স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে কোটি টাকা মূল্যের লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটি গত পাঁচ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। মেশিনটি মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কিডনি রোগীরা। ফলে অনেক রোগী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পেট কেটে বা মাইক্রো সার্জারীর মাধ্যমে কিডনির পাথর অপসারণে মোটা অংকের খরচ করছেন। জানা যায়, ২০১৯ সালে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সামেক হাসপাতালে সরবরাহ করা হয় লেজার লিথোট্রিপসি মেশিনটি। মেশিনটির সাহায্যে রোগীর পেট কাটা ছাড়াই কিডনির পাথর ভাঙা সম্ভব। ২০২১ সালে প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের অভাবে মেশিনটি প্রথম চালু করা হয় এবং মাত্র সাত জন রোগীর কিডনির পাথর ক্রাশ করা সম্ভব হয়। পরে সাবেক ওয়ার্ড মাষ্টার মুরাদের স্ত্রীর কিডনির পাথর ভাঙার সময় মেশিনের ভিডিও ইরেটারো রেনসকোপ নষ্ট হয়ে যায়। সেই সময় থেকে মেশিনটি ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম মোড়ল জানান, তিনি ২০২০ সালে মেশিনটি ব্যবহার করতে আসেন, কিন্তু মেশিন নষ্ট থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রচুর খরচে অপারেশন করাতে হয়েছে। সামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, “মেশিনটি চালু থাকলে গরিব রোগীরা কাঁটা-ছেঁড়া ছাড়াই চিকিৎসা পেত। বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত খরচ করতে হতো না।” সাবেক অধ্যক্ষ ডা. রুহুল কুদ্দুস জানান, মেশিনটি চালু করার পর মাত্র সাতজন রোগীর চিকিৎসা সম্ভব হয়েছিল, পরে এটি নষ্ট হয়ে যায়। হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডাক্তার মোঃ কুদরত-ই খোদা জানান, তিনি যোগদানের পর থেকে মেশিনটির সমস্যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এসেছেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছেন। মেশিনটি চালু না থাকায় জেলার দরিদ্র কিডনি রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভীষণ খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
Author: news_admin
-

সাতক্ষীরায় পাঁচটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় পাঁচটি মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি সংগঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ভোর রাত তিনটার দিকে পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে। চোরেরা মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে নগদ টাকা, দূর্গা প্রতিমার জন্য রাখা স্বর্ণ ও রুপার গহনা সহ ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন বলেন, পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দির এলাকায় মেচে থাকা ছাত্ররা বুধবার ভোর রাত সাড়ে তিনটা- চারটার দিকে চুরির বিষয়টি জানতে পেরে আমাদেরকে অবগত করে। ভোরে আমরা মন্দিরে গিয়ে দেখি কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, চৈতন্যদেব মন্দির ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সবকয়টি দরজার তালা ভাঙ্গা এবং ভেতরে সবকিছু তছনছ করা। পরে আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখি চোরেরা প্রায় সাত ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা, বেশ কয়েকি ভরি ওজনের রুপার গহনা, নগদ টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে, কালীমাতার স্বর্ণের জিহবা, দুটি স্বর্ণের বালা, দুই জোড়া পেটি, দুই জোড়া শাখা, একটি স্বর্ণের চেইন, একটা নথ টানা ও সাথে রুপার গহনা। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি তালা কাটার মেশিন উদ্ধার করে। মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য শিক্ষক দীপা সিন্দু তরফদার বলেন, এখন থেকে দুই দিন আগে শহরের কাটিয় কর্মকার পাড়া এরাকায় মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটে। এভাবে বারবার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে । দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার কওে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা দাবী জানান তিনি। সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমেছে।
-

দেবহাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ
আবুল হাসান: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের গড়িয়াডাঙা এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে এলাকার মাটির স্তর দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে ভূমি ধস বা এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, উত্তোলিত বালু পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে মজুদ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
-

ভোমরা স্থলবন্দর প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল
ভোমরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ভোমরায় এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভোমরা স্থলবন্দর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবুল কালাম বাবলা ও অ্যাডভোকেট এ বি এম সেলিম, দুজনই প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা। ভোমরা স্থলবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও সহমর্মিতার মাস। সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা। ইফতার মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ আব্বাস উদ্দিন।
-

ন্যাশনাল ব্লাড ব্যাংকের ইফতার মাহফিল
আরিফ হোসেন রনি: সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছায় অবস্থিত সাতক্ষীরা ন্যাশনাল হাসপাতালের ন্যাশনাল ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় এ আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ন্যাশনাল ব্লাড ব্যাংকের প্রধান উপদেষ্টা গাজী আব্দুল হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা ওয়াপদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিউদ্দীন। বক্তব্যে মাওলানা মহিউদ্দীন বলেন, পবিত্র রমজান ধৈর্য, সংযম ও সহমর্মিতার মাস। ইফতারের সময় আল্লাহ রোজাদারের দোয়া কবুল করেন। এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে সহায়তা করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মইন সিকদার, মেডিকেল অফিসার ডা. ইমরান হোসেন, গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সানজিদা শারমিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবুল কাশেম, জামিলুর বাশার জামিল, আবু বক্কর সিদ্দিক, এবাদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, রবিউল ইসলাম ও আব্দুর রহমানসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মহিউদ্দীন।
-

অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে একজনকে কুপিয়ে জখম, ৮ ট্রাক্টর জব্দ
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ট্রাক্টরের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছিল। পরিবেশ ও রাস্তাঘাট রক্ষায় জিয়াউল ইসলাম শুরু থেকেই এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ইলাহী ও আব্দুল্লাহর ঘের থেকে ট্রাক্টরে করে মাটি নেওয়ার সময় জিয়াউল ইসলাম বাধা দেন। এ সময় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মামুনের নেতৃত্বে থাকা ট্রাক্টরচালক হেলাল ও বেলালসহ কয়েকজন শ্রমিক তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখ ও শরীরে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ট্রাক্টরচালক হেলালসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত জিয়াউল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর কলারোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি বহনে ব্যবহৃত ৮টি ট্রাক্টর জব্দ করেছে। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৮টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-

নির্মাণের এক বছরেও হয়নি হস্তান্তর, ধসে পড়ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
স্টাফ রিপোটার: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় এলাকায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু এখনও উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এরই মধ্যে পাশের পাড় ধসে পড়া ও ঘরে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর দুই পাশেই রয়েছে মৎস্য ঘের। ঘরের সামনে ও পেছনের অংশে মাটি ধসে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। পাড় রক্ষায় বসানো প্যালাসাইডিংয়ের কিছু অংশ কাত হয়ে পড়েছে। এতে ভাঙন ধীরে ধীরে ঘরের কাছাকাছি চলে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ৫৫ শতক জমির ওপর ১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসেবে পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়নি। শ্রীউলা ইউনিয়নের সমাজকর্মী শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই পাড় ধসে পড়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জমির ধরন ও আশপাশের ঘেরের প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘদিন ঘরগুলো অব্যবহৃত পড়ে থাকা এবং পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত ঘরগুলো নিরাপদ করে ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটির দুই পাশে মাছের ঘের রয়েছে। এতদিন ঘেরে পানি থাকায় প্যালাসাইডিং ঠিক ছিল। সম্প্রতি ঘের মালিকরা পানি সেচ দেওয়ায় প্যালাসাইডিং কাত হয়ে পড়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঘেরে আবার পানি উঠলে তখন প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। তবে ঘর হস্তান্তরের দায়িত্ব ভূমি অফিসের বলেও জানান তিনি। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে ভাঙনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষায় দ্রুত টেকসই ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। -

অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিল
প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন-এর জেনারেল মিটিং এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা ও ইফতার মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সংগঠনের সদস্য এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিকেটকে আরও উন্নত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিত সদস্যরা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, যিনি উপস্থিত থেকে ক্রিকেট নিয়ে তার অভিজ্ঞতা এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শেয়ার করেন। তার উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে মর্যাদাপূর্ণ করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টির মাধ্যম হয়েছে। সাধারণ সভা শেষে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সবাই একত্রিত হন। ইফতার পর্বটি ছিল আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মিলনমেলা। সংগঠনের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অ্যামেচার ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটারদের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিকেটকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে সক্ষম হবে।
-

সাতক্ষীরার বাজারে রড সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি: সংকটে আবাসন খাত
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরার বাজারে হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে রড ও সিমেন্টের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কেজি প্রতি রডের দাম প্রায় ২০ টাকা ও বস্তাপ্রতি সিমেন্টর দাম ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন আবাসন ও অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীরা। নির্মাণসামগ্রীর এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও যে রড প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, গতকাল মঙ্গলবার তা একলাফে ৯০ থেকে ১০০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ঢাকার বাজারে আনোয়ার ইস্পাত ও আকিজ: ৯১,০০০ টাকা (টনপ্রতি), কেএসআরএম: ৯১,০০০ টাকা, সিএসআরএম: ৮৪,০০০ টাকা, রহিম স্টিল: ৮৭,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সাতক্ষীরার বাজারে টনপ্রতি আরো ১০ হাজার টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি, ইরান যুদ্ধকে পুঁজি করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “যুদ্ধে প্রভাব রড উৎপাদনে আরও পরে পড়ার কথা। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।” পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সরকারকে বাজার মনিটরিং করার দাবী জানান। অন্যদিকে, রি-রোলিং মিল মালিকরা সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলো বীমা সুবিধা দিচ্ছে না এবং পণ্য পরিবহন খরচ (ফ্রেইট কস্ট) ১৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং স্ক্র্যাপের মূল্যবৃদ্ধিও স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার জনস্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “যে রড বর্তমানে বাজারে আছে, তাতে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কথা নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।” বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রড ও সিমেন্টের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আবাসন খাতে বড় ধরনের ধীরগতি বা মন্দা দেখা দিতে পারে, যা এই খাতের সাথে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিকের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।


