Author: news_admin

  • চোর আতঙ্কে সাতক্ষীরা পৌরবাসী

    চোর আতঙ্কে সাতক্ষীরা পৌরবাসী

    স্টাফ রিপোর্টার: বারান্দার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে চেতনাশক স্প্রে করে বাড়ির সবাইকে অজ্ঞান করে এক হোটেল ব্যবসায়ীর সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোর রাত ৩টার দিকে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া এলাকার সন্তোষ ঘোষের বাড়িতে এঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকা সহ ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। মাত্র চারদিনের ব্যবধানে শহরের তিনটি চুরির ঘটনায় চোর আতঙ্কে রয়েছে সাতক্ষীরা পৌরবাসী। এছাড়াও সম্প্রতি শহরের রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ায় এলাকাবাসী হাতেনাতে একচোরকে ধরে পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ চোর না ধরে উল্টা গ্রামবাসীকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। বাড়ির মালিক সন্তোষ ঘোষ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমি বাড়িতে আসি। রাতে আমরা ঘুমিয়ে পড়ার পর আর কিছু বলতে পারিনা। অন্যদিন রাতে আমি ২/৩ বার উঠি। কিন্তু আজকে রাতে আমার ঘুম ভাঙেনি। সকালে উঠে দেখি আমার স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। ঘরে তার মাথার কাছে জানালার গ্রিল কাটা। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি বাড়ির সব জিনিসপত্র তছনছ করা। এছাড়া তিন তলার বরান্দার গ্রিল কাটা। তিনি বলেন, ধারনা করা হচ্ছে রাতে বাড়ির তিনতলার বারান্দার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ভিতরে ঢোকে। পরে ঘরের জানালা দিয়ে চেতনা নাশক স্প্রে করে। একপর্যায় আমার স্ত্রীর মাথার কাছে জানালার গ্রিল কেটে চোরেরা ঘরে ঢুকে সবকিছু তছনছ করে। এসময় তারা ঘরের আলমীরাতে রাখা প্রায় ৬ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পুরাতন সাতক্ষীরার ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলাই দে জানান, কয়েকদিন আগে কাঠিয়া কর্মকার পাড়া মন্দিওে চুরি হয়েছে। দুইদিন আগে পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্বর্ণের গহনাস ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল খোয়া গেছে। শুক্রবার ভোর রাত ৩টার দিকে একই এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী সন্তোষ ঘোষের বাড়িতে ফের চুরির ঘটনা ঘটায় এই এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিশেষ করে সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি রাতে এলাকায় পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরায় চলছে না কোন স্যালো মেশিন

    ডিজেল সংকটে সাতক্ষীরায় চলছে না কোন স্যালো মেশিন

    মুহা: জিললুর রহমান: সাতক্ষীরায় প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। গত কয়েকদিন ধরে প্রেট্রোল পাম্প ও দোকান থেকে কৃষকদের কাছে ডিজেল বিক্রি না করায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা দুই লিটার করে ডিজেল দিচ্ছেন দাবি করলেও অধিকাংশ কৃষকরা ডিজেলের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষক ডিজেলের জন্য দোকানে দোকানে ধর্ণা দিচ্ছেন। সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, তার ৫বিঘা জমির একটি বোরো ধানের ব্লক রয়েছে। দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ায় জমিতে সেচের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে পারছিনা। স্থানীয়ভাবে অধিকাংশ দোকানে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও যে পরিমাণ ডিজেল দিচ্ছে তাতে সেচ পাম্প চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধুলিহর বেড়বাড়ি গ্রামের কৃষক মো. ইউনুচ আলী বলেন, তার ৩১ বিঘা জমির ইরি ব্লক রয়েছে। জমিতে সেচ দিতে প্রতিদিন তার প্রায় ১০ লিটার ডিজেল লাগে। বেশ কয়েকদিন আগে স্থানীয় ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন থেকে ১০লিটার ডিজেল কিনেছিলাম। কিন্তু এখন আর ২লিটারের বেশি দিচ্ছে না। যা দিয়ে আমার পুরো ইরির ব্লকে পান সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিজেলের অভাবে গত কয়েকদিন ধরে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ধান ক্ষেতের মাটি শুকিয়ে ফাটল ধরা শুরু করেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার পুরো ব্লক মার খেয়ে যেতে হবে। তিনি বোরা ধানের জমিতে সেচ দেয়ার স্বার্থে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।
    সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের প্রো: সিদ্দিকুল ইসলাম বকুল জানান, বাস, ট্রাক ও ডিজেল চালিত অন্যান্য যানবাহনে নির্ধারিত মাত্রার ডিজেল সরবরাহের পাশাপাশি কৃষকদেরকে প্রতিদিন ২লিটার করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক লোক আসছে ডিজেল নিতে সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি মোটামুটি সবাই যাতে কমবেশি ডিজেল পায়।
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছািড়িয়ে আমাদের চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রযেছে ৭০৪০টি এবং ডিজেল চালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৬০টি। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত এসব ডিজেল চালিত সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তবে এসময় বৃষ্টিপাত হলে ডিজেলের পরিমান কিছুটা কম লাগে।
    এবিষয় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, আমরা কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ রাখার চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিষয়টি তদরকি করছেন। সংকটের অজুহাতে যারা কৃষকের কাছে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন উপকূলের গৃহবধূ অপর্ণা

    নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন উপকূলের গৃহবধূ অপর্ণা

    স্টাফ রিপোর্টার: নিজের জীবনের সংগ্রাম আর নেতৃত্বে উঠে আসার অনুপ্রেরণামূলক গল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে তানজানিয়া সফরে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার গৃহবধূ অপর্ণা মল্লিক। তিনি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মাঝিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। একজন সাধারণ গৃহবধূ জীবন থেকে বেরিয়ে এসে অপর্ণা মল্লিক এনগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন নেত্রী হিসেবে গড়ে তোলেন। সমাজের নানা বাধা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আজ তিনি একজন সফল নারী নেত্রী হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত।
    তার এই সাফল্যের গল্প আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে কোডি ইনিস্টিটিউট নামক একটি কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান তাকে তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এনগেজ গ্লোবাল গেদারিং অন ওমেনস লিডারশিপ এ্যান্ড একটিভ সিটিজেশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
    প্রতিষ্ঠানটির আমন্ত্রণে তিনি ২০ মার্চ ২০২৬ তানজানিয়ায় উক্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এই প্রোগ্রামে আরও অংশগ্রহণ করবেন বাংলাদেশসহ ভারত, ইথিউপিয়া, হাইতি ও তানজানিয়ার প্রতিনিধিরা। সেখানে তিনি আগামী ২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত অবস্থান করবেন। উক্ত প্রোগ্রামে তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও শ্যামনগরের নারীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার গল্প তুলে ধরবেন।
    অপর্ণা মল্লিকের এই আন্তর্জাতিক সফর স্থানীয় নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তার এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও অনেক নারীকে ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যেতে সাহস জোগাবে।

  • শোক কাঁদাচ্ছে প্রতিবেশীদেরও: পাশাপাশি সমাহিত একই পরিবারের ৯ জন

    শোক কাঁদাচ্ছে প্রতিবেশীদেরও: পাশাপাশি সমাহিত একই পরিবারের ৯ জন

    খুলনা ব্যুরো: যে বাড়িতে নতুন বউকে ঘিরে আনন্দ আর উৎসবের আমেজ থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। স্বজনদের কাঁধে চড়ে শেষযাত্রায় বিদায় নিলেন বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) পৃথক পৃথক স্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকালে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কয়রায় পারিবারিক কবরস্থানে মিতু, লামিয়া ও রাশিদার দাফন করা হয়। দাকোপে আনোয়ারা বেগমের আরেকটি জানাজা শেষে সেখানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে গ্রামের বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
    অন্যদিকে জুমার পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক তার পুত্র বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। শুক্রবার ভোরে তাদের কফিন মোংলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারীতে এলাকার পরিবেশ ভারী হযে ওঠে। শুক্রবার জুমার আগে মোংলায় একই পরিবারের ৯ জন নিহত হওয়ার মোংলা উপজেলা মাঠে নামাজে জানাজায় অংশ নেয় বাগেরহাট-৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ নিহতদের স্বজন এবং কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি নয়জনকে দাফন করা হয়। কানায় কানায় ভরে যায় উপজেলা পরিষদ মাঠ। জানাজার আগে আবেগঘন কণ্ঠে নিহতদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাই ও বোন হারানো আশরাফুল আলম জনি। তার আকুতিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জনি বলেন, “আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন, ভাগ্নেÑসবই হারিয়েছি।
    আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন। কারও যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করব। আর সবাইকে তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”
    জানাজার আগে বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।”
    বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “যে বাড়িতে আজ আনন্দের পল্গুধারা থাকার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
    এদিকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, একসঙ্গে এতগুলো লাশ আগে কখনো দেখিনি। এই দৃশ্য সহ্য করা খুবই কঠিন।
    নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। রাজ্জাক ভাই মেয়ের বিয়েও কয়রায় দিয়েছিলেন, এবার ছেলের বিয়েও সেখানে হলো। কিন্তু পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। তিনি জানান, আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে। নিহতদের গোসল শেষে একে একে খাটিয়ায় রাখা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
    মোংলা কবরস্থানের খাদেম মুজিবুর ফকির জানান, পরিবারের সম্মতিতে একই স্থানে ৯টি কবর খোঁড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু একসঙ্গে একই পরিবারের এত সদস্যের জন্য কখনো কবর খুঁড়তে হয়নি। ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক।
    মাইক্রোবাসের চালক নাঈমও এই দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার জুমার আগে নিজ গ্রামের বাড়িতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
    এদিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রীজের দক্ষিণ পাশে এখনো ছড়িয়ে আছে শিশুদের পানির ফিডারের অংশ, কয়েক জোড়া জুতা এবং অসংখ্য কাচের টুকরো। এগুলোই যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে ভয়াবহ সেই সড়ক দুর্ঘটনার, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। দুর্ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে এখনো ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক মানুষ। অনেকেই সেখানে ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরো, জুতা ও বিভিন্ন সামগ্রী দেখে মর্মাহত হচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবনে এত বড় দুর্ঘটনা দেখিনি। আমি তখন মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফিরছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম গরুটা হয়তো বাসের সামনে পড়ে গেছে। পরে দেখি দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ। চারদিকে রক্ত আর আহত মানুষ-এত মানুষকে একসঙ্গে এভাবে কখনো দেখিনি। শুধু রফিকুল ইসলামই নন, এলাকার অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের প্রতি প্রকাশ করছেন শোক সমবেদনা।
    অপরদিকে বাগেরহাট-৩ আসনের (মোংলা-রামপাল) সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোর ভাবে কাজ করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
    এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহন করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারী ভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

  • দেবহাটায় আনসার ভিডিপি ব্লাড ব্যাংকের ইফতার মাহফিল

    দেবহাটায় আনসার ভিডিপি ব্লাড ব্যাংকের ইফতার মাহফিল

    স্টাফ রিপোর্টার: দেবহাটা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি ব্লাড ব্যাংকের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি উপজেলা সহকারী আনসার কোম্পানি কমান্ডার নূর হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকছেদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সখিপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াকুব আলী, দৈনিক দৃষ্টিপাতের নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, জেলা রোভার স্কাউটের সেক্রেটারি আবু তালেব, দেবহাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সখিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ আবুল হোসেন বকুল, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরুজ্জামান কামরুল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়ান ব্রিকস্ এর স্বত্বাধিকারী সাহেব আলী, পারুলিয়া মানহা হাসপাতাল পরিচালক মনিরুজ্জামান মুন্না, দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী মুজাহিদ হোসেন লিটু, দুবাই প্রবাসী ইয়ানুর রহমান, এসএম মইদুর রহমান, রায়হান বাবু, গোলাম হোসেন, আবুল হাসান, মিলন হোসেন সহ আনসার ভিডিপি কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য, সাধারণ সদস্য ও রক্তযোদ্ধা গন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, আনসার ও ভিডিপি ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্টা হওয়ার পর থেকে দেবহাটায় বৃক্ষরোপন, বিনামূল্যে রক্তদান, সামাজিক সচেতনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহ নানামূখি কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।

  • ঝাউডাঙ্গায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

    ঝাউডাঙ্গায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

    আল আমিন: ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী (যুব ও ক্রীড়া বিভাগ) এর আয়োজনে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে ঝাউডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন একটি হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মো. ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাও. হাবিবুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাও. আব্দুস সবুর, সদর উপজেলা মিডিয়া পরিচালক ও কর্মপরিষদ সদস্য মাও. আনিছুর রহমান, যুব বিভাগের আশরাফুল আলম বুলু, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির প্রফেসর ইকবাল হোসেন, সেক্রেটারি মাও. নূরুল বাশার, হাফেজ মাও. শাহিনুর রহমান, শিবির সভাপতি আকবার হোসেন, এস. এম. আব্দুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী (যুব ও ক্রীড়া বিভাগ) এর সেক্রেটারি হাফেজ আমির হোসেন। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাও. আবু মুছা।

  • সাতক্ষীরায় খেজুর বিতরণের তালিকা প্রকাশ করলেন জামায়াতের এমপি মুহা: ইজ্জত উল্লাহ

    সাতক্ষীরায় খেজুর বিতরণের তালিকা প্রকাশ করলেন জামায়াতের এমপি মুহা: ইজ্জত উল্লাহ

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরাতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া খেজুর বিতরণের তালিকা প্রকাশ করলেন সাতক্ষীরা ১ তালা কলারোয়া আসনের এমপি মুহাম্মদ উজ্জত উল্লাহ। বুধবার (১১ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে খেজুর বিতরণের তালিকা প্রকাশ করেন তিনি। তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশির ভাগ খেজুর স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পোস্টে তিনি লেখেন, আমি মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ (এম.পি) জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। নিজেদের নাগরিক অধিকারের ব্যাপারে আওয়াজ তোলায় সচেতন মহলকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই আওয়াজ জারি থাকুক এই প্রত্যাশাই করি। পোস্টে তিনি আরো লেখেন, তালা- কলারোয়া খেজুর উপবরাদ্দ ও বিতরণের ব্যাপারে সচেতন সমাজের নাগরিকগণ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে চাচ্ছেন। সকলকে অবহিতকরণের লক্ষ্যে সৌদি আরব থেকে বরাদ্দকৃত খেজুর উপবরাদ্দ এবং বিতরণের আপডেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানাচ্ছি। খেজুরের কার্টুনগুলো এখনো জেলা থেকে তালা- কলারোয়া সংশ্লিষ্ট অফিসে আসেনি। বরাদ্দের পরিমাণ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট অফিসে আজ পৌঁছায়ছে খেজুরগুলো আসা মাত্রই প্রশাসনের মাধ্যমে এতিমখানা, হেফজ ও কওমী মাদ্রাসাগুলোতে বৈষম্যহীনপন্থায় সমভাবে বণ্টন করা হবে ইনশাআল্লাহ।
    উল্লেখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সাতক্ষীরা এর এক স্মারকের মাধ্যমে জানানো হয়-উপর্যুক্ত বিষয় ও সুরোক্ত স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে এ জেলায় বরাদ্দকৃত করহম ঝধষসধহ ঐঁসধহরঃধৎরধহ ধরফ ধহফ জবষরবভ ঈবহঃবৎ “উপহার হিসেবে প্রেরিত সৌদি খেজুর” উপজেলা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ প্রদান করা হলো। (ক) জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা মহোয়দ বরাদ্দকৃত সৌদি খেজুর বিভাজন মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ প্রদানসহ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০১২-২০১৩ অনুসরণে দুঃস্থ ও অসহায় জনগনের মাঝে বিতরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (খ) বরাদ্দকৃত সৌদি খেজুর বিতরণ শেষে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুরসণ করে দুঃস্থ ও অসহায় জনগনের মাঝে বিতরণ। কটন করতে হবে এবং নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। (গ) বরাদ্দকৃত সৌদি খেজুর বিতরণ শেষে একটি প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। সাতক্ষীরার ৭৭টি ইউনিয়নে ২০৭ কাটুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনির ১১টি ইউনিয়নে ২৮ কাটুন, দেবহাটার ৫টি ইউনিয়নে ১৩ কাটুন, কলারোয়ার ১২টি ইউনিয়নে ৩০ কাটুন, কালিগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নে ৩০ কাটুন, সাতক্ষীরা সদরের ১৪টি ইউনিয়নে ৩২ কাটুন, শ্যামনগরের ১১টি ইউনিয়নে ৩৪ কাটুন, তালার ১২টি ইউনিয়নে ৩০ কাটুন এবং স্থানীয় ভাবে বিতরণ করা হবে ১০ কাটুন।

  • কৈখালী ইউনিয়নে জরাজীর্ণ সড়ক, চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

    কৈখালী ইউনিয়নে জরাজীর্ণ সড়ক, চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

    গাজী নূরুল আমিন: শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের একাধিক গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় কার্পেটিং (পাকা) সড়কের দিক থেকেও অনেক পিছিয়ে থাকা এ ইউনিয়নে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়াখালী মহাজেরিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মিজান গাজীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ভাঙাচোরা। বড় গর্ত ও উঠে যাওয়া ইটের কারণে বর্ষা মৌসুমে চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এছাড়া জয়াখালী চেয়ারম্যানের মোড় থেকে সাবেক মেম্বারের বাড়ি হয়ে সাতের খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে শেখ আব্দুর রহমান (আবুর) বাড়ি থেকে রাশেদিয়া মাদ্রাসার পাশ দিয়ে হায়দারের ব্রিজ হয়ে বিডিআর সড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি। এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় চলাচলের অযোগ্য। স্থানীয়রা জানান, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চলাচল করেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও তরমুজ পরিবহনের জন্য এ রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যাতায়াতের ভোগান্তি বাড়ছে। এলাকাবাসীর মতে, শ্যামনগর উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছে, কিন্তু কৈখালী ইউনিয়নে অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক এখনো কাঁচা বা ইটের সোলিং অবস্থায় রয়েছে। তারা আশাবাদী, নির্বাচনের আগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম কৈখালীকে “প্রাণের ইউনিয়ন” উল্লেখ করে অবহেলিত সড়কগুলোর উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের খারাপ অবস্থার তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার ও কার্পেটিং কাজ শুরু করা হবে। স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক সংস্কার ও নতুন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।