Blog

  • বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু

    বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু

    ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় দেশের ১১ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ এই বন্যায় এসব জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০ লাখের বেশি মানুষ। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত ১১টি জেলার ৬৪টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। জেলাগুলো হলো- ফেনী, কুমিল্লা, 
    চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট।
    বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জন মানুষ মারা গেছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ফেনীতে ১৯, কুমিল্লায় ১৪, নোয়াখালীতে ৮, চট্টগ্রামে ৬, কক্সবাজারে ৩, খাগড়াছড়িতে ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১, লক্ষ্মীপুরে ১ ও মৌলভীবাজারে ১ জন রয়েছেন।
    অন্যদিকে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা এখন ১০ লাখ ৯ হাজার ৫২২টি। আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি। তিন হাজার ২৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৪ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ

    এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে মোট ৫৬৭টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে। সেনাবাহিনী ও জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসকরা সেখানে সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লিনিক, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা নির্দেশনা দিয়েছেন।

    বিজ্ঞাপনএছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে। 
    বিপদসীমার নিচে সব নদীর পানি: ওদিকে বৃষ্টিপাত কমে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল সকালে সংস্থাটির বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত কেবল মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল স্টেশনে ৫৪ মিলিমিটার নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে অন্য কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত নেই। বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমর নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের মনু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে।
    আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে এ সময় এই অঞ্চলের মনু, খোয়াই, ফেনী, মুহুরি, গোমতী, তিতাস ইত্যাদি নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নেই। এ সময় এই অঞ্চলের সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলী, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে। এদিকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি সমতল উজানে ফারাক্কা পয়েন্টে অপরিবর্তিত আছে (২২ দশমিক ৮২ মিটার) এবং দেশের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী পাংখা পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার কমেছে (২০ দশমিক ৫১ মিটার)।

  • সন্তানের ছবি হাতে কাঁদছে বাবা-মা

    সন্তানের ছবি হাতে কাঁদছে বাবা-মা

    পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদীঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের গমনা পাড়া এলাকার বাসিন্দা সুজন আলী (২৫)। কাজ শেষে গিয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরেননি নিজ বাড়িতে। গত দুইমাস ধরে সুজন আলী নিখোঁজ থাকায় দিনমজুর বাবা ও গৃহিণী মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সন্তানের ছবি হাতে কাঁদতে কাঁদতে তাদের চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। তাকে ফিরে পেতে দেশবাসীসহ প্রশাসনের কাছে আকুতিও জানিয়েছেন তারা। এদিকে সন্তানকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে গত ১৩ই জুলাই বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নিখোঁজ সুজন আলীর বাবা রফিজুল ইসলাম। জানা গেছে, নিখোঁজ সুজন পেশায় একজন হোটেল শ্রমিক। তিনি পঞ্চগড় টুনিরহাট বাজারে হোটেল কারিগরের কাজ করতেন। সুজনের বাবা রফিজুল ইসলাম জানান, ছেলের স্ত্রী আকলিমা বাবার বাড়িতে থাকায়, গত পহেলা জুলাই সকালে বাড়ি থেকে কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে হাড়িভাসার মহনবাগান গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে যায়।

    বিজ্ঞাপনজানতে পারি সন্তানকে দেখে সেখান থেকে ফিরে এসে বোদা উপজেলার কাজলদীঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের উৎকুড়া বাজার ও টুনিরহাট বাজারের উদ্দেশ্যে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমার সন্তানকে ফিরে পেতে সহায়তা করেন। এদিকে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক  বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করার পর তাকে খুঁজে পেতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ভুটানের বিপক্ষে দলে সাফজয়ী চার যুবা

    ভুটানের বিপক্ষে দলে সাফজয়ী চার যুবা

    নিজেকে উজাড় করে দিতে চান মিরাজুল

    ভুটানের বিপক্ষে দু’টি প্রীতি ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ দলে জায়গা পেয়েছেন সাফজয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলের চার খেলোয়াড়। এদের মধ্যে সাফে ৪ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরাজুল ইসলাম কোনোদিন ক্যাম্পে ডাক না পেয়েও সরাসরি ঢুকে গেছেন জাতীয় দলে। ডিফেন্ডার শাকিল আহাদও তাই। চন্দন রায় অবশ্য এর আগেই জাতীয় দলে খেলেছেন, রাব্বি হোসেন রাহুলও ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন। এই চারজনই গতকাল দলের সঙ্গে পৌছে গেছেন ভুটানে। আগামী ৫ ও ৮ই সেপ্টেম্বর থিম্পুতে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মিরাজুল জানালেন, সুযোগ পেলে নিজেকে উজার করে দিতে চান তিনি।     
    এই চারজনের মধ্যে মাঠে যতটা চঞ্চল, ব্যক্তি জীবনে সম্পূর্ণ বিপরীত মিরাজুল ইসলাম। একেবারে ধীরস্থির। বয়স বিশের নিচে হলেও চিন্তা-চেতনার পরিপক্বতা অনেক।PauseMute

    Loaded: 16.17%

    Remaining Time -9:37Close Player

    বিজ্ঞাপনজাতীয় দলে ডাক পেয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও কণ্ঠে পরিমিতিবোধ। তিনি বলেন, ‘একটা স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলে ডাক পাওয়া, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন নিজেকে আরও বেশি এগিয়ে নিতে হবে। গোল করতে চাই বা এত গোল করবো এ রকম কোনো লক্ষ্য আপাতত নেই। প্রথম লক্ষ্য খেলা, তারপর নিয়মিত হওয়া।’ জাতীয় দলে এর আগেও ডাক পেয়েছিলেন মিরাজুল। সেই বার অবশ্য ক্যাম্প করা হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘একবার জাতীয় দল ঘোষণা হলেও করোনার জন্য ক্যাম্প আর শেষ পর্যন্ত হয়নি। সেই সময় আমি দলে ছিলাম।’ ঝালকাঠিতে জন্ম নেওয়া মিরাজুল এখন বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন সম্ভাবনার নাম। বিকেএসপিতে ফুটবলের হাতেখড়ি হলেও বাফুফের এলিট একাডেমি থেকেই মূলত তার পথচলা। বাফুফের এলিট একাডেমি থেকে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। অনেক ফুটবলারের আইডল মেসি-রোনলোদা-নেইমার। মিরাজুল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো খেলোয়াড়কে আমার আইডল মানি না। আমার একমাত্র আইডল হযরত মুহাম্মদ স.।’ মিরাজুল অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। তার এই সাফল্য পুরোটাই আল্লাহর দান বলে মনে করেন। মোহামেডান ক্লাব মিরাজুলকে নিতে বাফুফেকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিল। মাঝে ডাক এসেছিল ইউরোপে খেলার। শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। এই প্রসঙ্গে মিরাজুল বলেন, ‘আমার ইউরোপে খেলার একটি সম্ভাবনা ছিল। দুর্ভাগ্য সেই সময় আমি মাঠের বাইরে ছিলাম। তাই আর যাওয়া হয়নি।’ চলতি মৌসুমে আবাহনীতে নাম লিখিয়েছেন মিরাজুল ইসলাম। এবার বিদেশি ছাড়া লীগে খেলবে আবাহনী। এটা লোকাল ফুটবলারদের প্রমাণের বড় সুযোগ জানিয়ে মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার আবাহনীতে কোচ কে আমি জানি না। তবে যেই কোচ হোন, আমি যদি সুযোগ পাই চেষ্টা করবো সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করার।’ সাফ অনুর্ধ্ব-২০ ফাইনালে ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট প্রথমার্ধে বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে গোল। বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ জোরালো ফ্রি-কিকে বাংলাদেশকে লিড এনে দিয়েছিলেন মিরাজুল। সেই গোল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ফ্রি-কিক নিতে পছন্দ করি। প্র্যাকটিসেও এমন শট নিয়েছি। ওই দিনও সেভাবে নিয়েছিলাম, গোল হবে বিশ্বাস ছিল তবে এত সুন্দরভাবে সেটা ভাবিনি। গোলটি দেখতেও ভালো লাগছিল।’ ঝালকাঠির গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলেটি এখন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা। নিজের চেষ্টা ও বাবা-মায়ের দোয়াতেই এই অর্জন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি সব সময় চেষ্টা করি। চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। আমার বাবা-মা’র দোয়া সঙ্গী। যেদিন আমার খেলা মা রোজা রাখেন। আমিও নিয়মিত নামাজ পড়ি। আল্লাহ সহায় বলেই আমার এই পুরস্কার ও অর্জন।’

  • বন্যার্তদের পাশে এবার বুবলী

    বন্যার্তদের পাশে এবার বুবলী

    ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের বেশকিছু জেলা। বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এ অবস্থায় যে যেভাবে পারছেন ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। শোবিজ তারকারাও তার ব্যতিক্রম নন। এরইমধ্যে বানভাসিদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অনেক তারকা। এবার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। সশরীরে গিয়ে নোয়াখালী এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, বন্যার্ত মানুষগুলোকে কাছ থেকে দেখে কষ্টগুলো আরও দ্বিগুণ অনুভব হলো।

    বিজ্ঞাপনআমার মতো করে আমি সবসময় চেষ্টা করি এই ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছাকাছি থাকতে। কারণ, এটা আমার মানসিক শান্তি। তিনি আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে সবার একাত্মতা ও ভালোবাসায় বন্যায় বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর জন্য ঢাকায় প্রচুর উপহার সামগ্রী জমা হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছে এসব পৌঁছানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বন্যার পানিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার খুব নাজুক অবস্থা গ্রামের দিকে। সবশেষে অভিনেত্রী বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো বন্যার্তদের কাছে যেন তাদের প্রাপ্য উপহার সামগ্রীগুলো পৌঁছায়, সেদিকে সবাই মিলে সহযোগিতা করি। ভক্ত-অনুরাগীরা বুবলীর এই পোস্টে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। বেশির ভাগই তার এমন উদারতার প্রশংসা করেছেন।

  • যুদ্ধের আড়ালে যেভাবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করছে ইসরায়েল

    যুদ্ধের আড়ালে যেভাবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করছে ইসরায়েল

    ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির মধ্যে একটা হলো ফিলিস্তিনের বাত্তির। সেখানকার জলপাই বাগান এবং আঙুরক্ষেতের জন্য পরিচিত এই গ্রাম। এখানে প্রাকৃতিক ঝর্ণার জল ব্যবহার করা হয় সেচের কাজে। কয়েক শতাব্দী ধরে এইভাবেই জীবন বয়ে চলেছে সেখানে।

    প্রকৃতির কোলঘেঁষা এই গ্রামই অধিকৃত ‘ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক’ বা পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের সর্বশেষ ‘ফ্ল্যাশপয়েন্টে’ পরিণত হয়েছে।

    ইসরায়েল এখানে একটা নতুন ইহুদি বসতি স্থাপন বা ‘সেটলমেন্ট’-এর অনুমোদন দিয়েছে। এই নতুন বসতির জন্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে বহু মানুষের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। শুধু তাই নয়, অনুমোদন ছাড়াই নতুন ইসরায়েলি ফাঁড়িও স্থাপন করা হয়েছে।

    যাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি এই নতুন বসতি স্থাপনের জন্য কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের তালিকায় রয়েছে ঘাসান ওলিয়ান। তিনি বলেন, “নিজেদের স্বপ্ন গড়তে আমাদের জমি চুরি করছে ওরা।”

    ইউনেসকো জানিয়েছে বাত্তিরকে ঘিরে বসতি স্থাপনকারীদের পরিকল্পনা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তবে এই গ্রাম কিন্তু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ জাতীয় ‘সেটলমেন্ট’কে অবৈধ হিসেবে দেখা হয়। যদিও এই বিষয়ে ইসরায়েল সহমত পোষণ করে না।

    “ওরা আন্তর্জাতিক আইন, স্থানীয় আইন, এমন কী ঈশ্বরের আইনকেও তোয়াক্কা করে না”, আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন মি. ওলিয়ান।

    গত সপ্তাহে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা প্রধান রোনেন বার মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে একটা চিঠি লিখে তাদের সতর্ক করেছিলেন। সেই চিঠিতে মি. বার উল্লেখ করেছিলেন পশ্চিম তীরের ইহুদি চরমপন্থীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’ কাজ চালাচ্ছে এবং দেশের ‘অবর্ণনীয় ক্ষতি’ করছে। 

    গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কিন্তু অধিকৃত পশ্চিম তীরে দ্রুত বসতি স্থাপন হচ্ছে।

    ইসরায়েল সরকারের থাকা চরমপন্থীরা অবশ্য ‘গর্ব’ করে বলেন এই পরিবর্তন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাধা দেবে।

    আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিজেদের ‘লক্ষ্য’ পূরণের জন্য গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চাইছে এই চরমপন্থীরা।

    বসতি স্থাপনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণকারী ইসরায়েলি সংস্থা ‘পিস নাও’-এর ইয়োনাতান মিজরাহি বলেছেন, “ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের চরমপন্থী ইহুদিরা ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়টাকেও কঠিন করেছে।”

    তার মতে সাতই অক্টোবরের হামলা পর ইসরায়েলি সমাজে ‘ক্রোধ ও ভয়ের মিশ্রণ’ রয়েছে। ওই হামলার পর থেকে জমি দখল করে বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ‘গতি এসেছে’ বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার কারণ যারা জমি দখল করছেন, তাদের প্রশ্ন করার কেউ নেই।

    পিউ রিসার্চ সেন্টারের জুন মাসের একটা সমীক্ষা বলছে ৪০% ইসরায়েলের মানুষ বিশ্বাস করেন যে এই বসতি স্থাপন তাদের দেশকে নিরাপদ করেছে। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৭%।

    অন্যদিকে জুন মাসের ওই জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ মানুষ আবার মনে করেন, বসতি স্থাপনের কারণে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের জরিপে ওই পরিসংখ্যান ছিল ৪২%।

    মি. মিজরাহি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের ইহুদি চরমপন্থীরা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়টাকেও আগের চেয়ে কঠিন করে তুলছে।

    “আমি মনে করি এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ঘৃণা বাড়ছে”, বলেছেন তিনি।

    এই জাতীয় ঘটনায় বৃদ্ধি আগেই দেখা গিয়েছিল।কিন্তু গত ১০ মাসে এমন ১২৭০টা হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৫৬।

    ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেটসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কারণে অন্তত পশ্চিম তীরের ১৮টা গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েল ও জর্ডনের মধ্যবর্তী এই ফিলিস্তিনি অঞ্চল ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সময় দখল করেছিল ইসরায়েল। তখন থেকে এই অংশ তাদের দখলেই রয়েছে।

    জাতি সংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাতই অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ৫৮৯ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে ইসরায়েলির বাহিনীর হাতে এবং অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে।

    জাতিসংঘের মতে, এদের মধ্যে কেউ কেউ হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে জানা গিয়েছে, আবার এই তালিকায় নিরস্ত্র বেসামরিক লোকজনও রয়েছে।

    আবার অন্য দিকে, ওই একই সময়ে ফিলিস্তিনিরা পাঁচজন ‘সেটলার’ বা বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নয়জন সদস্যকে হত্যা করেছে।

    চলতি সপ্তাহে বেথেলহেমের কাছে ওয়াদি আল-রাহেলে বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি সেনারা প্রবেশ করে। সেখানে ৪০ বছরের এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এর আগেও কাছাকাছি থাকা একটা ইসরায়েলি গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়েছিল।

    গত মাসে জিট গ্রামে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে ঢুকে পড়া কয়েক ডজন লোক তাণ্ডব চালালে ২২ বছরের এক ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দা করা হয়।

    ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছ। তাদের পক্ষ থেকে একে ‘মারাত্মক সন্ত্রাসী ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    কিন্তু এই পদক্ষেপ ‘দায়মুক্ত’ করার জন্য বলেই মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

    ইসরায়েলি নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী ‘ইয়েশ দিন’ এর তথ্য বলছে ২০০৫ থেকে ২০২৩ সালে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর মাত্র ৩% দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া রোনেন বারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল ‘লঘু আইনি পদক্ষেপই’ চরমপন্থী দখলদারদের ‘উৎসাহ’ দিয়েছিল।

    ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’

    পশ্চিম তীরের কিছু অংশে একচেটিয়াভাবে প্রতিষ্ঠিত ইহুদি সম্প্রদায়ের মাঝেই বাস করছে এই নতুন বসতি স্থাপনকারীরা।

    এর মধ্যে অনেক বসতিতেই ইসরায়েলি সরকারের আইনি সমর্থন রয়েছে। অন্য বসতি যা ‘আউট পোস্ট’ বা ফাঁড়ি হিসাবে পরিচিত সেগুলো বেশিরভাগই কাফেলা এবং লোহার তৈরী ছাউনির মতো সাধারণ।

    এগুলো কিন্তু ইসরায়েলের আইনের চোখেও অবৈধ। কিন্তু চরমপন্থীরা আরও বেশি জমি দখলের করার উদ্দেশ্য নিয়ে এগুলো তৈরি করে।

    জুলাই মাসে, যখন জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত প্রথমবার জানতে পারে পূর্ব জেরুজালেম-সহ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল অবৈধ, তখন ওই দেশকে বসতি স্থাপন সংক্রান্ত সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ এবং যত দ্রুত সম্ভব সেনা প্রত্যাহার করতে কথা বলা হয়।

    ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্ররা কিন্তু বারবার এই বসতি স্থাপনকে শান্তি আনার পথে অন্তরায় বলে আখ্যা দিয়ে এসেছে। ইসরায়েল অবশ্য এই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয় – “ইহুদিরা তাদের নিজেদের জমিতে কোনও ভাবেই দখলদার নয়।”

    এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের এই পদক্ষেপকে যাতে কোনও ভাবেই বন্ধ না করা যায়, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে চরমপন্থীরা।

    ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থী সরকারের সমর্থন পেয়ে ওই অঞ্চলে দ্রুত তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করেছে।

    পশ্চিম তীরে সংযুক্তির পরিকল্পনাকে আরও মজবুত করছে এই চরমপন্থীরা। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে গাজায় বসতি স্থাপনের জন্য প্রকাশ্যে আহ্বানও জানাচ্ছে।

    সূত্র: বিবিসি

  • গাজায় তিন দিন যুদ্ধ বন্ধ রাখবে ইসরায়েল: : জাতিসংঘ

    গাজায় তিন দিন যুদ্ধ বন্ধ রাখবে ইসরায়েল: : জাতিসংঘ

    গাজায় পোলিওর ভয়াবহ সংক্রমণের ফলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিরতিতে সম্মত হয়েছে তারা। গাজা উপত্যকায় তিন দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ রাখবে ইসরায়েল।

    শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ফিলিস্তিনে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রিক পিপারকর্ন বলেন, মধ্য গাজায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী পলিও টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। টিকাদানের এ সময়জুড়ে মানবিক যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে।  

    ডব্লিউএইচও আরো বলছে, প্রতিদিন গাজার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে অন্তত আট ঘণ্টা যুদ্ধ বন্ধ রাখার লক্ষ্যে চুক্তি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচওর এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এ সময়ে প্রথম দফায় গাজার ছয় লাখ ৪০ হাজার শিশুকে পোলিও টিকা দেওয়া হবে।

    গাজায় পয়োব্যবস্থার অভাব, স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবন্ধকতা ও টিকা সংকটে পোলিওর ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি এটি ইসরায়েলেও ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    এদিকে গাজায় টিকাদানের জন্য যুদ্ধবিরতি কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। 

    সংগঠনটির নেতা বাসেম নাইম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে হামাস আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

  • যারা জীবন দিয়ে জালিম সরকারকে বিতাড়িত করেছে তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে

    যারা জীবন দিয়ে জালিম সরকারকে বিতাড়িত করেছে তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে

    ময়মনসিংহ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জুলুম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। জালেমরা শাসন করছিল। আমরা অনেকেই চেষ্টা করেছি জালেমদের প্রতিহত করার জন্য। দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেও সেটা সফলতায় রূপ দিতে পারি নাই। আমাদের স্কুল কলেজের ছাত্র, মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, রিক্সাওয়ালা ঠেলাগাড়িওয়ালা তাদের জীবন দিয়ে আন্দোলন সফল করেছে এই আন্দোলন সফল করেছে। যারা জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশের জালিম সরকারকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে ইনশাল্লাহ।

    গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরীর উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আমীর মোঃ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে এবং মহানগর আমীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সামিউল হক ফারুকী ও কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া।

    অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তায়াআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। দুনিয়ার মত একটি জায়গা আমরা খুব স্বল্প সময়ের জন্য এসেছি।  দুনিয়ার যে জীবন, সেই জীবনকে আমরা কাজে লাগিয়ে যেন সফল হতে পারি সেজন্য নবী রাসূল পাঠিয়েছেন, কিতাব পাঠিয়েছেন। যুগে যুগে যত ইসলামী আন্দোলনের নেতারা এসেছেন তারাই জমিনে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে গেছেন। তিনি আরো বলেন, বেশিরভাগ শহীদ আপনাদের এই ময়মনসিংহ অঞ্চলের। আমার কাছে ৬২ জনের একটি তালিকা এসেছে।

    এদের মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিক শ্রেণীর লোকেরাই তাদের জীবন দিয়েছে। যারা ঈমান নিয়ে এই সংগ্রামী আন্দোলনের শরিক হয়েছিলেন সেই সমস্ত শহীদ ভাইদের শাহাদাত আল্লাহ তায়ালা যেন কবুল করেন। যারা জীবন দিয়ে এই বাংলাদেশের জালিম সরকারকে বিতাড়িত করে দিয়েছে, তারা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের ভোটের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, অনেক অধিকার লঙ্গিত হয়েছে। এইসব অধিকার যদি ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে অন্তবর্তী সরকারকে একটু সময় দিতে হবে। তবে তা বেশি দীর্ঘায়িত করা যাবে না।

    এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সার্বজনীন চিরসত্য কতগুলো বক্তব্য দিয়েছেন। যারা আল্লাহর পথে জীবন দেয় নিহত হয় তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। আল্লাহর পথে  যিনি জীবন দেন শহীদ হন সেই আল্লাহ বলেছেন তোমরা তাকে মৃত বলো না তারা জীবিত। জীবিত সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে দেখতে পায়, শুনে ও রিজিক পায়। আমরা যা দেখি না, সেটা আল্লাহ তায়ালা তুলে ধরেছেন কালামে হাকিমে। সুতরাং আমাদের সন্তানরা যারা এই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, এখন আন্দোলনটা কি? আল্লাহর পথে যারা জীবন দেয়। আল্লাহর পথ হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা। এটা আল্লাহর একটি পথ। দ্বীন কায়েম করা আল্লাহর পথ, ইসলামকে বিজয়ী আদর্শ  হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এটা  আল্লাহর পথ। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল অন্যায়, মিথ্যা, জুলুম, নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি লড়াই। সুতরাং  এই লড়াই যারা জীবন দিয়েছেন আমরা আশা করতে পারি আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী এই ব্যক্তিদেরকে শহীদ হিসেবে তিনি কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। এই শহীদদের ব্যাপারে এখন একজন মানুষের বড় সফলতা হলো পরকালীন সফলতা, দুনিয়া কিছুই না। শ্বাস নিঃশ্বাস শেষ দুনিয়ার সব সাঙ্গ হয়ে গেল। আপনার কোটি কোটি টাকা কোন কাজে আসবে না। যারা আজকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে জেলখানায় গেছেন তারা আজকে বুঝছেন ব্যাপারটা কি। একজন বলেছেন, ‘আমাকে ছেড়ে দেন আমি বাংলাদেশটা ঠিক করে দেব’।

    তিনি আরো বলেন, কিয়ামুল হাশরের দিন কত মানুষ চিৎকার করে বলবে হে আল্লাহ আমাকে দুনিয়ায় যাবার আরো একবার সুযোগ দাও। আমি আর কোন অপকর্ম করব না ভালো কাজ করে ফিরে আসবো একবার শুধু সুযোগ দাও। কিন্তু তারা সেই সুযোগ পাবে না। ৬০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যারা দেশের বাইরে চলে গেছেন তারা বড়ই যন্ত্রণার মধ্যে আছেন। এরা কোনদিন ভাবে নাই তাদের এই উপদ্রবের জন্য দুনিয়াতেই তাদের বিচার হবে। আল্লাহ তায়াআলা বলেন, দুনিয়ায় তারা লাঞ্ছিত হবে, ঘৃণিত হবে, অপমানিত হবে। তিনি শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের সন্তানরা আল্লাহর জন্য জীবন দিয়েছেন। আল্লাহ তায়াআলা তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন, আমীন।

    এছাড়াও সভায় কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীরসহ ময়মনসিংহ জেলা, মহানগর জামায়াত ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

  • মোমবাতির আলোতেই জন্ম নিল শতাধিক শিশু 

    মোমবাতির আলোতেই জন্ম নিল শতাধিক শিশু 

    ফেনী সংবাদদাতা : ভারতীয় পানির চাপে সাম্প্রতিক বন্যায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালের নিচতলা তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় জেলা শহরে একের পর এক হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করেও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারছে না বিভিন্ন রোগীর স্বজনরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের ৭টি হাসপাতালকে ডেডিকেটেড ঘোষণা করে চিকিৎসক দিয়ে সরকারি মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। পাওয়া যায়নি রোগীর খাবার ও প্রয়োজনীয় পথ্য। তবুও জেলার ৩টি সরকারি হাসপাতালে শুধুমাত্র মোমবাতির আলোতেই জন্ম নিল শতাধিক শিশু। যার ৯০ শতাংশই প্রসব হয়েছে স্বাভাবিক ভাবে। যদিও বাথরুম ও পরিচ্ছন্নতার পানিও ছিলোনা হাসপাতালগুলোতে। জেনারেটর রুমে পানি ঢুকে বিকল হয়ে গেছে যন্ত্র। স্বল্প পরিসরে দুজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স দিয়ে কোনো রকম প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা মিলছে না জেলার সর্ববৃহৎ এ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে। একই অবস্থার খবর পাওয়া গেছে বাকি ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠান থেকেও। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, ১ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে হাসপাতালের প্রবেশপথ। ভেতরে ঢুকতেই হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দেখা হয়। তারা জানান, বন্যার কারণে গত বুধবার রাতে আকস্মিকভাবে  হাসপাতালটির নিচতলা ডুবে যায়। 

    এ সময় হাসপাতালের আশপাশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও দায়িত্বরত চিকিৎসক-কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের নিচতলায় থাকা নবজাতক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, স্টোর রুম, ডায়ালাইসিস ইউনিট, ডেন্টাল ইউনিটের সরঞ্জামে পানি ঢুকেছে। অবস্থা বেগতিক থাকায় জরুরি বিভাগের কার্যক্রম নিচতলা থেকে সরিয়ে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। তারা জানান, জেনারেটর চালু করার কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষে পানি ঢুকে সেটিও বিকল হয়ে পড়ে। প্রবল অন্ধকারে সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে ৫দিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। নৌকা ও ট্রলার ব্যবহার করে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গুরুতর রোগী হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও মেলেনি কোনো চিকিৎসাসেবা। সড়ক ও হাসপাতাল এলাকায় ৫-৬ ফুট পানি থাকায় কর্মস্থলে আসতে পারেননি চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। সরজমিনে আরও দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় নিচতলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের দ্বিতীয় তলায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন দুজন চিকিৎসক ও দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স। তখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে দুই শতাধিক রোগী। গত দুদিন সড়কে পানি বেশি থাকায় আগত রোগীর সংখ্যা সীমিত ছিল। মঙ্গলবার পানি নেমে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের কোনো মতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শহরের ডেডিকেটেড হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

    হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, গত বুধবার থেকে হাসপাতালে আলো জ্বলেনি। বাথরুমে পানি নেই। হাসপাতালে ছিল না কোনো চিকিৎসক। পাওয়া যায়নি সরকারি খাবার ও পথ্য। মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের থেকে পাওয়া শুকনো খাবারে দিন পার করতে হচ্ছে। তবে স্বেচ্ছাসেবকরা মঙ্গলবার শুকনো খাবার, পানি ও মোমবাতি দিয়েছেন রোগীদের।

    এমন অবস্থা শুধু ফেনী জেনারেল হাসপাতালেই নয়, একই চিত্র জেলার বাকি ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও।

    এই অবস্থার খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এসে গত কয়েকদিন স্বেচ্ছাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন সফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। গত শুক্রবার এ হাসপাতালে আসেন তিনি। দেখেন নতুন বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী আছে। কিন্তু কোনো চিকিৎসক বা নার্স নেই। পুরাতন ভবনে দুজন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সকে দেখেন। জেলার সর্ববৃহৎ হাসপাতালের এমন অবস্থা দেখে সফিকুল এখানে থেকে গেছেন। ও রোগীদের খাবার-পথ্যের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু করেন।

    ফরিদুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, গত রোববার তার সন্তানের ডায়রিয়া শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে শহরের আলকেমি হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন হাসপাতালে তালা। সেখানকার নিরাপত্তারক্ষাকর্মীরা তাকে জানান, হাসপাতালে বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসক-নার্স নেই। তাই এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    পরে সন্তানকে দ্রুত রিকশাযোগে পানি পার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এনে একই অবস্থা দেখেন ফরিদুল। হাসপাতাল থেকে তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। ২ ঘণ্টা পানিতে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সেবা না পাওয়ায় একটি ভ্যানে করে ছেলেকে অন্য হাসপাতালে নেন তিনি।

    এমন বিড়ম্বনার শিকার ফরিদের মতো আরও কয়েকজনও হয়েছেন। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও আগের মতোই রয়েছে গেছে।

    ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসিফ ইকবাল বলেন, বন্যায় হাসপাতালটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এরপরও জেলা প্রশাসনের পরামর্শে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে শহরের ৭টি প্রাইভেট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করে ওইসব হাসপাতালে সরকারি ৩০ চিকিৎসককে রোস্টার দায়িত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালে না এলেও ডেডিকেটেড হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হওয়া রোগীদের সরকারি মূল্যে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।বিদ্যুৎ না থাকলেও মোমবাতির আলো দিয়েই বন্যা শুরুর প্রথম দিন থেকে এ পর্যন্ত এ ৪৮ জন প্রসূতিকে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে।’

    এছাড়া জেলার ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তার ৫ থেকে ৬ফুট উচ্চতায় পানি উঠে গিয়েছিল। এর পাশে নির্মানাধীন ৬তলা আরেকটি ভবনে বন্যাকবলিত মানুষজন আশ্রয় নিয়েছিলেন।তারপরও বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থার মাঝেও শুধুমাত্র মোমবাতির আলোতেই ২৪ ঘন্টা চালু ছিল জরুরি সেবা।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ মঈনদ্দীন মোর্শেদ জানান,এর মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১৯ অন্তঃসত্ত্বার স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। 

    অন্যদিকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শোয়েব ইমতিয়াজ নিলয় জানান, বন্যা পরিস্থিতির ৭দিনে সেখানেও ৪৪ জন নারী সাধারণ প্রসব করেছে। ৪ জনের সিজার লেগেছে। 

    ফেনীর সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জানান, আমাদের বেশ কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পানির নিচে ছিল।বিচ্ছিন্ন ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ।এরপরও বিকল্প উপায়ে আমারা সেবা দিয়েছি। সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ আসে মঙ্গলবার। তবে থাকছেনা বেশিরভাগ সময়। বুধবার পুরোপুরি জেনারেল হাসপাতাল চত্বর থেকে পানি নামে। 

    ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন,বিদ্যুৎ না থাকলেও বন্ধ ছিলনা ফেনীর চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। জেলার একটি এবং ৬ উপজেলার ৬টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে সেবা চালিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার প্রথম ৫ দিন বিদ্যুৎ ছিল না। তবুও মোমবাতির আলোতে চলছে সেবা কার্যক্রম।

    স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমদ বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে চিকিৎসক এনে ফেনীতে থাকা চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ডেডিকেটেড করে জরুরি অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। আমরা দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি। অচিরেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে।

  • জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

    জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

    ফিরোজ হোসেন, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী  (দাহ্য পদার্থ বহনকারী ব্যতীত) ট্রাক্টর ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক  ইউনিয়ন (রেজিঃ খুলনা -৭৬৪) এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০ টায় নারিকেলতলাস্থ  ইউনিয়নের চত্বরে শেখ মিলন রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ  সাধারণ সভায় প্রধান  অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিকদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সহ যুগ্ম  সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক শিকদার।এসময়  শ্রমিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অত্র শ্রমিক  ইউনিয়নের  সাবেক সভাপতি আব্দুর রকিব, সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, মজনু রহমান, শাহজাহান আলী, মোঃ খবির উদ্দীন প্রমুখ। সভায় সকল সদস্যদের  সম্মতিতে বিগত  কমিটির বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত ও অনুমোদিত হয়। এবং সবর্সম্মতিতে   গঠনতন্ত্রের ৩২” ছ” ধারা মোতাবেক মো.  খবির উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া  শ্রমিকদের সম্মতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আব্দুস সামাদকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আগামী ১০ /১০ / ২০২৪ তারিখ অত্র সংঘটনের ত্রি- বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করেন। সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,  শ্রমিকদের সংগঠন শ্রমিকরা পরিচালনা করবেন। একটি সংগঠন চালাতে অবশ্যই নির্বাচন দিতে হয়। নির্বাচন ব্যবস্থা ছাড়া স্বৈরাচারী পন্থা হিসেবে পরিগনিত হয়।

  • স্বৈরাচারের পতনকে চূড়ান্ত বিজয় ভাবার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

    স্বৈরাচারের পতনকে চূড়ান্ত বিজয় ভাবার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

    স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনকে চূড়ান্ত বিজয় ভাবার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, বাংলার আকাশে এখনও শকুন উড়ছে। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষা এবং সুশাসন ও ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে আরও বড় ধরনের ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের আরও ত্যাগ শিকার করতে হবে।

    শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সরকার সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। জামায়াতসহ সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে শেষ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল। এ অবস্থায় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাদের কাজ বিগত সরকারের ধ্বংস করা প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। আমরা তাদের সে সময় দিতে প্রস্তুত।

    এ সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের আমলে সবার আগে আঘাত এসেছিল বিডিআরের ওপর। সেই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তারা এখনও শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আসেনি। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস করা হয়েছিল। এরপর হামলা এসেছে জামায়াতে ইসলামীর ওপর। ইসলাম ধর্মের জন্য যারা নির্যাতন সহ্য করে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ আনা হলো। তাদের আটকের পর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে বিচারবিভাগীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হলো। এরপর সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যা করা হলো।’

    জামায়াত আমির বলেন, সরকার জামায়াত নিষিদ্ধের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দেইনি। আমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছি ও আল্লাহর সহায়তা চেয়েছি। আল্লাহ আমাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। এক মাস আগে যা কল্পনাও করিনি, সেই উপহার তিনি আমাদের দিয়েছেন।

    এ সময় ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জামায়াত প্রধান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। তারা এ জাতিকে উদ্ধার করেছেন। এবার নিজেদের গড়তে হবে। তোমাদের প্রতি অনুরোধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে হবে। এটা তোমাদের শেষ আত্মত্যাগ নয়, এটা মাত্র শুরু। জ্ঞান, দক্ষতা অর্জন ও নিজেরা সৎ হতে হবে। একই সঙ্গে অন্যদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে হবে।

    উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সংবাদিকরা ওয়াচ টাওয়ারের মতো। তারা ওপর থেকে সব দেখেন ও জনগণের ভাষা বোঝেন। এ জন্য তাদেরকে জাতির বিবেক বলা হয়। কিন্তু তারা এতদিন মুক্তভাবে কাজ করতে পারেননি। অদৃশ্য ওপরের নির্দেশে তাদের কলম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমনটা যেন আর না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকবে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন। আমাদের ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরবেন।

    সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে এবং পরিষদের মহানগরী আহ্বায়ক প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, পেশাজীবীদের মধ্যে অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, সাবেক জাজ অ্যাডভোকেট তাহা মোল্লাহ, কর্নেল (অব.) ডা. জিহাদ খান, ইঞ্জিনিয়ার মিসবাহ উদ্দীন খান, ওবাইদুর রহমান, ড. মুফতি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বাশার, মোহাম্মদ মাসুদ কবির প্রমুখ।

    এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আবুল ইহসান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবিদ হাসান সিদ্দীক, মহানগরী প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, ডা.আসাদুজ্জামান কাবুল, কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ, অ্যাডভোকেট মাঈনুদ্দীন, শিল্পী আবিদুর রহমান, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।