আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইদুজ্জামান হিমুর সভাপতিত্বে সভায় নব নির্বাচিত এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, বিএনপি নেতা স ম হেদায়েতুল ইসলাম, মশিউল হুদা তুহিন, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, নায়েবে আমীর মাওঃ নুরুল আফছার মোর্তজা, ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক, এস এম হোসেনুজ্জামান হোসেন, ওমর ছাকি পলাশ, প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি এস কে হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও রশিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভ্রাংশু শেখর দাশ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা এবিএম আলমগীর পিন্টু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় এমপি রবিউল বাশার তার বক্তব্যে বলেন, আইন শৃংখলা লঙ্ঘনে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে দায়িত্বশীলদের সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। মাদকতা যুবক ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনকে যৌথ ভাবে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে,ঘের ও বাড়ি দখল রোধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা দরকার। তিনি বলেন, আনুলিয়া ও শ্রীউলা ইউনিয়নে ভোটের পর দ্বন্দ্ব বেশী দেখা যাচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা নিরসন করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ বসবাস করতে চাই। সকল অন্যায়-অপকর্ম দূর করতে হবে। পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি ভাল কাজ ও ন্যায় কাজে সহযোগিতা ও অন্যায়-মন্দ কাজে অসহযোগিতা করতে আহবান জানান। সভায় বুধহাটা বাজার কমিটি গঠন, মাদক-জুয়া প্রতিরোধ, ঘেরের পানির আঘাতে রাস্তা নষ্ট, ঘেরের মাছ চুরি, জনৈক রমজানের দৌরাত্মসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
Blog
-

কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সেবার মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: এমপি ইজ্জত উল্লাহ
কলারোয়া ব্যুরো: সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক ও উন্নত চিকিৎসাসেবার মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের শয্যাপাশে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে সরাসরি মতামত গ্রহণ করেন। এ সময় চিকিৎসকদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ এবং রোগীদের জন্য খাবারের মান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। রোগীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সেবায় অবহেলা সহ্য করা হবে না। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সভাকক্ষে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “চিকিৎসক ও নার্সরা হলেন স্বাস্থ্যসেবার মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতায় সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটতে পারে।” তিনি হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বন্ধ থাকা অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। হাসপাতাল পরিদর্শনের আগে সংসদ সদস্য কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর ও অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
-

দায়িত্ব পালনকালে আমাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পাবেন: এমপি আব্দুল খালেক
দেবহাটা ব্যুরো: সাতক্ষীরা-২ সংসদীয় আসন এর সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, “আপনাদের পবিত্র ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি- আমি সবার খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো। দায়িত্ব পালনকালে আমাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পাবেন।” বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার সভাপতিত্বে সভায় এমপি আব্দুল খালেক বলেন, দেবহাটা একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা এবং এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। উপজেলার যেকোনো সমস্যা সরাসরি জানালে তিনি সমাধানে কাজ করবেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো লোভ-লালসা বা দুনিয়ার মোহে কাজ করি না। দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবো।”সভায় বক্তব্য দেন দেবহাটা থানার ওসি জাকির হোসেন, সরকারি কেবিএ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অলোক কুমার ব্যানার্জী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহাবুবুল আলম, দেবহাটা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুলসহ অনেকে। এর আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ৩৮ জন রোগীর মাঝে নগদ সহায়তা ও খাবার বিতরণ করেন। পরে পারুলিয়া আনসার প্লাজায় সিয়াম ও যাকাত শীর্ষক সেমিনার এবং ইফতার মাহফিলে যোগ দেন তিনি। অপরদিকে, দেবহাটার বড়শান্তায় মরহুম জিয়াদ আলী গাজীর রুহের মাগফিরাত উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিকাল ৫টায় এ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
-

বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য পেয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী মাদ্রাসা
অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, শ্যামনগর
শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। দাখিল অষ্টম শ্রেণি থেকে অংশগ্রহণকারী ১০ জন শিক্ষার্থীর সবাই বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংগঠন এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমি-এর পঞ্চম শ্রেণি থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং, মডেল টেস্ট ও বিশেষ কোচিং ব্যবস্থার ফলেই এ কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখযোগ্য এ সাফল্যে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক পৃথক বার্তায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এটি সমগ্র প্রতিষ্ঠানের গৌরব। শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
-

দেশের প্রশ্নে সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক ও সুসংহত করব : প্রধানমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় শাহাদাত বরণকারী সদস্যদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়, পিলখানায় চাকরিরত সেইসব সেনা অফিসাররা দুঃসহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। বুধবার বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানরা, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০ এর গণ-আন্দোলন এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত বরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারগুলোর সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। ২৫ ফেব্রুয়ারি; জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান। ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। তারেক রহমান বলেন, আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য। সরকারপ্রধান বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি— গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে। তারেক রহমান আরো বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংগুলোকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরো আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ উধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সাথে ইফতার করেন।
-

সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা
খুলনা ব্যুরো: খুলনা জেলার ডুমুরিয়া জনসনে লবণাক্ত পতিত জমিতেই এখন হলুদ রঙের নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। উপকূলঘেঁষা এলাকা ও তালার নিম্নাঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের চছে সাফল্য আসাত জেলায় ভোজতেলের চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম খরচ, আল্পসময় এবং সরকারি প্রণোদনা এই তিন কারণে সূর্যমুখী চাষে কথকদের আগ্রহ বাড়ছে। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মওসুমে ৯টি উপজেলায় মোট ৪৪২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। গত বছর এ আবাদ ছিল ৪২২ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবযানে আবাদ বেড়েছে ২০ হেক্টর। খুলনা জেলায় আটক কোটি লিটার ভোজ্য তেল উৎপাদন হবে। এতে করে দুই লক্ষ মানুষের ভোজ্য তেল চাহিদা মিটাবে। সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। ডুমুরিয়ায় ১০৭ হেক্টর জমিতে এ ফসলের চাষ হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার মডেল মসজিদের সামনের মাঠে গেলে চোখে পড়ে বিস্টার্ণ হলুদের আভা। দূর থেকে মনে হয় যেন হলুদ গালিচা বিছানো। কাছে গেলে দেখা যায় সারি সারি সূর্যমুখী ফুল বাতাসে দুলছে। পানীয়রা বলছেন, শুধু সৌন্দর্য নয়, এই ফুল এখন আয়েরও বড় উৎস। কৃষক শেখ জাহিদুর রহমান জানান, সূর্যমুখী চাষের মূল লক্ষ্য তেল উৎপাদন। প্রতি বিঘা জমিতে সাত থেকে দশ মণ পর্যন্ত বীজ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে অন্তত আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেল মিলতে পারে। বর্তমানে প্রতি নিটার সুর্যমুখী তেলের দাম কমপক্ষে ২৫০ টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় খরচ হয় সর্বোচ সাড়ে তিন হাজার টাকা। ভেল ছাড়াও বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষক মো. জাহিদুর রহমান বলেন, লবণাক্ত জমিতে অন্য ফসল ভালো না হলেও সূর্যমুখী তুলনামূলক ভালো ফলন দিছে। স্বল্প সেচ ও কম পরিচর্যায় এ ফসল উৎপাদন সম্ভব। তাই কৃষকেরা ঝুঁকছেন এ আবাদে। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্ত কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান, সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় তেলবীজ ফসল। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছেন, পাশাপাশি মানসম্মত বীজ ও সার সরবরাহ করা হছে। তিনি বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। পানীয়ভাবে দুর্যমুখী উৎপাদন বাড়লে আমদানির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন বাড়াতে চলতি মওসুমে ৬০০ কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বীজ ও সার বাবদ মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকার সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই চাষে প্রণোদনা মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি। ডুমুরিয়ার কৃষকদের চাওয়া, সরকারিভাবে ক্রয়ব্যবসা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা হলে সূর্যমুখী চাষ আরো সম্প্রসারিত হবে। এদিকে ডুমুরিয়ার মাঠে মাঠে এখন সূর্যমুখী শুধু ফুল নয়, সম্ভাবনারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।
-

কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে বিশেষ সম্মাননা পেলেন কালিগঞ্জ থানার আসাদুজ্জামান
আলমগীর কবির, কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে আয়োজিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানুয়ারি ২০২৬ মাসের ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেন কালিগঞ্জ থানার কনস্টেবল (৯৬১) মো. আসাদুজ্জামান। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ সম্মাননায় ভূষিত হন। মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে তাঁর কার্যকর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে তাঁর আন্তরিকতা ও কর্মনিষ্ঠা জেলা পুলিশের নজরে আসে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল (বিপিএম) বলেন, “জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে এবং সেবার মান উন্নত করে।” তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সম্মাননা সদস্যদের দায়িত্ব পালনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
-

বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে হওয়ায় জনমনে স্বস্তি
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা ও খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার বেদকাশী এলাকায় ৩২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৪৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে উপকূলবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরঘেঁষা বেদকাশী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের কারণে লোকালয় প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। লবণাক্ত পানির আগ্রাসন থেকে জনপদ রক্ষায় সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও সুইচগেট স্থাপনের কাজ চলছে। পাউবো সূত্রে জানা যায়, ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ২২ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এবং বাকি অংশের দায়িত্বে রয়েছে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার বেদকাশীর ১৪/২ পোল্ডারের গাববুনিয়া ও ১৪/১ পোল্ডারের শাকবাড়িয়া অংশে ব্লক নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বাঁধের ঢালে সিমেন্টের ব্লক ও জিও ব্যাগ বসানোর কাজ চলছে। এছাড়া দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চোরামুখা এলাকায় বেড়িবাঁধের চারটি স্থানে প্রায় ১ হাজার ২০ মিটার এলাকায় রিং-ডাইক ও অস্থায়ী ঢাল সংরক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামুন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধিরা জানান, পাউবোর নকশা অনুযায়ী ইনলেটের ১০টি গেটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হরিহরপুর ও মেদেরচর এলাকাতেও বাঁধের ঢাল উঁচু করা এবং মাটি ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা চারু মণ্ডল বলেন, “বাঁধের কাজ ভালোভাবে হচ্ছে। কাজ শেষ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।” ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গণেশ মণ্ডল জানান, নিয়ম অনুযায়ী দূরবর্তী স্থান থেকে মাটি এনে বাঁধের উচ্চতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহির মাজহার জানান, কয়রার জোড়শিং থেকে আংটিহারা গোলখালি পর্যন্ত ১৪/১ পোল্ডারে চারটি রেগুলেটর ও ১০টি ইনলেট গেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। কিছু জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। প্রায় ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্যাকেজের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং কাজের মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করা হবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি ও জীবিকা সুরক্ষিত হবে। -

অস্তিত্ব সংকটে আইবুড়ি নদী পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন
শ্যামনগর প্রতিনিধি: নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদী। এতে প্রায় ২০ হাজার বিঘা কৃষিজমি এবং নদীতীরবর্তী অন্তত ৭০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনঃখননের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শ্যামনগরের ধুমঘাট হাটখোলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, প্রজন্ম রক্তদান সংস্থার সভাপতি আহমেদ রাজু, এসডি মিলন সংঘের শরীফ হোসেন, জেলেখালি ভাই ভাই সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার পরমাণ্য, শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠনের অল্পনা রানী মিস্ত্রি, সাইমুম যুব সংঘের সুমন হোসেন ও মধুদ্যুতি মন্ডল। এসময় সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বিলাল হোসেন সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে বাঁধ দেওয়ায় স্বাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে এবং পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে দুই তীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। তারা আরও জানান, কৃষিপ্রধান মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী ও কচুখালী গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট ও দক্ষিণ শ্রীফলকাটি এলাকার প্রায় ১৪ হাজার বিঘা জমিতে ধান, সবজি ও চিংড়ি চাষ হয়। এসব এলাকার কৃষি ও জীবিকার প্রধান ভরসা ছিল আইবুড়ি নদী। বক্তারা বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সরকারি উদ্যোগে আইবুড়ি নদী পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।


