স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় মৌচাক সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)শহরের জনতা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির কার্যালয়ে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জিএম নূর ইসলাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুফতি আক্তারুজ্জামান, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান বাবু, মাওলানা মিজানুর রহমান আজমী, সাবেক অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক, অধ্যাপক গাজী আবুল কাশেম, পল্টু বাশার, জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি সহীদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ম.জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কবি শুভ্র আহমেদ, মনিরুজ্জামান ছট্টু, কণ্ঠশিল্পী আবু আফফান রোজ বাবু, মৌচাক সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা শেখ আজিজুল হক, তৃপ্তিমোহন মল্লিক, কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল মজিদ, সহ-সাহিত্য সম্পাদক রফিকুল বারী, সহ সমাজকল্যাণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক হযরত আলী, গুলশানআরা, মনিরুজ্জামান মুন্না প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আনোয়ারুল হাসান।
Blog
-

দুই মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু
শ্যামনগর প্রতিনিধি: কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। বন বিভাগের অনুমতিপত্র পাওয়ার পর রবিবার (১ মার্চ) থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের জেলেরা নৌকা নিয়ে কাঁকড়া ধরার কাজে নেমেছেন। এই নতুন মৌসুমে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার সময়কাল প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই সময়ে অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে; কেউ বিকল্প পেশায় যুক্ত হয়েছেন, কেউ ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ায় আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর জেলেপাড়ায় দেখা গেছে, জেলেরা চুনকুড়ি নদীর পাড় থেকে নৌকায় কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম তোলার কাজ করছেন। নৌকার সামনের অংশে বাজার-সদাই রাখা, দোন-দড়ি মেরামত এবং নৌকার ছোটখাটো ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। কাঁকড়া ধরা জেলে অরুন মন্ডল বলেন, “সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই আমাদের পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। বিগত দুই মাস কাঁকড়া ধরা বন্ধ থাকায় ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে, এখন নতুন মৌসুমে তা পরিশোধের আশা।” অন্য জেলে নিত্যরঞ্জন মন্ডল বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় দরিদ্র জেলেদের চরম দুর্দিন গেছে। সরকারি কোনো ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। কাঁকড়া ধরা আবার শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।” পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় মোট ২,৯০০ নৌকার অনুমতিপত্র রয়েছে। এর মধ্যে কাঁকড়া ধরা নৌকা ১,৬০০টি। এই এলাকায় কিছু অংশ অভয়ারণ্য ঘোষিত থাকায় সেখানে কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ। বৈধ পাস-পারমিটধারী প্রায় ১৫,০০০ জেলে কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মসিউর রহমান জানান, “১ মার্চ থেকে অনুমতিপত্রধারীরা অভয়াশ্রম ছাড়া অন্য নদী ও খালে কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন। তবে কেউ বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বনরক্ষীদের টহল জোরদার থাকবে। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।”
-

ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পে নেই শ্যামনগর
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সরকার ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্প দেশের ১৪টি উপজেলা ও থানায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। তবে সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ জেলার কোনো উপজেলাই আপাতত এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় ইউএনও জানান, ভবিষ্যতে প্রকল্পটি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হলে শ্যামনগরেও এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বর্তমানে শ্যামনগরে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম বা তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ নিয়ে কেউ যেন গুজবে কান না দেন এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ প্রদান না করেন। কোনো প্রকার নিবন্ধন, ফরম পূরণ বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান। ঘোষণায় সতর্ক করে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ডের নামে কারও বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য সরকারি মাধ্যমেই জানানো হবে। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে সবাইকে সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
-

বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ওষুধ জব্দ
হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ মাদরা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এর ৮ আরবি থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চোরাকারবারীরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসব ওষুধ পাচারের চেষ্টা করছিল। চোরাচালানের ফলে একদিকে যেমন দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জব্দকৃত ওষুধ সাতক্ষীরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয়রা এ অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি।
-

কালিগঞ্জে যুব দায়িত্বশীলদের ইফতার মাহফিলে প্রভাষক ওমর ফারুক
হারুন উর রশীদ: কালিগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে যুব দায়িত্বশীলদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় কালিগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. জামাল ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও জেলা যুব বিভাগের সভাপতি প্রভাষক ওমর ফারুক। এসময় তিনি বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তারা রমজানের শিক্ষা আত্মস্থ করে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী, উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুর রউফ, বায়তুল মাল সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু রাসেল আশকারী ও অফিস সেক্রেটারি আফতাব উদ্দিন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত যুব দায়িত্বশীল, কর্মী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে ইফতার গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
-

দেবহাটায় মাদকসহ আটক ৩
ফিরোজ হোসেন: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় র্যাব-৬ এর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ ও তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি আবারও এই অভিযানে সামনে এসেছে। র্যাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসানুরের বাড়ির পাশ থেকে ৯৯৫ বোতল ভারতীয় করেক্স সিরাপ ও ১১ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। এ সময় কুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে হাসানুরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। একই অভিযানে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়দ্দাহ এলাকার মো. জিয়াউদ্দিন গাজীর ছেলে মুছা করিম এবং সোহরাব হোসেন সরদারের ছেলে মো. মনিরুল ইসলামকেও আটক করা হয়। পরে আটক তিনজনকে দেবহাটা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৪, তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে মাদক পাচার চক্র সক্রিয় থাকায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানিয়েছেন। চেতনা সম্পন্ন মহলের মতে, ধারাবাহিক এ ধরনের অভিযানই সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
-

পদ্মপুকুরে অবৈধ বালু উত্তোলন
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা ও চাউলখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বরং স্থানীয় ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাউলখোলা এলাকার অনিল বাবুর প্রায় এক বিঘা জমি ভরাটের জন্য একই এলাকার আব্দুর রহমানের ঘের থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফুটপ্রতি ৬ টাকা চুক্তিতে পার্শ্ববর্তী আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিকলারাইট গ্রামের সেকেন্দার হোসেন এ কাজ করছেন। এলাকার কিছুটা সামনে ৪৫ নম্বর খুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলসংলগ্ন খুটিকাটা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মৎস্যঘের থেকেও একইভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফুটপ্রতি ৫ টাকা চুক্তিতে এ কাজ করছেন আশাশুনি উপজেলার কালিমাখালী এলাকার শামিম হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় ভূমি অফিস এ বিষয়ে কার্যত নির্বিকার রয়েছে। গ্রামবাসী মফিজুল হোসাইন বলেন, “পদ্মপুকুর ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ফুটপ্রতি ১ টাকা করে নায়েবকে দিয়ে বালু তোলা হয়।” স্থানীয়দের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল বলেন, মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করলে বালুর স্তর ফাঁকা হয়ে যায়। এতে ভূমিধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে ফুটপ্রতি মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পদ্মপুকুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এ টি এম আয়নুল হক। তিনি বলেন, “ওখানে কাজ চলছে—এ বিষয়ে আমি অবগত নই।” স্থানীয়রা বিষয়টি তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছে- এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উপজেলা অফিসে ডেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
-

বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ
হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা ও হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করে। বিজিবি সূত্র জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুটি আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস-এর ৩ ও ৪ আরবি এলাকা থেকে আনুমানিক ২০০ ও ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন কেড়াগাছি এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। এ ছাড়া মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস-এর ৯ আরবি এলাকা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন তেতুলতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় আগরবাতি উদ্ধার করে। অন্যদিকে হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৫/৫ এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন তালশারি কুলবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে। সব মিলিয়ে অভিযানে সর্বমোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, চোরাকারবারীরা শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব মালামাল ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। বিজিবি আরও জানায়, ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। উদ্ধার করা মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, দেশের রাজস্ব সুরক্ষা ও স্থানীয় শিল্প বিকাশে জনস্বার্থে এ ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণও বিজিবির এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে নিয়মিতভাবে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
-

আশাশুনির ইরামনি ব্রিকসে ২ লাখ টাকা জরিমানা, ট্রাক জব্দ
আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবহার ও মজুদের অভিযোগে ইরামনি ব্রিকসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে ইটভাটায় পোড়ানোর উদ্দেশ্যে আনা টায়ারের গুঁড়া (কার্বন) জব্দ এবং ভাটা কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়। বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে ইটভাটার ভেতরে থাকা ট্রাকভর্তি টায়ারের গুঁড়ার বস্তা আটক করে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৬(গ) ও ১৫(১) অনুযায়ী ইরামনি ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে ভাটা ম্যানেজারকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এ সময় ইটভাটা থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রায় ৩০০ বস্তা কার্বন (টায়ারের গুঁড়া) বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১২-০৭২২) জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মতে, ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের এ পদক্ষেপ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




