Blog

  • সাতক্ষীরায় কৃষিক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ নতুন দিগন্তের সূচনা:  আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ

    সাতক্ষীরায় কৃষিক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ নতুন দিগন্তের সূচনা: আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ

    আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমি ও তালার নিম্ন এলাকার জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান।
    সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।
    ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।
    সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।

    আবু সাইদ বিশ্বাস
    সাতক্ষীরা
    ১৯/২/২৬
    ০১৭১২৩৩৩২৯৯

     

     

  • চলতি বছরের চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করলো বিসিবি

    চলতি বছরের চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করলো বিসিবি

    চলতি বছরে জাতীয় দলের চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২৮ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে এই চুক্তি। এবারের চুক্তিতে নেই ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরি। চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে ক্রিকেটারদের গ্রেড। কোনো ক্যাটাগরিতে পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়নি এবার। তবে বেড়েছে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা। আগের ২২ থেকে এবার বেড়ে হয়েছে ২৮। প্রথমবারের মতো চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন পারভেজ ইমন, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ। চুক্তিতে ফিরেছেন সাইফ হাসান, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম হাসান, শামীম হোসেন। আগের চুক্তি থেকে বাদ পড়েননি কেউই। এ গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে মাসিক ৮ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন চার ক্রিকেটার। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। বি গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে মাসিক ৬ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে আছেন ১১ ক্রিকেটার-মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসান। সি গ্রেডে বেতন ৪ লাখ-সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব। আর সর্বশেষ ডি গ্রেডে বেতন ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতে আছেন পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন।

  • ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে জামায়াত : ডা. শফিকুর রহমান

    ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে জামায়াত : ডা. শফিকুর রহমান

    ডেস্ক রিপোর্ট: সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের বিপরীতে কোনো কার্যক্রম হলে জামায়াত ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে। তিনি জানান, একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে দেশের অগ্রগতি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে তাদের দল। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে ইয়াতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মানবতার জন্য জনগণের ক্ষতি হবে এমন কোনো পরিস্থিতি সরকারের কিংবা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে ঘটতে দেওয়া হবে না। তবে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে বিরোধীদল প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিটি ভালো কাজের জন্য সরকারের সঙ্গে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তবে তাদের ইচ্ছা, এমন পরিস্থিতি যেন গড়ে না ওঠে যেখানে প্রতিরোধের প্রয়োজন হয়। ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধীদল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিপন্ন হলে জনগণের পক্ষে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তারা সজাগ থাকবে।

  • জুলাইয়ের পক্ষে থাকা সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    জুলাইয়ের পক্ষে থাকা সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ সাদিক কায়েমের

    এফএনএস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এমডি ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ এবং এখন টেলিভিশনের চার সাংবাদিককে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে হোয়াটসঅ্যাপে ডাকসু গ্রুপে তিনি লেখেন: ঘটনার পরিক্রমায় যতদূর জানলাম, তাদের কাউকে জোরপূর্বক অফিস থেকে বের করা হয়েছে, আবার কাউকে কাউকে অফিস প্রাঙ্গণে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এটাই তাহলে বিএনপি সরকারের প্রথম কার্যদিবসে গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ পুরস্কার। তাদের অপরাধ? তাদের অপরাধ হলো, জুলাইয়ের পক্ষে থাকা। জুলাইকে ধারণ করা। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে নয় দফা প্রচারে এই সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অনেক। জুলাইপন্থি সাংবাদিক হওয়ার কারণে তাদের আজ হেনস্তা করা হয়েছে। মব করে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। আমি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রধানদের বলছি, কারও ওপর জুলুম করবেন না। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করুন।

  • ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

    ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

    স্টাফ রিপোর্টার: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের অবহিত করেন। সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, দেশের হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা এবং পশ্চাৎপদ প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারকে আমরা ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করব। তিনি বলেন, গতকাল ও আজ (গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার) মিলিয়ে ইতোমধ্যেই প্রতিশ্রুতির বেশ কিছু কাজে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা হাত দিতে পেরেছি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্মব্যস্ত দিন অতিবাহিত করছেন। আমরা মন্ত্রিপরিষদের সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাসহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চূড়ান্তভাবে নির্দেশ পেয়েছি। আপনারা জানেন যে আমাদের বহুল প্রচারিত প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড, আমরা ইনশাআল্লাহ এই মাস থেকেই ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বন্টনের কাজ বাস্তবায়ন শুরু করব। ফলে গতকাল ও আজ (গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার) মিলিয়ে প্রতিশ্রুতির বেশ কিছু কাজে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা হাত দিতে পেরেছি। জাতির কাছে আমরা এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে দোয়া চাই এবং আপনাদেরও সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, এটি আমাদের নির্বাচনী ওয়াদার মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্য পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এছাড়াও আজ আমরা অন্যান্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন বাহিনীর প্রধানও দেখা করেছেন। তিনি গতকাল (গত বুধবার) সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দুপুর ২টার সময় বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। কোন কোন এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ডগুলো দেওয়া হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার জন্য একটি ছোট কমিটি গঠন করা হবে, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে। তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য একটি চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনা দেবেন। প্রাথমিকভাবে কত টাকা দেওয়া হবে এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে-এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা টাকার পরিমাণ এই মুহূর্তে নির্ধারণ করিনি। তবে যেহেতু আমরা পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেব, তাই সেটাকে মাথায় রেখে বাস্তবায়নযোগ্যভাবে শুরু করব। মূলত টাকার পরিমাণের চাইতেও সমস্ত নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে এটিকে আরও উন্নত করা যাবে।

  • সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ’র অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন : গ্রেপ্তার ও মামলা হয়নি!

    সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ’র অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন : গ্রেপ্তার ও মামলা হয়নি!

    স্টাফ রিপোটার: দীর্ঘ ১৮ মাস সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত থাকার পর সাতক্ষীরায় ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের বড় বাজার এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোন মামলা বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মিছিল শেষে তারা জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তবে পুলিশ বলছে, তারা এ বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের বড় বাজার সড়ক থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে অংশ নিতে দেখা যায়। মিছিলটি পার্শ্ববর্তী জেলা ছাত্রলীগ কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে নেতাকর্মীরা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে এক কর্মীকে বলতে শোনা যায়, আমরা শীঘ্রই আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে রাজপথে ফিরব। সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী আবারও ফিরে আসবে। তবে মিছিলটি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উড়লেও কার্যালয়টির মূল ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো নেতাকর্মীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এদিকে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই আকস্মিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ছাত্র নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখেছি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল হয়েছে, এটা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা সদর থানা পুলিশকে অবগত করেছি, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সাতক্ষীরা শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহীন ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যারা জনরোষের ভয়ে পালিয়েছিল, তারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এই চেষ্টা হাস্যকর। আমরা রাজপথে আছি এবং যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আরেফিন জুয়েল বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো কিছু শুনিনি। খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।

  • সাতক্ষীরায় শিশুদের কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

    সাতক্ষীরায় শিশুদের কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

    সাতক্ষীরার সিটি কলেজের উত্তরে অবস্থিত হযরত বেলাল (রাঃ) জামে মসজিদে শিশুদের জন্য মক্তবভিত্তিক কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনে (১৯ ফেব্রুয়ারি) আসরের নামাজের পর মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্বাস উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয় এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনে কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। উপস্থিত মুসল্লীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মসজিদ কমিটির কর্মকর্তারা জানান, এই কার্যক্রমে শিশুদের কুরআন পড়া, নামাজ ও দোয়া শিক্ষা, ইসলামী আদব-কায়দা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং ধর্মীয় অনুশাসনে অভ্যস্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ শিক্ষক ও হাফেজরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করবেন। ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্বাস উদ্দীন বলেন, “শিশুকাল থেকেই কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষায় অভ্যস্ত হলে তারা ভবিষ্যতে নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। এই কার্যক্রম সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” স্থানীয় অভিভাবক ও মুসল্লীরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাতক্ষীরার ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • বনদস্যু আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, দুবলারচরে জেলেদের মধ্যে ভয়

    বনদস্যু আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, দুবলারচরে জেলেদের মধ্যে ভয়

    স্টাফ রিপোর্টার: বনদস্যুদের আতঙ্কে সুন্দরবন উপকূলের দুবলারচরে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন ১০ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে। সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিরাপত্তার অভাবে জেলেরা চরে অবস্থান নিয়ে বসে থাকায় রাজস্ব ঘাটতি ও স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলেদের সংগঠন দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বনদস্যুদের হাতে অপহরণের ভয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে আয়-রোজগার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তিনি দাবি করেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের অভিযোগও করেন তিনি। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় আহত চার জেলে বর্তমানে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান। আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’, এখন যুক্ত হয়েছে ‘সাগরে গেলে ডাকাত’। গত ১৫ দিনে বহু জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সোমবার রাতে অপহরণের সময় দস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে গেলেও এখনো যোগাযোগে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সুন্দরবন বন বিভাগের জেলেপল্লি দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কে জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য পাস নিচ্ছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। শরণখোলা বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর ও রিপন হাওলাদার বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।

  • কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

    কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

    কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: মহান একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষ-এ অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তার। সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তার ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কালিগঞ্জ শহীদ সোহরোয়ারদী পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ, প্রভাত ফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, দোয়া মাহফিল এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুয়েল হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াসিম উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌকীর আহমেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সাকিল আহমেদ, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হেমেন্দ্রনাথ মন্ডল, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ জুয়েল হোসেন, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসনে আরা খানমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া সভায় শহীদ মিনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ জুয়েল হোসেনকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।