Blog

  • একুশের প্রথম প্রহরে শ্যামনগরে ভাষা শহীদদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধা

    একুশের প্রথম প্রহরে শ্যামনগরে ভাষা শহীদদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর শ্রদ্ধা

    মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা শাখা। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ শ্যামনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নীরবতা পালন করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তাঁদের এই আত্মদান পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে শক্তিশালী করেছে। নেতারা আরও বলেন, ভাষা শহীদদের আদর্শ ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও জাতীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মাতৃভাষার সঠিক চর্চা ও সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

  • তাহলে কি চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো: জামায়াত আমির

    তাহলে কি চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো: জামায়াত আমির

    ডেস্ক রিপোর্ট: নবগঠিত সরকারের সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই প্রশ্ন তুলেন তিনি। জামায়াত আমির পোস্ট লেখেন, ‘তাহলে কি নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো। তাহলে কীভাবে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে? ব্যাকরণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সূচনাতেই বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে?’ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আরও লেখেন, ‘প্রিয় জনগণ, চাঁদার কালো থাবা থেকে বাঁচতে হলে লড়তে হবে। এ লড়াইয়ে আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি, ইনশাআল্লাহ।’ সম্প্রতি সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা টাকা নিয়ে একটি বক্তব্য দেন। তাঁর এই বক্তব্য অনেকে নেতিবাচকভাবে নিয়েছেন। অনেকে জোরালো সমালোচনা করছেন। এই প্রেক্ষিতেই আজ পোস্ট করলেন জামায়াত আমির।

  • গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

    গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

    এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই দিনে, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদকে, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের এদিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাঁদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় শত বছরের শাসন ও শোষণে জর্জরিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে করেছে আরো মজবুত ও সুদৃঢ়। একুশের এই রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন। মাতৃভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। তারেক রহমান বলেন, আমরা ভাষা শহীদ এবং ৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন ও ২০২৪-এর স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবতকালে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। আজকের এই দিনে বিশ্বজুড়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন, আমরা দেশে বিদ্যমান ভাষাবৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করি, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করি। সকল ভাষা শহীদের মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

  • জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ও নবগঠিত জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা। সভার শুরুতে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এ সময় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পরিচিতি পর্বে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা নিজেদের পরিচয় প্রদান করেন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই কমিটির মূল লক্ষ্য। সভায় সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমান, সহ-সভাপতি মুর্শিদা আক্তার ও মোঃ রেজাউল করিম, সদস্যবৃন্দ আবদুল ওহাব আজাদ, জি.এম. নাজমুল আরিফ, মোঃ শহিদুর রহমান, এড. মুহাম্মদ মুনির উদ্দীন, মোঃ নাজমুল হক, শেখ নাজমুল হাসানসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় সভা শেষে রাতে শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণ এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ হরমোন ও ট্রপোনিন-আই পরীক্ষা

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ হরমোন ও ট্রপোনিন-আই পরীক্ষা

    খুলনা ব্যুরো: খুলনার সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন পরীক্ষা টি-থ্রি , টি-ফোর, টিএসএইচ এবং হৃদরোগ নির্ণয়ের জরুরি পরীক্ষা ট্রপোনিন-আই। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অভাবে এসব পরীক্ষা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব পরীক্ষা স্বল্প খরচে করা সম্ভব ছিল। যেখানে ট্রপোনিন-আই পরীক্ষা হাসপাতালে করতে খরচ হতো মাত্র ৫০০ টাকা, বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষা করাতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১,৮০০ টাকা। একইভাবে টি-থ্রি, টি-ফোর ও টিএসএইচ পরীক্ষার জন্য সরকারি খরচ ছিল প্রায় ৬০০ টাকা, অথচ বাইরে করতে গেলে খরচ পড়ছে প্রায় ১,৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে দুটি পরীক্ষার জন্য রোগীদের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪,০০০ টাকার কাছাকাছি, যা অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে সেবা পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এসব পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে বেশি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছে। চিকিৎসক মহল বলছেন, হরমোনজনিত সমস্যা ও হৃদরোগের ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। দ্রুত পরীক্ষা না হলে সঠিক চিকিৎসা বিলম্বিত হতে পারে, যা রোগীর ঝুঁকি বাড়ায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা, যাতে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা ফিরে পান। প্যাথলজি বিভাগের ডাক্তার আনন্দ দুত্যি হীরা বলেন, রি-এজেন্ট শেষ হওয়ার কারণে মূলত এই পরীক্ষা দুটি এখন হচ্ছে না, তবে আমরা চাহিদা দিয়েছি নতুন টেন্ডারের রি-এজেন্ট পেলেই আমরা আবার এই পরীক্ষাগুলো চালু করতে পারব। এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে রি-এজেন্ড কেনার চেষ্টা করছি, আশা করছি খুব দ্রুত এর সমস্যার সমাধান হবে।

  • উপকূলীয় অঞ্চলে চার কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা

    উপকূলীয় অঞ্চলে চার কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা

    খুলনা ব্যুরো: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে এসব অঞ্চলে কৃষিজমি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. খন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলায় কৃষিজমি প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে সুপেয় পানির সংকট, দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং জীবিকার পরিবর্তন ঘটছে। লবণাক্ততার কারণে কৃষি, ডেইরি ও পোলট্রি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেচের প্রয়োজন বেড়েছে এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জীবিকা হারিয়ে শহরমুখী হচ্ছে। খুলনার দাকোপ উপজেলার আনিস মোল্লা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় সব হারিয়ে দীর্ঘদিন বেড়িবাঁধে বসবাস করতে হয়েছে এবং সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশে ১৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবন, কৃষি, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

  • তালায় জামায়াতের ইউনিয়ন দায়িত্বশীলদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

    তালায় জামায়াতের ইউনিয়ন দায়িত্বশীলদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

    তালা ব্যুরো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে এক গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী। শুরুতে বিগত বৈঠকের রেজুলেশন পাঠ করেন উপজেলা প্রচার সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক নির্বাচন পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দায়িত্বশীলদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপজেলা আমীর তার বক্তব্যে বলেন, সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকল দায়িত্বশীলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নীতিমালা অনুসরণ করে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান। বৈঠকে উপস্থিত ইউনিয়ন দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি সফল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভা শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও সফলতা কামনা করে দোয়ার মাধ্যমে বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

  • গ্রামগঞ্জে ইফতারিতে উৎসবের আমেজ

    গ্রামগঞ্জে ইফতারিতে উৎসবের আমেজ

    রবিউল ইসলাম: পবিত্র রমজান এলেই সাতক্ষীরার গ্রামবাংলায় নেমে আসে এক পবিত্র ও আনন্দঘন উৎসবের আবহ। দিনভর সিয়াম সাধনার পর ইফতারকে ঘিরে জেলার সাতটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এখন বইছে আনন্দের স্রোত। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সাম্যের বার্তা নিয়ে সাজানো হচ্ছে ইফতারের টেবিল, যেখানে স্থান পাচ্ছে স্থানীয় ঐতিহ্যের নানা মুখরোচক খাবার। গ্রামীণ জনপদের ইফতারের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঘরে তৈরি দেশীয় খাবার। মুড়ি, ছোলা ভুনা, পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নতুন গুড়ের শরবত, পিঠা-পুলি এবং নানা ধরনের মিষ্টান্ন। সাতক্ষীরার বিখ্যাত খাঁটি দুধের ছানা ও দই ইফতারের আয়োজনে যোগ করছে বাড়তি স্বাদ ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া। অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারেও দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় ইফতার সামগ্রীর জমজমাট বেচাকেনা। তালা, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলার স্থানীয় বাজারগুলোতে বড় বড় কড়াইয়ে ভাজা হচ্ছে গরম জিলাপি, পেঁয়াজু ও চপ। এসব খাবারের সুগন্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বাজার এলাকা। গ্রামের ইফতারের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য হলো পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে ইফতারি বিনিময়ের ঐতিহ্য। আসরের নামাজের পর থেকেই এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে ইফতার পাঠানোর ব্যস্ততা শুরু হয়। এই আদান-প্রদান শুধু খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। মসজিদগুলোতেও দেখা যায় ভিন্নধর্মী দৃশ্য। সাধারণ মুসল্লিদের পাশাপাশি পথচারী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন এলাকার বিত্তবানরা। বড় বড় পাটি বা চাদর বিছিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসে একসঙ্গে ইফতার করার দৃশ্য গ্রামীণ সমাজের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, শহরের যান্ত্রিক জীবনের তুলনায় গ্রামের ইফতারিতে রয়েছে ভিন্ন এক প্রশান্তি ও আন্তরিকতা। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে উঠান বা বারান্দায় বসে ইফতার করা গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও মানুষ সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন এই আনন্দ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে। সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার গ্রামীণ জনপদে ইফতার এখন শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি পরিণত হয়েছে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য উৎসবে।

  • প্রত্যয় গ্রুপের এমডির বড় ভাইয়ের দাফন সম্পন্ন: জামায়াতের শোক

    প্রত্যয় গ্রুপের এমডির বড় ভাইয়ের দাফন সম্পন্ন: জামায়াতের শোক

    কালিগঞ্জ ব্যুরো: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের অন্যতম উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যয় গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলামের বড় ভাই মোঃ শহিদুল ইসলাম (৫০) শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মরহুমের জানাজার নামাজ শুক্রবার বাদ জুম্মা ভদ্রখালী পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কৃষিকাজ করার সময় কাঁচের টুকরোয় তার পা কেটে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা জেলা শহরে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রত্যয় গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলামের বড় ভাই শহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী, উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুর রউফসহ উপজেলা ও জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।