আবু হাসান, দেবহাটা: প্রখর রোদ উপেক্ষা করে মাঠে দাঁড়িয়ে কৃষকদের মাঝে ডিজেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত ওসমান। এতে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষের অনুভূতি দেখা গেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পারুলিয়া এলাকায় সরকারি প্রণোদনার আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেচ কার্যক্রম সহজ করতে কৃষকদের সহায়তা হিসেবে ডিজেল বিতরণ করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে ডিজেল বিতরণ করা হয়। পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিজেই মাঠে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্থানীয় কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কৃষকেরা জানান, মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তার উপস্থিতি তাদের মধ্যে আস্থা ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত ওসমান বলেন, কৃষকদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সরকার কাজ করছে। মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করলে সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
Blog
-

রইচপুরে ইঞ্জিনভ্যান খাদে পড়ে আহত ১
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় এক ধর্মীয় মাহফিল থেকে অন্য মাহফিলে যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি মালবাহী ইঞ্জিনভ্যান খাদে পড়ে গেছে। এতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ভ্যানে থাকা মিষ্টি ও মিষ্টান্ন তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রইচপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার খানপুর গ্রামের একটি মাহফিল শেষে মালামাল বোঝাই করে ইঞ্জিনভ্যানটি গুনাকরকাটি বাজারের আরেকটি মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে রইচপুর উত্তরপাড়া ব্রিজে ওঠার সময় হঠাৎ ভ্যানটির চেইন ছিঁড়ে যায়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢালু পথে ভ্যানটি দ্রুত পেছনে সরে গিয়ে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ভ্যানে তিনজন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বাসিন্দা পুণ্য নন্দীর ছেলে মদন নন্দী (৩৫) গুরুতর আহত হন। তাঁর হাতে আঘাত লাগে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। অপর দুইজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা গেছে, ভ্যানটিতে গুনাকরকাটি বাজারের একটি মিষ্টির দোকানের তৈরি মিষ্টি এবং মিষ্টি তৈরির প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। খাদে পড়ে যাওয়ায় মিষ্টিগুলো কাদা-পানিতে মিশে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার পর ভ্যানচালক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ব্রিজে ওঠার সময় হঠাৎ চেইন ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি আর ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই ভ্যানটি পেছনে খাদে পড়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির দায় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন। ব্রিজের ওই অংশে যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
-

সুন্দরবনে বনদস্যুর গুলিতে কাঁকড়া শিকারি আহত
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবন-এর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কলাগাছিয়া মুল্লি খালের ভারানির মুখ এলাকায় বনদস্যুদের গুলিতে আতিয়ার রহমান (৬৫) নামে এক কাঁকড়া শিকারি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত আতিয়ার রহমান বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মৃত মান্দার গাজীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো তিনি সকালে সুন্দরবনের নির্ধারিত এলাকায় কাঁকড়া আহরণ করতে যান। এ সময় হঠাৎ বনদস্যুদের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়ে জেলেদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আতিয়ার রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সহযোগী জেলেরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আতিয়ার রহমান বন বিভাগের অফিসে আসেন। পরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি শ্যামনগর থানা পুলিশ ও কৈখালী কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীতে প্রায়ই বনদস্যুদের তৎপরতা দেখা যায়, যার ফলে জেলে ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।
-

সাতক্ষীরায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে আজ, ৬ এপ্রিল ২০২৬ সকাল সাড়ে ৮ টায় পালিত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরার ক্রীড়া প্রেমীরা র্যালী ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি স্মরণীয় করে তুলেছেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কারপ্রাপ্ত ফিফা রেফারী তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার রবিউল ইসলাম শিবলু, রাইফেল ক্লাব সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ফুটবল কোচ খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স, ইকবাল কবির খান বাপ্পি, ক্রিকেট কোচ আলতাফ হোসেনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও খেলোয়াড়বৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বর্ণাঢ্য র্যালী শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যা ক্রীড়া চর্চা ও যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহী করার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।
-

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ (২০২৬) উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক সভা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের নববর্ষ উদযাপনে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কাক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার সভাপতিত্ব করেন। সভায় সাতক্ষীরার জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবল, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হোসেন, পৌরসভার সিইও আসাদুজ্জামান, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়ব হাসান বাবু, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া অফিসার মাহাবুবুর রহমান, নির্বাচন অফিসার হযরত আলি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার, যুব উন্নয়নের উপপরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিডি মেহেদিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বর্গ, প্রতিষ্ঠান প্রধান উপস্থিত ছিলেন। সভায় পহেলা বৈশাখের সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে, যেখানে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী গান অনুষ্ঠিত হবে। শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে লোকজ মেলা বা বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হবে। নববর্ষ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে শহরজুড়ে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে নিয়োজিত থাকবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাতরাশে পান্তা-ইলিশ বা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশু একাডেমি: জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং শিশু একাডেমির মাধ্যমে শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ১লা বৈশাখে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হবে। এছাড়াও, বৈশাখী শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিবে।
-

জ্বালানি সংকটে কৈখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলনেও ন্যায্য দাম নেই
এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং কৃষকদের পরিশ্রমে শুরুতে আশাবাদী ছিলেন চাষিরা। তবে বৃষ্টির অনিয়মিততা কিছু জমিতে ফসলের ক্ষতি ঘটায়। এরপর জ্বালানি সংকটের কারণে পাইকারি ক্রেতারা বাইরের জেলা থেকে আসতে না পারায় পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠেছে। ফলে শতাধিক চাষি আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কৈখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও আবাদি জমিতে এ বছর ব্যাপক পরিসরে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হওয়ায় মাঠজুড়ে সারি সারি তরমুজ থাকলেও বাজারজাতকরণে কৃষকরা চরম সংকটে রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তরমুজ পড়ে থাকছে, সময়মতো বিক্রি না হলে তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকসহ বিপুল খরচ হয়েছে। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। মৌসুম শুরুর দিকে ভালো দামের আশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা ভেস্তে গেছে। কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, “প্রতি বছরই বাইরের পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এবার জ্বালানি সংকটের কারণে কেউ আসতে পারছে না। ফলে আমরা কম দামে বিক্রি করছি, এতে লাভ তো দূরের কথা খরচই ওঠে না।” আরেক চাষি আব্দুল গনি মোড়ল বলেন, “এত ভালো ফলন জীবনে কমই দেখেছি। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় অনেকেই হতাশ। ক্ষেতেই তরমুজ পড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।” চাষি মোমিন আলি কারিকর জানান, “পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। নিজেরা ভাড়া করে পণ্য পাঠানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার ক্রেতাও নেই। দুই দিক থেকেই ক্ষতির মধ্যে আছি।” কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, “কৃষকরা খুব কষ্ট করে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে বাইরের ক্রেতারা আসতে পারছেন না। এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছি।” উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ জানান, “এ বছর তরমুজের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার অন্যতম কারণ জ্বালানি সংকট। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং বিকল্প বাজার ব্যবস্থার বিষয়েও কাজ করছি। ”স্থানীয় সমাধান প্রস্তাব সচেতন মহল মনে করছেন- দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষিপণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা প্রদান, অস্থায়ী হাট বা সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করা সরকারি পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়, চাষিরা দাবি করেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এবারের বাম্পার ফলনই তাদের জন্য বড় লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
-

তালায় সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে মতবিনিময় সভা
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সামাজিক সংহতি জোরদার করতে ধর্মীয় নেতা, যুব প্রতিনিধি ও স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে রবিবার (৫ এপ্রিল) এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ‘এরফরটি’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে যুব নেতৃত্বে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাহাঙ্গীর আলম। উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ি ও সেঁনেরগাতি জামে মসজিদের ইমাম, স্থানীয় মন্দিরের পুরোহিত ও কমিটির সভাপতি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক এবং যুব সংগঠনের সদস্যরা। সভায় ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা এবং যুব সমাজকে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কীভাবে সক্রিয় করা যায় তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বক্তারা বলেন-বিভিন্ন বয়স ও ধর্মের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। তরুণ ও প্রবীণদের যৌথ অংশগ্রহণ সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। লক্ষ্য ও উদ্যোগ ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা, সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রতিবন্ধক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, স্থানীয় শান্তি কমিটিতে যুবদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যুবদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি ধর্মীয় নেতারা সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো: তহিদুজ্জামান তহিদ, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্রশেখর হালদার, ফাইন্যান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য এবং ইয়ুথ ফেলো শারমিন সুলতানা।
-

কলারোয়ায় সিভিল সার্জনের অভিযানে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছেন। বিভিন্ন অনিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কলারোয়ার গয়ড়া বাজারের ডাক্তার রমজান আলীর আছিয়া মেমোরিয়াল ক্লিনিক, ডাক্তার কবিরুল ইসলামের মায়ের হাসি ক্লিনিক, কলারোয়া পৌর সদরের জনসেবা ক্লিনিক এবং গরু হাটখোলা মোড়ের দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স ও কাগজপত্র যাচাই বাণিজ্যিক নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনের এই পদক্ষেপের পর এলাকার সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তবে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেননি।




