বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলার আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন,
আমাদের সামনে রাসূল (সা.) ও তার সাহাবীরা মডেল হিসেবে রয়েছেন। সে আদর্শের আলোকে আমাদের গড়ে উঠতে হবে । শত জুলুম-নির্যাতনেও আল্লাহর ওপর ভরসা করে নিজ নিজ দায়িত্বের আঞ্জাম দিতে হবে। রাসূল (সা.)-এর দেখানো পথেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। যে কোন অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে ঘুনে ধরা সমাজকে পরিবর্তন করতে
আমাদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি গতকাল ৩১ আগষ্ট রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্রশিশিরের প্রাক্তন দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের আমীর জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী খোরশেদ আলমের পরিচালায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে
বক্তব্য রাখেন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডা মাহমুদুল হক, শিবিরের শহর সভাপতি আল মামুন, জেলা সভাপতি ইমামুল হোসেন, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর ফখরুল হাসান লাভলু, সহকারী সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান, এড আবু তালেব প্রমুখ্য। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে বিকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল সমাবেশ চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।
Blog
-

রাসূল (সা.) আমাদের আদর্শঃ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার
-

শ্যামনগরে ছাত্র সমন্বয়কের উপর যুবদল কর্মীর নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ
শ্যামনগর প্রতিনিধি: পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম (২৪)নামে স্থানীয় এক ছাত্র সমন্বয়কের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শ্যামনগর সদর যুবদলের সক্রিয় কর্মী হাফিজুল ইসালামের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে নকিপুর বাজারে ঘটনাটি ঘটে। এসময় শরিফুলকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তার ভাই ফরিদ হোসেন ও ভাইপো নাজমুল হামলাকারীদের হাতে মারধরের শিকার হয়। আহত তিনজনেক রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় শ্যামনগর থানা পুলিশ কামাল হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শ্যামনগর উপজেলা ছাত্র সমন্বয় কমিটির সদস্য শরিফুল চন্ডিপুর গ্রামের ওয়েজকুরুনী গাজীর ছেলে। কালিগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সে।
শরিফুল ইসলাম জানান তার পিতা নিজের মালিকানাধীন দোকানের ভাড়াটিয়া যুবলীগ কর্মী কামাল হোসেনের কাছে বকেয়া বিদ্যুতের বিল চাইতে যায়। এসময় বিল না দিয়ে বরং অপমান করে তার পিতাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌছানো মাত্র কামালের ভাড়াটে লাঠিয়াল হিসেবে আগে থেকে সেখানে অবস্থানরতরা ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও লোহার রড নিয়ে তার উপর চড়াও হয়। যুবদলকর্মী হাফিজুল ছাড়াও কামাল, জাকির, সাইফুল, আব্দুল্লাহ ও হাফিজুরসহ ১২/১৪ জন তাকে পিটিয়ে রক্তাত্ত্ব করে।
এবিষয়ে জানতে হাফিজুলের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুটোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে কামাল হোসেন জানান দু’জনের হাতাহাতির সময় হাফিজুল কেন সংঘর্ষে জড়িয়েছিল বিষয়টি তার জানা নেই।
শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ছাত্র সমন্বয়কের উপর হামলার ঘটনায় তার পিতা পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সাত/আট জনের বিরুদ্ধে মামলা (যার নং-১২)করেছে। ইতোমধ্যে অন্যতম আসামী কামালকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে -

শ্যামনগর জলবায়ু পরিবর্তনের যুবকদের নিয়ে সংলাপ
সাতক্ষীরা শ্যামনগর জলবায়ু পরিবর্তনের যুবকদের নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ আগস্ট সকাল ১১টার সময় শ্যামনগর সংস্থার প্রকল্প অফিস ১৮-৩৫ বছর বয়সী ২০জন যুব ও নারীরের নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম অফিসার আম্বিয়া খাতুন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মরিউম খাতুন, আসমা পারভীন, দীপ্ত রানী, শামসুন্নাহার পারভীন, পলি রানী, বলরাম মন্ডল, পরমিতা রানী ফাহমিদা সুরতানা, মনিরা আক্তার, অরপিতা রানী, আসমা খাতুন প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মৃত্তিকা ইয়ুথ বলরাম মন্ডল। প্রেসবিজ্ঞপ্তি
-

খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার, তবুও কষ্টের অবসান নিয়ে শংকা
শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘তিনটে মাস খুব কষ্টে গেছে, আধ পেটা এক পেটা খেয়ে দিন কেটেছে আমাগো। নৌকা-ডোঙা সব গোছানো, পাশ(অনুমতিপত্র) হাতে পালি বনে ঢোকবো’। কথাগুলো বলেন সুন্দরবন পাড়ের নীলডুমুর গ্রামের পঞ্চান্ন বছর বয়সী ফজলুল হক। এক মুহুর্তের জন্য অন্যমনস্ক হয়েও পুনরায় তিনি বলতে শুরু করেন, ভাগ্যে কি আছে সেখানে না গেলি বুঝতি পারিতিছি নে। তিন মাসের ঋণ দেনা শোধ করতি না পারলি এলাকায় বাস হবে না’।
পাশে বসা একই গ্রামের হানিফ গাজী(৬৭) বলেন, ‘বাপ-বেটা দু’জনের আয়ে ছ’ডা মুখ চালাতি হয়। বন্ধের তিন মাসে খাইয়ে না খেয়ে দিন গেছে, তবুও ৩২ হাজার টাকা দেনা হইছি। বন খুললি পেট চলবে, তবে ঋণ শোধ নিয়ে চিন্তায় আছি’।
শুধুমাত্র ফজলুল হক আর হানিফ গাজী না। বরং প্রায় একই অভিব্যক্তি দাতিনাখালীর সফিকুল, মীরগাংয়ের আব্দুল আজিজসহ গোটা উপকুলজুড়ে বসবাসরত শত শত জেলের। তাদের দাবি বন্ধের ৯০দিন পর সুন্দরবনের দুয়ার খুলছে বিধায় সকলে খুশি। তবে স্বল্প জায়গায় একইসাথে হাজার হাজার জেলের উপস্থিতিতে প্রত্যাশামত মাছ ও কাঁকড়া শিকারের ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারছেনা। তাছাড়া বরাবরের মত বড় বড় কোম্পানীগুলোর আধিপাত্যে পছন্দের জায়গায় জাল ফেলা নিয়েও তারা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বনকর্মীদের টহল জোরদারসহ অভয়ারণ্যের আয়তন হ্রাসের পাশাপাশি উপকুলজুড়ে বিকল্প কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলার দাবি এসব জেলের।
বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ সুত্র জানায় টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বরের এক তারিখ থেকে সুন্দরবন উম্মুক্ত হচ্ছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি অফিস থেকে প্রায় দুই হাজার আটশ বিএলসির অনুকুলে প্রায় নয় হাজার জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। বিশ^খ্যাত মানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ ও প্রকৃতি সংরক্ষন কর্মসুচির আওতায় সরকারি নির্দেশে তিন মাস ধরে বনজীবিসহ পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে লম্বা বিরতির পর সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে জেলেরা। নৌকা মেরামত আর নুতন রং লাগানোর পাশাপাশি বাজার-সদয় গুছিয়ে নিয়েছে। সহযোগী জেলেদের সাথে চুক্তি পর্ব সম্পন্নের পাশাপাশি শিকারকৃত মাছ ও কাঁকড়া বিক্রির জন্য দর-দাম নিশ্চিত করেছেন মহাজনসহ ব্যবসায়ীদের সাথে। আবার পর্যটকবাহী নৌ-যানগুলোকে মেরামতের পাশাপাশি নুতনভাবে সাঁজিয়ে প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় ট্রলারচালকরা।
কদমতলা গ্রামের চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী গৃহবধু জাহানারা বেগম জানান, বংশ পরম্পরায় তারা সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-পরা থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচও আসে সুন্দরবন থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে বছরে একাধিকবার সুন্দরবন বন্ধের কারনে দিনে দিনে তাদের ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে। এমতাবস্থায় উপকুলজড়ে বিকল্প কর্মক্ষেত্র গড়ার পাশাপাশি সহজশর্তে জেলে পরিবারের জন্য সরকারি ঋণ ব্যবস্থা প্রচলনের দাবি তার।
সুন্দরবন তীরবর্তী মীরগাং গ্রামের হরশিদ মন্ডলের দাবি, অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এবার সরকার ঘোষিত অভয়ারণ্যের আয়তন বেশী। আবার বড় কোম্পানীর কারনে সুন্দরবনে যেয়েও নিজের পছন্দের জায়গা মিলবে না। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবন ঢুকলেও কাংখিত মাছ-কাঁকড়া পাওয়া নিয়েও শংকা তার।
ষাটোর্ধ্ব বয়সী এ বৃদ্ধ আরও জানায়, অভয়ারন্যের বিস্তৃতি কমানোর পাশাপাশি বনকর্মীরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে তারা সর্বশান্ত হবে। লম্বা বিরতির পর বনে যেয়েও মাছ কাঁকড়া না পেয়ে বরং দাদন ব্যবসায়ী আর মহাজনদের থেকে নেয়া ঋণেল বোঝা নিয়ে এলাকা ছাড়ার শংকা রয়েছে।জেলেরা জানায় বন্ধের সময়ে সংসার চালাতে স্থানীয় বিভিন্ন সমিতি, এনজিওসহ মহাজনদের থেকে তারা ঋণ নিয়েছেন। আবার জাল ও নৌকা প্রস্তুতের জন্য শরানাপন্ন হয়েছেন দাদন ব্যবসায়ীসহ মহাজনদের। এমতাবস্থায় বড় কোম্পানীসমুহের সিন্ডিকেটকে বনবিভাগ সহায়তা করলে তাদের না খেয়ে মরার উপক্রম হবে। সুন্দরবনে ঢুকে নিজ নিজ পছন্দের জায়গায় মাছ ও কাঁকড়া শিকারে কতৃপক্ষের সহায়তা চান তারা।
এসব বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন সুন্দরবনকে রক্ষায় সময়ের সাথে সাথে মানুষের প্রবেশাধীকার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকসহ জেলেরা বনে যাওয়ার সুযোগ পাবে। বড় কোম্পানীগুলোর কারনে দরিদ্র জেলেরা যেন সবিধাবঞ্চিত না হয় সেবিষয়ে বনবিভাগ সতর্ক থাকার পাশাপাশি টহল বৃদ্ধি করবে।
-

সরকারি ইজারাকৃত আশাশুনির হাড়িয়াখাল জলমহাল দখলের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারি ইজারাকৃত আশাশুনির হাড়িয়াখাল জলমহাল দখল করে রীতিমত রামরাজত্ব পরিচালনা করছে রহমত আলীগং। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুবাদে ইজারাদারকে হটিয়ে সুযোগ বুঝে জলমহালটি দখল করেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের দিয়ে জলমহালে অবস্থান ও ইজারা গ্রহীতার মৎস্য ঘের থেকে বাগদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য লুটপাট করছেন তারা।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা মৌজার ১নং খাস খতিয়ানে হাড়িয়া খাল জলমহালের ৩২৪, ৩২৬, ৩২৮, ৪১৯, ৫৬৫/৬৬৬ ও ৫৬৭ দাগে ১১.৮২ একর জমি সরকারের কাছ থেকে বিল নাটানা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সঞ্জয় মন্ডল ১৪২৯-১৪৩১ সন পর্যন্ত ইজারা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি উক্ত জলমহাল পরিচালনার জন্য আশাশুনি উপজেলার আদালতপুর গ্রামের মৃত করিম শেখের পুত্র মো. নজিরউদ্দীন শেখকে কেয়ারটেকার নিয়োগ করেন। এছাড়া স্থানীয় নীলরতন রায়ের পুত্র কালিপদ রায়ের রেকর্ডীয় প্রায় ৮ বিঘা সম্পত্তি ভাঙনের ফলে উক্ত জলমহালের অভ্যন্তরে চলে গেছে। যে ৮বিঘা জমির হারি জমির মালিক কালিপদ রায়কে বাৎসরিক চুক্তিতে প্রদান করছেন নজিরউদ্দীন শেখ। সেখান থেকে নজিরউদ্দীন শেখ উক্ত জলমহালে নেটপাটা স্থাপন, পাহারাগৃহ নির্মাণ করে মৎস্য চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। বিগত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ বুঝে কোদন্ডা গ্রামের মান্দার গাজীর পুত্র রহমত আলী গাজী গত ১০আগস্ট উক্ত জলমহালের মালিকানা দাবি করে ভাড়াটে দুবৃৃত্তদের নিয়ে নজির উদ্দীন শেখের সত্ত্ব দখলীয় মৎস্য ঘেরটি দখলে নিয়ে প্রতিদিন মাছ ধরে লুটপাট করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নজির উদ্দীন শেখ জানান, হাড়িয়া খাল জলমহালটি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ‘বিল নাটানা মৎস্য জীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সঞ্জয় মন্ডল ১৪২৯-১৪৩১ সন পর্যন্ত ইজারা গ্রহণ করেন। যার মেয়াদ এখনো বলবৎ আছে। তিনি উক্ত জলমহাল পরিচালনার জন্য আমাকে কেয়ারটেকার নিযুক্ত করেন। আমি সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে ভোগ করে আসছিলাম। কিন্তু গত ১০আগস্ট রহমত আলী তার পুত্র ও জামাতার সহযোগীতায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে মৎস্য ঘেরটি দখলে নিয়েছেন। তাঁরা সার্বক্ষণিক ঘেরের বাসায় অবস্থান সহ মহড়া দিচ্ছে। আমরা উক্ত ঘেরে গেলে বা আইন আদালতের আশ্রয় নিলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। রহমত আলীর নেতৃত্বে দূর্বিত্তরা অদ্যবদি প্রায় ২লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার মৎস্য ঘের পুনঃরুদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রহমত আলীর জামাতা জানান, ‘আমার শ্বশুর উক্ত জমির প্রকৃত মালিক। আমাদের কাছে সব কাগজপত্র আছে। আগে উনি উক্ত ঘের ভোগদখল করতেন। কিন্তু উনার দুর্বলতার সুযোগে নজিরউদ্দীন জোর করে উনাকে তাড়িয়ে দিয়ে ঘেরটি দখল করে। এখন আমরা আমার শ্বশুরের ঘের পুনরায় দখলে নিয়েছি।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কালিপদ রায় (৭৫) বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখছি জলমহালটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। ওটা কখনো ব্যক্তি মালিকানায় ছিল না। নজিরউদ্দীন শেখ উক্ত জলমহালে দীর্ঘদিন মৎস্য চাষ করে। এমনকি জলমহালের মধ্যে আমার ৮বিঘা রেকর্ডীয় সম্পত্তি আছে যা আমি নজিরউদ্দীন শেখের কাছে হারি দিয়েছি।
উল্লেখ্য, রহমত আলী ইসলামকাটি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের গত ৭-৭-১৯৬৩ ও ২৭-০৬-১৯৬৩ তারিখের দুটি দলিল দেখিয়ে উক্ত জলমহালের মালিকানা দাবি করেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী রহমত আলীর জন্ম তারিখ ২০-০৮-১৯৫৫ খ্রি.। সুতরাং দলিল রেজিষ্ট্রির সময় তার বয়স হওয়ার কথা সর্বসাকুল্যে ৮ বছর। ৮বছরের নাবালক সরাসারি দলিল গ্রহীতা হতে পারে কিনা বা দলিলে নাবালক কথাটি লেখা না থাকায় এলাকায় উক্ত দলিল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শোনা যায়। এছাড়া উক্ত দলিল দুটির দাতা যথাক্রমে পাইকগাছার কাটিপাড়ার মধুসূদন চট্টোপাধ্যয়ের পুত্র শ্রী জোতিষ চন্দ্র চট্টোপাধ্যয় ও একই উপজেলার হরিঢালী গ্রামের শরদাচন্দ্রর পুত্র গোপাল চন্দ্র উল্লেখ থাকলেও আদৌ উক্ত ঠিকানায় দলিল দাতাদের কোন হদিস নেই। এছাড়া দেওয়ানী ৩৭৫/৭২ ও ৩৫৪/৭২নং মামলার ডিক্রিমূলে হাড়িয়াখাল জলমহালের ২০০ বিঘা সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে রহমত আলী। যে ডিক্রির নকল উত্তোলন করা হয় যথাক্রমে ১৫-০২-৯০ ও ২০-০২-৮৩ তারিখে। সরকারের পক্ষে খুলনা জজকোর্টের আইনজীবী রামপ্রসাদ সরকার খুলনা জেলা জজ আদালতের মহাফেজ খানা ও সাতক্ষীরা ২য় মুনসেফ আদালতে উক্ত ডিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে গত ১২-০২-২৪ তারিখে খুলনা জেলা জজ আদালতের মহাফেজ খানার নথি রক্ষক স্বাক্ষরিত সরকারি ফরমে বলা হয় ‘অত্র মামলার নিষ্পত্তির তারিখ উল্লেখ্যে অত্র মামলা না থাকায় সঠিক তথ্য সরবরাহ করা হইল না।’
উল্লেখিত বিষয়ে এলাকার একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ‘রহমত আলী বিভিন্ন সময় জাল দলিল ও জাল ডিক্রি করে উক্ত জলমহালের মালিকানা দাবি করেন যা ভিত্তিহীন। এলাকার সচেতন মহল উক্ত সরকারি জমি যাতে কেউ জবরদখল করতে না পারে। তার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। -

কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যানের প্রাইভেটকারটি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিনের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদরের কাশেমপুরে (সিটি কলেজের পিছনে) এ ঘটনা ঘটে।
কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভিন জানান, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর ওই রাতেই তার বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো-খ-১২-০৪১০) নিয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছাড়া হন। তিনি সেনা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। তার মা বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। দুই সপ্তাহ আগে তিনি বাড়িতে ফিরলে তাকে আবারো হত্যার হুমকি দিলে গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। গত ১৭ আগস্ট থেকে তার প্রাইভেটকারটি সাতক্ষীরা সিটি কলেজের পিছনে কওছার মুহুরীর ভাড়াটিয়া নেঙ্গী গ্রামের আজিজুর রহমানের জিম্মায় রেখেছিলেন তিনি। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ওই প্রাইভেটকারটি পেট্রোলের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে -

বিনেরপোতা বসুন্ধরা এলাকায় চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সাধারণ মানুষকে হয়রানিকারীদের শাস্তির দাবী
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বাহিনী কর্তৃক চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা লাবসা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডর বিনেরপোতা বসুন্ধরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩ নং লাবসা ইউনিয়ানের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানসহ এলাকায় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতারা সরকারি খাস জমিতে ঘর বানিয়ে দেওয়া প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও বিএনপি -জামায়াতের সমর্থকদের বিভিন্ন নাশকতা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। বিনেরপোতা বসুন্ধরা এলাকার আব্দুল হান্নান বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন, ৩ বিঘা খারস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে চাঁষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম কিন্তু ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ২০১৩ সালে নাশকতা মামলায় আমাকে জড়িয়ে কারাগারে পাঠিয়ে জমি দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। একই এলাকার হাসানুর রহমান হাসান বলেন, দোকান করার সময় জিয়াউর রহমান জিয়াসহ আওয়ামী লীগনেতারা নাশকতা মামলার ভয় দেখিয়ে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়,আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে আমার টাকা ফেরত পায়। একই এলাকার ইসকান্দার মির্জা বলেন, জিয়াউর রহমান জিয়া ২০০৮ সালে বিনেরপোতা মাছ বাজার এলাকায় আমার জায়গা দখল করে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কার্যালয় বানায়। এছাড়া তারা আমাকে নাশকতায় মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠায়। ৭০ বছরে বৃদ্ধ কেঁদে কেঁদে জানান, বুড়ো বয়সে ৪ মাস জেল খাটিয়েছে তারা। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে আওয়ামীলীগনেতা মান্নান তার জমিতে আমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে ৪২ হাজার টাকা মজুরী দেয়নি। টাকা চাইলে মান্নান বলে জামায়াতের কর্মী টাকা কিসের। আমি তার বিচার চাই। নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান আমি বিএনপির সমর্থক হওয়ায় দলীয় পাওয়ার দেখিয়ে জিয়াউর রহমান জিয়া, আব্দুল মান্নান, ইমাম বারী আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ৮ লক্ষ টাকা নিয়েছে। একই এলাকার আলীরাজ জানান, আমার কাছ থেকে খাস জমি দেওয়ার নাম করে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে সেই জমি একই এলাকার মফিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে ৩০ হাজার টাকায় দখলে দেয় জিয়াউর রহমান জিয়া । কিন্তু আমার ৬০ হাজার টাকা আজও ফেরত দেয়নি জিয়াউর রহমান বাবু।
গোলাম বারী ও হাসান আলী জানান, সাংবাদিক রেজাউল ইসলাম বাবলু ও আওয়ামীলীগনেতা জিয়াউর রহমান, মান্নান মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করলেন বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। সালমা বেগম নামে এক মহিলা জানান, আমার ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে আব্দুল মান্নান ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলো। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। ভূক্তভোগীরা আওয়ামীলীগনেতা জিয়াউর রহমান, মান্নানসহ যারা দীর্ঘ দিন অর্থলুটপাট, জমি দখল, জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
-

তালায় সাংবাদিক আঃ জব্বারের ইন্তেকাল
তালা (সাতকক্ষীরা) প্রতিনিধিঃতালার সিনিয়র সাংবাদিক সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার তালা ব্যুরো প্রধান ও তালা সদর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল জব্বার ( ৫২) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।
শনিবার (৩১ আগষ্ট) বিকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি হার্ট ও শ্বাসজনিত রোগে গত কিছুদিন যাবত ভুগছিলেন।
তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারী ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবত তালা সদরে বসবাস করেন। তিনি তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের মৃত গোলাপ সরদারের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি ১ পুত্র, ১ কন্যা ও স্ত্রী সহ অসংখ্য গুহগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ এশার নামাজের পর তার গ্রামের বাড়ীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তালা ও পাটকেলঘাটায় কর্মরত সাংবাদিক সহ বিভিন্ন সংগঠন।
-

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বড়দল মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
মোস্তকীম হোসাইন,ধুলিহর: আজ ৩১ আগস্ট শনিবার বাদ মাগরিব হতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৮ নং ধুলিহর ইউনিয়ানের বড়দল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ছে।
এলাকাবাসীর আয়েজনে শহীদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (রহঃ), বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও এলাকার কবরবাসীদের রুহের মাগফেরাত উপলক্ষ্যে আয়োজিত হয়েছে এই দোয়া মাহফিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাজলিছুল মুফাচ্ছিরিন সাতক্ষীরা জেলা শাখার দাওয়াহ সম্পাদক মাওঃ আশরাফুজ্জামান আল আজাদী।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি মাওঃ আব্দুস সবুর, ৮ নং ধুলিহর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওঃ মাওলানা আব্দুস সালাম ও দৈনিক ক্রাইম বার্তার ধুলিহর প্রতিনিধি মোস্তাকিম হোসাইন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাজলিছুল মুফাচ্ছিরিনের সাতক্ষীরা জেলার যুগ্ন – সাধারন সম্পাদক মাওঃ মনিরুল ইসলাম ফারুকী।
বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাফেজ মাওলানা মুফতি দেলোয়ার হুসাইন হুজাইফি, মাওঃ মনিরুল ইসলাম বিলালী, মাওঃ রুস্তম আলী তাওহিদী ও স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশ গঠনে সকলকে আত্মনিয়োগ করতে হবে।পুনরায় দেশে যেন কোন দল-গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রত্যেককে বিশেষ দায়ীত্ব পালন করতে হবে। -

আন্তঃসীমান্ত ইছামতি নদীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা মেরামতে অংশ নিচ্ছেন সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশারসহ জামায়াত নের্তৃত্ববৃন্দ
বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃসীমান্ত সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকার ইছামতি নদীর ভাঙ্গন কবলিত অংশ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ হল নদীর বাঁধ নির্মানের কাজ। শনিবার (৩১ আগস্ট) উপজেলার ভাতশালা বিশ্বাসবাড়ি এলাকায় এ কাজে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামি সাতক্ষীরা জেলার আশরি মুহাদ্দিস রবিউল বাশারসহ ৪০০শতাধীক নেতৃবৃন্দ। সকালে ভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন ও স্বেচ্ছাশ্রমর ভিত্তিতে বাঁধের ভরাট কাজের উদ্বোধন করেন জেলা জামাতের আমীর হাফেজ মুফতি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
এসময় মুহাদ্দিস রবিউল বাশার জানান, দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা সব সময় মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি। নদী ভাঙন রক্ষায় যথাযর্থ বরাদ্দ দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মান করা হোক। না হলে এই এলাকা নদীর মধ্যে ভেসে যাবে। তাই দেশ রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশের সীমানা রক্ষায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা জামাতের আমীর হাফেজ মুফতি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। পরে কোমরপুর এলাকায় নদীর বাঁধ ভাঙন এলাকার কাজ পরির্দশনে যান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আলহাজ্ব মাহাবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, জেলার অন্যতম সদস্য এম আসাদুজ্জামান মুকুল, উপজেলা জামাতের নায়েবী আমীর মহিউদ্দীন মাহমুদ, সখিপুর আলিম মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুল আরিফ, উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা এইচ এম ইমদাদুল হক, পারুলিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, সাবেক নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, কুলিয়া ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আনারুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউনিয়ন আমীর আবু ইউসুফ, সখিপুর ইউনিয়ন সেক্রেটারী আফসার আলী, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুব আলম, দেবহাটা ইউনিয়ন আমীর আবুল হোসেন, উপজেলা ইউনিট সদস্য মাসুম খান চৌধুরী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম জানান, আমরা নদীর বাঁধ রক্ষায় জামায়াত ইসলামের প্রায় ৪ শতার্ধীক নেতাকর্মী এ বাঁধ রক্ষায় দেশ ও জাতির কল্যাণে এ কাজে অংশ নিয়েছি। সকলের প্রচেষ্টায়া প্রাথমিক ভাবে বাঁধ রক্ষা হয়েছে। আশা করি এর মাধ্যমে ভাঙনের হাত থেকে আমরা এবারের মত রেহায় পাব।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরে দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দেয়। নদীর মুল বেঁড়িবাধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার আশাঙ্কা দেখা দিলে ঢাকাস্থ দেবহাটা উপজেলা সমিতির প্রচেষ্টায় কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরে এ কাজের সহযোগী হিসাবে কাজ শুরু করে জামায়াত-শিবির, সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন দরদি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের টিম মানবিক পরিবার, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সর্বস্থরের মানুষ এ কাজে অংশ নেন। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্যালাইটিং দিয়ে বাঁধ দেওয়া হলে সেখানে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়।