪৫ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষেরা এই কাজ করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখনো তারা পুরো রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন রাতের নীরবতা ভেঙে সেহরির ডাক দিয়ে থাকেন। তারা জানান, প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে জাগান। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে মুসল্লিরা ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেহরি করেন এবং রোজার প্রস্তুতি নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মোবাইল ফোন ও অ্যালার্মের যুগেও এই ঐতিহ্য গ্রামবাসীর কাছে আলাদা আবেগের। মুসাহহিরদের ডাক শুধু মানুষকে জাগায় না, বরং রমজানের ধর্মীয় পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গ্রামের প্রবীণরা জানান, এটি শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং একটি ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের যুবকেরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন।
Category: সাতক্ষীরা সদর
-

সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাতৃভাষা দিবস পালিত
স্টাফ রিপোর্টার: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন আকন। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ হাবিবুল্লাহ, মো. শফিউল ইসলাম এবং শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাবাচ্ছুম প্রমুখ। পরে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাজুর রহমান। আলোচনা সভা শেষে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হেদায়েতুল্লাহ পলাশ।
-

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ও নবগঠিত জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা। সভার শুরুতে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এ সময় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পরিচিতি পর্বে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা নিজেদের পরিচয় প্রদান করেন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই কমিটির মূল লক্ষ্য। সভায় সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমান, সহ-সভাপতি মুর্শিদা আক্তার ও মোঃ রেজাউল করিম, সদস্যবৃন্দ আবদুল ওহাব আজাদ, জি.এম. নাজমুল আরিফ, মোঃ শহিদুর রহমান, এড. মুহাম্মদ মুনির উদ্দীন, মোঃ নাজমুল হক, শেখ নাজমুল হাসানসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় সভা শেষে রাতে শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণ এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
-

সাতক্ষীরায় কৃষিক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ নতুন দিগন্তের সূচনা: আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ
আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমি ও তালার নিম্ন এলাকার জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান।
সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।
ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।
সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
১৯/২/২৬
০১৭১২৩৩৩২৯৯ -

সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ’র অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন : গ্রেপ্তার ও মামলা হয়নি!
স্টাফ রিপোটার: দীর্ঘ ১৮ মাস সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত থাকার পর সাতক্ষীরায় ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের বড় বাজার এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোন মামলা বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মিছিল শেষে তারা জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তবে পুলিশ বলছে, তারা এ বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের বড় বাজার সড়ক থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে অংশ নিতে দেখা যায়। মিছিলটি পার্শ্ববর্তী জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে নেতাকর্মীরা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে এক কর্মীকে বলতে শোনা যায়, আমরা শীঘ্রই আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে রাজপথে ফিরব। সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী আবারও ফিরে আসবে। তবে মিছিলটি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উড়লেও কার্যালয়টির মূল ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই আকস্মিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ছাত্র নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখেছি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল হয়েছে, এটা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা সদর থানা পুলিশকে অবগত করেছি, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সাতক্ষীরা শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহীন ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যারা জনরোষের ভয়ে পালিয়েছিল, তারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এই চেষ্টা হাস্যকর। আমরা রাজপথে আছি এবং যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আরেফিন জুয়েল বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো কিছু শুনিনি। খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
-

সাতক্ষীরায় শিশুদের কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু
সাতক্ষীরার সিটি কলেজের উত্তরে অবস্থিত হযরত বেলাল (রাঃ) জামে মসজিদে শিশুদের জন্য মক্তবভিত্তিক কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনে (১৯ ফেব্রুয়ারি) আসরের নামাজের পর মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্বাস উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয় এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনে কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপস্থিত মুসল্লীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মসজিদ কমিটির কর্মকর্তারা জানান, এই কার্যক্রমে শিশুদের কুরআন পড়া, নামাজ ও দোয়া শিক্ষা, ইসলামী আদব-কায়দা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং ধর্মীয় অনুশাসনে অভ্যস্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ শিক্ষক ও হাফেজরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করবেন। ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্বাস উদ্দীন বলেন, “শিশুকাল থেকেই কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষায় অভ্যস্ত হলে তারা ভবিষ্যতে নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। এই কার্যক্রম সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” স্থানীয় অভিভাবক ও মুসল্লীরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাতক্ষীরার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
-

মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ধুলিহর ফোরকানিয়া মক্তবের মিছিল
মেহেদী হাসান শিমুল: আহ্লান সাহ্লান মাহে রমজান, রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখুন। আল কোরআনের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের পাড়া মহল্লা। এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর গোবিন্দপুর ফোরকানিয়া মক্তবের কমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা বুধবার সকাল ৭ টাঢ গোবিন্দপুর গ্রামের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার রাস্তায় স্বাগত মিছিল অংশগ্রহণ করে। শতাধিক কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা এই মিছিলের অংশগ্রহণ করে। এ বিষয়ে গোবিন্দপুর ফোরকানিয়া মক্তবের দায়িত্বরত শিক্ষক ওস্তাদ মাওলানা আব্দুল করিম জানান প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে এবং মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় মানুষকে সচেতন করার জন্য আমাদের এই স্বাগত মিছিল। পবিত্র মাহে রমজান মাসে দিনের বেলা চায়ের দোকান ও ধূমপান থেকে বিরত রাখার জন্য এবং সামাজিকতা রক্ষার জন্য আমরা সকলকে চেষ্টা করব এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। রমজান উপলক্ষে স্বাগত মিছিল কে এলাকাবাসী স্বাগত জানিয়ে বলেন এমন উদ্যোগ সমাজের ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।
-

বৈষম্য দূরীকরণে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে: উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল
পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য ও যাকাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “রমজান ও যাকাত” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার সময় ঝাউডাঙ্গা ফুড গার্ডেন রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ১১ নং ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ নম্বর ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন শাখার আমির প্রফেসর মো: ইকবাল হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ মো: শহিদুল ইসলাম মুকুল বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আমির মাওলানা মো: মোশাররফ হোসেন। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১নং ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মো: নরুল বাশার। সভায় বক্তারা বলেন, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই মাসে সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তারা আরও বলেন, যাকাত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এবং ধনী-গরিবের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বক্তারা যাকাত যথাযথ নিয়মে আদায় ও প্রকৃত হকদারদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান, রমজান মাসে যাকাত ও দান-সদকার পরিমাণ বৃদ্ধি করে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
-

হযরত আয়েশা (রা:) মহিলা মাদ্রাসা পুরুষ্কার বিতরন
মো: শামীম হোসেন: ভোমরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ৬ নং ভোমরা ইউনিয়ন ২ নং ওয়াড হাড়দ্দাহ বিশ্বাসপাড়া
হযরত আয়েশা (রা:) আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা ওএতিমখানা পুরুষ্কার বিতরন অনুষ্ঠান হয়েছে।আজ ১৭ ফেব্রুয়ারী রোজ মঙ্গলবার সন্ধা ৬:৩০ মিনিটে পুরুষ্কার বিতরন অনুষ্ঠান শুরু হয়।মাদ্রাসার ছাত্রীদের পরিক্ষার সাপেক্ষে ফলাফলের মাধ্যমে১ ম,২ য়,৩য় (হিফস,নাজেরা,কায়দা)পুরুষ্কার বিতরন হয়।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন ২ নং কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম।
সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মো: সহিদুল ইসলাম।আরো উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা ৬ নং ভোমরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী ২ নং ওয়াড সভাপতি আলহাজ্ব মুক্তার আলী গাজী।
জাহিদ হোসেন,সাইফুল ইসলাম, সাবেক মহিলা মিম্বার হামিদা খাতুন,নাঈম হোসেন, মাসুম হোসেন,আলাউদ্দিন শেখ প্রমুখপরিশেষে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে পুরুষ্কার বিতরন অনুষ্ঠান শেষ হয়।
-

ধুলিহরে কৃষকের অংশগ্রহণে আইজিএ কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর ফুটবল মাঠে বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কৃষকের আয়বন্ধনমূলক কার্যক্রম আইজিএ কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জিএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত। মেলায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরহাদ জামিল, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার প্লাবনী সরকার, ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় যুবসংঘের নেতৃবৃন্দ। ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর ও ফিংড়ি ইউনিয়নের কৃষকেরা মেলায় অংশগ্রহণ করে তাদের নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত কেমিক্যাল মুক্ত শাকসবজি, হাঁস-মুরগি, মাছ, মাংস, ছাগল সহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য প্রদর্শন করেন। মেলা চলাকালীন সময়ে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
